সম্মানিত ক্বিবলা পরিবর্তনের ঘটনায় বড় বড় অনেকগুলো হিকমত মুবারক নিহিত রয়েছে


মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
قَدْ نَرَىٰ تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِي السَّمَاءِ ۖ فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبْلَةً تَرْضَاهَا ۚ فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ ۚ وَحَيْثُ مَا كُنتُمْ فَوَلُّوا وُجُوهَكُمْ شَطْرَهُ ۗ
অর্থ: নিশ্চয়ই আমি আপনাকে বার বার আকাশের দিকে তাকাতে দেখি। অতএব, অবশ্যই আমি আপনাকে সে ক্বিবলার দিকেই ঘুরিয়ে দেব যাকে আপনি পছন্দ করেন। এখন আপনি পবিত্র মসজিদুল-হারামের দিকে মুখ করুন এবং আপনারা যেখানেই থাকুন, সেদিকেই মুখ করুন। (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ ১৪৪)
এটি ছিল পবিত্র হিজরত মুবারকের ১৬ মাস পরের এবং পবিত্র বদর জিহাদের মাত্র দুই মাস পূর্বের ঘটনা।
সম্মানিত ক্বিবলা পরিবর্তনের এই ঘটনায় বড় বড় অনেকগুলো হিকমত মুবারক নিহিত রয়েছে এবং এটি ছিল মুসলিম, মুশরিক, ইহুদী এবং মুনাফিকসহ সকল সম্প্রদায়ের জন্যই পরীক্ষা। মুসলিমদের তো কোন সমস্যাই ছিলনা। মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ হতে হিদায়েত পাওয়ার কারণে তারা বললেন- আমরা ঈমান এনেছি, সব কিছুই মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ হতে। তাই আমরা শুনলাম এবং মেনে নিলাম। তাদের কাছে বিষয়টি তেমন বড় ছিলনা।
মুশরিকরা বলতে লাগল, তিনি যেমন আমাদের ক্বিবলার দিকে ফেরত এসেছেন তেমন অচিরেই আমাদের দ্বীনে ফেরত আসবেন। আমাদের ক্বিবলাকে সত্য মনে করেই সেদিকে ফিরে এসেছেন।
ইহুদীরা বলতে লাগল- তিনি তো পূর্বের সকল নবী রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের ক্বিবলার বিরোধীতা করছেন। নাউযুবিল্লাহ!
মুনাফিকরা বলতে লাগল- জানিনা, তিনি কোথায় যাচ্ছেন? প্রথম ক্বিবলা সঠিক হয়ে থাকলে তিনি একটি সত্য বিষয় পরিত্যাগ করেছেন। আর দ্বিতীয়টি সঠিক হয়ে থাকলে প্রথমে তিনি বাতিলের উপর ছিলেন। এ ছাড়া মূর্খরা আরও অনেক কথাই বলেছে। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَإنْ كَانَتْ لَكَبِيرَةً إِلا عَلَى الَّذِينَ هَدَى اللهُ
অর্থ: নিশ্চয়ই এটা (ক্বিবলা পরিবর্তন) কঠিন বিষয়, কিন্তু তাদের জন্যে নয়, যাদেরকে মহান আল্লাহ পাক তিনি পথ প্রদর্শন করেছেন’। (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ; পবিত্র আয়াত শরীফ ১৪৩)
নিঃসন্দেহে মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ হতে এটি মু’মিন বান্দাদের জন্য একটি কঠিন পরীক্ষাও ছিল। যাতে তিনি দেখে নেন কে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ করেন এবং কে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। সম্মানিত ক্বিবলার বিষয়টি যেহেতু একটি বিরাট ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তাই মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত ক্বিবলা পরিবর্তনের পূর্বে ভূমিকা স্বরূপ নাসেখ-মানসুখ তথা শরীয়তের কোন বিষয়কে রহিত করার বিধি-বিধান বর্ণনা করেছেন। এ বিষয়ে মহান আল্লাহ পাক তিনি পূর্ণ ক্ষমতাবান।
তিনি বলেছেন যে, কোন বিষয়কে মানসুখ (রহিত) করলে তার স্থলে আরও উত্তম হুকুম প্রদান করেন কিংবা অনুরূপ বিষয় স্থাপন করেন। এরপরই তিনি ঐ সমস্ত লোকদেরকে ধমক দিয়েছেন, যারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হুকুমের বিরুদ্ধে হঠকারিতা প্রদর্শন করে এবং উনার হুকুমের সামনে মাথা নত করেনা।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]