সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দু:খিত। ব্লগের উন্নয়নের কাজ চলছে। অতিশীঘ্রই আমরা নতুনভাবে ব্লগকে উপস্থাপন করবো। ইনশাআল্লাহ।

যুগে যুগে ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনের দলীল


হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত যুগ থেকে শুরু করে ধারাবাহিকভাবে বর্তমান সময় পর্যন্ত পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন হয়ে আসছে। বিভিন্ন সময়ে হয়তো পদ্মতিতে পরিবর্তন আসছে, যেমন- প্রথম দিকে রোজা রেখে পালন করা, এর পরে বিলাদত শরীফের দিবসে যিয়ারত ও নামায, এরপর দোয়া, তার পরে কুরআন শরীফ তিলাওয়াত, হামদ নাত পাঠ করা, মানুষকে খাদ্য খাওয়ানো। লোকজন সমাবেত করে বিভিন্ন নেক কাজ ইত্যাদি। কিন্তু মূল যে আমল অর্থাৎ পবিত্র মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন তা সব সময়ই অব্যহত ছিলো। তারই ধারাবাহিকতায় আমলগুলো যুগ অনুযায়ী উল্লেখ করা হলো-

১) হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজের মীলাদুন্নবীর আলোচনা করেছেনঃ

হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে,

عن عائشة قالت : تَذَاكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ ‌عَلَيْهِ ‌وَسَلَّمَ، ‌وَأَبُو ‌بَكْرٍ ‌مِيلَادَهُمَا ‌عِنْدِي

উম্মুল মু’মিনিন আছ ছালিছা হযরত আয়েশা ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম তিনি বর্ণনা করেন, আমার কাছে হাবীবুল্লাহ, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং খলীফাতু রসূলিল্লাহ, হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম উনারা উনাদের পবিত্র মীলাদ শরীফের আলোচনা করেছেন।

(তাবরানী ২৮, মাযমাউয যাওয়ায়েদ ৯/৫২: হাদীছ শরীফ নং ১৪৩৯২; প্রকাশনা: দারুল ফিকর বাইরুত লেবানন, আল ইছাবা লি ইবনে হাজার ৪/১৬৯, সিরাতুন নাবাবিয়া ইবনে কাছীর ৪/৫১২, বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৫/২৭৮, তারীখে মাদীনাতু দিমাষ্ক ৩০/২৬)

ইমাম হযরত নুরুদ্দীন ইবনে হাজার হায়তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি উপরোক্ত হাদীছ শরীফখানা বর্ণনা করে বলেন,

رواه الطبراني وإسناده حسن

ইমাম হযরত তাবরানী রহমতুল্লাহি আলাইহি এটা বর্ণনা করেন, বর্ণনাটির সনদ হাসান। (মাযমাউয যাওয়ায়েদ ৯/৫২: হাদীছ শরীফ নং ১৪৩৯২)

হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার নিজের মীলাদুন্নবী পালন করেছেনঃ

বিশুদ্ধ হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে-

“হযরত আবূ ক্বতাদা আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সোমবার রোযা রাখার ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হলেন, তখন তিনি ইরশাদ মুবারক করেন যে, এদিন সোমবার আমি পবিত্র বিলাদত শরীফ গ্রহন করেছি, আর এ দিনেই আমার উপর পবিত্র ওহী বা পবিত্র কুরআন শরীফ নাযিল হয়েছে।” সুবহানাল্লাহ! (মুসলিম শরীফ : হাদীছ শরীফ নং ২৮০৭, আবূ দাঊদ শরীফ : হাদীছ শরীফ নং ২৪২৮, সুনানে কুবরা লি বায়হাক্বী শরীফ : হাদীছ শরীফ নং ৮২১৭, ইবনে খুযাইমা শরীফ : হাদীছ শরীফ নং ২১১৭, মুসনাদে আবি আওয়ানা : হাদীছ শরীফ নং ২৯২৬, মুসনাদে আহমদ শরীফ : হাদীছ শরীফ নং ২২৬০৩)

২) হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের পালন করতে বলেছেনঃ

ইমাম হযরত ইবনে আছীর রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিশ্ব বিখ্যাত কিতাব “উসদুল গবা ফি মা’রিফাতিছ ছাহাবা” যা দারু কুতুব আল ইলমিয়া থেকে প্রকাশিত, যার ১ /১২৭ পৃষ্ঠায় লেখা আছে-

“হযরত মাকহুল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত বিলাল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে বললেন, হে বিলাল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! আপনি কখনো ইছনাইনিল আযীম শরীফ রোযা রাখা পরিত্যাগ করবেন না। কারণ আমি ইছনাইনিল আযীম শরীফ পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছি। এ দিন ওহী মুবারক নাযিল হয়, এ দিন হিজরত করি।” (দলীল : তারীখে মাদীনাতু দিমাস্ক ১০/২২৯, খাছায়েছুল কুবরা ২/৪৭২)

৩) ১৪৮-১৯৩ হিজরী শতক তথা খাইরুল কুরুনে পালনের দলীলঃ

খইরুল কুরূনে ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনের স্পষ্ট দলীল রয়েছে। কথিত খলীফা হারুনুর রশীদের যামানায় (১৪৮-১৯৩ হিজরী) পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ করার জন্য এক ব্যক্তি ওলীআল্লাহ হিসাবে আখ্যায়িত হলেন। আল্লামা সাইয়্যিদ আবু বকর মক্কী আদ দিময়াতী আশ শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি (ওফাত: ১৩০২ হিজরী) উনার বিখ্যাত “ইয়ানাতুল ত্বলেবীন” কিতাবে বর্ণনা করেন-

 “বর্ণিত রয়েছে, কথিত খলীফা হারুনুর রশীদের যামানায় বছরা শহরের এক যুবক সে নফসের অনুসরণ করে চলতো। শহরের লোকেরা নিন্দনীয় আমলের জন্য তাকে নিন্দার চোখে দেখতো। তবে যখন পবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ মাস আসতো, এই যুবক কাপড় ধৌত করতেন, সুগন্ধি ব্যবহার করতেন ও খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকতেন। সেই সাথে ভালো খাবারের ব্যবস্থাও করতেন এবং পবিত্র মীলাদ শরীফ উনার মাসে এ আমল লম্বা সময়ব্যাপী করতেন। অতঃপর যখন তিনি ইন্তিকাল করেন তখন শহরবাসীগণ গায়েবী আহ্বান শুনতে পান। সেখানে বলা হচ্ছিলো, হে বছরাবাসী! আপনারা মহান আল্লাহ পাক উনার ওলীদের মধ্যে অর্ন্তভুক্ত একজন ওলীর জানাযায় শরীক হন। নিশ্চয়ই তিনি আমার কাছে খুবই প্রিয়। অতঃপর শহরবাসী উনার জানাযায় উপস্থিত হলেন এবং দাফন সম্পন্ন করলেন। শহরবাসী স্বপ্নে দেখলেন, উক্ত যুবক কারুকার্যপূর্ণ রেশমী কাপড় পরিহিত অবস্থায় ঘোরাফেরা করছেন। উনাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, এ ফযীলত আপনি কি করে লাভ করলেন? তিনি বললেন, পবিত্র মীলাদ শরীফকে সম্মান করার কারণে।” (ইয়ানাতুল ত্বলেবীন ৩য় খন্ড ৬১৩ পৃষ্ঠা, দারুল হাদীছ, কাহেরা, মিশর; ই‘য়ানাতুল ত্বলেবীন ৩য় খন্ড ৬০৮ পৃষ্ঠা, দারু কুতুব আল ইলমিয়া, বৈরুত, লেবানন)

উল্লেখ্য যে, খলীফা হারুনুর রশীদের যামানা ছিলো খইরুল কুরূন। উপরোক্ত ঘটনায় বোঝা যায়, সে সময় পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠের রীতি ছিলো।

৪) ২০০- ২১৯ হিজরী শতকে পালনের দলীলঃ

হিজরী ৩য় শতকের পবিত্র মক্কা শরীফ উনার মুসলিম ইতিহাসবিদ আল আযরাকী রহমতুল্লাহি আলাইহি (ওফাত ২১৯ হিজরী) তিনি উল্লেখ করেন-

 “অতঃপর হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক  ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেই ঘর মুবারকে পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন সেই ঘর মুবারকখানা ছিলেন হযরত আবূ ইউসুফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বাড়ির অন্তর্ভুক্ত। বাড়ির ওই ঘর মুবারকে সার্বক্ষণিক এমন বরকতময় ছিলো যে, তা হাছিলের জন্যে সেখানে কথিত খলীফা মুসা (হাদী) ও কথিত খলীফা হারুনুর রশীদ উভয়ের মাতা খায়জুরান রহমতুল্লাহি আলাইহা তিনি তাশরীফ আনেন। সেই জায়গায় নামায আদায়ের ব্যবস্থা করে দেন।” সুবহানাল্লাহ! (আল মক্কাহ ৪র্থ খণ্ড ৫ পৃষ্ঠা)

হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেখানে পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন সেখানে নামায আদায় করা হতো। অর্থাৎ সেখানে পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা হতো।

৫) ২৬৬- ৩৫১ হিজরী শতকে পালনের দলীলঃ

বিখ্যাত মুফাসসির হযরত আন নাক্কাস রহমতুল্লাহি আলাইহি (২৬৬-৩৫১ হিজরী) তিনি উল্লেখ করেন,

“বণি শায়বার দরজা দিয়ে প্রবেশ করলেই দোয়া কবুল হয়। আর সে স্থান ছিলো হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার বাড়ি যেখানে পবিত্র জুমায়ার রাতে দোয়া করা হতো। হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক  ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ প্রকাশের স্থানে প্রতি সোমবার দুপুরে দোয়া করা হতো।” (শিফা আল গারাম বিখাবরিল বালাদিল হারাম, ১/২৬৭; প্রকাশনা - দারু কুতুব আল ইলমিয়া,বাইরূত, লেবানন)

৬) ৩৯৪ হিজরী শতকে পালনের দলীলঃ

কিতাবে উল্লেখ আছে, ৩৯৪ হিজরীতে মিশরে মাসব্যাপী পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবীল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা হতো। বিখ্যাত আলিমে দ্বীন ইমাম মাকরিযী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার “তাজুল হুনাফা” কিতাবে তিনশত চুরানব্বই হিজরীর আলোচনা করতে গিয়ে লিখেন-

  “পবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ মাসে (হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উপলক্ষে) সব মানুষকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘোষণা করে দেয়া হলো, সম্পূর্ণ মাস সমস্ত রাস্তায় রাস্তায় এবং রাস্তার অলি গলিতে বাতি জ্বালিয়ে রাখতে হবে।” সুবহানাল্লাহ! (তাজুল হুনাফা ২/৪৮, আলজামিউ ফিল মাওলূদ ৩/১২)

৭) ৪৯৭-৫৬৫ হিজরী শতকে পালনের দলীলঃ

হযরত মুহম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন যুফার মক্কী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৪৯৭- ৫৬৫ হিজরী) তিনি উনার “আদ্ দুররুল মুনায্যাম” কিতাবে লিখেন-

 “হযরত আল্লামা ইবনে যুফার রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, বরং আদ দুররুল মুনায্যাম কিতাবে উল্লেখ আছে,  হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আশিকগণ উনার বিলাদত শরীফ প্রকাশের খুশিতে খাওয়া দাওয়া ও দাওয়াতের আয়োজন করে আসছেন। (মিশরের রাজধানী) কায়রোর যে সকল ব্যক্তি বড় বড় দাওয়াতের আয়োজন করেছেন, তাদের মধ্যে শায়েখ আবুল হাসান রহমতুল্লাহি আলাইহি যিনি মশহুর ছিলেন ইবনে কুফুল কাদ্দাসাল্লাহু তায়ালা সিররাহূ নামে। তিনি আমাদের শায়েখ আবূ আব্দুল্লাহ ইবনে নুমান রহমতুল্লাহি আলাইহি। এই বরকতময় আমল হযরত জামালুদ্দীন আযমী হামদানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি করেছেন। মিশরে হযরত ইউসুফ হাজ্জার রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিও ব্যাপক পরিসরে উদযাপন করেছেন। সুবহানাল্লাহ! (সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ ফী সিরাতে খাইরিল ইবাদ ১ম খন্ড ৩৬৩ পৃষ্ঠা)

৮) ৫১১ হিজরী শতকে পালনের দলীলঃ

এ বিষয়ে হাফিযে হাদীছ হযরত ইমাম বদরুদ্দীন আইনী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-

 “হযরত নূরুদ্দীন জঙ্গী রহমতুল্লাহি আলাইহি (জন্ম ৫১১ হিজরী) তিনি প্রতি বছর ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করতেন এবং এ সময় মওছূলের শাসক ও নেতৃস্থানীয়রা উপস্থিত থাকতেন। হযরত নূরুদ্দীন জঙ্গী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদেরকে মুহব্বত করতেন ও পত্র লিখতেন।” (ইকদুল জুমান ফী তারীখি আহলিয যামান ১৬৩ পৃষ্ঠা, লেখক : হযরত বদরুদ্দীন আইনী হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি)

সে সময় হাফিযে হাদীছ আবুল ফয়যে হযরত আব্দুর রহমান ইবনুল জাওযী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৫১০ হজিরী) লিখেন,

“হারামাইন শরীফাইন, মশির, ইয়ামনে, সরিয়িা এবং র্পূব থেকে পশ্চমি র্পযন্ত আরবরে সকল শহর ও নগরের অধবিাসীদরে মধ্যে অব্যাহতভাবে এ নয়িম চলে আসছে যে, তারা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবত্রি মীলাদ শরীফের অনুষ্ঠান করেন। পবত্রি রবীউল আউওয়াল শরীফের নতুন চাঁদরে আগমনে আনন্দতি হন, গোসল করনে, দামী পোশাক পরধিান করনে, নানা প্রকার সাজ-সজ্জা করনে, সুগন্ধি ব্যবহার করনে, সুরমা লাগান (পবত্রি রবীউল আউওয়াল শরীফের) এই দিনগুলোতে আনন্দ উৎসব করনে, হাতরে সম্পদ টাকা পয়সা মানুষরে মধ্যে বিলিয়ে দেন এবং অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে পবত্রি মীলাদ শরীফ পাঠ ও শ্রবণরে ব্যবস্থা করে অধকি ছাওয়াব এবং বিরাট সাফল্য র্অজন করনে।” (আদ দুররুল মুনায্যাম পৃষ্ঠা- ৮৫)

৯) ৫৪৯-৬৩০ হিজরী শতকে পালনের দলীলঃ

এ প্রসঙ্গে আল্লামা হযরত ইবনে কাছীর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া” নামক কিতাবের ১৩/১৩৭ পৃষ্ঠায় লিখেন-

“আরবলের বাদশা হযরত মালিক মুজাফফরুদ্দীন ইবনে যাইনুদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি প্রতি বছর পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে তিন লক্ষ দিনার ব্যায় বা খরচ করতেন।”

এ প্রসঙ্গে ইমাম ইবনে খাল্লিক্বান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিখ্যাত কিতাব “ওয়াফইয়াতুল আ’ইয়ান” ৪র্থ খন্ড ১১৯ পৃষ্ঠায় লিখেন,

“বাদশা হযরত মুজাফফরুদ্দীন ইবনে যাইনুদ্দীন রহমতুল্লাহি আলইহি কর্তৃক আয়োজিত মীলাদ শরীফ-এর মাহফিলের গুরুত্ব-মাহাত্ব বলে শেষ করার মত নয়। এতদসত্ত্বেও একটি কথা না বললেই নয়। তাহলো দেশবাসী আক্বীদা ও বিশ্বাসে উনাকে উত্তম লোক বলে জানতেন। আর তাই প্রতি বছর আরবলের নিকটবর্তী সকল দেশে যেমন- বাগদাদ, মাওছিল, জাযীরাহ, সানজার, নাছীবাইন, আরব-অনারব ও তার আশ-পাশের অসংখ্য আলিম-উলামা, ফক্বীহ, ছালিহ, ওয়ায়িয, ক্বারী ও শায়িরগণ উক্ত মীলাদ শরীফ-এর মাহফিলে উপস্থিত হতেন।” সুবহানাল্লাহ!

১০) ৭০৩-৭৭৯ হিজরী শতকে পালনের দলীলঃ

ঐতিহাসিক ও বিশ্বপরিব্রাজক ইবনে বতুতা (জন্ম ৭০৩ হজিরী- ৭৭৯ হজিরী) তিনি স্বীয় চোখে পবত্রি মক্কা শরীফে মহাসমারোহে পবত্রি ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন হতে দখেছেনে। তিনি বর্ণনা করেন,

পবত্রি মক্কা শরীফ উনার সম্মানতি কাজী বা বচিারক নাজমুদ্দীন মুহম্মদ ইবনে ইমামুল আলম মুহীউদ্দীন আত্ব-ত্ববিরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হলেন একজন নকেকার, ইবাদতগুজার আলিম। তিনি হলনে সম্মানতি, অধকি দানশীল, প্রপ্রতিবেশিদের জন্য সমব্যাথী বা সাহায্যকারী, উত্তম চরত্রিরে অধকিারী, সম্মানতি কা’বা শরীফের অধকি তাওয়াফকারী ও পর্যক্ষেণকারী। তিনি  বিভিন্ন মওসুমে বিশেষ করে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান বিলাদত শরীফ এর মাসে তিনি মানুষকে প্রচুর পরিমাণে খাদ্য খাওয়াতনে। এ বরকতময় সময়ে তিনি পবত্রি মক্কা শরীফ এর সম্মানতি ব্যক্তবর্গ, নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, ফক্বীর-ফুক্বারা, সম্মানতি হারাম শরীফরে খাদিমবর্গ এবং পবিত্র মক্কা শরীফের অধিবাসী ও অসহায় ব্যক্তিদের প্রচুর পরিমাণে খাদ্য খাওয়াতেন। আর মিশরের সুলতান মালিক নাছিরুদ্দীনন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিও পবত্রি মক্কা শরীফের উক্ত সম্মানিত কাযীকে অধকি সম্মান করতেন এবং তিনি সমস্ত দান-সদক্বা ও অধীনস্থ আমীর-উমারাগণের সমস্ত দান-সদক্বা উনার হাতে র্অপণ করতনে। (রিহালাতু ইবনে বতুতা: ১৬৯ পৃষ্ঠা)

১১) ৮০০ হিজরী শতকে পালনের দলীলঃ

ইতিহাস সাক্ষী দেয় সমগ্র মুসলিম জাহানে জাতীয়ভাবে মহাপবিত্র এবং মহাসম্মানিত ঈদে মীলাদ শরীফ পালন হতো। এ প্রসঙ্গে কিতাবে লিখিত আছে,

“হযরত আল্লামা শিহাবুদ্দীন আহমদ মাকরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “নাফহুত ত্বীব” কিতাবে লিখেন, নিশ্চয়ই সুলতান আবু হামভীল মুসা যিনি তালামিসানের (আলজেরিয়ার) সুলতান ছিলেন উনার সময় হিজরী ৮ম শতকে হাবীবুল্লাহ  হূযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত বিলাদত শরীফ পালন হতো যেরূপ পালন হতো মাগরিব (মরক্কে) এবং স্পেনের শহর সমূহে সেই সময়ে এবং পূর্ববর্তী সময়ে। হাফিজুল হাদীছ আবু আব্দুল্লাহ তান্নাসী রহমতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন, তিনি উনার বাসভবনে পবিত্র সম্মানিত বিলাদত শরীফের রাতে আম এবং খাছ সকল মানুষদের নিয়ে  মাহফিল করতেন।” (হুজ্জাতুল্লাহিল আ’লামিন ফি মু’জিজাতু সাইয়্যিদিল মুরসালীন ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ২৩৬ পৃষ্ঠা, লেখক: হযরত ইফসুফ ইবনে ইসমাঈল নাবেহানী রহমতুল্লাহি আলাইহি)

সূতরাং প্রমাণ হলো ঈদে মীলাদুন্নবী পালন নতুন কোন আমল না বরং মরক্কো, স্পেন সহ পৃথিবীর বিভন্ন স্থানে জাতীয়ভাবে পালন হতো। আর এ পালনের কারনে মুসলিম জাহানে এতটাই রহমত বরকত অর্জন করেছিলো যে সমগ্র পৃথিবী মুসলমান উনাদের করতলে ছিলো।

১২) ৯০০ হিজরী শতকে পালনের দলীলঃ

হযরত ইমাম সাখাবি রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন পবিত্র মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন বিষয়ে বিভিন্ন দেশে উনার সচক্ষে দেখা কিছু অভিজ্ঞতা উল্লেখ করেছেন-

মক্কা বাসীর মীলাদ মাহফীল:

মক্কাবাসি কল্যান ও বরকতের খনি। তারাঁ সে প্রসিদ্ধ পবিত্র স্থানের প্রতি বিশেষ মনোনিবেশ করেন, যেটা নবী করিম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এর জন্ম স্থান। এটা ‘সাউকুল লাইলে’ অবস্থিত। যাতে এর বরকতে প্রত্যেকের উদ্দ্যশ্য সাধিত হয়। এসব লোক মীলাদুন্নবীর দিন আরও অনেক কিছুর আয়োজন করে থাকেন। এ আয়েজনে আবেদ, নেককার, পরহিজগার, দানবীর কেউ বাদ যায় না। বিশেষ করে হেজাজের আমির বিনা সংকোচে সানন্দে অংশ গ্রহন করেন এবং তাঁর আগমন উপলক্ষে ঔ জায়গায় এক বিশেষ নিশান তৈরী করা হতো। প্রথম যুগে এই পদ্মতি ছিল না। পরবর্তীতে এটা মক্কার বিচারক ও বিশিষ্ট আলেম আল- বুরহানিশ শাফেয়ী মীলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে আগত যিয়ারতকারী খাদেম ও সমবেত লোকদেরকে খানা ও মিষ্টি খাওয়ানোকে পছন্দনীয় কাজ বলে রায় দিয়েছেন। হেজাজের আমির মীলাদুন্নবী উপলক্ষে স্বীয় আবাসগৃহে সাধারণ লোকদের জন্য ব্যাপক পানাহারের ব্যবস্থা করতেন যেন এর বদৌলতে বিপদ আপদ বালা মুসিবত দূরিবুত হয়ে যায়।

মদীনা শরীফে মীলাদ মাহফীলঃ

মদীনা বাসিগনও মীলাদ মাহফীলের আয়েজন করতেন এবং অনূরূপ অনুষ্ঠানাদি পালন করতেন।

মিসর ও সিরিয়া বাসীর মিলাদ মাহফিলঃ

মীলাদ মাহফীলে সবচেয়ে অগ্রগামী ছিলেন মিসর ও সিরিয়াবাসি। মিসরের সুলতান প্রতি বছর পবিত্র বেলাদতের রাত্রে মিলাদ মাহফীলের আয়োজনের অগ্রনী ভূমিকা রাখতেন। মীলাদের রাতে সুলতান বরকুকের উদোগে আলজবলুল আলীয়া নামক কিল্লায় আয়োজিত মীলাদ মাহফীলে হাজীর হয়ে ছিলাম। ওখানে আমি যা কিছু দেখেছিলাম, তা আমাকে হতবাক করেছে অসীম তৃপ্তি দান করেছে। কোন কিছুই আমার কাছে অসস্থিকর লাগেনি। সে পবিত্র রাতের বাদশাহের ভাষন, উপস্থিত বক্তাগনের বক্তব্য, কারীগনের তেলাওয়াতে কোরআন এবং নাত পাঠকারীগনের না’ত আমি সাথে সাথে লিপিবদ্ধ করে নিয়েছি। এছাড়া উপস্থিত জনতা, শিশু ও নিয়োজিত সেবকদের মধ্যে প্রায় দশ হাজার মিছকাল (একশত ভরী) স্বর্ণ , কাপড় ছোপড়, নানা প্রকারের পানাহার, সুগন্ধি বাতি এবং অনান্য জিনিস পত্র প্রদান করেন যেটা দ্বারা ওরা সাংসারিক জীবনে অনেকটা সচ্ছলতা অর্জন করতেন ঐ সময় আমি এমন পচিশঁ জন “কারী” বাছাই করেছি যাদের সুমিষ্ট কন্ঠের জন্য অন্য সবের উপর তাদের স্থান দিয়েছি। তাদের মধ্যে এমন কেউ ছিল না যিনি বাদশাহ ও বাদশাহের বিশিষ্ট লোকদের কাছ থেকে প্রায় বিশটি বিশেষ পোষাক উপহার না নিয়ে মঞ্চ থেকে অবতরন করেছেন।

ভারতবর্ষে পালনঃ

আরব ছাড়াও অনারবে মীলাদ মাহফিলের প্রচলন ছিল মহাসমারোহে যেমন: পবিত্র রবিউল আওয়াল মাসে এবং মহিমান্বিত দিনে (১২ই তারিখে) এতদঞ্চলের অধিবাসীদের মীলাদ মাহফিলের নামে জাঁকজমক পূর্ণ মাজলিসের আয়োজন হতো সে গরীব মিসকীনদের মধ্যকার বিশেষ ও সাধারনদের জন্য বহু ধরনের খাবারের বন্দোবস্ত করা হতো। তাতে ধারাবাহিক তেলাওয়াত বহু প্রকার খতম এবং উচ্ছাংগ ভাষায় প্রশংসা সম্বলিত কবিতা মালা আবৃত্ব হতো। বহু বরকতময় ও কল্যাণময় আমলের সমাহার ঘটতো বৈধ পন্থায় বঙ্গ আনন্দো উৎসব প্রকাশ করা হতো বহু বিশেষক্ত মহা পন্ডিতগণ ও তাতে অংশ গ্রহণ করতেন। তৎকালীন উলামা মাশায়েখগণের বহুবিদ সম্মানজনক কার্যাবলীর অন্যতম হচ্ছে এ মহান মীলাদ মাহফিল এবং মহিমাময় মাজলিসের প্রতি গুরুত্বারোপ ও সম্মান প্রদর্শন করা। কিন্তু তা সত্বেও উক্ত মাহফিলে সমবেত হওয়ার ব্যাপারে তাদেঁর কারও থেকে কোন ধরনের অস্বীকৃতি মুলক কঠোক্তি প্রকাশ পায়নি। যেহেতু সকলের এ উত্তম ধারনা ও আত্মবিশ্বাস ছিল যে, উক্ত মাহফিলে সমবেত হওয়া মূলতঃ আত্মতৃপ্তি, হুযূরে পাকের শুভাগমনের খুশী যাহের এবং তাঁরা এ ধরনের বহু উপমা বিদ্যমান রয়েচে। তন্মধ্যে আমাদের মহামান্য শায়েখগনের মুরববী শায়েখ মাওলানা যাইনুদ্দ্নী মাহমুদ আল-বাহদানী নকশবন্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ঘটনা উল্লেখ যোগ্য।

একবার যুগশ্রেষ্ট প্রতিভা সমপন্ন কালজয়ী, মুঘল সম্রাট বাদশা হুমায়ুন তাঁর বিশাল জাঁকজমকপূর্ণ মাজলিসেন আয়োজন করতেন এ সুবাদে সম্রাট মহোদয় স্বীয় মন্ত্রী মহোদয় কে আন্তর্জাতিক মানের খাদ্য ও পান সামগী প্রস্তুত করত: মাহফিল কে অপরূপ সজ্জায় সজ্জিত এভং সুরভীতি করার জন্য আতর গোলাপ, ধুপদ্বারা সুঘ্রানীত ও সুরভীত করার নির্দেশ দেন।

অনুষ্ঠানে আকাবীর তথা বড় বড় উলামা-মাশায়েখ ও তথাকার অধিবাসীদিগকে অংশ গ্রহনের আহবান করা হয়। হাজারও মানুষের সমাগমে অনুষ্টানে সজ্জিত এমনই মুহুর্তেই শায়খু আল্লামা যাইনুদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি কিছু সংখ্যক সহচরবৃন্দকে নিয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। তাঁর সম্মানার্থে সম্রাট মহোদয় আপ্যায়নের জন্য স্বয়ং- শেখ মহোদয়ের হস্ত ধৌত করনের জন্য শিষ্টাচার হস্তে পানির লোটা বহন করেন এবং স্বীয় মন্ত্রী মহোদয় (বারাম খান) নির্দেশের অধীনস্ত হয়ে নীচে হাত ধোয়ার পাত্র বহন করেন।

স্পেন ও পাশ্চাত্য দেশে মীলাদুন্নবী পালন

স্পেন ও পাশ্চাত্য দেশের শহরগুলোতে মীলাদুন নবীর রাতে রাজা-বাদশাহগণ জুলুস বের করতেন, সেথায় বড় বড় ইমাম ও ওলামায়ে কেরামগণ অংশ গ্রহন করতেন। মাঝপথে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোক এসে তাঁদের সাথে যোগ দিতেন এবং কাফিরদের সামনে সত্যে ও বানী তুলে ধরতেন। আমার যতটুকু ধারণ, রোমবাসীরাও কোন অংশে ওদের থেকে পিছপা ছিলনা। তারাও অনান্যা বাদশাহগনের মত মীলাদ মাহফীলের আয়োজন করতেন। হিন্দুস্থান শহরগুলোতে মীলাদ শরীফ প্রসংগে উচ্চস্তরের ওলামায়ে কেরাম ও বিশিষ্ট লিখকগন আমাকে বলেছেন যে হিন্দুস্থানের লোকেরা অন্যান্য দেশের তুলনায় অধীক ব্যাপক হারে এ পবিত্র ও বরকতময় দিনে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করতেন।

