সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মহামূল্যবান নছীহত মুবারক


হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি কিভাবে এত ফযিলত-মর্যাদা লাভ করেছেন যে সবার থেকে অগ্রগামী হয়েছেন!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, একদা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার সম্পর্কে আলোচনা করা হচ্ছিল। তিনি বললেন, উনার মেছাল হচ্ছে মানুষ যখন আমাকে অস্বীকার করেছিল তখন তিনি আমাকে সত্য বলে মেনেছেন এবং আমার প্রতি ঈমান এনেছেন। উনার সম্মানিতা বানাত উনাকে আমার যাওজিয়াতে দিয়েছেন, আমার জন্য মাল খরচ করেছেন, তাবুকের জিহাদে আমার সাথে জিহাদ করেছেন। সাবধান! হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনাকে ক্বিয়ামতের দিন জান্নাতী উটনী সমূহের মধ্য থেকে এমন একটি উটনীতে করে আনা হবে, যার পা হবে মেশকে আম্বরের, জ্বিন হবে সবুজ পান্নার এবং লাগাম হবে তাজা মুক্তার। উনাকে কারুকাজ করা দু’খানা রেশমী পোশাক পড়ানো হবে। উনি আমার কাছে আমার মর্যাদা বর্ণনা করবেন। আর আমিও উনার মর্যাদা সম্পর্কে বর্ণনা করব এবং বলা হবে, উনি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল আর উনি হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
এই মহাসম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে অল্প কথায় হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার ফযীলত মুবারক বর্ণনা করা হয়েছে। উনার কোন মেছাল নেই। উনাকে কারো সাথে তুলনা কর যায় না। এজন্য উনাকে বলা হয়, اَفْضَلُ النَّاسِ بَعْدَ الْاَنْبِيَاءِ অর্থাৎ হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনাদের পর সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব মুবারক। সুবহানাল্লাহ!
হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের পরে তিনি ব্যতীত এমন কোন ব্যক্তি নেই যার উপর সূর্য উদিত হয়েছে এবং অস্ত গিয়েছে। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিনি হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনাকে বললেন, আপনি কিভাবে এত মর্যাদা লাভ করেছেন যে আপনি সবার থেকে অগ্রবর্তী? হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, পাঁচটি কারণে : ১. আমি মানুষের মাঝে দুইটি অবস্থা বা আমি মানুষকে দু’ভাগে বিভক্ত পেয়েছি। ১. দুনিয়া তালাশী ২. পরকাল তালাশী। আর আমি মাওলা তালাশী হয়ে গেলাম। সুবহানাল্লাহ!
২. যে দিন আমি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেছি সেদিন থেকে দুনিয়ার খাবার তৃপ্তি সহকারে বা পেট ভরে খাইনি। কেননা মহান আল্লাহ পাক উনার মা’রিফতের স্বাদ আমাকে দুনিয়ার স্বাদ গ্রহণ করা থেকে বিরত রেখেছে। সুবহানাল্লাহ!
৩. যেদিন আমি দ্বীন-ইসলাম গ্রহণ করেছি সে দিন থেকে দুনিয়ার পানি তৃপ্তি সহকারে পান করিনি। কেননা মহান আল্লাহ পাক উনার মা’রিফাতের স্বাদ আমাকে তৃপ্তি সহকারে পানি পান করা থেকে বিরত রেখেছে। সুবহানাল্লাহ!
৪. যখনই আমার নিকট দু’টি কাজ উপস্থিত হয়েছে (মানুষ দু’টি কাজের মুখোমুখি হয়) দুনিয়াবী ও পরকালীন কাজ, আমি আখিরাতের কাজকেই গ্রহণ করেছি। সুবহানাল্লাহ!
৫. আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছোহবত মুবারক উনাকে উত্তমভাবে গ্রহণ করেছি। সুবহানাল্লাহ!
হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি না দুনিয়া, না গাইরুল্লাহ তালাশী ছিলেন বরং তিনি একমাত্র মাওলা তালাশী অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার তালাশী হয়ে গিয়েছেন। বয়স্ক পুরুষদের মধ্যে হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনিই সর্বপ্রথম দ্বীন-ইসলাম গ্রহণ করেছেন। যে দিন থেকে তিনি দ্বীন-ইসলাম গ্রহণ করেছেন সেদিন থেকে তিনি পেট ভরে বা তৃপ্তি সহকারে পানাহার করেননি। কেননা মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত সূরা জাছিয়াত শরীফ উনার ৫৬নং আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْاِنْسَ اِلَّا لِيَعْبُدُوْنَ .
অর্থ: “আমি জ্বীন-ইনসানকে একমাত্র আমার ইবাদত-বন্দেগী করার জন্য সৃষ্টি করেছি অর্থাৎ মুহব্বত-মা’রিফত অর্জন করার জন্য।”
আর হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার সেই হাক্বীক্বী মুহব্বত-মারিফত মুবারক অর্জন করেছেন। অথচ এখন দেখা যায়, মানুষ দুনিয়ার স্বাদ গ্রহণে ব্যস্ত, মশগুল।
মূলত, সব সময় যে কোন মানুষের কাছে দু’টি কাজ উপস্থিত হয়। দুনিয়াবী কাজ এবং পরকালীন কাজ। কিন্তু মানুষ দুনিয়াবী কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে পরকালের কাজকে ভুলে যায়। নাউযুবিল্লাহ! যেমন: বিশেষ দিনে অজস্র ধারায় মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত মুবারক নাযিল হয়। কিন্তু মানুষ চর্ম চক্ষু দ্বারা না দেখার কারণে সেই রহমত মুবারক থেকে বঞ্চিত হয়।
হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি উত্তমভাবে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করতেন। অর্থাৎ যতক্ষণ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হুজরা শরীফে অবস্থান মুবারক করতেন ততটুকু সময় ব্যতীত। এমনকি ছোহবত মুবারক গ্রহণ করার জন্য তিনি ব্যবসা-বাণিজ্য কোন কিছুই করেননি, সব কিছুই ছেড়ে দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, সমস্ত হযরত সাহাবায়ে কিরাম উনারা সকলেই উত্তমভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করেছেন। যেমন- উনারা যখন ছোহবত মুবারকে বসতেন তখন এমন নিরবতা অবলম্বন করতেন যে, সামান্য কোন কিছু পড়লেও সেটার আওয়াজ শুনা যেত। গাছ যেহেতু নড়াচড়া করেনা তাই পাখি উনাদেরকে গাছ মনে করত, কেননা উনারা কোন নড়াচড়া করতেন না, একদম স্থিরভাবে বসে থাকতেন। অন্তর, চোখ, কান সবকিছুই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে রুজু রাখতেন।
মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সম্পর্কে সূরা বাক্বারা শরীফ উনার ১৩৭ নং আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,
فَاِنْ اٰمَنُوْا بِمِثْلِ مَا امَنْتُمْ بِه فَقَدِ اهْتَدَوْا .
অর্থ: যদি তারা হযরত সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মত ঈমান আনতে পারে অবশ্যই তারা হিদায়েত লাভ করবে।
সুতরাং আমাদের জন্য ফরয ওয়াজিব হচ্ছে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে অনুসরণ করা। আর উনাদের অনুসরণে যদি আমরা প্রতিটা কাজ করি তাহলে আমাদের পক্ষে উনাদের মত কামিয়াবী হাছিল করা সম্ভব হবে।

সম্মানিত নেক ছোহবত ইখতিয়ার এবং উনার তাছির বা ক্রিয়া

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
وَاصْبِرْ نَفْسَكَ مَعَ الَّذِيْنَ يَدْعُوْنَ رَبَّـهُمْ بِالْغَدوةِ وَ الْعَشِىِّ يُرِيْضُوْنَ وَجْهَه .
অর্থ: তোমরা ঐ সমস্ত ব্যক্তি উনাদের ছোহবত মুবারকে লাযিম করে নাও, যাঁরা সকাল-সন্ধ্যা মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির করেন, উনার সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের লক্ষ্যে। (পবিত্র সূরা কাহাফ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২৮)
এই আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি আহলে যিকির তথা হক্কানী-রব্বানী ওলীআল্লাহ উনাদের ছোহবত মুবারক ইখতিয়ারকে আবশ্যক করে দিয়েছেন। ছোহবত মুবারক উনার গুরুত্ব সম্পর্কে মহাসম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
اَلصُّحْبَةُ مُتَاَثِّرَةٌ .
অর্থ: ছোহবত ক্রিয়াশীল বা তাছির করে।
এই মহাসম্মানিত হাদীছ শরীফ থেকে বুঝা যাচ্ছে নেক ছোহবত ইখতিয়ার করলে নেক তাছির পড়ে। আর বদ ছোহবত ইখতিয়ার করলে বদ তাছির পড়ে।
নেক ছোহবত কেমন তাছির করে তা সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মাধ্যমে আরো স্পষ্ট হয়ে যায়,
হযরত হানযালা ইবনে উসাইদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, একদিন হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়। অতঃপর তিনি আমাকে বললেন, আপনি কেমন আছেন হে হানযালা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু? আমি বললাম, হানযালা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি মুনাফিক হয়ে গিয়েছেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, সুবহানাল্লাহ! আপনি এটা কি বললেন? আমি বললাম, যখন আমরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট অবস্থান করি এবং তিনি আমাদের কাছে জান্নাত-জাহান্নামের কথা আলোচনা করেন তখন মনে হয় আমরা সব দেখতে পাচ্ছি। আর যখন উনার ছোহবত মুবারক থেকে বের হয়ে আসি, আমরা আহলিয়া, আল-আওলাদ, ক্ষেত-খামার অর্থাৎ পরিবারের সাথে জড়িয়ে যাই। তখন আমরা অধিকাংশই ভুলে যাই সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে¡ আকবর আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! আমাদেরও এরূপ হয়। তারপর আমি এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে গেলাম এবং বললাম, ইয়া রসূল্লাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! হযরত হানযালা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি মুনাফিক হয়ে গিয়েছেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, এটা কেমন কথা? অতঃপর আমি বললাম, ইয়া রাসূল্লাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! যখন আমরা আপনার কাছে থাকি আপনি জান্নাত-জাহান্নামের কথা আলোচনা করেন তখন মনে হয় আমরা সবকিছু দেখছি। আর যখন আপনার ছোহবত মুবারক থেকে বের হয়ে আসি, আমরা আহলিয়া, আল-আওলাদ, ক্ষেত-খামার অর্থাৎ পরিবারের সাথে জড়িয়ে যাই তখন আমরা অধিকাংশই ভুলে যাই। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, ঐ মহান সত্তা উনার কসম! যাঁর কুদরতি হাত মুবারকে আমার সম্মানিত নূরুল আমর মুবারক (প্রান) মুবারক! যদি আপনারা সর্বদা আমার কাছে থাকতেন এবং যিকিরের মধ্যে থাকতেন হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা আপনাদের সাথে বিছানায় এবং রাস্তায় মুছাফাহ করতেন। কিন্তু হে হানযালা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! এই সময় এই রকম হয়, ঐ সময় ঐ রকম হয় এভাবে তিনবার বললেন।
যতক্ষণ নেক ছোহবতে থাকা হয় ততক্ষণ নেক তাছির পড়ে, জান্নাত-জাহান্নামের কথা স্মরণ হয় এবং আমলও করা হয়। আর যখন নেক ছোহবত থেকে বের হয়ে যাওয়া হয় তখন নেক তাছিরও থাকেনা, আমলের প্রতি আগ্রহও থাকেনা। এই কারণেই মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা তওবা শরীফ উনার ১১৯ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,
كُوْنُوْا مَعَ الصَّادِقِيْنَ
অর্থ: তোমরা ছদিক্বীন উনাদের সঙ্গী হয়ে যাও।
এখানে বিষয়টি ফিকিরের যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি كُوْنُوْا مَعَ الْقُرْانْবলতে পারতেন। কিন্তু তিনি كُوْنُوْا مَعَ الصَّادِقِيْنَ বলেছেন। অর্থাৎ- ছদিক্বীন তথা হক্কানী- রব্বানী ওলীআল্লাহ, যারা দায়েমীভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার যিকিরে মশগুল উনাদের সঙ্গী হতে বলেছেন। কেননা, আহলে যিকির তথা ওলীআল্লাহ উনাদের উপর দায়েমীভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত মুবারক নাযিল হয়।
একটি ঘটনার মাধ্যমে বিষয়টি আরো স্পষ্ট হবে। যেমন- একদিন এক ব্যক্তি একজন ওলীআল্লাহ উনাকে সুওয়াল করলেন, “মানুষ বলে ওলীআল্লাহ উনার কবরের পাশে দাফন করতে। এটা কেন বলে? তখন ছিল গরমকাল, ওলীআল্লাহ উনাকে পিছন থেকে উনার খাদিম পাখা দিয়ে বাতাস করছিল। ওলীআল্লাহ সুওয়ালকারীকে কাছে ডাকলেন। সুওয়ালকারী উনার কাছে আসার পর তিনি তাকে বললেন, তোমার গায়ে কি বাতাস লাগছে? তখন লোকটি বলল, জ্বী। ওলীআল্লাহ পুনরায় বললেন, তোমাকে কি বাতাস করা হচ্ছে? সে বলল, না। তিনি বললেন, তাহলে কাকে বাতাস করা হচ্ছে? লোকটি বলল, আপনাকে। তিনি পুনরায় বললেন, আমাকে বাতাস করা হচ্ছে তাহলে তোমার গায়ে কেন বাতাস লাগছে? লোকটি উত্তর দিল, আপনার নিকটবর্তী হওয়ার কারণে। তখন ওলীআল্লাহ তিনি বললেন, মুহসিনীন তথা হক্কানী-রব্বানী ওলীআল্লাহ উনাদের উপর সবসময় মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত মুবারক নাযিল হয়। আর যারা উনাদের নিকটে আসবে তারাও সেই রহমত মুবারক উনার হিসসা লাভ করবে।
যেমন এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা আ’রাফ শরীফ উনার ৫৬ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেছেন,
اِنَّ رَحْمَةَ اللهِ قَرِيْبٌ مِّنَ الْمُحْسِنِيْنَ .
অর্থ: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত মুবারক মুহসিনীন তথা ওলীআল্লাহ উনাদের নিকট রয়েছে।
সুতরাং হক্বানী-রব্বানী ওলীআল্লাহ উনাদের ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করলে রহমত মুবারক লাভ করা যাবে। আর রহমত মুবারক লাভ করতে পারলে নেক কাজ করা সহজ-সম্ভব হবে, দ্বীনের ছহিহ সমঝ পয়দা হবে এবং হক্ব-নাহক্বের পার্থক্য করার যোগ্যতা হাছিল হবে।

হাত-পা, চেহারা খোলার মাধ্যমে অবশ্যই সৌন্দর্য প্রকাশ পায়!

মহান আল্লাহ পাক তিনি সূরা আহযাব শরীফ উনার ৫৯নং আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,
ياَ اَيُّهَا النَّبِىُّ قُلْ لِّاَزْوَاجِكَ وَ بَنَاتِكَ وَ نِسَاءِ الْمُؤْمِنِيْنَ يُدْنِيْنَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيْبِهِنَّ ذَلِكَ اَدْنى اَنْ يُعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ وَكَانَ اللهُ غَفُوْرًا رَحِيْمًا
অর্থ মুবারক: “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি আপনার মহাসম্মানিত আযওয়াজুম মুতহ্হারাহ অর্থাৎ হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, মহাসম্মানিত বানাত আলাইহিন্নাস সালাম এবং মু’মীন উনাদের আহলিয়া উনাদেরকে বলুন, উনারা যেন উনাদের চাদরের কিয়দাংশ নিজেদের মুখমন্ডলের উপর ঝুলিয়ে রাখে। এতে উনাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে উনাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। মহান আল্লাহ পাক তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”
এই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি কিভাবে স্বাধীনা মহিলাদের চেনা যাবে সেই বিষয়টি বলে দিয়েছেন। স্বাধীনা মহিলাদের পর্দার বিধান হলো, তারা তাদের চাদরের কিয়দাংশ মাথা থেকে বক্ষ পর্যন্ত ঝুলিয়ে দিবে অর্থাৎ আপাদামস্তক ঢেকে রাখবে এমনকি একচুল পরিমাণও খোলা রাখা যাবেনা। ফলে তাদরেকে উত্যক্ত করা হবেনা।
উল্লেখ্য, দাসী-বাদীদের পর্দার বিধান হলো – পুরুষের ন্যায় হাত,পা, চেহারা ব্যতীত সমস্ত শরীর ঢেকে রাখা। মূলত হাত-পা, চেহারা খোলা রাখার দ্বারাই চেনা যাবে, এরা দাসী-বাদী। এখন যারা দাসী-বাদীদের ন্যায় হাত-পা, চেহারা খোলা রাখে এবং সেজেগুজে বের হয় তাদেরকেই উত্যক্ত করা হয়। ফলে ফেতনা-ফাসাদ সৃষ্টি হয়। আর যাদের আপাদামস্তক ঢাকা থাকবে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। তারাই সম্পূর্ণভাবে নিরাপদ,স্বাধীন।
মূলত, মহিলাদের অবস্থানস্থল হচ্ছে ঘর অর্থাৎ তারা ঘরে অবস্থান করবে। যখন বের হওয়ার প্রয়োজন দেখা দিবে তখন কোন প্রকার সৌন্দর্য প্রদর্শন ব্যতীত আপাদামস্তক ঢেকে বের হবে। সৌন্দর্য প্রদর্শন বলতে কি বুঝানো হয়েছে, বিষয়টি ফিকিরের- সৌন্দর্য বলতে একজন মহিলার আপাদামস্তক সবই সৌন্দর্যের অন্তর্ভুক্ত। তবে বিশেষভাবে সেই সৌন্দর্য ফুটে ওঠে হাত-পা, চেহারা খুলে রাখা তথা দেখানোর মাধ্যমে। কেননা একটি মেয়েকে পছন্দ করতে হলে তার হাত-পা, চেহারা দেখে পছন্দ করা হয়। বিষয়টি যদি এরূপই হয়ে থাকে তাহলে কিভাবে হাত-পা, চেহারা খুলে রাখা জায়েয হতে পারে? মূলত- যারা হাত-পা, চেহারা খুলে রাখা জায়েয বলে তারা কি আদৌ তাদের কথার প্রেক্ষিতে কুরআন শরীফ থেকে একটি আয়াত শরীফ অথবা হাদীছ শরীফ থেকে একটি হাদীছ শরীফ পেশ করতে পারবে?
কেননা, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
هَاتُوْا بُرْهَانَكُمْ اِنْ كُنْتُمْ صَادِقِيْنَ .
অর্থ মুবারক: “যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক, তাহলে দলিল পেশ কর।” (সূরা বাক্বারা শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ – ১১১)
কাজেই যারা হাত-পা, চেহারা খোলা রাখা জায়েয ফতোয়া দিচ্ছে, তারা মূলত মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরই বিরোধীতা করছে। আর যারা মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের বিরোধীতা করবে তাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
مَنْ يَعْصِ اللهَ وَ رَسُوْلَهُ وَ يَتَعدَّ حُدُوْدَةُ يُدْخِلْهُ نَارًا خَالِدًا فِيْهَا وَ لَهُ عَذَابٌ مُهِيْنٌ .
অর্থ: যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের নাফরমানী করবে এবং মহান আল্লাহ পাক উনার নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করবে, তাকে তিনি জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন। সে সেখানে চিরকাল থাকবে এবং তার জন্য রয়েছে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি। (সূরা নিসা শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ- ১৪)
উপরোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, যারা এই ধরণের গোমরাহীমূলক ফতোয়া দিবে এবং যারা এ ফতোয়ার অনুসরণ করবে তারা মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের নির্দেশিত বিধান লঙ্ঘন করার কারণে চির জাহান্নামী হবে।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে