মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষার একমাত্র উপায় ইসলামী অনুশাসন


আজকাল টিভি মিডিয়া থেকে শুরু করে স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় ফলাও করে দেখানো হচ্ছে, ছাপা হচ্ছে প্রতিদিন মাদকের ছোবলে কিভাবে আমাদের ভবিষৎপ্রজন্ম ধ্বংস হচ্ছে। অনাকাঙ্খিত এমন কোন সংবাদ পাঠক আর দেখতেও চায় না; পড়তেও চায় না। মাদকের করাল গ্রাসে তরুণ সমাজ আজ সৃষ্টিশীল ও সৃজনশীল কাজে মেধা, যোগ্যতা, প্রজ্ঞার আশানুরূপ অবদান রাখতে পারছে না। যে তরুণ তার অমিত সম্ভাবনাকে পরিবার, দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজে লাগাতে পারত, মাদকের নীল দংশন তার সুকুমারবৃত্তি নষ্ট করে, এমনকি ক্রমান্বয়ে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে ধ্বংস হচ্ছে জাতির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব। আজকের নবপ্রজন্ম আগামী দিনের জাতির কর্ণধার। তাদের নিয়ে জাতি স্বপ্ন দেখে সূস্থ সমাজ বির্নিমাণ করে বিশ্ব জয় করার। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, আজ সেই প্রজন্মের উঠতি বয়সের অনেকেই মাদকের ভয়াল ছোবলে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত। আর মাদকের সাথে নানা অপরাধ-অপকর্ম ফেরি করেই চলছে তাদের জীবনযাত্রা।

মাদকের মধ্যে বিশেষ করে ইয়াবা, হেরোইন, গাজা, মদসহ নেশা সৃষ্টিকারী প্রবল ক্ষতিকর দ্রব্যের ক্রয়-বিক্রয় ও সেবন চরম উদ্বেগজনকহারে বেড়ে চলেছে। তথ্যানুযায়ী “বাংলাদেশে বর্তমানে ৯০ লাখ মাদকাসক্ত। সরকারি হিসাব মতে এ সংখ্যা ৫০ লাখ। এদের ৯১ শতাংশই কিশোর ও তরুণ। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে মাদক আসক্তের শতকরা ৯০ ভাগ মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ছাত্র-ছাত্রী।”

আবার এদের অধিকাংশই দেশের আগামী দিনের নেতৃত্বদান কারী ছাত্ররাজনীতির সাথে জড়িত। এভাবে নবপ্রজন্মের বৃহৎ এক অংশ মাদকের করাল গ্রাসে নিমজ্জিত হওয়ায় সমাজ আজ বিষাদের কালোছায়ায় আচ্ছন্ন। ধর্মীয় মূল্যবোধ, সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা, মানবিক সৌহার্দ-সম্প্রীতি, ও পারিবারিক বন্ধন এখন বিপন্নপ্রায়। প্রতিনিয়ত মাদকাসক্তদের হাতে দেশের কোন না কোন জায়গায় লাঞ্ছিত হচ্ছে আমার মা আমার বোন; খুন হচ্ছে বাবা-মা। বাড়ছে ডাকাতি, ছিনতাই। উহ! কি এক যন্ত্রণাদায়ক ব্যাধিতে জাতি আজ আক্রান্ত।

শান্তি-সম্প্রীতির জনপদ বাংলার জমিনের তরুণ-তরুণীরা আজ মাদকের ছোবলে অন্ধকারে নিমজ্জিত। এখন সর্বমহলে একটাই শ্লোগান মাদক ঠেকাও।

সমাজ বিজ্ঞানী ও অপরাধ বিশ্লেষকরা সামাজিক ও পারিবারিক অপরাধ বৃদ্ধির জন্য প্রধানত দায়ী করেছেন সারা দেশে মাদকের অবাধ বিস্তারকে। আর এই অবাধ বিস্তারের প্রধান কারণ- রাজনীতিবিদদের মধ্যেই রয়েছে মাদক ব্যবসায়ী ও গডফাদার। ধর্মীয় মূল্যবোধের অবক্ষয়, পারিবারিক শিক্ষার অপরিপূর্ণতা, আকাশপথের অপসংস্কৃতি, প্রযুক্তির অপব্যবহার, যেখানে সেখানে পর্ণোগ্রাফির ছড়াছড়ি এবং নৈতিক শিক্ষার অভাবেই দিন দিন এসব অপরাধ বেড়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সমাজ বিজ্ঞানী ও মনোবিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, এর ভয়াল থাবা পড়ছে তরুণ-তরুণীদের উপর ফলে ভবিষ্যতের কারিগররা একদিকে যেমন গড়ে উঠছে অনৈতিকতা ও মাদকের উপর ভর করে, তেমনি হ্রাস পাচ্ছে মানবিক মূল্যবোধ ও সৃজনশীলতাও।” কারণ মাদক ও মাদকাসক্তি হচ্ছে এ্যালকোহল জাতীয় পানীয় যা সেবনের ফলে মস্তিস্ক, যকৃতসহ মানব দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে মারাত্মকভাবে বিধ্বস্ত করে দেয়। শুধু তাই নয় মাদকাসক্ত ব্যক্তি তার নিজ জীবন ও তার পরিবারের জীবনও বিপন্ন করে দেয়। এছাড়াও মাদক শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্যও চরম ক্ষতিকর বলে চিকিৎসকদের অভিমত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মাদকদ্রব্যের আন্তর্জাতিক শ্রেণী বিভাজন করেছে এভাবে :

‘‘১. স্নায়ু নিস্তেজক মাদক ঃ- (ক) নারকোটিক জাতীয়-হেরোইন, মরফিন, আফিম, পেথিড্রিন, কোডিন (ফেন্সেডিল), মেথাডন। (খ) বাররিচুরেট জাতীয়- গার্ডিয়াল, ফেনোবারবিটন, সেনোরিল, পেনটোবার বিটন। (গ) প্রশান্তিদায়ক ওষুধ- ডায়াজিপাম, নাইট্রোজিপাম, ক্লোবাজাম ইত্যাদি। (ঘ) মদ জাতীয় – বিয়ার, ব্র্যান্ডি, হুইসকি, ভদকা, রাম, বাংলামদ, জিন, রেকটিফাউড স্পিরিট, ৫% এর অধিক এ্যালকোহল যুক্ত তরল পদার্থ। ২. স্নায়ু উত্তেজক মাদক ঃ- (ক) ক্যানাবিস জাতীয়, গাঁজা, মারিজুয়ানা, ভাং, হাশিস, চরস, সিদ্ধি। (খ) এমফিটামিন জাতীয়- রিটালিন, ডেকসোড্রিন, মেথিডিন। (গ) কোকেইন জাতীয়- কোকেইন বড়ি, নস্যি বা পেষ্ট। ৩. মায়া বিভ্রম উৎপাদনকারী মাদক ঃ- এলএসডি, মেসকোলিন। ৪. বিবিধ মাদকদ্রব্যঃ (ক) তামাক জাতীয়- বিড়ি, চুরুট, সিগারেট, হুক্কা, জর্দা, সাদাপাতা, খৈনী, দাঁতের গুল, নস্যি ইত্যাদি। (খ) পেট্রোলিয়াম জাতীয় দ্রব্য- পেট্রোল শোঁকা, জুতা পালিশ শোঁকা, অ্যারোসল, গ্যাস, তেল, নিক্স, ডিক্স ইত্যাদি।

মাদকদ্রব্য মানুষের কোন উপকারে আসে না বরং শারীরিক, আর্থিক ও অন্যান্যদিক থেকেও ক্ষতিকর। মাদকদ্রব্য গ্রহণকারী ব্যাক্তির দিনদিন স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে; সামাজিক এবং নৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এক সময় অকাল মৃত্যু ঘটে। মাদকদ্রব্য শুধু একজন ব্যাক্তিকেই শেষ করে দিচ্ছে না। একজন মাদকসেবীর কারণে নিঃশেষ হয়ে যায় একটি পরিবার।

আজকের সমাজে আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা সকলেই মাদকদ্রব্যের বিষাক্ত ছোবলে জর্জরিত হয়ে পড়ছে। মাদকসেবীরা বিবেক-বুদ্ধিকে খুইয়ে মাতা-পিতা, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন, সমাজ-পরিবারকে তোয়াক্কা করতে বেমালুম ভুলে গেছে। সামাজিকতা, ধর্মীয় কৃষ্টি-কালচার সবকিছু তাদের কাছে মূল্যহীন হয়ে দাড়িয়েছে। চরম বিপর্যস্ত ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা এগিয়ে চলেছে নোংরা ও ধ্বংসের পথপানে।

মাদকের এই বিষাক্ত কুফল থেকে দেশ ও জাতি যাতে নিরাপদ থাকে সেই জন্য সব ধর্মেই মাদক দ্রব্যের ব্যবহার নিষিদ্ধ। মাদকদ্রব্য ইসলামে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য মানুষের জন্য কল্যাণকর নয়। মাদকাসক্তরা সমাজে নিকৃষ্ট ও ঘৃণিত হয়ে থাকে। তাদের সুস্থ বিবেক থাকেনা, মানসিকতায় নমে আসে চরম বিপর্যয়। ইসলাম সুস্থ বিবেক ও মানসিক উৎকর্ষ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। জ্ঞান-বুদ্ধি লোপ করে মস্তিষ্কের বিকৃতি ঘটায়, অর্থের অপচয় হয়, স্বাভাবিক জীবন যাপনের অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় এমন কোনো দ্রব্য গ্রহণ ইসলামের আদর্শবিরোধী।

মানব জাতির পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান ইসলামে মাদককে শান্তি-সম্প্রীতি বিনষ্টের কারণ হিসাবে চিহ্নিত করে এর ক্রয়- বিক্রয় ও সেবনকে সমান অপরাধ হিসাবে তুলনা করা হয়েছে। পবিত্র কুরআন মজীদে আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন, “অবশ্য শয়তান মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের পরস্পরের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে এবং তোমাদেরকে আল্লাহর যিকির ও নামায থেকে বিরত রাখতে চায়। অতএব তোমরা কি নিবৃত্ত হবে না!” (সূরা মায়িদা, আয়াত ৯১)। ‘‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সালাতের নিকটবর্তী হয়ো না।’’ (সূরা নিসা/৪৩)। ‘‘তোমাদের যা দান করেছি তা হতে পবিত্র বস্তু আহার কর এবং এ বিষয়ে সীমালংঘন করো না।’’ (সুরা তাহা-৮১)। ‘‘হে মুমিনগণ! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, মূর্তি ইত্যাদি এবং লটারীর তীর, এসব গর্হিত বিষয়, শয়তানী কাজ ছাড়া আর কিছুই নয়, সতরাং এ থেকে সম্পূর্ণরূপে দূরে থাক, যেন তোমাদের কল্যাণ হয়। শয়তান তো এটাই চায় যে, মদ ও জুয়া দ্বারা তোমাদের পরস্পরের মধ্যে শত্রুতা ও হিংসা সৃষ্টি করে এবং আল্লাহর স্মরণ হতে ও সালাত হতে তোমাদেরকে বিরত রাখে, সুতরাং এখনও কি তোমরা ফিরে আসবে?’’ (সূরা মায়িদাহ/৯০-৯১)

মানবতার মুক্তির অগ্রদূত আমাদের আদর্শ আমাদের নেতা বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মাদককে সব পাপাচারের চাবি হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। হযরত আবু দারদা (র.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসুল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “মদ্যপান করোনা কেননা তা হচ্ছে সকল পাপাচারের চাবি।” (ইবনে মাজাহ)। রাসুলে কারীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “সবধরণের নেশা সৃষ্টিকারী দ্রব্য হারাম।” (ইবনে মাজাহ)। তিনি ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা’আলার ওয়াদা আছে, যে ব্যক্তি নেশা সৃষ্টিকারী দ্রব্য পান করবে আল্লাহ তাকে “তীনাতুল খাবাল” থেকে পান করাবেন। সাহাবীগণ (র.) জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ (স.) “তীনাতুল খাবাল” কি? উত্তরে বললেন, তা হচ্ছে দোযখের পুঁজ।” (মুসলিম)। তাফসীর ইব্নে কাসীর-এ আছে, ইমাম আহমদ (রঃ) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) হতে বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন- ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ মদ, জুয়া, শতরঞ্জ এবং গাবীরা গাছ হতে নিংড়ানো মদ হারাম করেছেন, আর প্রত্যেক নেশাযুক্ত জিনিসই হারাম।’ রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন- ‘মদ, মদ্যপানকারী, পরিবেশনকারী, বহনকারী, নিংড়িয়ে রস বেরকারী, তৈরিকারী এবং ওর মূল্য গ্রহণকারী সকলের উপর আল্লাহর লা’নত।

তাফসীর ইবনে কাসীরে অন্যত্র আছে, ‘‘ইমাম যুহরী (র.) বর্ণনা করেছেন যে, ‘‘হযরত উসমান ইবনে আফফান (রা.) একবার জনগণকে সম্বোধন করে বলেন, তোমরা মদ্যপান থেকে বিরত থাক, কেননা, এটাই হচ্ছে সমস্ত দুষ্কার্য ও অশ্লীলতার মূল। তোমাদের পূর্বযুগে একজন বড় আবেদ লোক ছিল। তিনি জনগণের সাহচর্যে থাকতো না। একটি পতিতা মহিলার তারপ্রতি দৃষ্টি পড়ে যায়। তিনি সাক্ষ্য নেয়ার বাহনায় তার চাকরাণীর মাধ্যমে তাকে ডেকে পাঠায়। তিনি তার সাথে চলে আসে। অতঃপর সে যে দরজা দিয়ে প্রবেশ করে, পেছন থেকে তা বন্ধ করে দেয়া হয়। অবশেষে তিনি মহিলাটির নিকট হাজির হয়ে দেখতে পায় যে, সেখানে একটি শিশু ও মদের একটি কলস রয়েছে। তিনি তখন তাকে বলে, ‘আল্লাহর কসম! আমি আপনাকে সাক্ষ্য নেয়ার উদ্দেশ্যে ডাকিনি। বরং ডেকেছি এই উদ্দেশ্যে যে, আপনি আমার কাছে থেকে রাত কাটাবেন, অথবা এই শিশুটিকে হত্যা করবেন কিংবা মদ পান করবেন।’ তখন তিনি (হত্যা ও ব্যভিচার অপেক্ষা মদ্যপানের পাপকে ছোট মনে করে) এক পেয়ালা মদ পান করে ফেলে; তারপর বলেঃ ‘আমাকে আরও দাও।’ শেষ পর্যন্ত তিনি নেশাগ্রস্ত হয়ে শিশুটিকে হত্যা করে বসে এবং মহিলাটির সাথে ব্যভিচার করে ফেলে। তাই তোমরা মদ পান থেকে বিরত থাক। মদ ও ঈমান কখনও এক জায়গায় জমা হতে পারে না। মদ থাকলে ঈমান নেই এবং ঈমান থাকলে মদ নেই। তাঁর এ উক্তির প্রমাণ হিসেবে সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের ঐ হাদীছটি উল্লেখ করা যেতে পারে যে, রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, ব্যভিচারী যে সময় ব্যভিচার করে সে সময় সে মু’মিন থাকে না, চোর যখন চুরি করে তখন সে মু’মিন থাকে না এবং মদ্যপানকারী যখন মদ্যপান করে তখন সে মু’মিন থাকে না। ’’ এ ধরনের অসংখ্য আদেশ-নিষেধ পবিত্র কুরআন ও হাদিসে এসেছে। আধুনিক বিজ্ঞান গবেষণার ফলাফলে নানা বাস্তব উদাহরণও আমাদের সামনে রয়েছে। কিন্তু তার পরেও আমরা তা মানতে চাই না। মাদকদ্রব্য বলতে কেবলমাত্র মদ নামে প্রচলিত দ্রব্যাদিকে বুঝায় না। নেশা জাতীয় সকল দ্রব্য এর অধীন।

