সংখ্যালঘু হিন্দুদের কথিত ‘দেশত্যাগ’ নিয়ে বিভ্রান্তি


বাংলাদেশ থেকে হিন্দুরা নাকি দেশত্যাগ করে ভারতে চলে যাচ্ছে? আসলে মূল ব্যপারটির গভীরে কি রহস্য লুকায়িত,
সেটা নিয়ে ভেবেছেন কি কখনো? তাহলে আসল ব্যাপারটি কি হতে পারে দেখা যাক-
১) পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ১৯৬১ সালে ইন্ডিয়ায় হিন্দু জনসংখ্যা ছিল মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮৩.৫%, কিন্তু ২০০১ সালে এসে তা নেমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮০.৫%এ! অর্থাৎ, ১৯৬১ থেকে ২০০১ এই চল্লিশ বছরে ইন্ডিয়ায় হিন্দু জনসংখ্যা হ্রাস পেয়েছে প্রায় ৩% প্রশ্ন হলো, পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে যদি এত পরিমাণ হিন্দু ইন্ডিয়ায় চলেই যায়, তবে সেদেশে হিন্দুর সংখ্যা বেড়ে না গিয়ে কমে গেলো কেন?
২) ১৯৬৫ এবং ১৯৭১ সাল এই দু’বছর যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশ থেকে অনেক হিন্দু পরিবার ইন্ডিয়ায় চলে গিয়েছিল সত্যি, কিন্তু পরে অনেকেই ফিরে এসেছিল এবং এখনো এদেশেই বসবাস করছে। প্রশ্ন হলো, ১৯৭১-২০১৮ এই ৪৭ বছরে বাংলাদেশে এমন কোন দাঙ্গা/যুদ্ধ হলো যে, যার ফলে হিন্দুরা দলে দলে বাংলাদেশ ত্যাগে বাধ্য হলো?
৩ ) হিন্দুরা সংখ্যালঘু হবার পরেও চাকরীতে তাদের নিয়োগ সর্বোচ্চ ও সর্বাধিক। এত হিন্দু চলে গেলে চাকরি করছে কারা?
৪) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বলছে এক বছরের ব্যবধানে দেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ১৫ লাখ বেড়ে গেছে। যদি ১৫ লক্ষ বাড়ে তাহলে কমলো কি করে ? তাহলে এরা কারা ? এরা কি ভারতীয় হিন্দু?
৫) বাংলাদেশী হিন্দুরা এদেশে বাস করে সব সুবিধা পাওয়ার পরেও তাদের সাম্প্রদায়িক মানসিকতার কারনে তাদের মন পড়ে থাকে ভারতে। এই দেশের টাকা পাচার করে ভারতে। এই দেশের টাকায় বাড়ি গাড়ি করে যদি কোন হিন্দু ভারতে যায় তার দায় বাংলাদেশের নয়
৬) হিন্দুদের দেশ প্রেমের অভাবই দেশ ত্যাগের কারন। এদেশে হিন্দু জনসংখ্যা হ্রাসের কারণ আর যাই হোক সেটি কোনমতেই “দেশত্যাগের” মত মিথ্যা গল্প হতে পারে না।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে