সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক


সম্মানিত পরিচিতি মুবারক:
সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সিব্ত্বতুন (নাতনী) আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ! তিনি হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহাসম্মানিত বানাত উম্মু আবীহা, আন নূরুর রবি‘য়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিতা বানাত (মেয়ে) আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ! উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক হচ্ছেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ! তিনি হচ্ছেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে বিশেষ ব্যক্তিত্বা মুবারক। সুবহানাল্লাহ! তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং উনার হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারিণী হচ্ছেন তিনি। সুবহানাল্লাহ! উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মুহব্বত মুবারকই হচ্ছেন সম্মানিত ঈমান। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আম্মাজান আলাইহাস সালাম:
সিব্ত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আম্মাজান হচ্ছেন উম্মু আবীহা, আন নূরুর রবি‘য়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! উনার শান মুবারক-এ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,
عَن حَضْرَتْ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّمَا حَضْرَتْ فَاطِمَةُ عَلَيْهَا السَّلَامُ بِضْعَةٌ مِنّـِىْ يُؤْذِينِىْ مَا اٰذَاهَا
অর্থ: হযরত মিসওয়ার ইবনে মাখরামা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিঃসন্দেহে সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি ‘আলাল আলামীন, উম্মু আবীহা আন নূরুর রবি‘য়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন, আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক অর্থাৎ পবিত্র নূরুল মুজাসসাম (জিস্ম) মুবারক উনার সম্মানিত নূর মুবারক অর্থাৎ পবিত্র নূর মুবারক উনার একখানা সম্মানিত টুকরো মুবারক। সুবহানাল্লাহ! উনাকে যে সকল বিষয়গুলো কষ্ট দেয়, সেগুলো আমাকেও কষ্ট দেয়। নাঊযুবিল্লাহ! (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মুসনাদে আহমদ শরীফ)
অন্য বর্ণনায় এসেছেন,
مَنْ اَحَبَّهَا فَقَدْ اَحَبَّنِىْ وَمَنْ اَبْغَضَهَا فَقَدْ اَبْغَضَنِىْ
অর্থ: যে ব্যক্তি উনাকে মুহব্বত করলেন, তিনি মূলত আমাকেই মুহব্বত করলেন। সুবহানাল্লাহ! আর যে ব্যক্তি উনাকে অসন্তুষ্ট করলো, সে মূলত আমাকেই অসন্তুষ্ট করলো। নাঊযুবিল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আব্বাজান আলাইহিস সালাম:
সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আব্বাজান আলাইহিস সালাম হচ্ছেন ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ! তিনি হচ্ছেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র প্রথম ইমাম তথা ইমামুল আউওয়াল মিন আহিল বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং হযরত খুলাফায়ে রাশেদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে বিশেষ ব্যক্তিত্ব মুবারক। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ:
কিতাবে বর্ণিত রয়েছেন,
إنها ولدت في حياة النبي صلى الله عليه وسلم
অর্থ: সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিমাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়ার যমীনে যাহিরীভাবে অবস্থান মুবারক করা অবস্থায় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! (আল ইছাবাহ্ ৮/১৬৬)
ছাহিবু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ছাহিবে নেয়ামত, আল ওয়াসীলাতু ইলাল্লাহ, আল ওয়াসীলাতু ইলা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমদ, আস সাফফাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত সুলত্বানুন নাছীর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব বিনতে যুন নূর হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহাস সালাম তিনি ৫ম হিজরী শরীফ উনার পবিত্র ৫ই জুমাদাল ঊলা শরীফ ইয়াওমুল জুমুয়াহ্ শরীফ (জুমু‘আহ্বার) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আক্বীক্বা মুবারক দেয়া এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক রাখা:
সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব বিনতে যুন নূর হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের ৭ম দিনে উনার পক্ষ থেকে সম্মানিত আক্বীক্বা মুবারক দেয়া হয় এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক রাখা হয় ‘সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব আলাইহাস সালাম’। সুবহানাল্লাহ!
কিতাবে বর্ণিত রয়েছেন,
لمّا ولدت عَلَيْهَا السَّلَامُ جاءت بها أمّها حضرت الزهراء عَلَيْهَا السَّلَامُ إلى أمير المؤمنين عَلَيْهِ السَّلَامُ وقالت له سم هذه المولودة فقال ما كنت لأسبق رسول الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وكان في سفر له ولمّا جاء النبي صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سأله أمير المؤمنين عَلَيْهِ السَّلَامُ ان یسمیها فقال ما كنت لأسبق ربّي تعالى فهبط حضرت جبرائيل عَلَيْهِ السَّلَامُ يقرأ على النبي صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ السلام من الله الجليل وقال له سم هذه المولودة حضرت زينب عَلَيْهَا السَّلَامُ فقد اختار الله لها هذا الاسم
অথ: যখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিমাস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন, তখন উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আম্মাজান আন নূরুর রবি‘য়াহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি উনাকে সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার নিকট নিয়ে এসে বলেন- এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় সন্তান আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক রাখুন। তখন সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, আমি কখনোই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে অগ্রবর্তী হবো না। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত সফর মুবারক-এ ছিলেন। যখন তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তাশরীফ মুবারক নিলেন, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি আরজী পেশ করলেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত যায়নাব বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিমাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক রাখার জন্য। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার থেকে অগ্রবর্তী হবো না। তখন হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি নাযিল হয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক-এ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সালাম মুবারক পেশ করে বলেন, দয়া করে আপনি এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় সন্তান উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক রাখুন ‘সাইয়্যিদাতুনা হযরত যায়নাব আলাইহাস সালাম’। সুবহানাল্লাহ! কেননা, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার জন্য এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ইসিম বা নাম মুবারক পছন্দ করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
অপর বর্ণনায় রয়েছেন,
وسماها النبي محمد صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ باسم حضرت زينب عَلَيْهَا السَّلَامُ على اسم ابنته عَلَيْهَا السَّلَامُ
অথ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত যায়নাব বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিমাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক রাখেন আন নূরুল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত খইরু ওয়া আফযালু বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক অনুযায়ী। সুবাহানাল্লাহ! (বালাগাতুন নিসা ১/৪৬)
কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছেন,
لمّا ولدت حضرت زينب عَلَيْهَا السَّلَامُ أخذها جدّها المصطفى صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فقبلها ثم أمر بإكرامها ورعايتها لشبهها بجدتها ام المؤمنين الاولى سيدتنا حضرت كبرى عليها السلام (سيدتنا حضرت خديجة عَلَيْهَا السَّلَامُ)
অথ: যখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত যায়নাব বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিমাস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করলেন, তখন উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নানাজান নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল আয্হার মুবারক-এ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কোল মুবারক-এ) নিয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বুছা মুবারক দেন। অতঃপর সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিমাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নানীজান সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সাথে উনার সদৃশ্যতার কারণে উনাকে সম্মান করার জন্য এবং উনাকে (আদর) যতœ মুবারক করার জন্য সম্মানিত নির্দেশ মুবারক দেন। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুনিয়াত মুবারক:
সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ‘আক্বীলাতু বানী হাশিম, উম্মুল মাছাইব, নায়িবাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুনিয়াত মুবারক হচ্ছেন- ‘সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল হাসান আলাইহাস সালাম এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম আলাইহাস সালাম’। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লক্বব মুবারক:
মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,
وَ لِلّٰهِ الْاَسْـمَاءُ الْـحُسْنٰـى فَادْعُوْهُ بِـهَا
অর্থ: মহান আল্লাহ পাক উনার অনেক সুন্দর সুন্দর সম্মানিত নাম মুবারক তথা লক্বব মুবারক রয়েছে, তোমরা উনাকে সেই সম্মানিত নাম মুবারক তথা লক্বব মুবারক দ্বারা আহ্বান করো। সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত সূরা আ’রাফ শরীফ: সম্মানিত আয়াত শরীফ ১৮০)
মহান আল্লাহ পাক তিনি যেমন অসীম ঠিক তেমনিভাবে উনার সম্মানিত লক্বব মুবারক উনার সংখ্যাও অসীম। সুবহানাল্লাহ! অনুরূপভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত লক্বব মুবারক উনাদের সংখ্যাও অসংখ্য। এক কথায় তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন; এছাড়া সমস্ত লক্বব মুবারক উনার অধিকারী। সুবহানাল্লাহ! ঠিক একইভাবে নায়িবাতুয্ যাহরা আলাইহাস সালাম, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহাস সালাম তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া যত সম্মানিত লক্বব মুবারক রয়েছে সমস্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লক্বব মুবারক উনাদের অধিকারী হচ্ছেন তিনি। সুবহানাল্লাহ!
এখানে উনার কতিপয় সম্মানিত বরকতময় লক্বব মুবারক উল্লেখ করা হলো- সিব্ত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মালিকাতুল জান্নাহ, মালিকাতুল কায়িনাত, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি ‘আলাল ‘আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, আল ‘আক্বীলাহ্, আল গ¦রীবাহ্, আত্ব ত্বাহিরাহ্, আস সাইয়্যিদাহ, আল হাওরা’, ‘আক্বীলাতু বানী হাশিম, ‘আলিমাতু গইরুল মু‘আল্লামাহ্, ‘আল আরিফাহ্, আল ফাদ্বিলাহ্, আল কামিলাহ্, আল মা’ছূমাহ্, আমীনাতুল্লাহ্, নায়িবাতুয যাহ্রা আলাইহাস সালাম, নায়িবাতুল হুসাইন আলাইহাস সালাম, শারীকাতুশ শুহাদা, শারীকাতুল হুসাইন আলাইহাস সালাম, উম্মুল মাছাইব, আল বালীগ¦াহ্, আল ফাছীহাহ্, বুত্বলাতু কারবালা এছাড়া আরো অসংখ্য-অগণিত। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শৈশবকাল মুবারক:
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শৈশবকাল মুবারক নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম, সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের বেমেছাল আদর-যতœ ও মুহব্বত মুবারক-এ অতিবাহিত হন। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে উনার বোন আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহাস সালাম উনার ছিলো বেমেছাল মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবত মুবারক। ভবিষ্যতে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে কারবালার প্রান্তে যে ঘটনা ঘটবে সেই কঠিন সময়ের সাথী হতেই মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদের মধ্যে এই সম্পর্ক মুবারক তৈরি করে দিয়েছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
কিতাবে বর্ণিত হয়েছেন, যখন আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহাস সালাম তিনি শিশু অবস্থায় ক্রন্দন করতেন, তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কোল মুবারক-এ দেয়া হলেই তিনি শান্ত হয়ে যেতেন। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সান্নিধ্যেই যেন তিনি সবচেয়ে বেশি প্রশান্তি লাভ করতেন। সুবহানাল্লাহ! আর একারণেই যখন পরিণত বয়স মুবারক-এ আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে ‘আযীম শরীফ উনার সম্মানিত প্রস্তাব মুবারক আসতে থাকে, তখন তিনি এ শর্তে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে ‘আযীম শরীফ-এ রাজি হন যে, প্রতিদিন উনাকে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে দেখা করতে যেতে দিতে হবে এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেখানেই সফর করবেন উনাকেও সেই সফরে উনার সাথে যেতে দিতে হবে। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুনা হযরত জা’ফর ইবনে আবূ ত্বালিব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত আবদুল্লাহ ইবনে জা’ফর আলাইহিস সালাম তিনি এ শর্তে রাজি হলে উনাদের মধ্যে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হন। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর প্রতিদিন তিনি সকাল-বিকাল মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ভাই আলাইহিস সালাম উনার সাথে দেখা করতে আসতেন। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নানাজান ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ:
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নানাজান নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১১ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ (মহাসম্মনিত ও মহাপবিত্র ১২ই রবী‘উল আউওয়াল শরীফ) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ইছনাইনিল আযীম শরীফ বা সোমবার) চাশতের ওয়াক্ত শেষ হয়ে যুহরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পূর্বে সকাল ১১:৩০-১২:০০ টার মধ্যে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দীদার মুবারক-এ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তাশরীফ মুবারক নেন। সুবহানাল্লাহ! তখন আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহাস সালাম উনার দুনিয়াবী দৃষ্টিতে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বয়স মুবারক ছিলেন ৫ বছর ১০ মাস ৭ দিন। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ:
বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা আন নূরুর রবি‘য়াহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১১ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ৩রা রমাদ্বান শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ইছনাইনিল আযীম শরীফ বা সোমবার) বা’দ আছর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দীদার মুবারক-এ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তাশরীফ মুবারক নেন। সুবহানাল্লাহ! তখন দুনিয়াবী দৃষ্টিতে আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বয়স মুবারক ছিলেন ৬ বছর ৩ মাস ২৮ দিন। সুবহানাল্লাহ!

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]