একবার ভাবুনতো আমরা আমাদের সোনামনিদের ভবিষৎ চিন্তা করে তাদের কে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার জন্য যতটা গুরুত্ব দিচ্ছি যতটাকা ব্যয় করছি ধর্মীয় শিক্ষার জন্য ততটা গুরুত্ব অথবা ঐ সমপরিমান অর্থ ব্যয় করছি কিনা। দেখা গেলো বাসায় বাচ্চাদের যিনি ইংরেজি অথবা গণিত ও বিজ্ঞান পড়ান তার বেতন মাসিক পাঁচ হাজার টাকা। তিনি বাসায় আসলে টেবিলে হরেক রকমের নাস্তা। অপর পক্ষে যিনি আরবী পড়ান তার বেতন পাঁচশত টাকা । তিনি বাসায় আসলে টেবিলের কোনায় এক জগ পানি আর একটি গ্লাস দেয়া থাকে। আধুনিক শিক্ষার চাইতে আরবী শিক্ষাটাতো কোন অংশে কম নয়। বরং ধর্মীয় শিক্ষাটাই আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত ছেলেটি অথবা মেয়েটিকে নৈতিকভাবে ভালো রেখে সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে যেমন ভূমিকা রাখবে তেমনিভাবে মৃত্যুর পর আপনার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে আপনার আমার পরকালীন মুক্তির জন্য দোয়া করতে পারবে। আপনার আমার সন্তান যখন বড় হয়, তখন সে বিভিন্ন নতুন নতুন কিছুর সাথে পরিচিত হতে থাকে। এই গুলোর মধ্যে কোনটি ভালো হতে পারে আবার কোনটি খারাপও হতে পারে। মা- বাবা সন্তানকে সব সময় ভালোর প্রতি আগ্রহী করে তুলতে হবে। যদি সন্তান কোন খারাপ পথে চলে যায়, তাহলে তা থেকে ফিরে আসার জন্য, সন্তানের সঙ্গ দিতে হবে। খারাপ জগতগুলোর মধ্যে ‘নেশা’ একটি। সন্তান যাতে নেশা গ্রস্থ না হতে পারে। তাকে সেই শিক্ষা দিতে হবে। সন্তানকে ধর্মীয় মূল্যবেধের মাধ্যমে নেশা মুক্তরাখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে মা-বাবা।

মানব সভ্যতার প্রতি মারাত্মক হুমকি সৃষ্টিকারী দেশের অন্যতম অভিশাপ মাদকাসক্তি। মাদকের এই ভয়াল ছোবল শুধু ইহজীবনে নয়; পরজীবনেও ভয়াবহ কুফল বয়ে আনবে। তাই মাদকের এই বিষাক্ত ছোবল থেকে প্রজন্মকে রক্ষা করতে, দেশকে বাঁচাতে প্রয়োজন এ বিষয়ে সকল নাগরিকদের সোচ্চার হওয়া। বিশেষতঃ সন্তান-সন্ততিদের ছোট বেলা থেকেই ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার প্রতি অনুরাগি করা। আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি কোরআন হাদিস এবং ইসলামী সাহিত্যের মাধ্যমে নৈতিক শিক্ষা দেওয়া। মাদক সেবনসহ চরিত্র ও সমাজ বিধ্বংসী কর্মকান্ডে যাতে সন্তানেরা লিপ্ত না হয় সে ব্যাপারে অভিভাবকদের সচেতন হওয়া। মাদকের ভয়াবহ কুফল সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মসহ সর্বসাধারণের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি করা। ঘর থেকে শুরু করে স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়সহ পাড়া-মহল্লা ও এলাকায় মাদকদ্রব্য ব্যবহারের বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে ঘৃণা প্রকাশের আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে