সাংবাদিকতার আড়ালে চাঁদাবাজি; অতঃপর ব্যর্থ হয়ে রাজারবাগ দরবার শরীফের বিরুদ্ধে লেখালেখি


আমার অতি পরিচিত এক সাংবাদিকের সাথে দেখা। সেই সাংবাদিক একটি জাতীয় দৈনিকের পাশাপাশি একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার কলামিস্ট। আমার সাথে অনেকক্ষণ কথাবার্তা বলে সেই সাংবাদিক বললো এবার তাহলে যাই। আমি বললাম এখন কোথায় যাবেন? সাংবাদিক বললো এক ব্যাংক ম্যানেজারের কাছে যাব। আমি বললাম ব্যাংক ম্যানেজারের কাছে আপনার কি কাজ? সাংবাদিক তার ব্যাগ থেকে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা বের করে দেখালো। দেখলাম সেই পত্রিকার মধ্যে ব্যাংক ম্যানেজারের বিরুদ্ধে অনেক কিছু লেখা। তারপর সেই সাংবাদিক বললো পত্রিকার এই লেখাটি দেখিয়ে ব্যাংক ম্যানেজারের থেকে টাকা আদায় করবো। আর বলবো যদি নিয়মিত টাকা না দেন তাহলে আপনার বিরুদ্ধে আরো অনেক কিছু লেখালেখি করবো। আমি বললাম তারপর কোথায় যাবেন? সাংবাদিক বললো একটি থানার ওসির সাথে দেখা করবো। থানার ওসিকে পত্রিকা দেখিয়ে বলবো যদি টাকা না দেন তাহলে ব্যাংক ম্যানেজারের মতো আপনার বিরুদ্ধেও লেখালেখি করবো। এভাবে ওসির থেকেও টাকা আদায় করবো। আমি সাংবাদিককে জিজ্ঞেস করলাম এভাবে রিপোর্ট লিখে কত লোক থেকে টাকা আদায় করেছেন। সাংবাদিক স্বীকার করলো এভাবে মিথ্যা রিপোর্ট লিখে ভয় দেখিয়ে সরকারি-বেসরকারি অনেক লোক থেকে নিয়মিত টাকা আদায় করেছে। তারপর সাংবাদিক বললো, আমরা সাংবাদিকতা করে আর কত টাকা বেতন পাই? আমরা যে এতো টাকা আয় করি সেটা মিথ্যা রিপোর্ট লিখে মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করে আয় করি।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ঢাকা রাজারবাগ দরবার শরীফ উনার সম্মানিত হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি পৈত্রিকভাবে বিশাল জায়গা সম্পত্তির মালিক। পবিত্র কুরআন শরীফ এবং পবিত্র হাদীস শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে যে, মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় মাল সম্পদ, টাকা খরচ করলে মহান আল্লাহ পাক তিনি মাল সম্পদকে বহু গুনে বৃদ্ধি করে দেন। ঢাকা রাজারবাগ দরবার শরীফ উনার সম্মানিত হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি সারাদেশে অসংখ্য মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানা সহ বহু দ্বীনি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন। আর এই দ্বীনি প্রতিষ্ঠান গুলিতে তিনি প্রতিনিয়ত অনেক টাকা খরচ করে যাচ্ছেন।
রাজারবাগ দরবার শরীফ উনার সম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মাল সম্পদকে মহান আল্লাহ পাক তিনি বৃদ্ধি করে দিচ্ছেন। সুবহানাল্লাহ! আর উনার এই মাল সম্পদের দিকে কু-দৃষ্টি পড়েছে সাংবাদিক নামধারী চাঁদাবাজ চক্রের। প্রথমে তারা রাজারবাগ দরবার শরীফ থেকে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে। রাজারবাগ দরবার শরীফ উনার পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয় আমাদের কোন কথা, কাজ, আমলকে সম্মানিত শরীয়ত উনার বিপরীত প্রমাণ করতে পারলে হাজার কোটি টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। কিন্তু প্রবাদ আছে চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনী। রাজারবাগ দরবার শরীফ উনার শরীয়ত সম্মত আহবান সাংবাদিক নামধারী চাঁদাবাজ চক্রের পছন্দ হয়নি। তাদের প্রয়োজন মোটা অংকের চাঁদা। সাংবাদিক নামধারী চাঁদাবাজ চক্র চাঁদা না পেয়ে প্রচন্ড ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলো। তারপর রাজারবাগ দরবার শরীফ সম্পর্কে যতসব মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট কাহিনী তাদের পত্রিকায় লিখতে শুরু করলো। উদ্দেশ্য রাজারবাগ দরবার শরীফ থেকে মোটা অংকের চাঁদা আদায়। কিন্ত রাজারবাগ দরবার শরীফ উনার পক্ষ থেকে নির্ভীক, সুস্পষ্ট ঘোষণা, আমরা একটি পয়সাও চাঁদা দিবো না। আমাদের কোন কথা, কাজ, আমলকে সম্মানিত শরীয়ত উনার বিপরীত প্রমান করতে পারলে হাজার কোটি টাকা পুরস্কার। আর তাই সাংবাদিকতার আড়ালে চলছে চাঁদাবাজি।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

One Comment

Leave a Reply

[fbls]
  1. মেঘমালা says:

    চাঁদাবাজ + সাংবাদিক = চাঁদাবাদিক।