মূর্তি, ভাস্কর্য ও প্রাণীর ছবি ইত্যাদি বিষয়ে শরয়ী ফায়ছালা মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফে বহু পূর্বেই দেয়া হয়েছে।


মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘তোমরা মূর্তি, ভাস্কর্য, প্রতিমা ও ছবির অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থাকো।’
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘প্রত্যেক মূর্তি, ভাস্কর্য, প্রতিমা ও ছবি তৈরী কারী জাহান্নামী।’ মূর্তি, ভাস্কর্য ও প্রাণীর ছবি ইত্যাদি বিষয়ে শরয়ী ফায়ছালা মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফে বহু পূর্বেই দেয়া হয়েছে। সেখানে ১১শ’র বেশী দলীলের দ্বারা প্রমাণ করা হয়েছে যে, সম্মানিত শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে সর্বপ্রকার মূর্তি, ভাস্কর্য, ম্যানিকিন ও প্রাণীর ছবি তৈরী করা, করানো, রাখা, রাখানো সম্পূর্ণরূপে হারাম ও কবীরা গুনাহ।
যারা এ ব্যাপারে সৌদী আরবসহ অন্যান্য মুসলমান দেশের উদাহরণ দেয়, তারা আশাদ্দুদ দরজার জাহিল। কারণ সম্মানিত শরীয়ত উনার দলীল হচ্ছে পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ এবং পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ। কোন দেশ, কোন ব্যক্তি শরীয়তের দলীল নয়। কাজেই প্রত্যেকের জন্য ফরয হচ্ছে মূর্তি, ভাস্কর্য ও প্রাণীর ছবির বিষয়ে মতভেদ সৃষ্টি না করে মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফের উক্ত ফতওয়া মুতাবিক আমল করা।
– ক্বওল শরীফ: সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম
ছাহিবু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ছাহিবে নেয়ামত, আল ওয়াসীলাতু ইলাল্লাহ, আল ওয়াসীলাতু ইলা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, সুলত্বানুন নাছীর, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, আজ থেকে প্রায় ২৮ বছর আগে ১৯৯২ সালের এপ্রিল মাসে ঢাকা রাজারবাগ শরীফ থেকে প্রকাশিত মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফের ৫ম, ৬ষ্ঠ ও ৭ম তিনটি সংখ্যায় ৩৫৩টি দলীল দ্বারা প্রাণীর ছবি, মূর্তি, ভাস্কর্য ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে হারাম বলে ফতওয়া প্রকাশ করা হয়েছিলো। সুবহানাল্লাহ!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, পুনরায় মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফে ছবি তোলা, আঁকা, রাখা, ভাস্কর্য, মূর্তি তৈরীর বিষয়ে ১৬৮ থেকে ২৩৭ পর্যন্ত মোট ৭০টি সংখ্যায় প্রায় ৭০০ পৃষ্ঠাব্যাপী পবিত্র কুরআন শরীফ উনার আয়াত শরীফ উনার অসংখ্য তাফসীর এবং প্রায় ৩০ খানার অধিক হাদীছ শরীফ উনার কিতাব এবং সংশ্লিষ্ট অসংখ্য শরাহ বা ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং অনুসরণীয় ইমাম মুজতাাহিদ ও উলামায়ে কিরাম উনাদের ফতওয়া থেকে ১১৬০টি দলীল পেশ করা হয়েছে যাতে কারো পক্ষে এ বিষয়ে কোনরূপ সংশয় সন্দেহ না থাকে।

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত “সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান” এর ৪৭৩ পৃষ্ঠায় মূর্তি শব্দের শাব্দিক অর্থ লিখা হয়েছে- দেহ, আকৃতি, রূপ, প্রতিমা।

বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত “সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান” এর ৪৩৭ পৃষ্ঠায় ভাস্কর্র্য শব্দের শাব্দিক অর্থ লিখা হয়েছে- প্রস্তরাদি খোদাই করে বা তা দিয়ে মূর্তি নির্মাণের কাজ, sculpture।
বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত “সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান” এর ৩৬৪ পৃষ্ঠায় প্রতিমা শব্দের শাব্দিক অর্থ লিখা হয়েছে- প্রতিকৃতি, প্রতিমূর্তি, হাতে তৈরী মাটির কল্পিত মূর্তি, দেবমূর্তি, দেববিগ্রহ।
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, উপরোক্ত মূর্তি, ভাস্কর্য ও প্রতিমা শব্দের প্রতিশব্দ হিসেবে পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে যে শব্দসমূহ ব্যবহৃত হয়েছে সেগুলো হলো- اَصْنَامٌ، تَصْوِيْرٌ تَـمَاثِيْلٌ، الْأَوْثَانِ، أَوْثَانًا، اَلْأَنْصَابُ،
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন,اَصْنَامٌ (‘আছনামুন’) শব্দের অর্থ হলো- মূর্তি, প্রতিমা, প্রতিমূর্তি, দুর্গন্ধ, অপবিত্র। تَـمَاثِيْلٌ (‘তামাছীলুন’) শব্দ تِـمْثَالٌ (তিমছালুন) শব্দের বহুবচন। অর্থাৎ تـِمْثَالٌ (‘তিমছালুন’) শব্দ একবচন এবং এর বহুবচন হলো تَـمَاثِيْلٌ، (‘তামাছীলুন)। মূল শব্দ হলো مَثَلٌ (মাছালুন)। সুতরাং تـِمْثَالٌ (তিমছালুন) ও تَـمَاثِيْلٌ (‘তামাছীলুন’) এবং مَثَلٌ (মাছালুন) শব্দের অর্থ হলো মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কর্য, প্রতিমূর্তি, প্রতিচ্ছবি, আকৃতি, নক্শা, অঙ্কিত চিত্র।الْأَوْثَانِ ও أَوْثَانًا শব্দ وَثَنٌ (ওয়াছানুন) শব্দের বহুবচন। অর্থাৎ وَثَنٌ (ওয়াছানুন) শব্দ একবচন এবং এর বহুবচন হলো اَوْثَانٌ (আওছানুন)। সুতরাং وَثَنٌ (ওয়াছানুন) এবং اَوْثَانٌ শব্দের অর্থ হলো- মূর্তি, প্রতিমা, প্রতিমূর্তি, পুতুল।
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন,اَلْأَنْصَابُ শব্দ এসেছে نُصُبٌ (নুছুবুন) শব্দ থেকে। আর نُصُبٌ (নুছুবুন) শব্দ একবচন এবং এর বহুবচন হলো اَنْصَابٌ (আনছাবুন)। সুতরাং نُصُبٌ (নুছুবুন) এবং انْصَابٌ (আন্ছাবুন) শব্দের অর্থ হলো- মূর্তি, প্রতিমা, প্রতিমূর্তি, স্তম্ভ, স্থাপিত, পূজা বা বলীর বেদী, স্ট্যেচু (statue), ভাস্কর্য, পুতুল।
تَصْوِيْرٌ (তাছউয়ীর) শব্দটি ছবি, মূর্তি ও ভাস্কর্য অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। মূল শব্দ হিসেবে صورة ‘ছূরতুন’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। এ শব্দটি একবচন। বহুবচন হচ্ছে صور ‘ছুয়ারুন’ শব্দটি। যিনি ছূরত বা আকৃতি প্রদান করেন উনাকে مصور‘মুছাওউইর’ বলা হয়। (সমূহ আরবী অভিধান)
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, উপরোক্ত বর্ণনা দ্বারা স্পষ্ট প্রতিয়মান হয় যে, মূর্তি-প্রতিমা, ছবি একই বিষয়। এ দুটিকেই পূজা ও সম্মান প্রদর্শনের জন্য তৈরি করা হয়। আর ভাস্কর্য তৈরির ক্ষেত্রে সাধারণতঃ তিনটি অবস্থার সৃষ্টি হয়। যথা- ১. পূজা বা সম্মান প্রদর্শনের জন্য বানানো হয়। ২. পূজা বা সম্মান প্রদর্শনের জন্য বানানো হয় না, স্রেফ সৌন্দর্য প্রদর্শনের জন্য বানানো হয়। ৩. প্রাণীর প্রতিকৃতি তৈরি করা হয়।

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, যদি ভাস্কর্য প্রথম অবস্থার সাথে মিলে যায় অর্থাৎ পূজা বা সম্মান প্রদর্শনের জন্য বানানো হয় তাহলে তা জীব-জন্তুর প্রতিকৃতি হোক বা না হোক উভয় অবস্থায় হারাম, কুফর ও শিরকের অন্তর্ভুক্ত। আর যদি পূজা বা সম্মান প্রদর্শনের জন্য বানানো না হয়, প্রাণী বা জীব-জন্তুর অর্থাৎ মানুষ, হাতি, ঘোড়া, পশু-পাখি ইত্যাদির প্রতিকৃতি বা ছুরত প্রকাশ না পায় এবং তাতে সম্মানিত শরীয়ত উনার খিলাফ কোনো বিষয় অন্তর্ভুক্ত না থাকে তবে এহেন ভাস্কর্য তৈরি করা মুবাহ তথা বৈধ। যেমন- মতিঝিলের শাপলা চত্বর। কিন্তু যদি কোনো প্রাণী বা জীব-জন্তুর আকৃতিতে ভাস্কর্য বানানো হয় তবে তা সর্বাবস্থায় হারাম, নাজায়িয ও কুফরী হবে।

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, মোটকথা, যে মাধ্যমেই প্রাণীর ছবি তোলা বা মূর্তি-ভাস্কর্য নির্মাণ করা হোক না কেন তা যদি প্রাণীর প্রতিকৃতি হয় তবে তা স্পষ্ট হারাম হবে। যেমন- ক্যামেরা, কলম, রং তুলি, লোহা, কাঠ, বাঁশ, কাগজ, প্লাস্টিক, পাথর-মাটি, প্রোগ্রামিং, আলোকরশ্মি, ছায়া (shadowgraphy) ইত্যাদি যত মাধ্যম আছে; চাই তা খোদাই করা হোক বা খোদাই করা না হোক, ছায়া থাকুক বা না থাকুক, তা দিয়ে যদি কোনো প্রাণীর প্রতিকৃতি প্রকাশ পায় তবে তা হারাম হবে। আর পূজা ও সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে হলে সুস্পষ্ট শিরক ও কুফরী হবে।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]