সম্মানিত সুন্নত মুবারক অনুসরনের বেমেছাল প্রাপ্তি


মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللَّـهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّـهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ ۗ وَاللَّـهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
অর্থ: “আপনি উম্মতগণকে জানিয়ে দিন, যদি তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত হাছিল করতে চাও তাহলে আমার ইত্তিবা (অনুসরণ-অনুকরণ) করো। তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে মুহব্বত করবেন, তোমাদের গুনাহ-খতা ক্ষমা করে দিবেন এবং তোমাদের প্রতি ক্ষমাশীল ও দয়ালু হবেন।” সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৩১)
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন খাতামুন্নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইত্তিবা (অনুসরণ-অনুকরণের) দ্বারা বান্দা-উম্মত সর্বপ্রকার নিয়ামতরাজি লাভ করে থাকেন। উনার ইত্তিবা ব্যতীত সবকিছুই অন্তসারশূন্য। উনার ইত্তিবা অনুসরণ-অনুকরণই হচ্ছে সম্মানিত সুন্নত মুবারক। হাজার বছর সুন্নতবর্জিত আমল করার চেয়ে সুন্নতসম্মত এক সেকেন্ডের আমলই অতি উত্তম।
পবিত্র রমাদ্বান মাস তাক্বওয়া বা পরহেযগারিতা হাছিলের মাস। তায়াল্লুক, নিসবত, কুরবত, নৈকট্য লাভের মাস। সন্তুষ্টি-রেযামন্দি পাওয়ার মাস। এই পবিত্র মাসে খাওয়া-পরা, চলা-ফেরা, উঠা বসা, কথা-বার্তা, আমল-আখলাক্বসহ জীবনের সর্বক্ষেত্রে উনার ইত্তিবা তথা অনুসরণ-অনুকরণ করা উচিত। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اِنْ تُطِيْعُوْهُ تَـهْتَدُوْا
অর্থ: যদি তোমরা (নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উনার ইতায়াত (অনুসরণ-অনুকরণ) করো তাহলে অবশ্যই হিদায়েত লাভ করবে।” (পবিত্র সূরা নূর শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৪)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
مَنْ اَحَبَّ سُنَّتِىْ فَقَدْ اَحَبَّنِىْ وَمَنْ اَحَبَّنِىْ كَانَ مَعِى فِى الْـجَنَّةِ
অর্থ: “যে ব্যক্তি আমার সুন্নত মুবারক উনাকে মুহব্বত করলো সে মূলতঃ আমাকেই মুহব্বত করলো। আর যে আমাকে মুহব্বত করলো সে আমার সাথে সম্মানিত জান্নাতে অবস্থান করবে।” সুবহানাল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ, মিশকাত শরীফ)
তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
مَنْ تَـمَسَّكَ بِسُنَّتِىْ عِنْدَ فَسَادِ اُمَّتِىْ فَلَهُ اَجْرِ مِأَةُ شَهِيْدٍ
অর্থ: “ফিতনা ফাসাদের যামানায় যে ব্যক্তি আমার একটি সুন্নত মুবারক আঁকড়ে ধরবে সে ব্যক্তি একশত শহীদের ছাওয়াব পাবে।” সুবহানাল্লাহ! (বাইহাক্বী শরীফ, মিশকাত শরীফ)
কাজেই যিনি যতবেশি সম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার ইত্তিবা করবেন তিনি ততবেশি তায়াল্লুক, নিসবত, কুরবত, রেযামন্দি মুবারক হাছিল করবেন। তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের নিকট ততবেশি মর্যাদা-মর্তবা মুবারকে অধিকারী। ততবেশি সম্মানিত। আলোচ্য নিবন্ধে পবিত্র রমাদ্বান মাসের সাথে সংশ্লিষ্ট কতিপয় সুন্নত মুবারক আলোচনা করা হবে। তবে যিনি এগুলো যথাযথভাবে আমল করবেন উনাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই সমস্ত সুন্নত মুবারক আমল করার তাওফীক্ব দান করবেন। তার ইলিম মুবারক দান করবেন। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
مَنْ عَمِلَ بِـمَا عَلِمَ عَلَّمَهُ اللهُ علم مَالَـمْ يَعْلَمْ
অর্থ: “যে ব্যক্তি ইলিম অনুযায়ী আমল করবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে এমন ইলিম মুবারক দান করবেন যা সে জানতো না। অর্থাৎ তাকে ইলমে লাদুন্নী দান করবেন। সুবহানাল্লাহ!
যে ইলিম কোনো মাধ্যম ছাড়া সরাসরি মহান আল্লাহ পাক তিনি স্বয়ং দান করেন তাকে ইলমে লাদুন্নী বলে।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে