সম্মানিত সুন্নত মুবারক পালন করা সম্মানিত ফরয


নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
مَنْ تَمَسَّكَ بِسُنَّتِي عِنْدَ فَسَادِ أُمَّتِي فَلَهُ أَجْرُ مِائَةِ شَهِيدٍ
অর্থ:- “যিনি আমার উম্মতের ফিতনা-ফাসাদের যুগে কোন একটা সুন্নত মুবারককে আঁকড়িয়ে ধরে রাখবেন, উনাকে একশত শহীদের ছাওয়াব প্রদান করা হবে।” কেমন একশত শহীদের সওয়াব? হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা বদর-উহুদ জিহাদে শহীদ হয়ে যে রকম মর্যাদা হাছিল করেছেন ঠিক সেই রকম মর্যাদা হাছিল করবেন এই আখিরী যামানায় একটা সুন্নত আদায় করলেই। এক হাজার হিজরী শতকের পরবর্তী সময়কে আখেরী যামানা বলা হয়েছে।
বর্তমান সময়ে বিভিন্ন ধরনের খাবার পাওয়া যায় এবং অনেকেই তা খেয়ে থাকেন। কিন্তু খাছ সুন্নতী খাবার কি তা আমাদের অনেকেরই জানার বাইরে। আর এ সুন্নতি খাবারের বিষয়গুলো আমাদেরকে জানাচ্ছেন এবং চালু করছেন মহান মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! তাই এ পর্বে আমরা খাছ সুন্নতি খাবার সম্পর্কে আলোচনা করব। ইনশাআল্লাহ!
যেমন- কদু খাওয়া খাছ সুন্নত :
কদু খাওয়া যে খাছ সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত তা নিম্নোক্ত হাদীছ শরীফ দ্বারা সুস্পষ্টভাবেই প্রমাণিত হয়। যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে-
أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَقُولُ إِنَّ خَيَّاطًا دَعَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِطَعَامٍ صَنَعَهُ قَالَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ فَذَهَبْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى ذَلِكَ الطَّعَامِ فَقَرَّبَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خُبْزًا وَمَرَقًا فِيهِ دُبَّاءٌ وَقَدِيدٌ فَرَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَتَبَّعُ الدُّبَّاءَ مِنْ حَوَالَيِ الْقَصْعَةِ قَالَ فَلَمْ أَزَلْ أُحِبُّ الدُّبَّاءَ مِنْ يَوْمِئِذٍ ”
অর্থ : “হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত যে, জনৈক দর্জি ছাহাবী কিছু খাবার প্রস্তুত করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দাওয়াত করলেন। আমিও হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে গেলাম। তিনি যবের রুটি আর কিছু শুরুয়া যাতে কদু ও শুকনা গোশত ছিল পরিবেশন করলেন। আমি দেখলাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পেয়ালার চতুর্দিক থেকে বেছে বেছে কদু খাচ্ছেন। সে দিনের পর থেকে আমিও কদু খাওয়া পছন্দ করতে লাগলাম।” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ)
শুধু তাই নয়, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনাকে বলেন যে, “তরকারীর সাথে অধিক পরিমানে কদু রান্না করুন। কারণ এতে বিষন্ন মনে শক্তি আসে। কদু বুদ্ধি তীক্ষè করে ও মস্তিস্ককে শক্তিশালী করে।” সুবহানাল্লাহ!
কদুর প্রতি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এমনিতর পছন্দের কারণে আক্বাইদের কিতাবে এসেছে কেউ যদি বলে, “আমি কদু পছন্দ করিনা তাহলে সে কুফরী করলো। কারণ তার এ মতটা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মত মুবারক উনার খিলাফ।” নাউযুবিল্লাহ! (কাজীখান, শেফা, যাদুল মা’আদ, আখলাকুন্নবী, বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)
অতএব, সুস্পষ্ট ও অকাট্যভাবেই প্রমাণিত হলো যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বয়ং নিজেই কদুকে খুব পছন্দ করতেন। অর্থাৎ কদু খাওয়া খাছ সুন্নত উনার অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ!
তাহলে দেখা যাচ্ছে, কেউ যদি খাছ সুন্নতী খাবার খান তাহলে কমপক্ষে ৪টি সুন্নত তথা ১. কদু খাওয়া ২. সাথে গোশত থাকা ৩. সুরুয়া থাকা ৪. কদু মিশ্রিত তরকারী একসাথে খাওয়ার কারণে (১০০ গুনণ ৪) = ৪০০ শহীদের সওয়াব হাছিল হচ্ছে। সুবহানাল্লাহ! এখন যদি আমরা সমস্ত খাবার সুন্নত মুতাবিক খাই তাহলে দিনে শত-সহ¯্র ফযীলত বা নিয়ামত লাভ করতে পারবো। সুবহানাল্লাহ!
মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত সুখবর যে- পবিত্র রাজারবাগ শরীফ উনার মাঝে প্রতিষ্ঠিত ‘আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নতী মুবারক প্রচার কেন্দ্রে’ বহুধরণের বরকতময় সুন্নতী খাদ্য, পানীয়, সুন্নতী লিবাছ তথা পোশাক-পরিচ্ছেদ ইত্যাদিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল ধরণের সুন্নতী সামগ্রী সংগ্রহ করতে যোগাযোগ করুন-
আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচার কেন্দ্র, সাইয়্যিদুল আইয়াদ শরীফ গেট, ৫ আউটার সার্কুলার রোড, রাজারবাগ শরীফ, ঢাকা- ১২১৭
ফোন: ০১৭৮২-২৫৫২৪৪, ০১৩০২-৯৪৫৮২০, ০১৭১১-২৭২৭৭৩, ০১৭১১-২৭২৭৮৬
E-mail: sunnat.info@gmail.com Website: sunnat.info

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে