সরকার বা প্রশাসন কোনটাকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করে? “নাগরিক অধিকার” বনাম “ইসলামী অধিকার”


রাস্তায় অনেককেই দেখা যায় মুখে কাপড়ের এক ধরনের মাস্ক ব্যবহার করে আর সঙ্গে বড় সানগ্লাস, যা মূলতঃ সূর্যের খরতাপ ও রাস্তার অতিরিক্ত ধুলিবালি থেকে চোখ নাক মুখ রক্ষা করার জন্যই। রাস্তায় অতি মাত্রায় ধুলিবালির কারণ কি? সরকারের দেশ উন্নয়নের জোয়ারে মাটি কেটে ধুলিবালি তৈরি করেছে। সাধারণ জনগণের হচ্ছে ভোগান্তি। তাই অগত্যা কি আর করা যাবে, নিজের স্বাস্থ্যের যতœ তো নিজেকেই নিতে হবে। তাই পাবলিক নিজের পছন্দ অনুযায়ী সানগ্লাস আর মাস্ক ব্যবহার করে। এই ধুলিবালি থেকে জনগণকে রক্ষা করা মূলতঃ সরকারেরই দায়িত্ব। কিন্তু সরকারের এ বিষয়ে ন্যূনতম কোনও চিন্তা রয়েছে কিনা সন্দেহ।
যাই হোক, তাহলে একজন নাগরিক তার সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মুখে মাস্ক ও সানগ্লাস পড়তে পারে। তা তার নাগরিক অধিকার হিসাবে স্বীকৃত। কেউ তাকে এ বিষয়ে নিষেধ করে না।
ইদানীংকালে কিছু নিউজে দেখা যায় অমুক স্কুলে হিজাব পরার কারণে শিক্ষক ক্লাসে ঢুকতে দেয় নাই, অমুক কলেজে মেয়েদের হিজাব নিষিদ্ধ করা হয়েছে, নামাযঘর তালা দিয়ে রাখা হয়েছে। এখন আমার কথা হচ্ছে হিজাব, নামায পড়া, রোযার দিনে রোযা রাখা এসবই মুসলমানদের দ্বীনি অধিকার ও অনিবার্য অনুশাসন। সাধারণ মানুষ যেমন ধুলিবালি থেকে রক্ষা পেতে মুখে মাস্ক ব্যবহার করতে পারে, ঠিক একইভাবে মেয়েরা অযাচিত টিটকারি, মন্তব্য ও ফিতনা থেকে রক্ষা পেতে তাদের চেহারা সৌন্দর্যকে ঢেকে রাখতে পারে, ইসলামী শরীয়ত অনুসারে যাকে আমরা পর্দা বলে থাকি, তা পালন করতে পারে, তাহলে সরকার কেন তা পালনে বাধা দিবে? একজন মানুষের জন্য নাগরিক অধিকারের চেয়ে ধর্মীয় অধিকার বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ধর্মীয় অধিকার প্রসঙ্গে একটা বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়, এই যে মুশ্রিক মদি, সে কিন্তু বাংলাদেশে নেমেই চলে গেছে মন্দিরে। সেখানে সে প্রথম তার জাতির হিন্দুদের কথা আগে শুনলো আর সেই সব দাবিই সরকারের কাছে উত্থাপন করলো। ঠিক একইভাবে সে সউদী আরব গিয়েও একই কাজ করলো। সে আরবে মন্দিরের জন্য জায়গা চাইলো। এখন বুঝে দেখেন যে তারা কতটা ধর্মীয় অধিকার সচেতন।
আমি শিরোনামে লিখেছি “ইসলামী অধিকার”। কারণ ধর্মীয় অধিকার বললে সব ধর্ম বুঝায়। আর আমাদের দেশে সব ধর্মের অধিকার ক্ষুণœ হচ্ছে না। কেবল দ্বীন ইসলাম উনার অধিকারই ক্ষুণœ হচ্ছে। ৯৮% মুসলমান অধ্যুষিত দেশে সরকার মুসলমানদের দ্বীনি অনুশাসনে বাধা দিয়ে, অধিকার ক্ষুণœ করে কিভাবে ক্ষমতায় থাকতে আশাবাদী থাকে, আমি বুঝি না। এদেশের সব মুসলমান যদি এ বিষয়ে গর্জে উঠে, তাহলে সরকার কি তাদের রুখতে পারবে? বিষয়টি একটু সরকারের সকল মহলের ভালোভাবে চিন্তা করা দরকার।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে