রাতের কমলাপুর স্টেশন : ছিন্নমূলদের দু:খ কষ্টের করুণ চিত্র


রাত যত গভীর হয় বাড়তে থাকে রাজধানীর কমলাপুর রেল স্টেশনের নীরবতা। গভীর রাতে যখন যাত্রী, রেল কর্মকর্তা কর্মচারীদের সব কোলাহল থেমে যায়। তখনই চরম অবহেলিত ছিন্নমূল মানুষগুলো ক্লান্ত দেহ নিয়ে রেল স্টেশনের দিকে পা বাড়ায়।
খুব ভোরের কোলাহল শুরু হওয়ার আগেই আবার জেগে উঠতে হয় সবাইকে। গভীর রাত আর খুব সকালের মাঝখানের যতটুকু সময় মেলে তা তীব্র মশার কামড়ের মাঝে বিছানা বালিশ ছাড়া পাকা মেঝের সঙ্গে কোনমতে চোখ বন্ধ করে ঘুমকে আহ্বান করা হয়।
গতকাল দিবাগত রাত দুইটার দিকে কমলাপুর স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে এখানে অসংখ্য ছিন্নমূল মানুষ আশ্রয় নিয়েছে শুধু রাতটুকু কাটানোর জন্য।
জমিলা খাতুন (৪৫) তার এক কিশোরী মেয়ে আর দুই ছেলে নিয়ে এখানটায় রাতে ঘুমাতে আসেন। দিনের বেলায় একেক সময় একেক জায়গায় থাকেন তারা। সন্তানরা টোকাইয়ের কাজ করে। তিনি নিজে কখনো টোকাই, কখনো ভিক্ষুক যখন যে কাজ করার সুযোগ পান তাই করেন।
তিনি বলেন, মশার কামড়ে বেশ কষ্ট হয়। বিছানা বালিশ ছাড়া ঘুমানো অনেকটা সয়ে গেছে। এই জায়গাটা নিরাপদ নয়। একটা মেয়ে আছে তাকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। কখন আবার কী ঘটে যায় কে জানে।
১৩ বছরের কিশোর রিয়াজ বলেন, আমরা একেক সময় একেক জায়গায় থাকি রাতে। রাস্তার ফুটপাতে, কিংবা পার্কে। শুধু বৃষ্টির সময়ে বেশ কষ্ট হয় তাই স্টেশনগুলোতে থাকি। আবার মাঝে মাঝে ফুটপাতে পলিথিনের মোড়ানো ঘরে থাকি। তবে এ জায়গাটা বান-তুফানের জন্য অনেক নিরাপদ। কিন্তু রাক্ষুসে মশার যন্ত্রনায় ঘুম আসেনা।
৬৫ বছরের আবদুল খালেকের কাছে দেশের রাজনীতি, সরকার এসব বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা এগুলা বুজিনা। কেডা সরকার অইল আর কেডা অইল না এইডা নিয়া আমাগো চিন্তা করে লাভ নাই। সরকার হইলো বড় লোকগো লেইগা। হেরা আমাগো লেইগা কিছু করে নাহি? হেরা দেশে থাকলেও যা, না থাকলেও তা। আমরা বাঁইচা থাহি আল্লাহর ভরসায়। আল্লায়ই পেডে-বাতে বাচায়া রাকছে।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

২ Comments

Leave a Reply

[fbls]
  1. Muhammad Sumon says:

    খুবই দারুণ । আমাদের সমাজের বর্তমানে কি হাকিকত তা সহজেই অনুমেয় ।