সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার নির্দেশ মুবারক হলো- কিছু লোক ইলমে ফিক্বাহ ও ইলমে তাছাউফে পূর্ণ দক্ষতা অর্জন করে ফক্বীহ ও হাদী হবেন।


মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘মুসলমানদের প্রত্যেক ক্বওম বা সম্প্রদায় থেকে কেন একটি দল বের হয় না এজন্য যে, তারা সম্মানিত দ্বীনী ইলমে ফক্বীহ হবে এবং স্বীয় ক্বওমের নিকট প্রত্যাবর্তন করে তাদেরকে মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের আদেশ নিষেধ মুবারক উনার ব্যাপারে সতর্ক করবে; যাতে তারা সতর্ক হতে পারে বা পরিত্রাণ পেতে পারে।’
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার নির্দেশ মুবারক হলো- কিছু লোক ইলমে ফিক্বাহ ও ইলমে তাছাউফে পূর্ণ দক্ষতা অর্জন করে ফক্বীহ ও হাদী হবেন। সুবহানাল্লাহ! পাশাপাশি দেশের লোকদেরকে সম্মানিত দ্বীন বা সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার আদেশ-নির্দেশ মুতাবিক চলার অর্থাৎ পাপকাজ পরিহার করা ও নেককাজে মশগুল থাকার জন্য দৃঢ়তার সাথে শক্তভাবে নছীহত করবেন। নচেৎ খাছ ও আম সকলেই মহান আল্লাহ পাক উনার আযাব-গযবে ধ্বংস বা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।
– সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

ছাহিবু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ছাহিবে নেয়ামত, আল ওয়াসীলাতু ইলাল্লাহ, আল ওয়াসীলাতু ইলা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, সুলত্বানুন নাছীর, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলা উনাদের জন্য ইলম তলব বা অর্জন করা ফরয।” সুবহানাল্লাহ!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, ইলম হলো দু’প্রকার। এক. ক্বলবী ইলম অর্থাৎ ইলমে তাছাউফ যা উপকারী ইলম। দুই. লিসানী ইলম অর্থাৎ ইলমে ফিক্বাহ; যা জিন-ইনসানের জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ হতে দলীলস্বরূপ।

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “মুসলমান উনাদের প্রত্যেক ক্বওম বা সম্প্রদায় থেকে কেন একটি দল বের হয় না এজন্য যে, তারা দ্বীনী ইলমে ফক্বীহ হবে এবং স্বীয় ক্বওমের নিকট প্রত্যাবর্তন করে তাদেরকে মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের আদেশ-নিষেধ মুবারক উনাদের ব্যাপারে সতর্ক করবে; যাতে তারা সতর্ক হতে পারে বা পরিত্রাণ পেতে পারে।” সুবহানাল্লাহ!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, যিনি হক্কানী-রব্বানী আলিম বা আল্লাহওয়ালা তথা ফক্বীহ ও হাদী হবেন উনার দায়িত্ব-কর্তব্য হলো, ক্বওম বা সমাজ বা দেশের লোকদেরকে সম্মানিত দ্বীন বা সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার আদেশ-নিষেধ মুবারক মুতাবিক চলার জন্য দৃঢ়তার সাথে শক্তভাবে নছীহত করা; নচেৎ সাধারণ লোকের সাথে ছূফী-দরবেশ আলিম-উলামাদেরকেও খোদায়ী গযবে পতিত হতে হবে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “(বনি ইসরাইলের) দরবেশ ও আলিমরা কেন তাদের (সমসাময়িক লোকদের)কে পাপের কথা বলা থেকে এবং হারাম খাওয়া থেকে নিষেধ করলো না? তারা এটা খুবই মন্দ কাজ করেছে।”

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, তাফসীরে আরো উল্লেখ আছে, মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ইউশা বিন নুন আলাইহিস সালাম উনার উপর পবিত্র ওহী মুবারক নাযিল করলেন, “হে আমার নবী! আপনার উম্মতের মধ্যে এক লক্ষ লোককে ধ্বংস করে দেয়া হবে, যদিও এদের মধ্যে ষাট হাজার লোক সরাসরি গুনাহে লিপ্ত (গুমরাহ)।” তখন হযরত ইউশা বিন নুন আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, “আয় আল্লাহ পাক ষাট হাজার লোক সরাসরি গুনাহে লিপ্ত, তাই তাদের ধ্বংস করে দেয়া হবে; কিন্তু বাকী চল্লিশ হাজার লোককে ধ্বংস করা হবে কেন?” তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, “যেহেতু এই চল্লিশ হাজার তারা ওই গুনাহে লিপ্ত লোকদের সাথে মিলা-মিশা ও উঠা-বসা করে এবং সম্পর্ক রাখে আর গুনাহের কাজে বাধা দেয় না, তাই তাদেরকেসহ ধ্বংস করে দেয়া হবে এবং ধ্বংস করে দেয়া হলো।” নাউযুবিল্লাহ!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, মূলকথা হলো- সকল হক্কানী-রব্বানী আলিম-উলামা, ছূফী-দরবেশ বা হাদীগণ উনাদের সকলের জন্য ঈমানী দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- দেশ ও সারা বিশ্বের সকল স্তরের সকল মুসলমানদেরকে সর্বপ্রকার হারাম, নাজায়িয ও শরীয়তবিরোধী কাজ যেমন- সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার নামে গণতন্ত্র, ভোট, নির্বাচন, হরতাল, লংমার্চ, কুশপুত্তলিকাদাহ, হাঙ্গার স্ট্রাইক করা, ব্লাসফেমী আইন চাওয়া, পহেলা বৈশাখ পালন করা, থার্টি ফার্স্ট নাইট পালন করা, ভালোবাসা দিবস, মা দিবস, বাবা দিবস, বন্ধু দিবস, হাত ধোয়া দিবস পালন করা, ছবি তোলা, মূর্তি, ভাস্কর্য তৈরী করা, ডিশ, টিভি, ভিসিআর দেখা, সিসিটিভি ফিট করা, বেপর্দা হওয়া, গান-বাজনা শুনা, ফ্যাশন শো, বেহায়াপনা, অশ্লীলতা, ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া, সুদ, ঘুষ খাওয়া, খেলাধুলা করা, পূজায় যাওয়া, প্রসাদ খাওয়া, সাহায্য করা, সমর্থন করা, মেলায় যাওয়া ও জিনিস কেনাকাটা করা, সন্ত্রাসী কর্মকা-ে লিপ্ত হওয়া এবং বিধর্মীদের নিয়ম-নীতি, তর্জ-তরীক্বা অনুসরণ করাসহ সর্বপ্রকার হারাম নাজায়িয ও শরীয়ত বিরোধী কাজ থেকে বিরত বা ফিরায়ে রাখতে দৃঢ়তার সাথে শক্তভাবে নছীহত করা। নচেৎ আম ও খাছ অর্থাৎ সাধারণ লোক ও ছূফী-দরবেশ, আলিম উলামা সকলেই বনী ইসরাইলের দরবেশ বা আলিমদের ন্যায় পাপাচারে একাকার হয়ে খোদায়ী গযবে পড়ে ধ্বংস হয়ে যাবে। নাঊযুবিল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে উনার লা’নত বা অসন্তুষ্টি থেকে হিফাযত করুন। আমীন!
এবার দাবানলে পুড়ছে ভারত। ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের এলাকাগুলোতেও।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে