মুসলমান পুরুষ ও মহিলা সকলের জন্যই ফরযে আইন হচ্ছে- যথাযথভাবে পাঁচ ওয়াক্ত পবিত্র ছলাত বা নামায শরঈ তারতীব অনুযায়ী যথাসময়ে আদায় করে নেয়া।


খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘নিশ্চয়ই পবিত্র ছলাত বা নামায মু’মিনদের উপর ফরয নির্দিষ্ট সময়ে’। সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র ছলাত বা নামায সম্মানিত শরীয়ত উনার একটি বুনিয়াদী ফরয ইবাদত। সুবহানাল্লাহ! যা ইহকালে গুনাহখতা ক্ষমা করার ও পরকালে জান্নাত অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের খাছ রেযামন্দি বা সন্তুষ্টি মুবারক লাভ করার একটি অন্যতম মাধ্যম।
তাই প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ ও মহিলা সকলের জন্যই ফরযে আইন হচ্ছে- যথাযথভাবে পাঁচ ওয়াক্ত পবিত্র ছলাত বা নামায শরঈ তারতীব অনুযায়ী যথাসময়ে আদায় করে নেয়া। অর্থাৎ কোনো ক্রমেই পবিত্র ছলাত বা নামায তরক না করা।
ক্বায়িম-মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ক্বওল শরীফ:
খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ছাহিবু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যদি তারা মু’মিন হয়ে থাকে তবে তাদের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে সন্তুষ্ট করা। কেননা উনারাই সন্তুষ্টি মুবারক পাওয়ার অধিক হকদার।”

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, পবিত্র ছলাত বা নামায হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সন্তুষ্ট করার সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম মাধ্যম। তাই পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে পবিত্র ছলাত বা নামাযের ব্যাপারে অত্যধিক গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আমার সম্মানিত হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার বান্দাদের মধ্যে যাঁরা পবিত্র ঈমান এনেছে, তাদেরকে আপনি বলুন- তারা যেন পবিত্র ছলাত বা নামায আদায় করে এবং আমি তাঁদেরকে যা দান করেছি তা হতে গোপনে ও প্রকাশ্যে সৎ পথে ব্যয় করে ঐদিন আসার আগে, যে দিন কোনো বেচা-কেনা নেই এবং বন্ধুত্বও নেই।”
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “যখন তোমরা পবিত্র ছলাত বা নামায আদায় করো, তখন দাঁড়িয়ে, বসে ও শোয়া অবস্থায় মহান আল্লাহ তায়ালা উনাকে স্মরণ করো। অতঃপর যখন বিপদ মুক্ত হয়ে যাও, তখন পবিত্র ছলাত বা নামায ঠিক করে পড়। নিশ্চয়ই পবিত্র ছলাত বা নামায মু’মিনদের উপর ফরয নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে।”

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, সর্বাধিক হাদীছ শরীফ বর্ণনাকারী ছাহাবী হযরত আবূ হুরাইরাহ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার থেকে বর্ণিত। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- পাঁচ ওয়াক্ত পবিত্র ছলাত বা নামায, এক জুমুয়াহ হতে অপর জুমুয়াহ পর্যন্ত ও এক পবিত্র রমাদ্বান শরীফ হতে অপর রমাদ্বান শরীফ পর্যন্ত কাফফারা হয় সেসকল গুণাহের জন্য, যা ইহার মধ্যবর্তী সময়ে সংঘটিত হয়, যখন কবীরাহ গুনাহসমূহ থেকে বেঁচে থাকা হয়। সুবহানাল্লাহ!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, সর্বাধিক হাদীছ শরীফ বর্ণনাকারী ছাহাবী হযরত আবূ হুরাইরাহ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার থেকে আরো বর্ণিত আছে। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- আচ্ছা বলুন তো, যদি আপনাদের কারো দরজায় একটি নহর থাকে, যাতে তিনি দৈনিক পাঁচবার গোসল করেন, তার ময়লার কিছু বাকী থাকবে কি? উনারা উত্তরে বললেন, তার ময়লার কিছু বাকী থাকবে না। নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন- এরূপই উদাহরণ হচ্ছে পাঁচ ওয়াক্ত পবিত্র ছলাত বা নামাযের। পবিত্র ছলাত বা নামাযের দ্বারা মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি নামাযী ব্যক্তির গুণাহসমূহ মুছে দেন। সুবহানাল্লাহ।

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, মূল কথা হলো- পবিত্র ছলাত বা নামায সম্মানিত শরীয়ত উনার একটি বুনিয়াদী ফরয ইবাদত। যা ইহকালে গুনাহখতা ক্ষমা করার ও পরকালে জান্নাত লাভ করার একটি অন্যতম মাধ্যম। তাই প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ ও মহিলা সকলের জন্যই ফরযে আইন হচ্ছে- যথাযথভাবে পাঁচ ওয়াক্ত পবিত্র ছলাত বা নামায শরঈ তারতীব অনুযায়ী যথাসময়ে আদায় করে নেয়া। অর্থাৎ কোনো ক্রমেই পবিত্র ছলাত বা নামায তরক না করা।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]