(দলীল- আল মাওরিদুর রাভী ফি মাওলিদিন নাবিইয়ি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। লেখক- ইমামুল মুহাদ্দিসীন হযরত মোল্লা আলী ক্বারী হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি। বিছাল শরীফ: ১০১৪ হিজরী।)

হাফিযে হাদীছ, বুখারী শরীফ উনার অন্যতম ব্যাখ্যাকারক হাফিজ ইমাম কাসতালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার কিতাবে লিখেন-

“হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ সোমবার রাতে বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। এটাই সুপ্রসিদ্ধ মত। জনশ্রুতিতে এটাই অতি প্রবল। এই ১২ই শরীফ এর উপর পবিত্র মক্কা শরীফের অধিবাসীরা আমল করে আসছেন। উনারা এ মুবারক তারিখে পবিত্র বিলাদত শরীফের মুবারক স্থান যিয়ারত করেন। ওই মুবারক রাতে পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ করা, পবিত্র মীলাদ শরীফ এর যাবতীয় আদব ও আনুষ্ঠানিক কাজসমূহ তাদের প্রিয় আমল।” (মাওয়াহিবু লাদুন্নিয়্যাহ ১/২৪)

ইমাম কাসতালানি রহমতুল্লাহি আলাইহি (ওফাত ৯২২ হিজরী) মাওয়াহিবে লাদুনীয়ার ১/৮৯ পৃষ্ঠার মধ্যে পবিত্র মীলাদ শরীফ সর্ম্পকে লিখেন-

সব সময় আহলে ইসলাম হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র বেলাদত মাসে মীলাদ মাহফীলের আয়োজন করে আসছে । রবিউল আউয়াল মাসে লোকদেরকে খাবার পরিবেশন করে, সদকা খয়রাতের সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ গ্রহন করে, আনন্দ, অধিক হারে নেক কাজ এবং মীলাদ মাহফীলের আয়োজন করে । প্রত্যেক মুসলমান মীলাদ শরীফের বরকতে ফয়েজ লাভ করে। মীলাদুন্নবী এর পরীক্ষিত বিষয়সমুহের মধ্যে একটি যে, যে বছর মীলাদ পালন করা হয়, সে বছর শান্তিতে অতিবাহিত হয়। অধিকন্তু এ আমল নেক উদ্দেশ্য ও আন্তরিক বাসনার পরিপূর্ণ বাস্তবায়নের সুসংবাদ । আল্লাহ তাআলা ঐ ব্যক্তির উপর রহম করেন, যিনি মিলাদুন্নবীর মাসের রাতসমূহ ঈদ হিসাবে পালন করে ঐসব লোকের রোগ যন্ত্রনা বৃদ্ধি করে যাদের অন্তর আগ থেকে নবী বিদ্বেষে মরাত্মক ভাবে আক্রান্ত।”

১৩) ১০০০ হিজরী শতকে পালনের দলীলঃ

কুতুবুদ্দীন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ হিন্দী নাহরানী মক্কী হানাফী (ওফাত ৯৮৮ হিজরী) তাঁর “ইয়লাম বিইলামি বাইতিল্লাহিল হারাম” গ্রন্থের ১৯৬ পৃষ্টায় পবিত্র মীলাদ শরীফ সম্পর্কে লিখেন-

শত শত বছর ধরে মক্কাবাসী মীলাদ শরীফ পালন করে আসছে । ১২ই রবিউল আউয়ালের রাতে প্রতি বছর যথারিতী মসজীদে হারামে সমবেত হওয়ার ঘোষনা দেওয়া হতো। বিভিন্ন এলাকার ওলামা ফোকাহা, গভণ ও চার মাজহাবের বিচারকগন মাগরীবের সময় মসজীদুল হারামে উপস্থিত হতেন। নামায আদায়ের পর সভাই ‘সউকুল লাইল’ হয়ে মাউলিদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সেই পবিত্র ঘর, যে খানে উনার সম্মানিত বেলাদত হয়েছে ) যেয়ারতের উদ্দেশ্যে যেতেন। তাদের হাতে অধিক হারে বাতী, ফানুস এবং মশাল থাকতো এখানে অধিক লোকের সমাগম হতো, যার ফলে জায়গা পাওয়া খুবই দুস্কর হতো। এক আলেমে দীন এখানে তাকরীর করতেন এবং সকল মুসলমানদের জন্য দোয়া করতেন। অতপর সবাই পুনরায় মসজীদে ফিরে আসতেন এবং তখনকার বাদশাহ এ ধরণের মাহফীলের আয়োজনকারীদের মাথায় পাগড়ী বেধে দিতেন। এশার আগ পর্যন্ত মাহফীল চলতো। এশার নামায আদায় করার পর লোকেরা নিজ নিজ ঘরে চলে যেত । এটা এতবড় সমাবেশ হতো যে অনেক দূর দূরান্ত থেকে লোক আসতো । এমন কি জিদ্দার লোকেরাও এ মাহফীলে শরীক হতো। এবং প্রিয় নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বেলাদতের সম্মানে আনন্দ প্রকাশ করতো।”

১৫’শ খৃষ্টাব্দেও এই উপমহাদেশে জাতীয়ভাবে জাঁকজমকভাবে পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা হতো।

বাংলার প্রথম নবাব মুর্শিদকুলী খাঁর সময় এই আমল এত ব্যাপকভাবে পালন হতো যে বাদশা মালেক মুজাফর রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার চাইতেও বেশি রাজকীয়ভাবে সেটাই মনে হয়।

বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত “বাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস” বইয়ের ২য় খন্ডে ১৯৭ পৃষ্ঠায় তাকালে আমরা দেখতে পাই,

১) বাংলার মুসলমানগন অত্যান্ত আড়ম্বরপূর্ণভাবে ও ধুমধামের সাথে ঈদে মীলাদ পালন করতো।

২) নবাব এ দিনকে বিশেষ উৎসবের দিনে হিসাবে পালনের ব্যবস্থা করেন।

৩) রবিউল আউয়াল মাসের প্রথম ১২ দিন পালনের ব্যবস্থা করেন।

৪) এ উপলক্ষে তিনি সম্পূর্ণ মুর্শিদাবাদ শহর ও পর্শ্ববর্তী এলাকা আলোকমালায় সজ্জিত করতেন।

৫) ১ লক্ষ মানুষ শুধু আলোক সজ্জার কাজে নিয়োজিত থাকতেন।

৬) কামান গর্জনের মাধ্যমে সড়ক ও নদীপথ আলোকিত হয়ে উঠতো।

৭) মুসলমান শাষনকর্তাগন ও জনসাধারনগন এই উপমাহাদেশব্যাপী ঈদে মীলাদ পালন করতো।

৮) আওলাদে রসূল ও আলেমদের উপহার দেয়া হতো।

৯) রাজ প্রসাধে রবিউল আউয়াল শরীফ মাসের ১ তারিখ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত উলামায়ে কিরাম উনাদের মজলিস হতো।

১০) ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাদীছ শরীফ আলোচনা করতেন।

উপরোক্ত ঘটনা থেকেই প্রমাণ হয়, সেসময় এই্ উপমহাদেশে এত সমৃদ্ধশালী ছিলো তার মূল কারন ছিলো এত মর্যাদার সাথে ঈদে মীলাদে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সেসময় ১ টাকায় ৮মন চাল পাওয়া যেত। মানুষের কোন অভাব ছিলো না। মানুষজন সুখী ও সমৃদ্ধ ছিলো।

১৪) ১১০০ হিজরী শতকে পালনের দলীলঃ

আর এসব মাহফিলে যে কতবড় নিয়ামত, রহমত নাযিল হয় তা ওলী আল্লাহগন দেখে কিতাবে উল্লেখ করেছেন। হযরত শাহ্ ওয়ালী উল্লাহ্ মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন, –

“আমি একবার মক্কা মুয়ায্যামায় মীলাদুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শরীফ-এর দিনে নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ-এর স্থানে উপস্থিত ছিলাম। তখন লোকেরা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ঐসব মু’জিযা বর্ণনা করছিলেন, যেগুলো হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শুভাগমনের পূর্বে এবং হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নবুওওয়াত প্রকাশের পূর্বে প্রকাশ পেয়েছিলো। আমি হঠাৎ দেখতে পেলাম সেখানে জ্যোতিসমূহেরই ছড়াছড়ি। তখন আমি গভীরভাবে চিন্তা ভাবনা করলাম ও বুঝতে পারলাম যে, ঐ ‘নূর’ (জ্যোতি হচ্ছে ঐসব ফেরেশ্তারই, যাঁদেরকে এমন মাহফিলসমূহের (মীলাদ শরীফ ইত্যাদি) জন্য নিয়োজত রাখা হয়েছে। অনুরূপভাবে আমি দেখেছি ‘রহমতের নূর’ ও ফেরেশ্তাদের নূর’ সেখানে একাকার হয়ে গিয়েছে।” (ফুয়ূযুল হারামাইন ৮১)

১৫) ১২০০ হিজরী শতকে পালনের দলীলঃ

আল্লামা আব্দুর রহীম তুর্কমানী রহমতুল্লাহি আলাইহি ১২৮৮ হিজরী সনে মক্কা ও মদিনা এবং জেদ্দাহ ও হাদিদার উলামায়ে কেরামের দ্বারা মিলাদ ও কিয়াম সম্পর্কে একটি ফতোয়া লিখিয়ে হিন্দুস্তানে নিয়ে আসেন এবং নিজ গ্রন্থ ” রাওয়াতুন নাঈম” -এর শেষাংশে ছেপে প্রকাশ করেন ।

প্রশ্নঃ আল্লাহ তায়ালা অসীম রহমত আপনার উপর বর্ষিত হোক । নিম্নে বর্নিত বিষয়ে আপনার অভিমত ও ফতোয়া কি ?

মিলাদ শরীফ পাঠ করা – বিশেষ করে নবী করিম সাল্লাল্লাহয় আলাইহে ওয়াসাল্লামের পবিত্র জন্ম বৃত্তান্ত পাঠকালে কিয়াম করে সম্মান প্রদর্শন করা , মিলাদের জন্য দিন তারিখ নিদিষ্ট করা , মিলাদ মজলিস কে সাজানো , আতর গোলাপ ও খুশবু ব্যাভার করা। কুরআন শরীফ হতে সুরা ক্বেরাত পাঠ করা এবং মুসলমানদের জন্য খানাপিনা (তাবারুক) তৈরি করা – এই ভাবে অনুষ্ঠান করা জায়েয কিনা এবং অনুষ্ঠানকারীগন এতো সাওয়াবের অধিকারী হবেন কিনা ? বর্ণনা করে আল্লাহর পক্ষ হতে পুরস্কৃত হোন ।

আব্দুর রহীম তুর্কমানী – হিন্দুস্তান ,১২৮৮ হিজরি ।

মক্কা শরীফের ফতোয়াদাতাগনের জবাব ও ফতোয়া ।

জনে নিন উপরে বর্নিত নিয়মে (কিয়াম) মিলাদ শরীফের অনুষ্ঠান করা মোস্তাহসান ও মুস্তাহাব । আল্লাহ ও সমস্ত মুসলমানের নিকট ইহা উত্তম । ইহার অস্বীকারকারীগন বিদআতপন্থী ও গোমরাহ্‌। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্নিত হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর হাদিস আছে ‘মুসলমান যে কাজকে পছন্দনীয় বলে বিবেচনা করেন -তা আল্লাহর নিকট ও পছন্দনীয়’ (মুসলিম শরীফ )।

এখানে মুসলমান বলতে ঐ সমস্ত মুসলমানকে বুঝায়-যারা কামেল মুসলমান । যেমন পরিপুর্ন আমলকারী উলামা , বিশেষ করে আরবেরদেশ , মিশর , সিরিয়া ,তুরস্ক ও স্পেন-ইত্যাদি দেশের উলামাগন সলফে সালেহীনদের যুগ থেকে অদ্যবধি (১২৮৮ হিঃ)

সকলেই মিলাদ কেয়াম কে মুস্তাহসান, উত্তম ও পছন্দনীয় বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন । সর্বযুগের উলামাগনের স্বীকৃতির কারনে মিলাদও কিয়ামের বিষয় বরহক ।

উহা গোমরাহী হতে পারে না । নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন । ” আমার উম্মত গোমরাহ বিষয়ে একমত হতে পারে না ” ( মিশকাত শরীফ)

সুতরাং যারা মিলাদ ও কিয়াম কে অস্বিকার করবে-শরিয়তের বিচারকের উপর তাদের যথাযথ শাস্তি প্রদান করা ওয়াজিব ।(ফতুয়া সমাপ্ত )।

(১২৮৮ হিজরীকে লিখিত এ ফতোয়াতে মক্কা শরীফের ৪০ জন মুফতী সাক্ষর করেন)

১৬) ১৩০০ হিজরী শতকে পালনের দলীলঃ

আল্লামা সাইয়্যিদ আবু বকর মক্কী আদ দিময়াতী আশ শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি (ওফাত: ১৩০২ হিজরী) উনার বিখ্যাত “ইয়ানাতুল ত্বলেবীন” কিতাবে বর্ণনা করেন,

মহান আল্লাহ পাক আমাদের এবং আপনাদের সহায় হোন, যেন আমরা সদা সর্বদা পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ করতে পরি। এবং এ উপলক্ষে আমাদের মাল সম্পদ প্রতিদিন প্রতিটা সময় ব্যায় করতে পারি। (ইয়ানাতুত ত্বালিবীন: ৩য় খন্ড পৃষ্ঠা নং ৬১৩)

১৭) ব্রিটিশ আমলে পবিত্র মীলাদুন্নবী মাহফিলঃ

দেখুন ঢাকায় ব্রিটিশ আমলেও কত জাঁকজমকপূর্ণভাবে ঈদে মীলাদে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালিত হতো।

১) পথঘাট সাজানো হতো

২) সারা শহরে ঘটা করে পালন হতো।

৩) মহল্লায় মহল্লায় মীলাদ মাহফিল ও খাওয়া দাওয়ার আয়োজন করতো।

৪) নবাব পরিবারগুলোও মীলাদ মাহফিল করতো।

৫) বিশেষ প্রতিযোগিতা মাহফিল আয়োজন করা হতো।

৬) অসংখ্য মানুষ এ অনুষ্ঠান দেখতে আসতো।

(তথ্যসূত্র: এই ঢাকা সেই ঢাকা কত স্মৃতি কত কথা। লেখক- ড. মুহম্মদ আলমগীর)

আজ থেকে ১০০/১৫০ বছর আগেও এত জাঁকজমকের সাথে পালিত হতো তাহলে বর্তমানে এত বিরোধিতা কেন?

ঐতিহাসিক ঢাকা মহানগরী : বিবর্তন ও সম্ভাবনা বইয়ের ৫৯০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, ঢাকা জুগে তখন পবিত্র মীলাদ শরীফের চর্চা ছিলো। বাড়ির ছেলে মেয়েদের সূর করে দরূদ শরীফ শিক্ষায় উৎসাহিত করা হতো। ভালো মীলাদ শরীফ পাঠকারীদের কদর ছিলো সে সময়। সুললিত কণ্ঠে ছালাম দেয়ার সময় সূরে ভরে যেত বাড়ি। পবিত্র মীলাদ শরীফের পরে সবাইকে ঘন দুধের ফিরনী ও জাফরানী জরদা বিতরন করা হতো।

ইজমা:

প্রসদ্ধি নুরুল আনওয়ার কিতাবের ৯ পৃষ্ঠায় আছে,

تعامل الناس ملحق بالاجماع

‘কোন বিষয়ে লোকজনের আমল করাটাই তা ইজমা বলে সাব্যস্ত হবে।’

সূতরাং যুগ যুগ ধরে চলে আসা মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এই আমল মুসলমানদের ঐক্যমত্য বা ইজমায় সাব্যস্ত হয়েছে। এ আমলের বিরোধিতা কেউ কোনদিন করে নাই। তাহলে এতকাল পরে এসে মুসলমানদের চলে আসা আমলের কিভাবে বিরোধিতা করা যায়?

আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেন-

ومن يشاقق الرسول من بعد ماتبين له الهدي و يتبع غير سبيل المؤمنين نوله ماتولي و نصله جهنم

যে কারো নিকট হিদায়েত বিকশিত হওয়ার পর রসূল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরুদ্ধাচরণ করবে, আর মু’মিনদের পথ ছেড়ে ভিন্ন পথে চলে, আমি তাকে সে দিকেই ফিরাবো যেদিকে সে ফিরেছে,এবং তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবো !” ( সূরা নিসা ১১৫)

আর এই ইজমা বা ঐক্যমত্যের ব্যাপারে হাদীস শরীফে আছে-

عن ابن عمر رضي الله عنه قال قال رسول صلي الله عليه و سلم لا يجمع امتي او قال امة محمد علي ضلالة و يد الله علي الجماعة ومن شذ شذ في النار

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্নিত, তিনি বলেন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক আমার উম্মত অথবা তিনি বলেছেন, উম্মতে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে কখনো গোমরাহীর ওপর একত্রিত করবেন না ! আল্লাহ পাক উনার সাহায্যের হাত জামাতের (আহলে সুন্নাহ) উপর রয়েছে ! আর যে ব্যক্তি জামাত থেকে (আহলে সুন্নাহ) বিচ্ছিন্ন হবে সে জাহান্নামে যাবে !” (দলীল- মিশকাত শরীফ- কিতাবুল ঈমান- বাবুল ই’তিসাম বিল কিতাব ওয়াস সুন্নহ- হাদীস ১৬৩)

বিঃদ্রঃ প্রতিটি রেফারেন্সের আরবী ইবারত ও মূল কিতাব আমার সম্মুখেই আছে। কলেবর কমানো ও বোধগম্যের জন্য শুধু অনুবাদ দেয়া হলো।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে