মিম্বর শরীফ ও লাঠির সুন্নতী মাপ ও ব্যবহারের সুন্নতী তারতীব


****************মহাসম্মানিত খাছ সুন্নতী মিম্বর শরীফ উনার বর্ণনা****************

খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত-মা’রিফত মুবারক ও উনার মহাসম্মানিত হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের রেযামন্দি সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের প্রধান ও একমাত্র মহান মাধ্যম হচ্ছেন মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক।
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এ সম্পর্কে ইরশাদ মুবারক করেন-
قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
অর্থ: “আমার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলে দিন, যদি তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে মুহব্বত করো বা মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত হাছিল করতে চাও, তবে তোমরা আমার অনুসরণ করো। তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে মুহব্বত করবেন এবং তোমাদের গুনাহখতা ক্ষমা করে দিবেন। আর মহান আল্লাহ পাক তিনি অত্যধিক ক্ষমাশীল ও দয়ালু।” (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৩১)
কাজেই সকলের জন্য মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার ইত্তেবা করা ফরযে আইন। আজকে আমরা মিম্বর শরীফের সুন্নতী পরিমাপ সম্পর্কে জানবো এবং তা আমলে বাস্তবায়ন করবো।

>>>>>>>>পবিত্র মিম্বর শরীফ উনার পরিমাপ:-<<<<<<<<

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে মিম্বর শরীফ উনার মধ্যে দাঁড়িয়ে খুতবা মুবারক দিতেন, তা ছিল ঝাউ গাছের কাঠের তৈরী, তিন সিঁড়ি বিশিষ্ট মহাসম্মানিত সুন্নতী মিম্বর শরীফ।
পবিত্র মিম্বর শরীফ উনার বর্ণনা:-
*উচ্চতা- প্রতি সিঁড়ি অর্ধহাত করে দেড়হাত,
*প্রশস্ততা- একহাত,
*আর দৈর্ঘ্য- প্রতি সিঁড়ি এক ফুট করে দু’হাত
*এবং প্রতি সিঁড়ি একফুট করে চওড়া। (মিরকাত শরীফ, আশআতুল লুমআত)
কাজেই, কাঠের এবং উপরে বর্ণিত মাপ অনুযায়ী সম্মানিত মিম্বর শরীফ তৈরী করাই খাছ সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভূক্ত। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত-মা’রিফত ও উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের রেযামন্দি সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের প্রধান ও একমাত্র মহান মাধ্যম হচ্ছেন মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক।

***************পবিত্র মিম্বর শরীফে খুতবা দেয়ার সুন্নতী তারতীব****************

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সর্বদা উপরের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে মহাসম্মানিত খুতবা মুবারক দিতেন।
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ উনার পর মহাসম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার প্রথম খলীফা সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে এবং আদব রক্ষার্থে উক্ত পবিত্র মিম্বর শরীফের উপরের সিঁড়িতে না দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় বা মাঝের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে খুতবা মুবারক প্রদান করেন।
একইভাবে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পর দ্বিতীয় খলীফা সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি উনার সম্মানার্থে মিম্বর শরীফের দ্বিতীয় বা মাঝের সিঁড়িতে না দাঁড়িয়ে প্রথম বা নিচের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে খুতবা মুবারক প্রদান করেন।
কিন্তু তৃতীয় খলীফা সাইয়্যিদুনা হযরত যূন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি দ্বিতীয় সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে প্রথম খুতবা এবং প্রথম সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় খুতবা দিয়ে প্রথমোক্ত খলীফাদ্বয় আলাইহিমাস সালাম উনাদের সুন্নত মুবারক আদায় করেন। অদ্যাবধি উক্ত সুন্নত মুবারক পালিত হয়ে আসছে।
উল্লেখ্য, মহান আল্লাহ পাক তিনি তৃতীয় খলীফা সাইয়্যিদুনা হযরত যূন নূূরাইন আলাইহিস সালাম উনার উছীলায় উম্মতে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের প্রতি অনেক ইহ্সান করেছেন। তারমধ্যে একটা হলো- পবিত্র মিম্বর শরীফের দ্বিতীয় সিড়িঁতে দাঁড়িয়ে প্রথম খুতবা এবং প্রথম সিড়িঁতে দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় খুতবা মুবারক দেয়ার প্রচলন করা। অর্থাৎ সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তা’যীমার্থে উপরের সিঁড়ির পরিবর্তে দ্বিতীয় বা মাঝের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে খুতবা মুবারক দেন। আবার সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার তাযীমার্থে দ্বিতীয় বা মাঝের সিঁড়ির পরিবর্তে প্রথম বা নিচের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে খুতবা দেন।
আর সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
عَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ
অর্থঃ- “আমার মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক এবং হেদায়েতপ্রাপ্ত হযরত খুলাফায়ে রাশেদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক পালন করা তোমাদের প্রতি ওয়াজিব।”
উক্ত মহাসম্মানিত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার অনুসরণে সাইয়্যিদুনা হযরত যূন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক এবং হযরত খুলাফায়ে রাশেদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের সুন্নত মুবারক জারী ও প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে নতুন করে কোন সিঁড়ি না বাড়িয়ে যথাক্রমে দ্বিতীয় সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে প্রথম খুতবা আর প্রথম বা নিচের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় খুতবা মুবারক প্রদান করে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক আদায় করেন।
এ ব্যাপারে সাইয়্যিদুনা হযরত যূন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি জিজ্ঞাসিত হলে, কারণ স্বরূপ তিনি বলেন, হযরত খলীফা আলাইহিমুস সালাম উনাদের দ্বারা এভাবে পর্যায়ক্রমে মিম্বর শরীফের সিঁড়ি বাড়াতে থাকলে একদিন দেখা যাবে যে, সম্মানিত মসজিদের চেয়ে মিম্বর শরীফ বড় হয়ে গেছে। উনার এ উত্তম ইজতিহাদ মুবারক সকলেই সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করে নেন এবং এ মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারকই পালনের ব্যাপারে উলামায়ে কিরাম রহমাতুল্লাহি আলাইহিম উনারা ফতওয়া প্রদান করেন।
দলীলঃ- হাকিম, তারগীব, ইবনু হিব্বান, তবারানী, বায়হাক্বী, ফতহুল বারী, ্্্উমদাতুল ক্বারী ইত্যাদি।

*********খুতবায় লাঠি ব্যবহার করা খাছ সুন্নত মুবারক ***********

পবিত্র জুমু’আহ উনার নামাযের খুতবাতে, পবিত্র ঈদ উনার খুতবাতে লাঠি ব্যবহার করা আখাছ্ছুল খাছ মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক। যারা খুতবার সময় লাঠি ব্যবহার করা বিদ্য়াত বা মাকরূহ্ বলে থাকে, তাদের সে বক্তব্য সম্পূর্ণ মনগড়া এবং ভ্রান্ত।
কেননা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ আছে যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি খুতবা মুবারক দেয়ার সময় লাঠি মুবারক ব্যবহার করেছেন। এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণনা করা হয়েছে-
ان النبى صلى الله عليه وسلم قام اى متوكنا على عصاء اوقوس.
অর্থঃ-“নিশ্চয়ই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি (খুতবা মুবারকের সময়) ‘আছা তথা লাঠি মুবারক অথবা ধনুকের উপর ভর করে দাঁড়াতেন।” (আবু দাঊদ শরীফ, বযলুল মাজহুদ)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عن حضرت عطاء رحمة الله عليه مرسلا ان النبى صلى الله عليه وسلم كان اذا خطب يعتمد على عنزته اعتمادا.
অর্থঃ- “হযরত আতা রহমতুল্লাহি আলাইহি মুরসালসূত্রে বর্ণনা করেন- নিশ্চয়ই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন পবিত্র খুতবা মুবারক দিতেন তখন তিনি সম্মানিত লাঠি মুবারকের উপর ভর করে খুতবা দিতেন।” (মিশকাত শরীফ, মিরকাত শরীফ, আশয়াতুল লুময়াত, লুময়াত, মুযাহেরে হক্ব, শরহুত্ ত্বীবী, তা’লীকুছ্ ছবীহ্)
আর ফিক্বাহ্ নির্ভরযোগ্য ও বিশ্ববিখ্যাত কিতাব গায়াতুল আওতারে উল্লেখ আছে যে,“(পবিত্র জুমু’আহ এর) খুতবার মধ্যে দাঁড়ানো যেরূপ সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত তদ্রপ খুতবার সময় লাঠি মুবারক ব্যবহার করাও সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত।”(গায়াতুল আওতার, অনুরূপ রদ্দুল মুহতার, শামীম, মুহীত, সিফরুস সায়াদাত, মাজমাউল বিহার মারাক্বিউল ফালাহ্ বাহরুর রায়েক, কিতাবুল মাদখাল, ফতওয়ায়ে রহীমিয়া, ইমাদাদুল ফতওয়া ও ইমদাদুল আহ্কামে উল্লেখ আছে)
এরপর শরহে বেক্বায়াতেও উল্লেখ আছে, “নামাযের মত খুতবাতে হাত বাঁধতে হবে না বরং লাঠি বা ধনুক হাতে (ভর করে) দাঁড়ানো অধিকতর উত্তম। কিন্তু লাঠি ব্যবহার করা ফরজ ওয়াজিব নয় (বরং সুন্নত মুবারক)।” (শরহে বেকায়া ১ম জিঃ পৃঃ ২৮৪)
তাছাড়া ফিক্বাহের প্রায় সব কিতাবেই খুতবার সময় লাঠি ব্যবহার করা খাছ সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সুতরাং জুমুয়ার নামাযের খুতবাতে লাঠি মুবারক ব্যবহার করাকে বিদয়াত বলা কখনই শুদ্ধ হবেনা। বিদয়াত বলা থেকে বিরত থাকতে হবে। নচেৎ কুফরী হবে এবং ঈমান-আমল বরবাদ হয়ে জাহান্নামী হতে হবে।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]