যথাযথ গবেষণা ব্যতিত ঢালাওভাবে জিএম ফুড অনুমোদন সংবিধান এবং আন্তর্জাতিক প্রাণবৈচিত্র্য সনদের লঙ্ঘন


ইদানিং সরকার বিদেশী বিভিন্ন আগ্রাসী কর্পোরেট কোম্পানীর সাথে জিএম ফুড নিয়ে চুক্তি করছে। এই চুক্তি করছে কোন রকম গবেষণা ছাড়াই। একটা জিএম ফুড বাজারে ছাড়ার আগে তার ক্ষতিকর দিক কি হতে পারে, বীজসত্ব কি হবে, খাদ্য নিরাপত্তা সংকটে পড়বে কি না , মানুষ এই খাবার খেলে কি উপকার পাবে, খাদ্য উৎপাদন কেমন হবে, পরিবেশের কোন ক্ষতি হবে কি না তা যাচাই করা ছাড়াই চুক্তি হচ্ছে, বীজ বাজারে ছাড়া হচ্ছে যা সনদের লঙ্ঘন।
বাংলাদেশ সংবিধানের ১৮ (ক) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “রাষ্ট্র বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করবেন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য, পানিভূমি, বন ও বন্যপ্রাণির সংরক্ষণ নিরাপত্তা বিধান করবেন।”
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক প্রাণবৈচিত্র্য সনদের (১৯৯২) অনুচ্ছেদ-১৫ অনুযায়ী, “কোনো রাষ্ট্রের প্রাণসম্পদের উপর অন্য কোনো পক্ষের অভিগম্যতা কিভাবে ও কতটুকুু হবে, তা নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের সরকার এবং তা হবে জাতীয় আইনের অধীন।” অর্থাৎ রাষ্ট্রের ছাড়পত্র লাগবে। কিন্তু দেখা যায় বহুজাতিক কোম্পানির হয়ে দাতাসংস্থারা এসব ছাড়পত্র এবং বহুজাতিক কোম্পানির মেধস্বত্বের আইনি গ্রহণযোগ্যতা তৈরিতে জাতীয় আইন ও নীতিগুলো তৈরিতে রাষ্ট্রকে প্রভাবিত করে।
সেই অনুযায়ী দেশের খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র দেশের সম্পদ অন্যায়ভাবে কোনো করপোরেট জিম্মায় তুলে দিতে পারে না।
বাংলাদেশের প্রাণীসম্পদের ওপর সাংবিধানিকভাবে বাংলাদেশের জনগণ ও রাষ্ট্রের মালিকানা নিরূপিত। দেশে এমন কোনো আইন বা নীতি নেই যা দেশের কোনো প্রাণীসম্পদের ওপর বহিরাগত বহুজাতিক কোম্পানির মেধাস্বত্ব বা মালিকানাকে বৈধতা দেয়।তাই জিএম ফুড অনুমোদন দেওয়ার পুর্বে দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে।কোনক্রমেই দেশের সম্পদ বিদেশি কোম্পানীর হাতে তুলে দেওয়া যাবে না।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে