সমগ্র মুসলিম বিশ্বে একদিনে ঈদ হওয়া সম্পর্কে


মুসলিম বিশ্ব বলতে আমরা সে সমস্ত দেশকেই বুঝি যে সমস্ত দেশে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠতা বেশী। মুসলিম বিশ্বের দুটি দেশের মধ্যে (মরক্কো এবং ব্রুনাই) সর্বোচ্চ সময়ের ব্যবধান প্রায় ৯ ঘন্টা। মুসলিম বিশ্ব ছাড়াও অবশিষ্ট বিশ্বে কোটি কোটি মুসলমান রয়েছে। এক্ষেত্রে এই কোটি কোটি মুসলমানগণ কবে মাস শুরু করবে? কোন দিন ঈদ, রোযা পালন করবে? তারা কি মুসলিম বিশ্বের উপর অথবা একটি নির্দিষ্ট দেশ যেমন সউদি আরবের উপর, নাকি নিজেদের আকাশে চাঁদ দৃশ্যমান হওয়ার উপর নির্ভর করে ঈদ, রোযা বা অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করবে? কেননা যদি নিজেদের আকাশে চাঁদ দেখে মাস শুরু করে তবে একটি নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে বা মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে ঈদ করা অসম্ভব।

আমেরিকাবাসী মুসলমানগণ যদি রমাদ্বান-এর শেষে প্রথম বাঁকা চাঁদ দেখে থাকে তবে তারা পরবর্তী দিনেই ঈদ পালন করবে কিন্তু তাদের এ ঈদের দিনে মুসলিম বিশ্বে চাঁদ দেখবে এবং তারা তার পরের দিন ঈদ পালন করবে। বর্তমানে মুসলিম বিশ্বের দুটি দেশের মধ্যে সময়ের ব্যবধান সর্বোচ্চ ৯ ঘন্টা হলেও অনেক দেশ রয়েছে যার সঙ্গে কোন মুসলিম দেশের সর্বোচ্চ সময়ের ব্যবধান ১২  ঘণ্টা (ইন্দোনেশিয়ার এন্টিপোড হচ্ছে কলম্বিয়া)। এক্ষেত্রে সে সকল দেশের মুসলমানদের মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে একই দিনে ঈদ করা অসম্ভব। একই দিন বলতে একই সৌর তারিখ বোঝানো হচ্ছে। হিলাল আন্তর্জাতিক তারিখ রেখার অপর পার্শ্বে দেখা গেলেই বিশ্বের সকল দেশ একই সৌর তারিখে ঈদ অনুষ্ঠান বা রোযা পালন করতে পারবে না।

সুতরাং সমগ্র মুসলিম বিশ্বে একদিনে ঈদ হওয়ার বিষয়টি অবান্তর এবং যারা এ ব্যাপারে জোর দাবি জানাচ্ছে তারা শরীয়ত এবং বিজ্ঞান উভয় বিষয়েই অজ্ঞ।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে