সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর, মহাপবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয় সাল্লাম পালন করা এবং এ উপলক্ষে খরচ করার গুরুত্ব ও ফযীলত


لله
نحمده و نصلى على رسوله الكريم و على مرشدنا العظيم و على أهل بيته الكريم
اللهم صل على سيدنا مولانا وسيلتى إليك و آله و سلم وعلى أرشد أولاده الشيخنا و مرشدنا العظيم و على أهل بيته الكريم
بسم الله الرحمن الرحيم

মামদুহ হযরত মুরশিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম এবং উনার সম্মানিত আহলে বায়ত শরীফ আলাইহিমুস সালাম-উনাদের কদম পাকে উনাদের নেক দৃষ্টি, ফয়েজ তাওয়াজ্জুহ এবং দয়া-ইহসান আর্জু করে আমার আলোচনা শুরু করছি। আমার আলোচনার বিষয়বস্তু হচ্ছে সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর, মহাপবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা এবং এ উপলক্ষে খরচ করার গুরুত্ব ও ফযীলত।

১. ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম উনার শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ

ঈদ অর্থ হচ্ছে খুশী বা আনন্দ প্রকাশ করা । মীলাদ শব্দের অর্থ হচ্ছে জন্মের সময়। ঈদে মীলাদুন নবী বলতে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ উপলক্ষে খুশী প্রকাশ করা বুঝায় ।
পারিভাষিক অর্থে ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থ হচ্ছে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ উপলক্ষে খুশী প্রকাশ করে উনার ছানা ছিফত বর্ণনা করা, উনার প্রতি ছলাত-সালাম পাঠ করা, উনার পবিত্র জীবনী মুবারক আলোচনা করা ।
ঈদ এর বহুবচন হচ্ছে আ’ইয়াদ । আর সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ অর্থ হচ্ছে সকল ঈদের সেরা ঈদ ।
শরীয়তে কতগুলি ঈদ রয়েছে ?
অনেকে বলে থাকে বছরে ঈদ মাত্র দু’টি — ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহা । প্রকৃত পক্ষে শরীয়তে অনেকগুলি ঈদ রয়েছে, যা ছহীহ হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত । হাদীছ শরীফে জুমুয়ার দিনকে ঈদ বলা হয়েছে, সোমবার শরীফকে ঈদ বলা হয়েছে, আরাফার দিনকে ঈদ বলা হয়েছে । রমযান শরীফে ইফতারের সময়কে ফারহাতান বলা হয়েছে, যার অর্থও খুশী বা ঈদ । মাসিক আল-বাইয়্যিনাত শরীফের ১২৯তম সংখ্যায় হাদীছ শরীফ দ্বারা এক বছরে ঈদের সংখ্যা ১৮০টি বলে প্রমাণ করা হয়েছে ।
কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফে ঈদে মীলাদুন নবী
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রমাণ

১. কুরআন শরীফে সুরা মায়েদা–১১৪ নং আয়াত শরীফ :-
أَلَّلهُمَّ رَبَّنَا أَنْزِلْ عَلَيْنَا مَائِدةً مِّنَ السَّمَاءِ تَكُوْنُ لَنَا عِيْدًا لِاَوَّلِنَا وَ آخِرِنَا –
(অর্থ : আয় আমাদের রব আল্লাহ পাক ! আামাদের জন্য আপনি আসমান হতে খাদ্য সহ একটি খাঞ্চা নাযিল করুন। খাঞ্চা নাযিলের উপলক্ষটি, অর্থাৎ খাদ্যসহ খাঞ্চাটি যেদিন নাযিল হবে সেদিনটি আমাদের জন্য, আমাদের পূর্ববর্তি ও পরবর্তী সকলের জন্য ঈদ স্বরূপ হবে)।

২. ইবনে মাজাহ শরীফ ও মিশকাত শরীফে উল্লেখিত একটি হাদীছ শরীফের মর্ম এইরূপ :-
হুয়ূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন : জুমুয়ার দিন সকল দিনের সর্দার এবং সকল দিন অপেক্ষা আল্লাহ পাক উনার নিকট অধিক শ্রেষ্ঠ এবং সম্মানিত। এটি ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতরের দিন অপেক্ষাও আল্লাহ পাক উনার নিকট শ্রেষ্ঠ ও সম্মানিত । দিনটিতে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে :- (১) এ দিনে মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করেছেন, (২) এ দিনে উনাকে যমীনে প্রেরণ করেছেন, (৩) এ দিনে উনাকে বিছাল শরীফ দান করেছেন, (৪) এ দিনটিতে এমন একটি সময় রয়েছে তিনি অবশ্যই তাকে তা দান করেন, যে পর্যন্ত না সে হারাম কিছু চায় এবং (৫) এ দিনেই ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে ।
এখন কথা হলো — হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনার উম্মতের জন্য সামান্য একটি খাদ্যের খাঞ্চা নাযিলের দিন যদি ঈদ বা খুশীর দিন হয়, আর হযরত আদম আলাইহিস সালা উনার সৃষ্টি, উনার যমীনে আগমন এবং বিদায়ের কারণে জুমুয়ার দিন যদি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন উনাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ হয়, তাহলে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যাঁকে সৃষ্টি করা না হলে হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম এবং হযরত আদম আলাইহিস সালামসহ কোন নবী রসুল আলাইহিমুস সালাম উনদেরকে সৃষ্টি করা হতো না । শুধু তা-ই নয়, আসমান-যমীন, লওহো, কলম, আরশ-কুরসী, জিন-ইনসান, ফেরেশতা, জান্নাত-জাহান্নাম এক কথায় কায়েনাতের কোন কিছুই সৃষ্টি করা হতো না । তাহলে উনার যমীনে আগমন অর্থাৎ বিলাদত শরীফ ও বিছাল শরীফ-এর দিনটি কি ঈদের দিন বা খুশীর দিন হবে না ? অবশ্যই সেদিনটি কূল কায়েনাতের জন্য ঈদ বা খুশীর দিন এবং সেদিনটি সকল ঈদের সেরা ঈদ অর্থাৎ সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ।

ঈদে মীলাদুন নবী হুয়ূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা ফরয

পবিত্র কুরআন শরীফে সুরা ইউনুস, আয়াত শরীফ ৫৮ এ ইরশাদ মুবারক হয়েছে :-
قُلْ بِفَضْلِ اللهِ وَ بِرَحْمَتِهِ فَبِذَالِكَ فَلْيَفْرَحُوْا هُوَ خَيْرٌ مِّمَّا يَجْمَعُوْنَ –
(অর্থ: হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ! আপনি উম্মাহকে জানিয়ে দিন, আল্লাহ পাক তিনি ফযল-করম হিসাবে তাদেরকে যে দ্বীন-ইসলাম দিয়েছেন এবং রহমত হিসাবে উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাঠিয়েছেন, সেজন্য তারা যেন খুশী প্রকাশ করে । এই খুশী প্রকাশ করাটা সবকিছু থেকে উত্তম, যা তারা দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য সঞ্চয় করে) । .নুসরণীয় ইমাম, মুজতাহিদগণ এই আয়াত শরীফ দ্বারা ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা অর্থাৎ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ উপলক্ষে ঈদ বা খুশী প্রকাশ করাকে ফরয বলে ফতওয়া দিয়েছেন । কেননা উক্ত আয়াত শরীফে فَلْيَفْرَحُوْ অর্থাৎ “তারা যেন খুশী প্রকাশ করে” আদেশ সূচক বাক্য ব্যবহৃত হয়েছে । সুতরাং সকল উম্মতের জন্য তো অবশ্যই বরং কূল কায়িনাতের সকলের জন্য ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা ফরযের অন্তর্ভূক্ত । এটাই আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের ফতওয়া। এর বিপরীত মত পোষণকারীরা বাতিল ও গোমরাহ ।
বিলাদত শরীফ ও বিছাল শরীফ দিবস উদযাপন করার নির্দেশনা
কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফেই রয়েছে

যেমন, হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনার ব্যাপারে কুরআন শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে :-
وَ سَلَامٌ عَلَيْهِ يَوْمَ وُلِدَ وَ يَوْمَ يَمُوْتُ وَ يَوْمَ يُبْعَثُ حَيًّا –
(অর্থ : উনার প্রতি সালাম বা শান্তি, যেদিন তিনি বিলাদত শরীফ লাভ করেছেন এবং যেদিন তিনি বিছাল শরীফ লাভ করেছেন এবং যেদিন তিনি পুনরুত্থিত হবেন (সুরা মারইয়াম, আয়াত শরীফ: ১৫) এই আয়াত শরীফ এবং আরো অনেক আয়াত শরীফ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, হযরত নবী-রসুল আলাইহিমুস সালাম উনাদের বিলাদত শরীফ (জন্ম) দিবস এবং বিছাল শরীফ (ইনতিকাল) দিবস উভয়টিই উম্মতের জন্য রহমত, বরকত ও সাকিনা লাভের কারণ এবং ঈদ বা খুশী প্রকাশের কারণ।
হাদীছ শরীফে উল্লেখ আছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে লক্ষ্য করে বলেন : হে আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ! আপনি যদি রোযা রাখতে চান, তবে ইয়াওমুল ইছনাইন বা সোমবার শরীফে রোযা রাখবেন । কেননা সোমবার শরীফে আমার বিলাদত শরীফ হয়েছে, আমার প্রতি পবিত্র কুরআন শরীফ নাযিল হয়েছে, আমার মি’রাজ শরীফ হয়েছে, আমার হিজরত হয়েছে এবং আমার বিছাল শরীফ সোমবার শরীফেই হবে । এই হাদীছ শরীফ দ্বারা হুয়ূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই উম্মতদেরকে উনার বিলাদত শরীফ ও বিছাল শরীফ দিবস উদযাপন করার জন্য উৎসাহিত করেছেন । অনুসরনীয় ইমাম মুজতাহিদগণ এবং আওলিয়ায়ে কিরাম উনারা এই হাদীছ শরীফের উপর ভিত্তি করেই বিলাদত শরীফ ও বিছাল শরীফ দিবস উদযাপন করেন এবং এইরূপ উদযাপন করাকে কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ সম্মত বলে ফতওয়া দিয়েছেন।

১. নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-
উনার যামানায় মীলাদ শরীফ ছিল।

এ প্রসঙ্গে দু’টি হাদীছ শরীফ উল্লেখ করছি । বিশ্ব বিখ্যাত আলিমগণ উনাদের লিখিত কিতাবে এ হাদীছ শরীফগুলি উল্লেখ করেছেন । তম্মধ্যে বিশ্ব বিখ্যাত তফসীরে জালালাইন প্রণেতাদের অন্যতম হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সূয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি, যিনি ১০ম হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ ছিলেন, তিনিও রয়েছেন । তিনি “সুবুলুল হুদা ফী মাওলিদিল মুস্তফা হুয়ূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম” নামক কিতাবে এ দু’টি হাদীছ শরীফ উল্লেখ করেছেন ।

عن أبى الدرداء رضى الله تعالى عنه أنه مر مع النبى صلى الله عليه و سلم إلى بيت عامر الانصارى و كان يعلم وقائع ولادته صلى الله عليه و سلم لأبنائه و عشيرته و يقول هذا اليوم هذا اليوم فقال عليه الصلوة و السلام إن الله فتح لك أبواب الرحمة و الملائكة كلهم يستغفرون لك، من فعل فعلك نجى نجاتك –

(১) অর্থ : হযরত আবুদ দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত আছে যে, একদা তিনি রসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে হযরত আমির আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার গৃহে উপস্থিত হয়ে দেখতে পেলেন যে, তিনি উনার সন্তানাদি এবং আত্মীয়-স্বজনদেরকে নিয়ে আখেরী রসুল হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার বিলাদত শরীফের ঘটনা সমূহ শুনাচ্ছেন এবং বলছেন, এই দিবস, এই দিবস (অর্থাৎ এই দিবসে রসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যমীনে তশরীফ এনেছেন এবং ইত্যাদি ইত্যাদি ঘটেছে). এতদশ্রবণে আল্লাহ পাক-উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন : নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক তিনি উনার রহমতের দরজা আপনার জন্য উম্মুক্ত করেছেন এবং সমস্ত ফেরেশতাগণ আপনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছেন। যে কেউ আপনার মত এরূপ কাজ করবে, সেও আপনার মত নাজাত (ফযীলত) লাভ করবে । সুবহানাল্লাহ !

عن ابن عباس رضى الله تعالى عنهما أنه كان يحدث ذات يوم فى بيته وقائع ولادته صلى الله عليه و سلم لقومه، فيستبشرون و يحمدون الله و يصلون عليه صلى الله عليه و سلم فاذا جاء النبى صلى الله عليه سلم قال حلت لكم شفاعتى –

(২) অর্থ: হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি একদা উনার নিজ গৃহে সমবেত ছাহাবীগণকে আল্লাহ পাক-উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার বিলাদত শরীফের ঘটনা সমূহ শুনাচ্ছিলেন । এতে শ্রবণকারীগণ আনন্দ ও খুশী প্রকাশ করছিলেন এবং আল্লাহ পাক-উনার প্রশংসা তথা তাসবীহ-তাহলীল পাঠ করছিলেন এবং আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার উপর (ছলাত-সালাম) দরূদ শরীফ পাঠ করছিলেন। এমন সময় রসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তথায় তশরীফ আনলেন এবং (মীলাদ শরীফ পাঠের অনুষ্ঠান দেখে) বললেন : তোমাদের জন্য আমার শাফায়াত ওয়াজিব হয়ে গেল। সুবহানাল্লাহ !

২. খুলাফায়ে রাশিদীন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম মীলাদ শরীফ পাঠ করার ফযীলত বর্ণনা করে
এ ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন । এ বিষয়ে উনাদের অনেক ক্বওল শরীফ রয়েছে ।

৩. হযরত তাবিয়ীন রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণও মীলাদ শরীফ পাঠ করার
ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছেন :-

= বিশিষ্ট তাবেয়ী হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি, যিনি শতাধিক ছাহাবায়ে কিরামের সাক্ষাত পেয়েছিলেন, যিনি চতুর্থ খলীফা হযরত আলী কাররামাল্লাহ ওয়াজহাহু ওয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনার খলীফা ও ছাত্র ছিলেন, তিনি বলেন : আমার একান্ত ইচ্ছা হয় যে, আমার যদি উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ থাকত, তাহলে আল্লাহ পাক-উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার মীলাদ শরীফ পাঠ উপলক্ষে ব্যয় করতাম। সুবহানাল্লাহ !

৪. মাযহাবের ইমামগণও মীলাদ শরীফ পাঠ করার ব্যাপারে উৎসাহ ও
গুরুত্ব প্রদান করেছেন :-

= শাফিয়ী মাযহাবের ইমাম হযরত ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন : যে ব্যক্তি আল্লাহ পাক-উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার মীলাদ শরীফ উপলক্ষে লোকজন একত্রিত করল এবং খাদ্য তৈরী করল ও জায়গা নির্দিষ্ট করল এবং উত্তমভাবে (তথা সুন্নাহ ভিত্তিক) আমল করল, তাহলে উক্ত ব্যক্তিকে আল্লাহ পাক হাশরের দিন ছিদ্দীক্ব, শহীদ, ছালিহীনগণের সাথে উঠাবেন এবং উনার ঠিকানা হবে জান্নাতুন নায়ীমে । সুবহানাল্লাহ !

৫. তরীক্বতের ইমামগণও মীলাদ শরীফ পাঠ করার ব্যাপারে উৎসাহিত
করেছেন :-

= বিশিষ্ট ওলী হযরত ইমাম মারূফ কারখী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন: যিনি আল্লাহ পাক-উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার মীলাদ শরীফ উপলক্ষে খাদ্য প্রস্তুত করবেন এবং আল্লাহ পাক-উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার মীলাদ শরীফ-এর সম্মানার্থে মুসলমান ভাইদের একত্রিত করবেন, (আলো দানের উদ্দেশ্যে) ধূপ জ্বালাবেন এবং আতর-গোলাপ মাখবেন, ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ পাক উনার হাশর-নশর করবেন নবী-রসুল আলাইহিমুস সালামগণ-উনাদের প্রথম দলের সাথে এবং তিনি সুউচ্চ ঈল্লীনে অবস্থান করবেন । সুবহানাল্লাহ !

= আল্লাহ পাক-উনার খালেছ ওলী হযরত সাররী সাক্বতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন: যে ব্যক্তি মীলাদ শরীফ পাঠ বা ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদযাপন করার জন্য স্থান নির্দিষ্ট করল, সে যেন তার জন্য জান্নাতে রওযা বা বাগান নির্দিষ্ট করল । কেননা সে তা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার মহব্বতের জন্যই তা করেছে।

= সাইয়্যিদুত ত্বয়িফা হযরত জুনায়েদ বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন: যে ব্যক্তি মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আয়োজনে উপস্থিত হলো এবং উপযুক্ত সম্মান প্রদর্শন করলো, সে তার ঈমানের দ্বারা সাফল্য লাভ করবে অর্থাৎ সে বেহেশতী হবে*  সুবহানাল্লাহ !

৬. অনুসরণীয় ইমাম, মুজতাহিদ ও আওলিয়ায়ে কিরামগণও মীলাদ শরীফ
পাঠ করার ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন :-
= বিশ্ব বিখ্যাত আলিম তফসীরে কবীর প্রণেতা হযরত ইমাম ফখরুদ্দীন রাযী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন : যে ব্যক্তি মীলাদ শরীফ পাঠ করে লবণ, গম বা অন্য কোন খাদ্যদ্রব্যের উপর ফুঁক দেয়, তাহলে এই খাদ্য দ্রব্যে অবশ্যই বরকত প্রকাশ পাবে । এভাবে যে কোন কিছুর উপরই পাঠ করুক না কেন (তাতে বরকত হবেই). তিনি বলেন : উক্ত মুবারক খাদ্য মীলাদ শরীফ পাঠকারীর জন্য আল্লাহ পাক উনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে, এমনকি পাঠকারীকে ক্ষমা না করা পর্যন্ত সে হয় না । তিনি ইহাও বলেন যে : যদি মীলাদ শরীফ পাঠ করে কোন পানিতে ফুঁক দেয়, অত:পর উক্ত পানি কেউ পান করে, তাহলে এই পানি পানকারীর অন্তরে এক হাজার নূর ও রহমত প্রবেশ করবে । আর সেই ব্যক্তি থেকে হাজারটি বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ রোগ দূর হবে, যেদিন সমস্ত ক্বলব (মানুষ) মৃত্যুবরণ করবে সেই দিনও সেই পানি পানকারীর অন্তর মৃত্যুবরণ করবে না । তিনি আরো বলেন : যে ব্যক্তি মীলাদ শরীফ পাঠ করে রৌপ্যের অথবা স্বর্ণের দিরহাম সমূহের উপর ফুঁক দেয়, অত:পর তা অন্য জাতীয় মুদ্রার সাথে মিশায়, তাহলে তাতে অবশ্যই বরকত হবে এবং এর পাঠক কখনও ফকীর হবে না। আর উক্ত পাঠকের হাত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার (মীলাদ শরীফ পাঠের) বরকতে কখনও খালি হবে না। সুবহানাল্লাহ !

= দশম হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, সুলতানুল আরিফীন, হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সূয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার লিখিত “আল-ওয়াসায়েল ফিশ শারহিশ শামায়েল” কিতাবে বলেন: যদি কোন ঘরে অথবা মসজিদে অথবা মহল্লায় মীলাদ শরীফ পড়া হয় তখন সেই ঘর অথবা মসজিদ অথবা মহল্লাকে ফেরেশতাগণ ঘিরে রাখেন, ফেরেশতাগণ ঐসব স্থানের লোকদের জন্য রহমতের দোয়া করেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদের উপর রহমত বর্ষণ করেন এবং উনাদের প্রতি সন্তুষ্ট হন। আর যাঁরা মীলাদ শরীফের ব্যবস্থা করে, নূর দ্বারা সজ্জিত প্রধান চার ফেরেশতা অর্থাৎ হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম, হযরত মিকাঈল আলাইহিস সালাম, হযরত ইসরাফীল আলাইহিস সালাম এবং হযরত আযরাঈল আলাইহিস সালাম উনারা সকলে সেই সব লোকের জন্য রহমতের দোয়া করে থাকেন । তিনি আরো বলেন: কোন মুসলমান যদি উনার ঘরে মীলাদ শরীফ পাঠ করেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি সেই ঘরের অধিবাসীদের উপর থেকে খাদ্যভাব, মহামারী, অগ্নিকান্ড, ডুবে মরা, সব ধরনের বালা-মুসীবত, হিংসা-বিদ্বেষ, বদ-নজর, চুরি ইত্যাদি বিপদ-আপদ উঠিয়ে নেন। সেই ব্যক্তি যখন মারা যান, আল্লাহ পাক তিনি মুনকির নকীরের সুওয়াল জওয়াব উনার উপর সহজ করবেন, আর সেই ব্যক্তি মহা পরাক্রমশালী বাদশাহ (আল্লাহ পাক)-উনার সন্নিধানে ছিদক্বের মক্বামে অবস্থান করবেন। সুবহানাল্লাহ ! (সূত্র : আন নি’মাতুল কুবরা আলালা আলাম, হযরত ইবনে হাজার আল-হায়ছামী আশ-শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি)।

৭. এতদ্ব্যতীত ভারতবর্ষে প্রখ্যাত মুহাদ্দিছ ও ওয়ালী-আল্লাহ হযরত শাহ আবদুল হক্ব মুহাদ্দিছে দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি, দ্বাদশ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, রঈছুল মুহাদ্দিছীন হযরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দিছে দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি, উনার পিতা বিখ্যাত ওয়ালী-আল্লাহ হযরত শাহ আবদুর রহীম মুহাদ্দিছে দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত শাহ ওয়ালী-আল্লাহ মুহাদ্দিছে দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পুত্র হযরত শাহ আবদুল আযীয মুহাদ্দিছে দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ১৩শ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ১৪শ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ শাহ ছুফী হযরত মাওলানা আবু বকর ছিদ্দীক্বী ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং উনার খলীফাগণ, হযরত মাওলানা কেরামত আলী জৌনপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং উনার খলীফাগণ মীলাদ শরীফ ও ক্বিয়াম শরীফ পালন করেছেন এবং ইহাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন ।

ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে খরচ করার ফযীলত
সাধারণভাবে খরচ করার ফযীলত
সাধারণভাবে দান করার ফযীলত সম্পকে মহান আল্লাহ পাক তিনি কুরআন শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন :-
مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشْرُ أمْثَالِهَا –
(অর্থ : যে ব্যক্তি একটি নেকী করবে তাকে এর বিনিময়ে কমপক্ষে দশটি ছওয়াব দেয়া হবে। (সুরা আনয়াম-১৬০) অর্থাৎ আমভাবে এক টাকা দান করলে দশ টাকার ফযীলত পাওয়া যায় ।

মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় খরচ করার ফযীলত
মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় উনার জন্য খরচ করার ফযীলত সম্পর্কে তিনি কুরআন শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন :-
مثل الذين ينفقون أموالهم فى سبيل الله كمثل حبة أنبتت سبع سنابل فى كل سنبلة مئة حبة –
والله يضاعف لمن يشاء والله واسع عليم –
(অর্থ : মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় যারা খরচ করে তাদের মেছাল হচ্ছে, যেমন, একটি বীজ থেকে সাতটি শীষযুক্ত গাছ উৎপন্ন হলো। প্রতিটি শীষে একশটি করে বীজ বা দানা উৎপন্ন হলো অর্থাৎ সাতটি শীষে ৭০০টি বীজ বা দানা উৎপন্ন হলো, মহান আল্লাহ পাক তিনি যাকে ইচ্ছা এর চেয়ে বহুগুণ বেশী দিযে থাকেন। আল্লাহ পাক তিনি প্রশস্তকারী ও অধিক জ্ঞানী (সুরা বাক্বারাহ-২৬১)।
এ আয়াত শরীফ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় খরচ করার ফযীলত হচ্ছে সাধারণভাবে একে সাতশত গুণ । তবে নিয়ত বা খুলুছিয়তের কারণে কম-বেশী হতে পারে ।

সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উপলক্ষে খরচ করার ফযীলত
মহান আল্লাহ পাক কুরআন শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন :-
والله و رسوله أحق أن يرضوه إن كانوا مؤمنين –
(অর্থ : যদি তারা মু’মিন হয়ে থাকে তাহলে তারা যেন আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে সন্তুষ্ট করে । কেননা উনারাই সন্তুষ্টি পাওয়ার সমধিক হকদার। (সুরা তাওবাহ-৬২)
হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন :-
أحِبُّوْنِىْ لِحُبِّ اللهِ
(অর্থ : তোমরা আল্লাহ পাক উনার মহব্বত হাছিল করার জন্য আমাকে মহব্বত কর) (তিরমিযি, মিশকাত)।
উল্লেখিত আয়াত শরীফ ও হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, প্রত্যেক মু’মিন মুসলমানের জন্য আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব হুয়ূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে সন্তুষ্ট ও মহব্বত করা ফরযে আইন । আরো প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ পাক উনাকে মহব্বত করতে হলে প্রথমে উনার হাবীব হুয়ূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মহব্বত ও সন্তুষ্ট করতে হবে।
অন্য হাদীছ শরীফে হুয়ূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন:-
لا يؤمن أحدكم حتى أكون أحب إليه من والده و ولده و الناس أجمعين –
(অর্থ : তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মু’মিন হতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত সে তার পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি এবং সমস্ত মানুষ অপেক্ষা আমাকে বেশী মহব্বত না করবে (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)।
এই হাদীছ শরীফের বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায় হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের জীবনী মুবারকে । উনারা উনাদের সবকিছু থেকে বেশী মহব্বত করেছেন হুয়ূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে । উনারা উনার খেদমতে উনাদের সর্বস্ব কুরবানী করে দিয়েছেন, অত:পর নিজেদের জীবনও দিয়ে দিয়েছেন ।
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুয়ূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন :-
لَا تَسُبُّوْا اَصْحَابِىْ فَلَوْ أنَّ اَحَدَكُمْ أنْفَقَ مِثْلَ أُحُدٍ ذَهَبًا مَا بَلَغَ مُدَّ أحَدِهِم وَ لَا نَصِيْفَهُ – ْ
(অর্থ : তোমরা আমার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ-উনাদেরকে গালি দিও না । কেননা যদি তোমাদের কেউ উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ আল্লাহ পাক-উনার রাস্তায় দান করে, তবুও ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ-উনাদের এক মূদ (১৪ ছটাক) বা অর্ধ মূদ (৭ ছটাক) গম দান করার ফযীলতের সমপরিমাণ ফযীলতও অর্জন করতে পারবে না) । (বুখারী শরীফ)
কাজেই দেখা যায়, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম হুয়ূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য হাদিয়া মুবারক করে বেমেছাল ফযীলত হাছিল করেছেন। পরবর্তী উম্মত যদি সেই ফযীলতের অনুরূপ ফযীলত হাছিল করতে চায় তাহলে তাদের কর্তব্য হচ্ছে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ অর্থাৎ সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উপলক্ষে খুশী প্রকাশ করে সর্বোচ্চ তওফীক অনুযায়ী ব্যয় করা । মূলত: সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উপলক্ষে খরচ করার প্রতিদান হচ্ছে নিশ্চিতরূপে জান্নাত লাভ । সুবহানাল্লাহ
মীলাদ শরীফ মাহফিলের জন্য খরচ করার ব্যাপারে বিশ্ব সমাদৃত ও সুপ্রসিদ্ধ মীলাদ শরীফের কিতাব — আল্লামা ইবনে হাজার হায়ছামী রহমতুল্লাহি আলাইহি প্রণীত “আন নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম ফী মাওলিদি সাইয়্যিদি উলদি আদম” এ খুলাফায়ে রাশেদীন উনাদের ক্বওল শরীফ এইরূপ বর্ণিত রয়েছে :-
= আফযালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া হযরত আবু বকর ছিদ্দীক আলাইহিস সালাম তিনি বলেন : যে ব্যক্তি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার মীলাদ শরীফ পাঠ উপলক্ষে এক দিরহাম ব্যয় করবে, সে জান্নাতে আমার বন্ধু হয়ে থাকবে। সুবহানাল্লাহ !
= হযরত উমর ফারুক আলাইহিস সালাম তিনি বলেন : যে ব্যক্তি নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার মীলাদ শরীফকে বিশেষ মর্যাদা দিল, সে মূলত: ইসলামকেই পুনরুজ্জীবিত করল। সুবহানাল্লাহ !
= হযরত উছমান যুন্নুরাইন আলাইহিস সালাম তিনি বলেন : যে ব্যক্তি নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার মীলাদ শরীফ পাঠ উপলক্ষে এক দিরহাম খরচ করল, সে যেন বদর ও হুনাইন জিহাদে শরীক থাকল । সুবহানাল্লাহ!
= হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু ওয়া আলাইহিস সালাম তিনি বলেন: যে ব্যক্তি নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার মীলাদ শরীফ পাঠের কারণে বিশেষ মর্যাদা প্রদান করল, সে ব্যক্তি অবশ্যই ঈমান নিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিবে এবং বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে । সুবহানাল্লাহ !

হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার তাজদীদ
দেখা যায়, মীলাদ শরীফ, ক্বিয়াম শরীফ এবং ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই মুবারক আমলটি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যামানাতেই ছিল । হযরত খুলাফায়ে রাশেদীন, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম, তাবেয়ীন, তাবে-তাবেয়ীন, ইমাম মুজতাহিদগণ এবং আওলিয়ায়ে কিরাম সকলেই মীলাদ শরীফ ও ক্বিয়াম শরীফ করেছেন । মক্কা শরীফ ও মদীনা শরীফ সহ সারা বিশ্বে এর ব্যাপক আমল ছিল । মাত্র ৫০/৬০ বছর পূর্বেও আমরা দেখেছি, বাংলাদেশে ঘরে ঘরে বরকতের জন্য মীলাদ শরীফ পড়ানো হতো । সৌদি আরবে ওহাবী ফিরক্বার উদ্ভবের পর থেকে তাদের দালালদের দ্বারা বাংলাদেশ সহ সারা পৃথিবীতে মীলাদ শরীফ ও ক্বিয়াম শরীফের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালায় এবং সেই প্রচারণা এখনও তারা অব্যাহত রেখেছে ।
আমাদের মামদুহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম, যিনি বর্তমান ১৫শ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদে আ’যম, গাউছুল আ’যম, ইমামে আ’যম, উনার মুবারক তশরীফে সেই মৃত-প্রায় সুন্নত মুবারকের আমল তাজদীদ বা পূণ:র্জীবন লাভ করেছে । তিনি উনার মুবারক ওয়াজ শরীফ, কিতাবাদি, মাসিক আল-বাইয়্যিনাত শরীফ, দৈনিক আল-ইহসান শরীফ উনাদের মাধ্যমে মীলাদ শরীফ ও ক্বিয়াম শরীফ এবং ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কিত ওহাবীদের মনগড়া, বিভ্রান্তিকর ও দলীল-বিহীন বক্তব্যগুলি খন্ডন করে অকাট্য দলীলের মাধ্যমে ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ অর্থাৎ সকল ঈদের সেরা ঈদ পালন করাকে ফরয ছাবিত করেন । সারা বিশ্বে এখন আবার সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ ব্যাপকভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে । ইতিপূর্বে শুধু পুরুষ আলিমগণ মীলাদ শরীফ পাঠ করতেন এবং সাধারণ লোক শ্রোতা হয়ে মাহফিলে যোগদান করতেন। এখন সাধারণ লোকগণও মীলাদ শরীফের নিয়ম কানুন শিখে নিয়ে ব্যাপকভাবে পাঠ শুরু করেছেন এবং মহিলাগণও পর্দ্দার মধ্যে থেকে পৃথকভাবে মীলাদ শরীফের এই বরকতময় অনুষ্ঠান ব্যাপকভাবে পালন করে যাচ্ছেন।
মুজাদ্দিদে আ’যম, গাউছুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আওলিযা, আওলাদে রসুল আমাদের মামদুহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি প্রতি বছর সর্বোচ্চ জাঁক-জমক ও শান-শওকতের সাথে ব্যাপকভাবে পালন করে আসছেন । তিনি ১৪৩২ হিজরী সনে রাজারবাগ শরীফে ৪৫ দিন ব্যাপী, ১৪৩৩ হিজরী সনে ৫৩ দিন ব্যাপী এবং এ বছর ১৪৩৪ হিজরী সনে ৫৭দিন ব্যাপী মাহফিলের আয়োজন করেন এবং আগামী বছর ৫৮দিন ব্যাপী মাহফিল করার ঘোষণা দেন। এর পূর্বে এত দীর্ঘ দিন ব্যাপী ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে মাহফিল করার নযীর ইতিহাসে নেই ।
এতদ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে, সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর মহাপবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে আয়োজিত আজিমুশ শান মাহফিল মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদে রসুল মামদুহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার অন্যতম শ্রেষ্ঠতম তাজদীদ । মহান আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে এই সুমহান মাহফিলের গুরুত্ব অনুধাবন করে এজন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ের খেদমত আঞ্জাম দেয়ার তওফিক দান করেন । আমীন ।
সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফের গুরুত্ব সম্পর্কে রাজারবাগ দরবার শরীফ থেকে অনেকগুলি কিতাব প্রকাশিত হয়েছে । এসব কিতাবের ভিত্তিতে আমি সংক্ষিপ্তভাবে আলোচনা করেছি । আলোচনায় অনেক ভূল-ভ্রান্তি হয়েছে । মামদুহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম এবং উনার সম্মানিত আহলে বায়ত শরীফ উনাদের কদমপাকে ক্ষমা-প্রার্থনা করে আামি আমার আলোচনা এখানেই শেষ করলাম । ওয়া আখিরু দা’ওয়ানা আনিল হামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন । আস সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ ।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]