সকাল সন্ধ্যা যিকির করার অর্থ দায়িমীভাবে যিকির করা


মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَاذْكُرِ اسْمَ رَبِّكَ بُكْرَةً وَأَصِيلًا
অর্থ :‘তোমরা সকাল-সন্ধ্যা মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির করো’। (পবিত্র সূরা ইনসান শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ ২৫)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
وَاذْكُرْ رَبَّكَ فِي نَفْسِكَ تَضَرُّعًا وَخِيفَةً وَدُونَ الْجَهْرِ مِنَ الْقَوْلِ بِالْغُدُوِّ وَالآصَالِ
অর্থ :‘সকাল-সন্ধ্যা নিজে বা একাএকা বিনীত ন¤্রভাবে অনুচ্চ আওয়াজে তোমরা রব তায়ালা উনার পবিত্র যিকির কর। (পবিত্র সূরা আ’রাফ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ২০৫)
উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় ইমামুল মুফাসসিরীন হযরত ইমাম ফখরুদ্দীন রাযী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার জগদ্বিখ্যাত তাফসীরগ্রন্থ ‘তাফসীরে কবীরে’ উনার মধ্যে উল্লেখ করেন- ‘কেউ কেউ বলে, শুধুমাত্র সকাল-সন্ধ্যা যিকির করার কথা উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে বলা হয়েছে। মূলত উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে সকাল-সন্ধ্যা যিকির করার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো দায়িমী বা সার্বক্ষণিক যিকির এবং সাধ্যানুযায়ী যিকিরে মশগুল থাকা।’ অনুরূপ ‘তাফসীরে রূহুল বয়ান’ উনার মধ্যেও উল্লেখ আছে।
বলাবাহুল্য যে, অন্তরের পরিশুদ্ধতা ও দায়িমী হুযূরী অর্জন করতে হলে অবশ্যই পবিত্র ক্বলবী যিকির করতে হবে। কারণ পবিত্র ক্বলবী যিকির ব্যতীত যেরূপ অন্তরের পরিশুদ্ধতা লাভ করা সম্ভব নয়, তদ্রুপ দায়িমী বা সার্বক্ষণিক হুযূরীও হাছিল করা সম্ভব নয়।
তাফসীরে মাযহারীতে উল্লেখ করা হয়েছে- ‘দায়িমী হুযূরী বা যিকির কেবলমাত্র ক্বলবের দ্বারাই সম্ভব। কেননা লিসান বা মুখ দ্বারা দায়িমী বা সার্বক্ষণিকভাবে পবিত্র যিকির করা সম্ভব নয়।’
মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে সার্বক্ষণিক বা দায়িমীভাবে যিকির করার তাওফীক্ব নছীব করুন। আমীন!

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে