যারা মসজিদে চেয়ারে নামায পড়ছেন তারা ভেবে দেখেছেন কি?


এখন দেখা যায় প্রতিটা মসজিদে চেয়ারে নামাজ পড়ার হিড়িক পড়ে গেছে। সব মসজিদেই ২০/৩০ টা বা তারও বেশি চেয়ার দেখা যায়। চেয়ারে নামাজ পড়া নিয়ে কয়েকটা প্রশ্ন চলে আসে-
১) আমরা জানি নামাজে ক্বিয়াম বা দাঁড়ানো হচ্ছে ফরয (বাহরুর রায়েক ১/২৯০, হিদায়া মায়াদ দিরায়া ৯৮, মুখতাছারুল কুদুরী ২৪, আইনী শরহে হেদায়া ১/৫৮৮)। একটা লোক যে মসজিদে নামায পড়তে আসে সে হেঁটেই আসে। যে হাঁটে সে দাঁড়াতেও পারে। কিন্তু সামান্য অসুস্থতার অযুহাতে চেয়ারে গিয়ে বসে। আর বসার কারনে দাঁড়ানোর অর্থাৎ ক্বিয়াম করার ফরয তরক হয়।
২) আমরা জানি, নামাজে কাতার সোজা করা ওয়াজিব। (সহীহ বুখারী : হাদীছ নং ৬৯০, মুসলিম শরীফ, আবু দাউদ শরীফ, বাহরুর রায়েক)। একটা লোক যখন চেয়ারে বসার জন্য মসজিদে আসে তখন তার পা আর অন্যান্য মুসল্লি উনাদের পা কিন্তু এক বরাবর থাকে না। পিছনে চেয়ার থাকার কারনে স্বাভাবিক ভাবে তার পা অন্যদের তুলনায় এক ফুটেরও বেশি সামনে থাকে। যদি এ ব্যক্তি নামাজ শুরুর আগে দাঁড়ায় তাহলে গোটা দেহ সহ এক ফুট এগিয়ে থাকে। সূতরাং কাতার সোজা হয় না। ওয়াজিব তরক হয়ে যায়। আবার যদি বসেও থাকে তাহলে উচ্চতার দিক থেকে যে কাতার সোজার বিষয় রয়েছে সেটাও তরক হয়।
৩) আমরা জানি, সিজদার জন্য শরীরের আট অংঙ্গের ব্যবহার শর্ত। দুই পায়ের অগ্রভাগ, দুই হাঁটু, দুই হাতের তালু, নাক ও কপাল। এর একটাও যদি না লাগে সিজদার শর্ত ভেঙ্গে যাবে। তবে যে অংঙ্গে সমস্যা সেটা অব্যহতি পাবে। যেমন কারো নাকে সমস্যা সেক্ষেত্রে নাক বাদে বাকি ৭ টা অংঙ্গ স্পর্শ করাতেই হবে। এখন একটা লোকের কোমরে কিছু ব্যাথা আছে বা হাঁটুতে কিছু ব্যাথা আছে সে চেষ্টা করলে কপাল ও নাক না লাগিয়ে সিজদা করতে পারে তখন তার বাকি অংঙ্গ গুলো স্পর্শ করাতেই হবে। কিন্তু যারা চেয়ারে বসে তারা সেটা করছে না।
তাহলে যারা চেয়ারে বসে নামাজ পড়ছে তারা ফরয ও ওয়াজিব তরক করে যে নামায পড়ছে তাদের নামায কি হচ্ছে?
মোটেও হচ্ছে না। সূতরাং যারা চেয়ারে বসে নামায আদায় করে থাকেন তাদের উচিত নিজের নামাযকে হিফাজত করা। নইলে পরকালে শূণ্য নামায নিয়ে উঠতে হবে। নামায হচ্ছে জান্নাত উনার চাবি। তাই চেয়ারে নামায পড়ে চাবি বিহীনভাবে পরকালে গেলে জান্নাতের দরজা আর খোলা সম্ভব হবে না।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]