সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি আলাইহিস সালাম উনার বেমেছাল ইল্ম ও তাক্বওয়া মুবারক


হযরত ইমাম যুহরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন, আমি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি আলাইহিস সালাম উনার চেয়ে শ্রেষ্ঠ ফকীহ আর দ্বিতীয় কাউকে দেখিনি। অথচ তিনি খুব কম সংখ্যক পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন। (তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/৭৮)

হযরত ইমাম আবু হাজিম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন- বনি হাশিমগণের সমসাময়িকদের মধ্যে উনাকেই আমি শ্রেষ্ঠত্বের আসনে সমাসীন দেখেছি। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুসাইয়িব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন, আমি উনার মতো পরহেযগার আর কাউকে দেখিনি।

মালিকী মাযহাবের ইমাম, হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন- “আমার নিকট এই মর্মে খবর পৌঁছেছে যে, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি আলাইহিস সালাম তিনি দিন-রাতে এক হাজার রাকায়াত নামায আদায় করতেন। সুবহানাল্লাহ! আর এটা উনার পবিত্র বিছাল শরীফ গ্রহণ পর্যন্ত জারি ছিল। সুবহানাল্লাহ! এ কারণে উনাকে ‘যাইনুল আবিদীন’ তথা ইবাদতকারীগণের সৌন্দর্য লক্বব মুবারকে অভিহিত করা হয়। তিনি ছিলেন সেই যামানার সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত গুজার। (তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/৭৮, সিয়ারু আলামিন নুবালা-৪/৩৮৮, তাহযীবুত্ তাহযীব-৭/২৬০, তাহযীবুল কামাল-১৩/২৩৯, হিলয়াতুল আউলিয়া-৩/১৬৫, সুয়ারুম মিল হায়াতিত্ তাবিয়ীন/৩৪২)

আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, “হিকমতপূর্ণ বাক্য জ্ঞানীর হারানো সম্পদ। কাজেই যেখানে বা যার নিকট উহা পাবে সেখান থেকে বা উনার নিকট থেকেই তা সংগ্রহ করবে।”
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি আলাইহিস সালাম উনার জীবন মুবারকে এই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার পূর্ণ বাস্তবায়ন পরিলক্ষিত হয়। ইলমের প্রতি ছিল উনার অদম্য আগ্রহ। যেখানে পবিত্র ইলম উনার সন্ধান পেতেন সেখানেই ছুটে যেতেন। ধনী-গরিব উঁচু-নিচু কারো ভেদাভেদ করতেন না। সুবহানাল্লাহ!

একদিন হযরত ইমাম নাফে’ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি আলাইহিস সালাম উনাকে বললেন- “মহান আল্লাহ পাক তিনি ক্ষমা করুন। আপনি সমস্ত মানুষের ‘সাইয়্যিদ’ এবং সকলের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। আর আপনি একজন গোলামের মজলিসে বসেন। উল্লেখ্য যে, তিনি যায়িদ ইবনে আসলাম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইলমী মজলিসে বসতেন। আর তিনি ছিলেন গোলাম।

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি আলাইহিস সালাম তিনি বললেন- “ইলম হাছিলের ক্ষেত্রে এরূপ মনোভাব থাকা সমীচীন নয়। বরং যেখানে ইলমের সন্ধান পাওয়া যাবে সেখান থেকে তা হাছিল করা উচিত।” (হিলয়াতুল আওলিয়া-৩/১৬২, তাহযীবুল কামাল-১৩/২৩৯, সিয়ারু আলামিন নুবালা-৪/৩৮৮)

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]