শান মুবারক বিরোধী লেখালেখি-ব্যঙ্গচিত্র কাফেরদের বিচ্ছিন্ন কোন অপকর্ম নয়, বরং তা কাফির-মুশরিকদের পাশ্চাত্যের মূলধারার সাহিত্য-চিত্রকলারই অংশ।


পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে কিছুদিন পরপরই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারক বিরোধী ব্যঙ্গচিত্র ছাপা, প্রদর্শনীর আয়োজন করা এসবের সংবাদ শোনা যায়। দেখা যায়, সাম্প্রতিক কালের কিছু উগ্র রাজনীতিক কিংবা গীর্জার পুরোহিত এই কাজে জড়িত। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে, এই শান মুবারক বিরোধী কর্মকা- তাদের কতিপয় রাজনীতিক কিংবা পুরোহিতের বিচ্ছিন্ন কর্মকা-, এর সাথে তাদের মূলধারার সম্পর্ক নেই।
কিন্তু বাস্তবতা হলো এই যে, এসব শান মুবারক বিরোধী ব্যঙ্গচিত্র-লেখালেখিকে পশ্চিমা ইহুদী-খ্রিস্টান সম্প্রদায় বিগত ১ হাজার বছর ধরে তাদের জাতীয় চেতনা ও অস্তিত্বের অংশ করে নিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ইংল্যান্ডের ‘গাই অফ ওয়ারউইক’ কিংবা ফ্রান্সের ‘সং অফ রোলান্ড’ এর ন্যায় প্রাচীন লোকগাঁথা, যেগুলো তাদের দেশের জাতীয় ঐতিহ্য হিসেবে বিবেচিত, সবগুলোতে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারক বিরোধী ব্যঙ্গাত্বক ছড়া-শ্লোক রয়েছে। ইউরোপের মূল মূল লেখকেরা, যাদেরকে বিরাট সাহিত্যিক হিসেবে ভার্সিটিগুলোতে তুলে ধরা হয়, সবাই কোনো না কোনো শান মুবারক বিরোধী লেখা অবশ্যই লিখেছে।
অধিকাংশ মুসলমান যেটা জানে না, তা হলো ইউরোপের যেসব প্রধান আঁকিয়ে-ভাস্কর্য প্রস্তুতকারী, যাদের নাম শুনলেও চারুকলার গাঁজাখোররা তিনবার সিজদা দেয়, সকলেই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারক বিরোধী ব্যঙ্গচিত্র অঙ্কন করেছে। শুধু তাই-ই নয়, সেগুলো ইউরোপের বিভিন্ন প্রাচীন গীর্জার দেয়ালে অঙ্কিত রয়েছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যায় ইতালির কবি দান্তে’র ‘ইনফার্নো’ কাব্যটির কথা, যার বিষয়বস্তু হচ্ছে নরকের বিভিন্ন ধাপ, তাদের বাসিন্দাদের পরিচিতি ও তাদের শাস্তির বর্ণনা। সেই কাব্যে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম, উনাদেরকে নরকের অধিবাসী হিসেবে দেখানো হয়েছে। শাস্তি হিসেবে চিবুক থেকে তলপেট পর্যন্ত চিড়ে ফেলার উল্লেখ করা হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!
দান্তে’র বর্ণনানুযায়ী এই যে চিবুক থেকে তলপেট পর্যন্ত চিড়ে ফেলে নাড়িভুঁড়ি বের করে ফেলার বীভৎস বর্ণনা, সে অনুযায়ী বিগত ৫০০ বছর ধরে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ব্যঙ্গচিত্র-ভাস্কর্য-কাঠখোদাই প্রস্তুত করে এসেছে ইউরোপের তাবৎ প্রধান প্রধান আঁকিয়ে-মূর্তি তৈরীকারীরা। বেশকিছু রয়েছে ইউরোপের প্রধান প্রধান গীর্জাগুলোর দেওয়ালে। উল্লেখ্য, যখন ফ্রান্সের ‘চার্লি হেবদো’ পত্রিকায় শান মুবারক বিরোধী ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশের পর পত্রিকা অফিসে হামলার ঘটনা ঘটে, তখন মিডিয়াতে এ বিষয়টি তুলে ধরা হয় যে ইউরোপীয়রা আজকে থেকে নয়, বরং শত শত বছর ধরেই এরূপ ব্যঙ্গচিত্র-ভাস্কর্য প্রস্তুত করে আসছে। ইউরোপের প্রধান প্রধান চিত্রকর ও মূর্তি তৈরীকারী, যেমন দালি, ব্লেক, রোদা, দোর এরা খ্রিস্টানদের নিকট সমাদর লাভ করেছে দান্তের ‘ইনফার্নো’র বর্ণনা অনুযায়ী নাড়িভুঁড়ি বের হওয়া বীভৎস ব্যঙ্গচিত্র এঁকে।
মিডিয়াতে উপহাসচ্ছলে প্রশ্ন করা হয় যে, মুসলমানদের কি তাহলে এতোদিনে টনক নড়লো? আসলে মুসলমানরা তো ব্যস্ত তাদের পাঠ্যপুস্তকে এইসব শান মুবারক বিরোধী লেখক-আঁকিয়েদের মহান শিল্পী, মনীষী ইত্যাদি খেতাব প্রদান করতে। উদাহরণস্বরূপ, বিসিএস পরীক্ষা ও সাধারণ জ্ঞানের বইগুলোতে দান্তের নাম রীতিমতো মুখস্থ করানো হয়।
বাস্তবতা এই-ই যে, কাফির-মুশরিকদের প্রতি যতোই হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারক বিরোধী কর্মকা- থেকে বিরত হওয়ার আহবান জানানো হোক না কেন, তা থেকে তারা বিরত হবে না যেহেতু তারা বিষয়টিকে তাদের অস্তিত্বের অংশ করে নিয়েছে। এমতাবস্থায় তাদের অস্তিত্ব বিলীন করে দেয়া ব্যতীত, সমূলে নির্মূল করা ব্যতীত, তাদের প্রত্যেককে আলাদা-আলাদাভাবে মৃত্যুদ- দেয়া ব্যতীত আর কোনো রাস্তা খোলা নেই। শুধু তাই-ই নয়, সেই মৃত্যুদ- হতে হবে জ্যান্ত পেট চিরে নাড়িভুঁড়ি বের করার সমতুল্য নিষ্ঠুরতার মাধ্যমে।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]