সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়াহ আশার আলাইহাস সালাম উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক


পরিচিতি মুবারক:
সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়াহ আশার আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত পিতার নাম ছিল হযরত শামউন আলাইহিস সালাম। যিনি ছিলেন মিশরের সম্ভ্রান্ত ক্বিবতি বংশীয় এবং আহলে কিতাবের অনুসারী। উনার সম্মানিতা মাতা রোমান আহলে কিতাব সম্প্রদায়ভূক্ত। তিনি নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত আন নুরুর রবি’ (হযরত ইবরাহিম) আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিতা মাতা। মিসরের শাসনকর্তা মুকাউকিস উনাকে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকে হাদিয়া হিসাবে প্রেরণ করেছিলেন। কোন কোন বর্ণনায় উল্লেখ আছে যে, তিনি মিশরের শাসনকর্তা মুকাউকিসের চাচাতো বোন ছিলেন।

বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ:
সম্মানিত নবুওয়ত মুবারক প্রকাশের ২ বছর পূর্বে, পবিত্র মাহে রবিউল আউয়াল শরীফ উনার ১৩ তারিখ, পবিত্র ইয়াওমুল জুমুয়া শরীফে সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়াহ আশার আলাইহাস সালাম মিশরের “আনছেনা (أنصِنَا)” নামক জেলার অন্তর্গত “হাফন (حَفْن)” নামক গ্রামে সম্ভ্রান্ত বনু কিব্ত বংশে বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন (দৈনিক আল-ইহসান শরীফ, তারাজিমে সাইয়্যিদাতি বায়তিন নবুওয়াহ)।

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে নিসবাতুল আযীম শরীফ:
নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মিশরের শাসনকর্তা মুকাউকিস (ইসকান্দারিয়া ছিল তার রাজধানী)-এর নিকট দ্বীন ইসলাম উনার দাওয়াত দিয়ে বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত হাত্বিব বিন বালতা’য়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মারফত এই মর্মে একখানা পত্র লিখেন-
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
مِنْ مُـحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بْنِ عَبْدِ اللهِ عَلَيْهِ السَّلَامُ إِلَى الْمُقَوْقِسِ، عَظِيْمِ الْقِبْطِ، سَلَامٌ عَلّٰى مَنِ اتَّبَعَ الْـهُدٰى، أَمَّا بَعْدُ، فَإِنّـِىْ أَدْعُوْكَ بِدَعَايَةِ الْإِسْلَامِ، أَسْلِمْ تَسْلِمْ يُؤْتِكَ اللهُ أَجْرَكَ مَرَّتَيْنِ، فَإِنْ تَوَلَّيْتَ فَإِنَّـمَا عَلَيْكَ إِثْمُ الْقِبْطِ، وَ يَا أهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْا إِلٰى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَلَّا نَعْبُدَ إِلَّا اللهَ وَلَانُشْرِكَ بِهٖ شَيْئًا وَّلَا يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًا مِّنْ دُوْنِ اللهِ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَقُوْلُوْا اشْهَدُوْا بِأَنَّا مُسْلِمُوْنَ
অর্থ: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম; হযরত মুহম্মদ (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিন হযরত আবদুল্লাহ (আলাইহিস সালাম) উনার তরফ থেকে ক্বিবতীদের প্রধান আল-মুক্বাউকিসের নিকট- যে ব্যক্তি হিদায়েত অনুসরণ করে তার প্রতি সালাম। অতঃপর, আমি আপনাকে দ্বীন ইসলাম উনার দাওয়াত দিচ্ছি, দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করুন, নিরাপত্তা লাভ করবেন, মহান আল্লাহ পাক আপনাকে দ্বিগুণ ছওয়াব দান করবেন। আর যদি আপনি ফিরে যান, আপনার উপর সকল ক্বিবতীগণের পাপ বর্তাবে। “হে আহলে কিতাবগণ! তোমরা আমাদের এবং তোমাদের মধ্যে একই কলেমার দিকে আস, তা এই যে, আমরা আল্লাহ পাক ব্যতীত কারো ইবাদত করব না এবং উনার সাথে কোন কিছু শরীক করব না এবং আল্লাহ পাক ব্যতীত আমরা একে অপরকে রব হিসাবে গ্রহণ করবো না। যদি তারা ফিরে যায়, তবে বলে দিন, তোমরা সাক্ষী থাক যে, আমরা মুসলমান।”
মুকাউকিস ছিলেন একজন ঈসায়ী ধর্মাবলম্বী আলেম, মিশরে রোম সম্রাটের প্রশাসক রূপে নিয়োজিত। ইসকান্দারিয়া ছিল রাজধানী। মুকাউকিস নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র পত্রখানা যথাযথ সম্মানের সাথে গ্রহণ করেন। অতঃপর তিনি হযরত হাতিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে বলেন-
قَدْ كُنْتُ أَعْلَمُ أَنَّ نَبِيًّا قَدْ بَقِىَ، وَكُنْتُ أَظُنُّ أَنَّهُ يَخْرُجُ بِالشَّامِ، وَهُنَاكَ كَانَ مَـخْرَجُ الْأَنْبِيَاءِ، فَأَرَاهُ قَدْ خَرَجَ مِنْ أَرْضِ الَعَرَبِ ……. وَلٰكِنَّ الْقِبْطَ لَا تَطَاوَعَنِىْ –
অর্থ: আমি জানতাম, একজন নবী আসা বাকী রয়েছেন। আমার ধারণা ছিল, তিনি শাম (সিরিয়া) দেশ থেকে তাশরীফ আনবেন, আর সে স্থান তো আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনাদের তাশরীফ আনার স্থান। এখন দেখছি, তিনি আরব ভূমি থেকে তাশরীফ এনেছেন …….. কিন্তু ক্বিবতীগণ তো আমাকে মানবে না।
অতঃপর মুকাউকিস একজন লিখককে ডেকে এনে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত চিঠি মুবারকের উত্তর লিখেন-
“…..أَمَّا بَعْدُ، فَقَدْ قَرَأْتُ كِتَابَكَ وَفَهِمْتُ مَا ذَكَرْتَ فِيْهِ مِـمَّا تَدْعُوْ إِلَيْهِ، وَقَدْ عَلِمْتُ أَنَّ نَبِيًّا قَدْ بَقِىَ، وَكُنْتُ أَظُنُّ أَنَّهُ يَخْرُجُ بِالشَّامِ…… وَقَدْ أَكْرَمْتُ رَسُوْلَكَ، وَبَعَثْتُ لَكَ بِـجَارِيَتَيْنِ لَـهُمَا مَكَانٌ مِّنَ الْقِبْطِ عَظِيْمٌ، وَكِسْوَةً، وَمَطِيَّةً لِتَرْكَبَهَا، وَالسَّلَامُ عَلَيْكَ” –
অর্থ: আমি আপনার পত্র পাঠ করেছি এবং যা কিছু আপনি বলতে চেয়েছেন তা অনুধাবন করেছি। আমার জানা আছে যে, এখনও একজন নবীর আবির্ভাব অবশিষ্ট রয়েছে এবং তিনি আসবেন। কিন্তু আমার ধারণা ছিল যে, তিনি শাম (সিরিয়া) অঞ্চলে আবির্ভূত হবেন। আমি আপনার কাসেদের (দূত) প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছি। হাদিয়া স্বরূপ আপনার জন্য দু’জন সম্মানিতা মেয়ে প্রেরণ করছি। ইনারা দুই সহোদরা এবং ক্বিবতীগণের মধ্যে অত্যন্ত সম্ভ্রান্ত পরিবারের। এ ছাড়া হাদিয়া হিসাবে আপনার জন্য কিছু কাপড় ও আপনার সওয়ারী হিসাবে ব্যবহারের জন্য একটি বাহন পাঠাচ্ছি, আপনার প্রতি সালাম (তারীখে ত্বাবারী)।
মুকাউকিস উনার পত্রখানা গোপনে হযরত হাত্বিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নিকট প্রদান করে নিজের অপারগতা প্রকাশ করে জানান যে, ক্বিবতীগণ তাদের ধর্ম ত্যাগ করবে না এ বিষয়ে তিনি নিশ্চিত। তদুপরি তিনি হযরত হাত্বিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে অনুরোধ করেন যে, উনাদের মধ্যে যেসব কথা-বার্তা হয়েছে তা যেন গোপন রাখেন, যাতে ক্বিবতীগণ এ বিষয়ে কিছুই জানতে না পারে। সুতরাং এ পত্রের ব্যাপারে তারা কিছুই জানতে পারল না।
মুকাউকিসের প্রদত্ত হাদিয়া সমূহ নিয়ে হযরত হাত্বিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট প্রত্যাবর্তন করেন। হাদিয়া সমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন: সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ-ছানিয়া আশার আলাইহাস সালাম তিনি, উনার বোন হযরত সীরীন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা, একজন গোলাম, এক হাজার মিছক্বাল স্বর্ণ, মিশরীয় সূতায় প্রস্তুত বিশটি মসৃন কাপড়, দুলদুল নামে একটি হৃষ্টপুষ্ট খচ্চর, কিছু মধু, চন্দন কাঠ এবং মিশ্ক। হযরত হাত্বিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যখন হাদিয়াসমূহ নিয়ে পবিত্র মদীনা শরীফে আসেন, তখন হিজরী ৭ম সন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সবেমাত্র হুদায়বিয়ার সন্ধি সমাপ্ত করে পবিত্র মদীনা শরীফে ফিরেছেন। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়া আশার আলাইহাস সালাম তিনি দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করলে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে উনার নিসবাতুল আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হয়। সুবহানাল্লাহ! এই পবিত্র নিসবাতুল আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হয় ৭ম হিজরী সনের পবিত্র ২৪ মাহে ছফর শরীফ, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম। তখন সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়া আশার আলাইহাস সালাম উনার বয়স মুবারক হয়েছিলেন ২০ বছর ১১ মাস ১১ দিন। সুবহানাল্লাহ! (দৈনিক আল-ইহসান শরীফ)
নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক নির্দেশ অনুযায়ী সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়া আশার আলাইহাস সালাম উনার বোন হযরত সীরিন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনাকে কবি হযরত হাস্সান বিন ছাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আন্হু শাদী মুবারক করেন।

ইবনু রসুলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হযরত আন-নূরুর রাবি’ আলাইহিস সালাম উনার বিলাদত শরীফ ও বিছাল শরীফ:
হিজরী ৮ম সনের পবিত্র ২রা জিলহজ্জ শরীফ পবিত্র মদীনা শরীফের উপকন্ঠে আলিয়া নামক স্থানে সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়া আশার আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র রেহেম শরীফে ইবনু রসুল সাইয়্যিদুনা হযরত আন নুরুর রবি’ আলাইহিস সালাম তিনি বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সে সময় সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়া আশার আলাইহাস সালাম উক্ত স্থানেই অবস্থান মুবারক করতেন। (সীরাতুন্নবী লি ইবনে কাছীর)
ইবনু রসুল সাইয়্যিদুনা হযরত আন নুরুর রবি’ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত ছুরত মুবারক ছিলেন হুবহু নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ন্যায়। সুবহানাল্লাহ! বর্ণিত আছে যে, তিনি যখন উনার সম্মানিতা আম্মাজান উনার পবিত্র রেহেম শরীফে ছিলেন, তখন হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খেদমত মুবারকে এসে বললেন: হে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত পিতা! আপনার উপর সালাম। খালিক, মালিক, রব, মহান আল্লাহ পাক আপনাকে সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়া আশার আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র রেহেম শরীফে একজন সম্মানিত আওলাদ দান করেছেন। তিনি আপনাকে উনার পবিত্র নাম মুবারক জলীলুল ক্বদর নবী, সাইয়্যিদুনা হযরত খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার নাম মুবারক উনার সাথে মিল রেখে “ইবরাহীম” রাখতে নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন। খালিক, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এতে আপনাকে বরকত দিন এবং দুনিয়া ও আখিরাতে এই আওলাদ আপনার চক্ষু মুবারক শীতলকারী হোন। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত আন নুরুর রাবি’ আলাইহিস সালাম উনার বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ হওয়ার সময় নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ফুফু হযরত ছফিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তাযালা আনহা উনার খাদিমা এবং হযরত আবু রাফি’ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার আহলিয়া হযরত উম্মে সালমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা ধাত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। হযরত আবু রাফি’ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সাইয়্যিদুনা হযরত আন নুরুর রবি’ আলাইহিস সালাম উনার বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের সুসংবাদ প্রদান করেন, তখন তিনি খুশী হয়ে হযরত আবু রাফি’ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে একজন গোলাম হাদিয়া দেন। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত আন নুরুর রাবি’ আলাইহিস সালাম উনার বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশিত হওয়ার ৭ম দিনে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র আক্বীকা মুবারক স¤পন্ন করেন। উনার পবিত্র ছের মুবারক মুন্ডন করে পবিত্র চুল মুবারক উনার ওজন পরিমাণ রৌপ্য ছদকা করেন এবং উনার নাম মুবারক রাখেন সাইয়্যিদুনা ইবরাহীম আলাইহিস সালাম। উনাকে মুবারক দুধ পান করানোর জন্য অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত উম্মে সায়ফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনাকে এই সুমহান কাজের সুযোগ প্রদান করেন। বিনিময়ে তিনি উনাকে ফলবান খেজুর গাছ প্রদান করেন। সুবহানাল্লাহ!
হযরত উম্মে সায়ফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার জওয মুকাররম উনার নাম ছিলেন হযরত বারা’ ইবনে আওস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। যিনি পবিত্র মদীনা শরীফের উপকন্ঠে বসবাস করতেন এবং পেশায় একজন কর্মকার ছিলেন। ফলে উনার গৃহ সর্বদা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকত। এতদসত্বেও নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রায়ই উনার বাড়ীতে উপস্থিত হতেন, সাইয়্যিদুনা হযরত আন নুরুর রবি’ আলাইহিস সালাম উনাকে কোলে নিতেন এবং আদর ও চুম্বন করতেন। এভাবে কিছুক্ষণ অবস্থান করে তিনি পবিত্র মদীনা শরীফে আবার প্রত্যাবর্তন করতেন।
হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন: আমি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ন্যায় এরূপ স্নেহশীল কোন পিতা দেখিনি। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে নিয়ে প্রায়ই সেখানে যেতেন এবং সাইয়্যিদুনা হযরত আন নুরুর রবি’ আলাইহিস সালাম উনাকে আদর সোহাগ করতেন। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত আন নুরুর রবি’ আলাইহিস সালাম যখন ১৫ মাস বয়সে উপনীত হন, তখন হযরত উম্মে সায়ফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার গৃহে থাকাকালেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। যখন অসুস্থতার মাত্রা বেড়ে গিয়ে তিনি মূমূর্ষ অবস্থায় উপনীত হলেন, তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে খবর দেন। খবর পেয়ে তিনি সেখানে উপস্থিত হন। তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত আন নুরুর রবি আলাইহিস সালাম উনাকে উনার পবিত্র কোল মুবারকে তুলে নেন। এ সময় সাইয়্যিদুনা হযরত আন নুরুর রবি’ আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বক্ষ মুবারক উনার উপর ছটফট করছিলেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র চক্ষু মুবারক থেকে পবিত্র নুরুল মুহব্বত ঝরতে লাগলেন। এমতাবস্থায় সাইয়্যিদুনা হযরত নুরুর রবি’ আলাইহিস সালাম উনার বিছালী শান মুবারক প্রকাশ হয়ে যায়। এ সময় হযরত আবদুর রহমান ইবনে আওফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন: ইয়া রসুলাল্লাহ! আপনিও কাঁদছেন? উত্তরে তিনি বললেন: ইবনে আওফ! ইহা হচ্ছে পবিত্র মুহব্বত! খালিক, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইহা মানুষের অন্তরে গ্রোথিত করে দিয়েছেন।
হযরত আমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন যে, সাইয়্যিদুনা হযরত নুরুর রবি’ আলাইহিস সালাম যখন বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন: সাইয়্যিদুনা ইবারাহীম আলাইহিস সালাম তিনি আমার সম্মানিত আওলাদ। আমারই বক্ষদেশে উনার বিছালী শান মুবারক প্রকাশিত হয়েছে। উনার জন্য বেহেশতে দু’জন দুগ্ধদানকারিণী রয়েছে। বেহেশতে বসে উনারা আমার এ সম্মানিত আওলাদ উনার দুগ্ধ পানের মেয়াদ পূর্ণ করবেন। সুবহানাল্লাহ!
হযরত আসমা বিনতে ইয়াযিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা হতে বর্ণিত আছে যে, যখন সাইয়্যিদুনা হযরত আন নুরুর রবি’ আলাইহিস সালাম তিনি বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র চক্ষু মুবারক থেকে নুরুল মুহব্বত ঝরছিলেন। আফযালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম এবং হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাকে বললেন: খালিক, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক উনার হক্ব সম্পর্কে আপনিই সর্বাধিক অবগত। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: চক্ষু অশ্রু-সিক্ত হয়, হƒদয় বেদনাহত হয়।
ছোট একটি তক্তপোষের উপর উনার পবিত্র জিসিম মুবারক রাখা হয়েছিলেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বয়ং উনার জানাযার নামায পড়ান এবং জান্নাতুল বাক্বীতে উনাকে দাফন মুবারক করেন। জান্নাতুল বাক্বীতে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম এবং হযরত বানাতি রসুলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের পবিত্র রওজা শরীফ উনার পাশাপাশি সাইয়্যিদুনা হযরত আন নুরুর রবি’ আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র মাযার শরীফ এখনও সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত রয়েছে। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত আন নুরুর রাবি’ আলাইহিস সালাম ৮ম হিজরী সনের ২রা জিলহ্জ শরীফ তিনি বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। ১০ম হিজরী সনের ১০ই রবিউল আউয়াল শরীফ তিনি বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুতরাং দুনিয়ার যমীনে তিনি অবস্থান মুবারক করেন ১৫ মাস ৮ দিন। সুবহানাল্লাহ!
হযরত ইবনে আসাকির রহমতুল্লাহি আলাইহি স্বীয় সনদে হযরত জাবির ইবনে আবদিল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণনা করেন যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন: হযরত আন নুরুর রবি’ আলাইহিস সালাম জীবিত থাকলে নবী হতেন।
হযরত ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বাল রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত নুরুর রবি’ আলাইহিস সালাম জীবিত থাকলে ছিদ্দীক পর্যায়ের নবী হতেন। সুবহানাল্লাহ! কিন্তু মহান আল্লাহ পাক উনার ফায়সালা রয়েছেন যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরে আর কোন নবী হবেন না, কিন্তু উনার আওলাদ থাকবেন। তাই সম্মানিতা বানাতে রসুলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মধ্যে সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নুরুর রাবিয়া’ যাহরা আলাইহাস সালাম যিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সবচেয়ে বেশী মুশাবাহ বা সাদৃশ্য মুবারক রাখতেন, উনার পবিত্র নছব শরীফ থেকেই সম্মানিত আওলাদে রসুলগণ উনাদের সিলসিলা জারি রয়েছেন এবং উনারা ক্বিয়ামত পর্যন্ত দুনিয়াতে মানবজাতীর হেদায়েতের নূর হিসাবে বর্তমান থাকবেন। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ-ছানিয়া আশারাহ আলাইহাস সালাম উনার বিছাল শরীফ:
সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়া আশার আলাইহাস সালাম তিনি হিজরী ১৬ সনে পবিত্র মুহররমুল হারাম মাসের ১৬ তারিখ, ইয়াওমুল খামীস শরীফ, দ্বিতীয় খলীফা সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার খিলাফত কালে পবিত্র মদীনা শরীফে তিনি বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার জানাযার নামায পড়ান। উনার তখন বয়স মুবারক হয়েছিলেন ২৯ বছর ১০ মাস ৩ দিন। (উসুদুল গাবা, দৈনিক আল-ইহসান শরীফ)

সম্মানিত ফযীলত ও মর্যাদা মুবারক:
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিছালী শান মুবারক প্রকাশিত হওয়ার পর সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাদের নিজ নিজ খিলাফতকালে উনারা সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়া আশার আলাইহাস সালাম উনার প্রতি অতিশয় সম্মান, মর্যাদা ও মুহব্বত মুবারক প্রকাশ করেন। উনার খিদমত মুবারকে ভাতা নির্ধারণ করে দেন, যা উনার বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পূর্ব পর্যন্ত উনার খিদমত মুবারকে পেশ করা হতো।
সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়া আশার আলাইহাস সালাম হিজরী ৭ সনের ২৪ মাহে ছফর শরীফে উনার পবিত্র নিসবাতুল আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে হিজরী ১৬ সনের পবিত্র ১৬ মুহররমুল হারাম শরীফ উনার বিছালী শান মুবারক প্রকাশিত হওয়া পর্যন্ত প্রায় ৯ বছর অন্যান্য হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের ন্যায় দ্বীন ইসলাম উনার তালিম, তরবিয়তে ব্যাপৃত ছিলেন। যেহেতু তিনি ঈসায়ী ধর্ম থেকে ইসলাম গ্রহণ করেন, মিশরের ঈসায়ী সম্প্রদায়ের লোকেরা, খাছভাবে ঈসায়ী ধর্মাবলম্বী মহিলাগণ বেশীরভাগ উনার দ্বীন ইসলাম গ্রহণে অনুপ্রাণিত হয় এবং উনার নিকট থেকে তা’লীম তালক্বীন গ্রহণ করে। সুবহানাল্লাহ!
ছহীহ মুসলিম শরীফে ‘বাবে ওছিয়াতুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ নামক অধ্যায়ে এইরূপ একটি হাদীছ শরীফ উদ্ধৃত হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَبِـىْ ذَرٍّ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰـى عَنْهُ، قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّكُمْ سَتَفْتَحُوْنَ مِصَرَ، وَهِىَ أَرْضٌ يُسَمّٰى فِيْهَا الْقِيْرَاطُ، فَإِذَا فَتَحْتُمُوْهَا فَأَحَسِنُوْا إِلٰـى أَهْلِهَا فَإِنْ لَّـهُمْ ذِمَّةً وَرَحْمًا أَوْ قَالَ : ذِمَّةً وَصِهْرًا –
অর্থ: হযরত আবু যর গিফারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন: তোমরা মিশর জয় করবে, ইহা এমন একটি ভূখন্ড যাতে “আল-ক্বীরাত” নামকরণ রয়েছে। তোমরা যখন ইহা জয় করবে, এখানকার অধিবাসীদের প্রতি সৎ ব্যবহার করবে, কেননা তাদের রয়েছে যিম্মা এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক। অথবা তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন: যিম্মা এবং বৈবাহিক সম্পর্ক।
অন্য একটি রেওয়ায়েতে রয়েছে:
إَسْتَوْصَوْا بِأَهَلِ مِصَرَ خَيْرًا فَإِنَّ لَـهُمْ نَسَبًا وَصِهْرًا –
অর্থ: মিশরবাসীদের প্রতি উত্তম ওছীয়ত করবে, কারণ তাদের রয়েছে নসব এবং বৈবাহিক সম্পর্ক।
এখানে নসব দ্বারা হযরত যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিতা মাতা হযরত হাজেরা আলাইহাস সালাম উনাকে বোঝানো হয়েছে, যিনি হচ্ছেন আদনান বংশীয় আরবের পূর্বপুরুষ। আর বৈবাহিক সম্পর্ক হচ্ছে ইবনু রসুল হযরত আন নুরুর রবি’ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিতা মাতা, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়া আশার আলাইহাস সালাম উনার সাথে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাহ উনার নিসবাতুল আযীম শরীফ উনার মাধ্যমে সম্পর্ক।
সুতরাং মিশরবাসীদের মধ্যে রয়েছে হযরত খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত পুত্র ও নবী হযরত যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মাতুল বংশীয় এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত পুত্র সাইয়্যিদুনা হযরত আন নুরুর রবি’ আলাইহিস সালাম উনার মাতুল বংশীয়। সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম উনার বিছালী শান মুবারক প্রকাশের ৯ বছর পর হিজরী ২০ সনে মিশর বিজিত হয়। এই ওছীয়ত মুবারক ছিল বিজয়ের অঙ্গীকার মুবারক। মিশর বিজয়ী ছাহাবী হযরত আমর ইবনুল আছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তখন মিসর অধিপতি মুকাওকিস এর দুই প্রতিনিধির সাথে সন্ধি করার সময় উক্ত ওছীয়ত মুবারকের কথা এভাবে উল্লেখ করেছিলেন: আমাদের সম্মানিত নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে জানিয়েছিলেন যে, আমরা আপনাদের উপর বিজয়ী হব। তিনি আপনাদের ব্যাপারে আমাদেরকে ওছীয়ত মুবারক করেছিলেন, যেন আমরা আপনাদের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করি, আর আপনারা যদি আমাদের ডাকে সাড়া দেন, তবে আপনাদের জান-মাল আমাদের যিম্মায় রক্ষা করা হবে। আর এ বিষয়ে আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম আমাদের নিকট থেকে এই অঙ্গীকার নিয়েছেন: আপনারা ক্বিবতিগণের সাথে উত্তম ব্যবহার করবেন, কারণ নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম ক্বিবতিগণের সাথে উত্তম ব্যবহারের জন্য ওছীয়ত মুবারক করেছেন, কারণ উনাদের মধ্যে রয়েছে আত্মীয়তার সম্পর্ক ও বৈবাহিক সম্পর্ক। সুবহানাল্লাহ! (তারীখে তাবারী)
ঐতিহাসিকগণ মিশর ভূখন্ড থেকে “আনছেনা” (أَنْصِنَا) নামক জেলার অন্তর্গত হাফন (حَفْن) নামক অঞ্চল সনাক্ত করেছেন, যে স্থানটি ছিল সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছছানিয়া আশার আলাইহাস সালাম উনার বাসভূমি। ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসুলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুপারিশক্রমে সাইয়্যিদুনা হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হাফনবাসিদের খারাজ (ভূমি কর) মাফ করে দিয়েছিলেন। ইহা সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়া আশার আলাইহাস সালাম উনার সম্মানার্থে করা হয়েছিল। সুবহানাল্লাহ!
বর্ণিত আছে যে, বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত উবাদা ইবনে ছামিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মিশর বিজয়ে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়া আশার আলাইহাস সালাম উনার বাসভূমি “হাফন” নামক গ্রামটি অনুসন্ধান করে শনাক্ত করেছিলেন এবং সেখানে একটি মসজিদ নির্মাণ করে দিয়েছিলেন। সুবহানাল্লাহ! (তারিজিমে সাইয়্যিদাতি বায়তিন নবুওয়াহ)।
সুত্র: উসুদুল গাবা, ইছাবা, মু’জামুল বুলদান, তারাজিমে সাইয়্যিদাতি বায়তিন নবুওয়াহ, দৈনিক আল ইহসান শরীফ।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে