সাইয়্যিদাতুন নিসা, মুতহ্হারাহ্, মুতহ্হিরাহ্, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মহামূল্যবান নছীহত মুবারক


হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা অন্য কারো মতো নন, উনারা বেমেছাল শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত মুবারক উনার অধিকারিণী

সাইয়্যিদাতুন নিসা, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, মুতহ্হারাহ্, মুতহ্হিরাহ্, উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার সূরা মারইয়াম শরীফ উনার ৩৬নং আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,
لَيْسَ الذَّكَرُ كَالْاُنْثىَ
অর্থ মুবারক: “তিনি এমন একজন সম্মানিতা মহিলা উনার সমকক্ষ কোন পুরুষও নেই।”
এই আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত উম্মু রূহিল্লাহ আলাইহাস সালাম উনার সম্পর্কে বলেছেন, উনার যুগে কোন পুরুষও উনার সমকক্ষ ছিল না।
আর হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সম্পর্কে সূরা আহযাব শরীফ উনার ৩২নং আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ مِّنَ النِّسَاءِ .
অর্থ মুবারক: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিতা নিসা আলাইহিন্নাস সালাম অর্থাৎ হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম আপনারা অন্য কোন মহিলাদের মত নন।”
এই আয়াত শরীফ উনার মাধ্যমে যে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে, হযরত উম্মু রূহিল্লাহ আলাইহাস সালাম তিনিসহ কোন মহিলাই উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সমকক্ষ নন। মূলত: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেমন কারো মত নন, তদ্রুপ হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারাও কারো মত নন। কারণ মহান আল্লাহ পাক তিনি কালামুল্লাহ শরীফ উনার সূরা নূর শরীফ উনার ২৬নং আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,
وَالطَّيِّبَاتُ لِلطَّيِّبِيْنَ وَالطَّيِّبُوْنَ لِلطَّيِّبَاتِ .
অর্থ মুবারক: “পবিত্র পুরুষ উনাদের জন্য পবিত্র মহিলা এবং পবিত্র মহিলা উনাদের জন্য পবিত্র পুরুষ।”
এই আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার নছীহত মুবারক থেকে আমরা যা বুঝতে পেরেছি- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেমন মুত্বহ্হার, মুত্বহহির তদ্রুপ হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে মহান আল্লাহ পাক তিনি মুত্বহ্হারাহ, মুত্বহহিরাহ করে সৃষ্টি মুবারক করেছেন। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি কালামুল্লাহ শরীফ উনার সূরা আহযাব শরীফ উনার ৩৩নং আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,
اِنَّمَا يُرِيْدُ اللهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ اَهْلَ الْبَيْتِ وَ يُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيْرًا
অর্থ মুবারক: “মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম! মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাদের থেকে সমস্ত প্রকার অপবিত্রতা দূর করে পবিত্র করার মত পবিত্র করেই সৃষ্টি মুবারক করেছেন।”
মূলত: হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযুর্গী-সম্মান মুবারক বর্ণনা করা এবং ধারণ করা উম্মাহর আক্বল সমঝের উর্দ্ধে। হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা যে সর্বদিক দিয়ে, সর্ববিষয়ে বেমেছাল শান-মান মুবারক উনার অধিকারী তা অনুধাবনের জন্য সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার ফযীলত মুবারক এবং একটি ঘটনা মুবারক তুলে ধরা হলো Ñ হযরত ফারুকে আযম আলাইহিস সালাম উনার ফযীলত মুবারক , মর্যাদা মুবারক সম্পর্কে হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বলা হয়েছে- হযরত নূহ আলাইহিস সালাম তিনি সাড়ে ৯০০ বছর দুনিয়ার যমীনে অবস্থান মুবারক করেছিলেন। এই সাড়ে ৯০০ বছর যদি হযরত ফারুকে আযম আলাইহিস সালাম উনার ফযীলত মুবারক বর্ণনা করা হয় তবুও শেষ করা যাবে না। (সুবহানা উম্মিল উমাম আলাইহাস সালাম)
সেই হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি একটি বিষয় চিন্তা করে প্রায়ই কান্না-কাটি করতেন যে, উনার সারা জিন্দেগীর আমলের চেয়ে যদি তিনি সেই ছওর গুহায় তিন দিন ও তিন রাত অবস্থান মুবারক করতে পারতেন, তাহলে উনার জন্য কতইনা উত্তম হতো! যেই তিন দিন, তিন রাত হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি ছওর গুহায় অবস্থান মুবারক করেছেন এবং গোলামীর আঞ্জাম মুবারক দিয়েছেন।
যে সম্পর্কে মহাসম্মানিত ও মহপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ اُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةِ سَيِّدَتِنَا اَلصِّدِّيْقَةِ عَلَيْهَا السَّلاَمُ (سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ عَائِشَةَ عَلَيْهَا السّلَامُ ) قَالَتْ بَيْنَا رَأْسُ رَسُوْلِ اللهِ صَلىَّ اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِىْ حَجْرِىْ فِىْ لَيْلَةٍ ضَاحِيَةٍ اِذْ قُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلىَّ اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ هَلْ يَكُوْنُ لِاَحَدٍ مِّنَ الْحَسَنَاتِ عَدَدُ نُجُوْمِ السَّمَاءِ قَالَ نَعَمْ حَضْرَتْ عُمَرُ عَلَيْهِ السَّلَامُ قُلْتُ فَاَيْنَ حَسَنَاتِ حَضْرَتْ اَبِىْ بَكْرٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ اِنَّمَا جَمِيْعُ حَسَنَاتِ حَضْرَتْ عُمَرَ عَلَيْهِ السَّلَامُ كَحَسَنَةٍ وَّاحِدَةٍ مِّنْ حَسَنَاتِ حَضْرَتْ اَبِىْ بَكْرٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ
অর্থ মুবারক: “হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক জো¯œার রাতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমার সম্মানিত নুরুল আযহার মুবারকে (কোল মুবারক) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নুরুল হুদা মুবারক (মাথা মুবারক) রেখে শুয়েছিলেন। আমি বললাম, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! কারো কি আকাশের তারকার সমপরিমাণ নেকী মুবারক রয়েছেন? তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, হ্যাঁ, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার আকাশের তারকার সমপরিমাণ নেকী মুবারক রয়েছেন। তখন আমি বললাম, তাহলে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত নেকী মুবারক উনার পরিমাণ কত? জবাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, নিশ্চয়ই সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার জিন্দেগীর সমস্ত নেকী মুবারক হচ্ছেন সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার একখানা সম্মানিত নেকী মুবারক উনার সমান। (মিশকাত শরীফ, রযীন শরীফ)
আর সেই সম্মানিত নেকী মুবারক হচ্ছেন:- সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত হিজরত মুবারক উনার সময় সম্মানিত ছওর গুহা মুবারক এ তিনদিন-তিনরাত্রি মুবারক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত গোলামীতে আনজাম মুবারক দিয়ে যে নেকী মুবারক অর্জন করেছিলেন, তা সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার জিন্দেগীর সমস্ত নেকী মুবারক উনার সমান। সুবহানাল্লাহ! আর বাকী জিন্দেগীর আমল তো রয়েই গেছে যা বলার অপেক্ষা রাখেনা।
সাইয়্যিদাতুন নিসা, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, মুতহ্হারাহ্, মুতহ্হিরাহ্, উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি এই বিষয়টির যে ব্যাখ্যা মুবারক করেছেন তা থেকে আমরা যা বুঝতে পেরেছি , হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি যে ছওর গুহায় তিনদিন-তিনরাত গোলামী মুবারক উনার আঞ্জাম মুবারক দিয়েছেন সেটা যদি এত ফযীলতপূর্ণ হয়, তবে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা উনাদের সমস্ত হায়াতি জিন্দেগী মুবারকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যে খিদমত মুবারক উনার আঞ্জাম মুবারক দিয়েছেন, উনাকে যে ইতমিনান বা রাহাত মুবারক দিয়েছেন, তাহলে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের ফযীলত-সম্মান মুবারক কতখানি সেটা বলার অপেক্ষাই রাখে না। এমনকি জ্বিন-ইনসান কায়িনাতবাসীর এই বিষয়টি আক্বল সমঝেরও ঊর্ধ্বে। (সুবহানা উম্মিল উমাম আলাইহাস সালাম)।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা উম্মুল মু’মিনীন আছ-ছালিছা আলাইহাস সালাম উনাকে উদ্দেশ্য করে বলতেন,
اَرِحْنِىْ اَرِحْنِىْ
“আমাকে (শান্তি দান) ইতমিনান করুন, আমাকে (শান্তি দান) ইতমিনান করুন।”
সাইয়্যিদাতুন নিসা, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, মুতহ্হারাহ্, মুতহ্হিরাহ্, উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি এই মহাসম্মানিত اَرِحْنِىশব্দ মুবারক উনার যে ব্যাখ্যা মুবারক করেছেন তা থেকে আমরা যা বুঝতে পেরেছি, যদিও হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনাকে উদ্দেশ্য করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এই হাদীছ মুবারক বলতেন কিন্তু খাছ করে তিনিসহ সকল উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সকলের ক্ষেত্রেই এই হাদীছ মুবারক প্রযোজ্য।
মূলত: কুল কায়িনাতের সমস্ত কিছুই সৃষ্টি মুবারক করা হয়েছে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার গোলামীতে আঞ্জাম মুবারক দেয়ার জন্য। এছাড়া নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত হুজরা শরীফ উনার ভিতরে এবং বাহিরে খিদমত মুবারক সংক্রান্ত যত বিষয় ছিল সমস্ত প্রকার খিদমত মুবারক উনার আঞ্জাম দেয়ার জন্য একজনের পরিবর্তে হয়ত আরেকজন সেই খিদমত মুবারক উনার আঞ্জাম দিতে পারতেন। কিন্তু এই মহাসম্মানিত اَرِحْنِىْ মুবারক তথা “আমাকে ইতমিনান করুন” এই খিদমত মুবারক উনার যে বিষয় যা একমাত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা ব্যতীত অন্য কারো পক্ষে আঞ্জাম দেয়া সম্ভব ছিলনা।
এই মহাসম্মানিত اَرِحْنِىْ খিদমত মুবারক উনার একক ফযীলত মুবারক উনার একমাত্র হক্বদার হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা। (সুবহানা উম্মিল উমাম আলাইহাস সালাম)।
খুবই সুক্ষ¥ এবং ফিকিরের বিষয় হলোঃ- এই মহাসম্মানিত اَرِحْنِىْ শব্দ মুবারক তথা “আমাকে ইতমিনান করুন” নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের উদ্দেশ্যে বলতেন এবং উনারা সেই রাহাত বা ইতমিনান মুবারক উনার আঞ্জাম মুবারক দিতেন। সুবহানাল্লাহ!
এখানে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের এই বেমেছাল শান মুবারক উনার বিষয়টি আমরা কুল-কায়িনাত উনার মাঝে সর্বপ্রথম জানতে পারলাম যিনি সাইয়্যিদাতুন নিসা, মুত্বহ্হারাহ, মুত্বহহিরাহ, সমস্ত সৃষ্টি জগতের হিদায়েতের দিশারী, গোটা মহিলা জাতির শায়েখ বা মুর্শিদ সাইয়্যিদাতুন নিসা, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র ও মহাসম্মানিত জবান মুবারক থেকে। (সুব্হানা উম্মিল উমাম আলাইহাস সালাম)।
মূলত, প্রত্যেকেই তার মাক্বাম মুবারক থেকে কথা বলে থাকেন। আর সাইয়্যিদাতুন নিসা, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, মুতহ্হারাহ্, মুতহ্হিরাহ্, উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মাক্বাম মুবারক থেকেই মহাসম্মানিতা ও মহাপবিত্রা হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সাথে গভীর তাওয়াল্লুক-নিছবত থাকার কারণে সেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শান মুবারক উনার মাক্বাম উপলব্ধি করা সাইয়্যিদাতুন নিসা, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, মুতহ্হারাহ্, মুতহ্হিরাহ্, উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার জন্যই সহজ এবং স্বাভাবিক। (সুব্হানা উম্মিল উমাম আলাইহাস সালাম)।
বলার অপেক্ষা রাখে না যে, আমাদের যিনি মহাসম্মানিতা মহাপবিত্রা প্রাণপ্রিয়া শায়েখ,আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহ্হারাহ, মুত্বহহিরাহ, সাইয়্যিদাতুন নিসা, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার শান-মান মুবারক, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক কত বেমেছাল তা কায়িনাতবাসীর আক্বল-সমঝের ঊর্ধ্বে।
মোদ্দাকথা, মুসলিম উম্মাহ সকলের জন্য ফরয-ওয়াজিব হচ্ছে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সম্পর্কে সঠিক আক্বীদা পোষণ করা। কেননা উনারা প্রত্যেকেই প্রত্যেকের মাক্বাম মুবারকে অনন্যা।
কাজেই, যে বা যারা বিশুদ্ধ আক্বীদা পোষণ করে উনাদের যত বেশি তা’যীম-তাকরীম, সম্মান করবে এবং উনাদের অনুসরণ -অনুকরণ করার কোশেশ করবে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকেও ততখানি মর্যাদা দান করবেন অর্থাৎ সেও মর্যাদাবান হয়ে যাবে। (সুবহানা উম্মিল উমাম আলাইহাস সালাম)

দুনিয়ার মুহব্বত সমস্ত পাপের মূল

সাইয়্যিদাতুন নিসা, মুতহহারাহ্, মুতহিহরাহ্, সাইয়িদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মহামূল্যবান নছীহত মুবারক থেকে যতটুকু উপলব্ধি করা সম্ভব হয়েছে তাই এখানে উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হয়েছে।
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা তওবা শরীফ উনার ১১১নং আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,
إِنَّ اللّٰهَ اشْتَرٰى مِنَ الْمُؤْمِنِيْنَ أَنْفُسَهُمْ وَأَمْوَالَـهُمْ بِأَنَّ لـَهُمُ الْـجَنَّةَ.
অর্থ: “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত জান্নাত উনার বিনিময়ে মু’মিনদের জান এবং মাল ক্রয় করেছেন।”
উপরোক্ত মহাসম্মানিত আয়াত শরীফ উনার দ্বারা মহান আল্লাহ পাক জানিয়েছেন, মু’মীনগণ উনাদের জান-মাল সম্মানিত জান্নাত উনার বিনিময়ে মহান আল্লাহ উনার নিকট বিক্রি হয়ে গিয়েছে অর্থাৎ কোনোটিই মু’মীনগণ উনাদের অধিকারে নেই। তাই মহান আল্লাহ পাক উনার রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের লক্ষ্যে জান দিয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত-বন্দেগী করতে হবে এবং উনার পথেই মাল-সম্পদ খরচ করতে হবে। কিন্তু দেখা যায় মানুষ দুনিয়ার পিছনেই তার জান-মাল ব্যয় করে থাকে।
এ সম্পর্কে মহাসম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
سَيَأْتِىْ عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ يـُحِبُّوْنَ خَمْسًا وَيَنْسَوْنَ خَـمْسًا .يُحِبُّوْنَ الدُّنْيَا وَيَنْسَوْنَ الْآٰخِرَةِ يـُحِبُّوْنَ الْمَالَ وَيَنْسَوْنَ الْحِسَابَ يُـحِبُّوْنَ الْـخَلْقَ وَيَنْسَوْنَ الْـخَالِقَ يُـحِبُّوْنَ الْقُصُوْرَ وَيَنْسَوْنَ الْمَقْبَرَ وَيـُحِبُّوْنَ الذُّنُوْبَ وَيَنْسَوْنَ التَّوْبَةَ.
অর্থ: নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “অচিরেই মানুষের কাছে এমন এক সময় আসবে, তারা পাঁচটি বিষয়কে মুহাব্বত করবে এবং পাঁচটি বিষয়কে ভুলে যাবে। ১. দুনিয়াকে মুহাব্বত করবে এবং পরকালকে ভুলে যাবে ২. মাল-সম্পদকে মুহাব্বত করবে এবং হিসাব ভুলে যাবে ৩. সৃষ্টিকে মুহাব্বত করবে এবং ¯্রষ্টার কথা ভুলে যাবে ৪. অট্টালিকাকে মুহাব্বত করবে এবং কবরকে ভুলে যাবে ৫. গুনাহকে মুহাব্বত করবে এবং তওবাকে ভুলে যাবে।” দলীল
মহাসম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার প্রতিটি বিষয়ই এই আখিরী যামানায় মানুষের মাঝে পরিলক্ষিত হচ্ছে। নি¤েœ বিষয় গুলো আলোকপাত করা হল:
বর্তমানে মানুষ পরকালে আমলের হিসাবের কথা ভুলে গিয়ে অধিক পরিমাণে দুনিয়ার মোহে মোহগ্রস্ত হয়ে মাল-সম্পদ জমা করে। যার ফলে মহান আল্লাহ পাক উনার পথে খরচ করতে পারেনা। কিন্তু বান্দার উচিত পরকালের কথা স্মরণ করে নিজের জন্যই মহান আল্লাহ পাক উনার পথে খরচ করা।
অপরদিকে সৃষ্টিকে মুহাব্বত করার কারণেই মানুষ ¯্রষ্টাকে ভুলে যায় অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনাকে সন্তুষ্ট করার কথা ভুলে গিয়ে আতœীয়-স্বজন, পিতা-মাতা, স্বামী-সন্তান, সমাজ ও সরকারকে সন্তুষ্ট করে এবং তাদেরকেই প্রাধান্য দেয়। ফলে তার কাছে মহান আল্লাহ পাক উনার হুকুম-আহকামের গুরুত্ব থাকে না।
অথচ মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে অবারিত ধারায় যে নিয়ামত মুবারক দিয়ে যাচ্ছেন তার শুকরিয়া আদায় করে না এবং উনার সন্তুষ্টি মুবারক হাসিলের কোশেশ করে না। এর ফলে পরকালে তাদের জন্য জাহান্নাম থেকে বাঁচা সম্ভব হবে না।
আরো উল্লেখ্য যে, মানুষ অট্টালিকাকে মুহাব্বত করে কিন্তু কবরকে ভুলে যায়। যার কারণে পরকালের জন্য কোনো নেক আমল করতে পারে না। সর্বক্ষেত্রেই সে তার নিজের মতকেই প্রাধান্য দেয়।
অপরদিকে মানুষ তওবাকে ভুলে গিয়ে গুনাহকে মুহাব্বত করে। যেমন ছবি তোলা, বেপর্দা হওয়া, কাফেরদেরকে মুহাব্বত করা, তাদের অনুসরণ করা ও তাদেরকে সম্মান করা এবং অশ্লীল কাজ করা ইত্যাদি হারাম-নাজায়িয হওয়া সত্ত্বেও মানুষ এ সমস্ত কাজে মশগুল থাকে। ফলশ্রুতিতে তারা তওবাকে ভুলে যায়। অথচ বান্দার উচিত সর্বদা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার কোশেশ করা এবং তওবা-ইস্তেগফারের উপর অবিচল থাকা। কেননা যে ব্যক্তি গুনাহ করার পর তওবা করেনা, তার তওবা নসীব হবে না।
এ জন্য তওবার প্রতি গুরুত্বারোপ করে মহাসম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَجِّلُوْا بِالتَّوْبَةِ قَبْلَ الْمَوْتِ عَجِّلُوْا بِاِسْتِعْدَادِ الْمَوْتِ قَبْلَ نُزُوْلِ الْمَلَكِ الْمَوْتِ
অর্থ: “তোমরা মৃত্যুর পূর্বেই তাড়াতাড়ি তওবা কর এবং মালাকুল মউত নাযিল হওয়ার পূর্বেই তোমরা তাড়াতাড়ি মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ কর।”
কাজেই সময়কে গণিমত মনে করে হায়াত থাকতেই তওবা-ইস্তেগফার করে নেক কাজে মশগুল হওয়া উচিত।
গুনাহ করার সাথে সাথে তওবা ইস্তেগফার করতে হবে, তাহলে তওবা কবুল হবে। কিন্তু যে গুনাহ করে তওবা করেনা, তার তওবা নসীব হবে না।
কেননা মহাসম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُوْنَ الْاَوْدِىِّ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِرَجُلٍ وَ هُوَ يَعِظُه اِغْتَنِمْ خَمْسًا قَبْلَ خَـمْسٍ شَبَابَكَ قَبْلَ هَرَامِكَ صِحَّتَكَ قَبْلَ سُقْمِكَ غِنَائَكَ قَبْلَ فَقْرِكَ فَرَاغَكَ قَبْلَ شُغْلِكَ حَيَاتَكَ قَبْلَ مَوْتِكَ.
অর্থ: হযরত আমর ইবনে মাইমুনা আউদিয়্যি রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এক ব্যক্তিকে বললেন এবং তিনি উনাকে নসীহত মুবারক করলেন, পাঁচটি বিষয়কে গনিমত মনে করুন। ১. বৃদ্ধ হওয়ার পূর্বে যৌবনকালকে ২. ব্যস্ততার পূর্বে অবসর সময়কে ৩. অভাবের পূর্বে সচ্ছলতাকে ৪. অসুস্থতার পূর্বে সুস্থতাকে ৫. মৃত্যুর পূর্বে হায়াতকে। (তিরমিযী শরীফ, মিশকাত শরীফ)
মহাসম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ اِبْنِ مَسْعُوْدٍ رَضِىَ اللّٰهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِىِّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا تَزُوْلُ قَدَمَ اِبْنِ اٰدَمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عِنْدَ رَبِّه حَتّٰى يُسْأَلَ عَنْ خَـمِسٍ عَنْ عُمُرِه فِيْمَا أَفْنَاهُ وَ عَنْ شَبَابِه فِيْمَا اَبْلَاه وَ عَنْ مَالِه مِنْ أَيْنَ اكْتَسَبَه وَ فِيْمَا أَنْفَقَه وَعَنْ عِلْمِه مَاذَا عَمِلَ فِيْمَا عَلِمَ.
অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, কিয়ামতের দিন আদম সন্তানকে পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে এক কদমও স্বস্থান হতে নড়তে দেওয়া হবে না। ১. তার হায়াত সম্পর্কে কিভাবে সে তা অতিবাহিত করেছে ২. যৌবনকাল কিভাবে কাটিয়েছে ৩. ধন-সম্পদ কিভাবে উপার্জন করেছে ৪. তা কোন পথে ব্যয় করেছে ৫. এবং ইলম অনুযায়ী কতটুকু আমল করেছে।” (তিরমিযী শরীফ)
উপরোক্ত মহাসম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার দ্বারা বিষয়টি সহজেই অনুমেয়, কিয়ামতের দিন আদম সন্তানকে কিরূপ কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে!
তবে যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করে নছীহত গ্রহণ করবে এবং আমল করবে তার জন্য বিষয়টি সহজ হবে।
এখানে উল্লেখ্য যে, প্রত্যেক মুসলমানকেই লক্ষ্য রাখতে হবে তার হায়াতে জিন্দেগী কিভাবে ব্যয় করছে, মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য নাকি গাইরুল্লাহর জন্য?
এরপর মহান আল্লাহ পাক তিনি যে তাকে যৌবনকালে শক্তি-সামর্থ দিয়েছেন সেই শক্তি-সামর্থ দিয়ে ইবাদত বন্দেগীতে নিজেকে মশগুল রাখছে নাকি কামাই রোজগারের পিছনে ব্যস্ত থাকছে?
ধন-সম্পদ হালাল নাকি হারাম উপায়ে উপার্জন করছে? কেননা, হারাম উপায়ে উপার্জন করলে সেই অর্থ দ্বারা কোন ফায়দা লাভ করা যাবেনা। আর উপার্জিত অর্থ কোন পথে খরচ করছে, দুনিয়ার জন্য নাকি আল্লাহ পাক উনার জন্য? কারণ, দুনিয়ার জন্য ব্যয় করলে সেই ব্যয়কৃত অর্থ পরকালে কোন কাজে আসবে না।
উপরোক্ত বিষয়গুলো ফিকির করে যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুতাবিক আমলে ছলেহ করবেন উনার জন্যই ইহকালীন ও পরকালীন কামিয়াবী থাকবে।
এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি সূরা ত্বলাক শরীফ উনার ১১নং আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,
وَمَنْ يُؤْمِنْ بِاللّٰـهِ وَيَعْمَلْ صَالِـحًا يُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَـجـْرِىْ مِنْ تَـحْتِهَا الْأَنْـهَارُ خَالِدِيْنَ فِيْهَا أَبَدًا ۖ قَدْ أَحْسَنَ اللّٰـهُ لَه رِزْقًا
অর্থ: “যিনি মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি ঈমান আনবেন এবং আমলে ছলেহ করবেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করবেন যার নিচ দিয়ে নহর সমূহ প্রবাহিত হয়। তিনি সেখানে অনন্তকাল অবস্থান করবেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার জন্য উত্তম রিযিক রেখেছেন।”
বলার অপেক্ষা রাখে না যে, আমলে ছলেহ করলে মহান আল্লাহ পাক তিনি পরকালে তো অবশ্যই এমনকি দুনিয়াতেও উত্তম রিযিক দান করবেন। আর আমলে ছলেহ করা তখনই সম্ভব হবে যখন ছদিক্বীন উনাদের ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করত: উনাদের নির্দেশ মুবারক অনুযায়ী যিকির-ফিকির করে ইছলাহ হাছিলের কোশেশ করবে।
মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন আমাদেরকে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাদের সম্মানার্থে গুনাহ থেকে খালিছভাবে তওবা-ইস্তেগফার করে ছদিক্বীন উনাদের সঙ্গী হয়ে যাবতীয় নাজ-নিয়ামত লাভ করে দুনিয়া ও পরকালে কামিয়াবী দান করেন। আমীন!

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে