সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার আযীমুশ শান সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ


উতবা যখন বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়া থেকে মাহরূম হয়ে যায়, তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত ওহী মুবারক প্রেরণ করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জানিয়ে দেন যে, হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি (মহান আল্লাহ পাক) বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার সাথে হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ সুসম্পন্ন করেছি। সুবহানাল্লাহ! আপনিও উনাদের সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ দুনিয়ার যমীনে সুসম্পন্ন করুন। সুবহানাল্লাহ! তাই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অনুষ্ঠানিকভাবে দুনিয়াতে সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি ‘আলাল আলামীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার সাথে সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ সুসম্পন্ন করেন। সুবহানাল্লাহ!
সময়টি ছিলো- আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নুবুওওয়াত ও রিসালত মুবারক প্রকাশের ৩য় বছর মুবারক পার হয়ে ৪র্থ বছর মুবারক উনার শুরুতে ১৮ই রবী‘উছ ছানী শরীফ লাইলাতুল জুমু‘য়াহ শরীফ সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি ‘আলাল ‘আলামীন, উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার সাথে তৃতীয় খলীফা সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হয়। সুবহানাল্লাহ! তখন দুনিয়াবী দৃষ্টিতে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ৪৩ তম বছর মুবারক পার হয়ে ৪৪ তম বছর মুবারক চলাকালীন। সুবহানাল্লাহ!
তখন দুনিয়াবী দৃষ্টিতে সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ছিলেন ১০ বছর ১৫ দিন। সুবহানাল্লাহ! আর সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার বয়স মুবারক ছিলেন ৩৭ বছর ১ মাস ১৫ দিন। সুবহানাল্লাহ!
এই সম্পর্কে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ اُمِّ الْـمُؤْمِنِيْنَ حَضْرَتْ عَائِشَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ اَوْحٰى اِلَىَّ اَنْ اُزَوِّجَ كَرِيـْمَتَـىَّ مِنْ حَضْرَتْ عُثْمَانَ عَلَيْهِ السَّلَامُ حَضْرَتْ رُقَيَّةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ وَحَضْرَتْ اُمَّ كُلْثُوْمٍ عَلَيْهَا السَّلَامُ
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি আমার নিকট সম্মানিত ওহী মুবারক প্রেরণ করেছেন, আমি যেন আমার মহাসম্মানিতা দুইজন আওলাদ আলাইহিমাস সালাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার ও সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সাথে সুসম্পন্ন করি।” সুবহানাল্লাহ! (মা’রিফাতুছ ছাহাবা-লিআবী নাঈম ২২/২২৪)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِنَّ اللهَ تَعَالـٰى اَوْحـٰى اِلَـىَّ اَنْ اُزَوِّجَ كَرِيـْمَتَـىَّ مِنْ حَضْرَتْ عُثْمَانَ عَلَيْهِ السَّلَامُ يَعْنِـىْ حَضْرَتْ رُقَيَّةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ وحَضْرَتْ اُمَّ كُلْثُوْمٍ عَلَيْهَا السَّلَامُ.
অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমার নিকট সম্মানিত ওহী মুবারক প্রেরণ করেছেন, আমি যেন আমার দুইজন মহাসম্মানিতা আওলাদ আলাইহিমাস সালাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার ও সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার অথাৎ উনাদের সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সাথে সুসম্পন্ন করি।” সুবহানাল্লাহ!, (ফাদ্বাইলুছ ছাহাবা ১/১১২, আল মু’জামুল আওসাত্ব ৪/১৮, আল মু’জামুছ ছগীর ১/২৫৩, মাজমাউয যাওয়াইদ ৫/৩৮৯, আল ফাতহুল কাবীর ১/৩০৪, জামিউল আহাদীছ ৭/৪৭৬, ইবনে আদী ৫/৭০, ইবনে আসাকির ৩৯/৪১, জামউল জাওয়ামি’ ১/৮৩৭২, যাখয়েরুল উক্ববা লি-মুহিব্বে ত্ববারী ১/১৬৩, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১১/৩৩, আর রিয়াদ্বুন নাদ্বরাহ ১/২০২ ইত্যাদি)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ اَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَيْرُ الشَّفِيْعِ لِـحَضْرَتْ عُثْمَانَ عَلَيْهِ السَّلَامُ مَا اَنَا اُزَوِّجُ بَنَاتِىْ وَلٰكِنَّ اللهَ تَعَالـٰى يُـزَوِّجُـهُـنَّ.
অর্থ: “হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার জন্য সর্বোত্তম সুপারিশকারী রয়েছেন। আমি আমার মহাসম্মানিতা দুইজন আওলাদ আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সাথে সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ সুসম্পন্ন করিনি; বরং মহান আল্লাহ পাক তিনি স্বয়ং নিজেই সেটা সুসম্পন্ন করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (মুস্তাদরকে হাকিম)

সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার যবান মুবারক-এ আযীমুশ শান নিসবতে আযীম শরীফ উনার বর্ণনা
সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, আমি সম্মানিত কা’বা শরীফ উনার আঙ্গিনায় কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে বসেছিলাম। এমন সময় জনৈক ব্যক্তি হঠাৎ উপস্থিত হয়ে জানায় যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার লখতে জিগার সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনাকে আবূ লাহাবের পুত্র উতবার সাথে সম্মানিত আক্বদ মুবারক দিয়েছেন। রূপ-সৌন্দর্য এবং বেমেছাল গুণ বৈশিষ্ট্যের জন্য সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি মশহুর ছিলেন। এ কারণে উনার সম্মানিত খিদমদ মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়ার জন্য আমার প্রবল ইচ্ছা মুবারক ছিলো। এ খবর শুনে আমি বিচলিত হয়ে পড়ি এবং সোজা ঘরে চলে যাই। ঘরে ছিলেন আমার সম্মানিতা খালা সু’দা বিনতে কুরাইয রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহা। তিনি পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবের ইলম রাখতেন। আমাকে দেখেই তিনি বলেন,
اَبْشِرْ وَحُيِّيْتَ ثَلَاثًا تَتْرَا … ثُـمَّ ثَلَاثًا وَّثَلَاثًا اُخْرٰى
ثُـمَّ بِاُخْرٰى كَىْ تَتِمَّ عَشْرَا … اَتَاكَ خَيْرٌ وَّوُقِيْتَ شَرَّا
اُنْكِحَتْ وَاللهِ حَصَانًا زَهْرَا … وَاَنْتَ بِكْرٌ وَّلَقِيْتَ بِكْرَا
وَافَيْتَهَا بِنْتَ عَظِيْمٍ قَدْرَا…بَنَيْتَ اَمْرًا قَدْ اَشَادَ ذِكْرَا
অর্থ: “(হে সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম,) আপনার জন্য সুসংবাদ। আপনাকে তিনবার সালাম। এরপর তিনবার, আবার তিনবার আপনাকে সালাম। এরপর একবার। এমনিভাবে দশবার সালাম পূর্ণ হোক। সুবহানাল্লাহ! আপনি কল্যাণ মুবারক লাভ করেছেন এবং অমঙ্গল ও অকল্যাণ থেকে রক্ষা পেয়েছেন। মহান আল্লাহ পাক উনার শপথ, আপনি এমন একজন মহাসম্মানিতা ব্যক্তিত্বা মুবারক উনাকে সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ করবেন, যিনি হবেন ফুলের মতো নিষ্কুলষ তথা মহাপবিত্রা এবং বেমেছাল সৌন্দর্য মুবারক উনার অধিকারিণী। সুবহানাল্লাহ! আপনিও অবিবাহিত আর আপনার মহাসম্মানিতা ‘যাওজাতুম মুকাররমাহ’ তিনিও বাকিরাহ অর্থাৎ কোন জিন-ইনসানের স্পর্শ মুবারক-এ আসেননি। তিনি হবেন এক মহান মর্যাদাবান ব্যক্তিত্ব মুবারক উনার মেয়ে। আপনি এমন এক মহাসম্মানিত কাজ মুবারক উনার ভিত্তি স্থাপন করেছেন, যা আপনার সুমহান মর্যাদা-মর্তবা মুবারক উনার বহিঃপ্রকাশ ঘটাবেন।” সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি বলেন,
فَعَجِبْتُ مِنْ قَوْلـِهَا حَيْثُ تُبَشِّرُنِـىْ بِامْرَأَةٍ قَدْ تَزَوَّجَتْ بِغَيْرِىْ فَقُلْتُ يَا خَالَةُ مَا تَقُوْلِيْنَ
অর্থ: “আমি উনার মুখে এসব কথা শুনে বিস্মিত হলাম। কারণ, তিনি আমাকে এমন এক মহাসম্মানিতা ব্যক্তিত্বা উনার সুসংবাদ মুবারক দিচ্ছেন, যেই মহাসম্মানিতা ব্যক্তিত্বা মুবারক উনার সম্মানিত আক্বদ মুবারক সম্পন্ন হয়েছেন, আমি ছাড়া অন্য একজনের সাথে। তখন আমি বললাম, খালাজান আপনি কী বলছেন?”
জবাবে তিনি বললেন,
عُثْمَانُ يَا عُثْمَانُ يَا عُثْمَانُ … لَكَ الْـجَمَالُ وَلَكَ الشَّانُ
هٰذَا نَبِـىٌّ مَعَهُ الْبُرْهَانُ… اَرْسَلَهٗ بِـحَقِّهِ الدَّيَّانُ
وجَاءَهُ التَّنْزِيْلُ وَالْفُرْقَانُ … فَاتْبَعْهُ لَا تَغْتَالُكَ الْاَوْثَانُ
অর্থ: “হে সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম, হে সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম, হে সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম, আপনার রয়েছে বেমেছাল সৌন্দর্য মুবারক এবং সীমাহীন মর্যাদা মুবারক। আর তিনি হচ্ছেন নবী। উনার সাথে রয়েছে বুরহান। মহান আল্লাহ পাক তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সত্য-সঠিক দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন। আর তিনি ‘আত তানযীল ও আল ফুরক্বান’ তথা সম্মানিত কুরআন শরীফ নিয়ে এসেছেন। সুবহানাল্লাহ! অতএব, আপনি উনাকে অনুসরণ করুন। মূর্তি যেন আপনাকে ভুল পথে নিয়ে না যায়।”
অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি বলেন,
قُلْتُ يَا خَالَةُ اِنَّكِ لَتَذْكُرِيْنَ شَيْئًا مَّا وَقَعَ ذِكْرُهٗ بِبَلَدِنَا فَاَبِيْنِيْهِ لِـىْ فَقَالَتْ
“আমি বললাম, হে খালা, আপনি এমন কিছু কথা বলছেন, যা আমাদের দেশে এখনো প্রকাশ পায়নি, সংঘটিত হয়নি। তখন তিনি বললেন,
مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – رَسُوْلٌ مِّنْ عِنْدِ اللهِ. جَاءَ بِتَنْزِيْلِ اللهِ -يَدْعُوْ بِهٖ اِلَى اللهِ. ثُـمَّ قَالَتْ مِصْبَاحُهٗ مِصْبَاحُ- وَدِيْنُهٗ فَلَاحُ. وَاَمْرُهٗ نَجَاحُ- وَقَرْنُهٗ نَطَاحُ. ذَلَّتْ لَهٗ الْبِطَاحُ- مَا يَنْفَعُ الصِّيَاحُ. لَوْ وَقَعَ الـذِّبَاحُ -وَسُلَّتِ الصِّفَاحُ. وَمُدَّتِ الرِّمَاحُ.
অর্থ: “নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল। মহান আল্লাহ পাক উনার কাছ থেকে অবতীর্ণ কিতাব তথা সম্মানিত কুরআন শরীফ নিয়ে এসেছেন। এই সম্মানিত কিতাব মুবারক উনার মাধ্যমে তিনি মানুষকে মহান আল্লাহ পাক উনার দিকে আহ্বান মুবারক করেন। উনার সম্মানিত নূর মুবারকই প্রকৃত আলোকদীপ্ত। উনার সম্মানিত দ্বীনই কল্যাণ। উনার নির্দেশ মুবারকই সাফল্য।” সুবহানাল্লাহ!
উপত্যকার পর উপত্যকা উনার অনুগত (সমগ্র দেশ উনার অনুগত)। জিহাদে কাফেররা নিহত হলে, তরবারি উত্তোলিত হলে এবং বর্শা নিক্ষিপ্ত হলে, হৈ হুল্লোড় করা উপকারী হবে না।”
আমার খালার এসব কথাবার্তা আমার মনে বিরাট প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। আমি পরিণাম সম্পর্কে চিন্তা করতে থাকি। আমি অধিকন্তু সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার কাছে বসতাম। এরপর একবার উনার কাছে যাই। তখন তিনি একা। যেহেতু তিনি ছিলেন আমার বন্ধু, তাই আমি উনার কাছে আমার খালার বক্তব্যের সারকথা বললাম। তিনি বললেন, হে সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম, আপনি বুদ্ধিমান লোক। আপনি যদি হক্ব ও বাতিলের পার্থক্য না করেন, তা হবে অবাক হওয়ার কথা। আপনার জাতি যে মূর্তির পূজা করে, তা কি পাথরের তৈরি নয়? এগুলো না শুনতে পায়, না দেখতে পায়, না উপকার করতে পারে আর না পারে ক্ষতি করতে। তখন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি বলেন,
قُلْتُ بَلـٰى وَاللهِ اِنَّـهَا لَكَذٰلِكَ قَالَ وَاللهِ لَقَدْ صَدَقَتْكَ خَالَتُكَ هٰذَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ بَعَثَهُ اللهُ بِرِسَالَتِهٖ اِلـٰى جَمِيْعِ خَلْقِهٖ
অর্থ: “আমি বললাম, মহান আল্লাহ পাক উনার কসম, আপনি যা বলছেন, একান্ত ঠিকই বলছেন। তিনি বললেন, মহান আল্লাহ পাক উনার শপথ করে বলছি, আপনার খালা যা বলেছেন, অবশ্যই তা ঠিকই বলেছেন। তিনি হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে সমস্ত কায়িনাতের জন্য রসূল হিসেবে প্রেরণ করেছেন।” সুবহানাল্লাহ!
আপনি উনার কাছে যান, তিনি কি বলেন, শুনলে ক্ষতি কি? এক বর্ণনায় রয়েছে সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, আমি তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ গেলাম। অপর বর্ণনায় রয়েছে, এমতাবস্থায় স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদের এখানে নিজে যাহির হন। সুবহানাল্লাহ!
অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, হে সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম! মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাকে সম্মানিত জান্নাত উনার দিকে ডাকছেন। আপনি উনার ডাকে সাড়া দিন।
فَاِنِّـىْ رَسُوْلُ اللهِ اِلَيْكَ واِلـٰى جَمِيْعِ خَلْقِهٖ
অর্থ: “নিশ্চয়ই আমি সমস্ত কায়িনাতের জন্য রসূল হিসেবে প্রেরিত হয়েছি।” সুবহানাল্লাহ!
উনার কথাগুলোতে কি প্রভাব ছিলো, তা মহান আল্লাহ পাক তিনিই ভালো জানেন। আমি আর নিজেকে সংবরণ করতে পারিনি। আমি বেকারার হয়ে সম্মানিত কালিামায়ে শাহাদাত শরীফ পাঠ করে মুসলমান হই। সুবহানাল্লাহ!
ثُـمَّ لَـمْ اَلْبَثْ اَنْ تَزَوَّجْتُ حَضْرَتْ رُقَيَّةَ بِنْتَ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَكَانَ يُقَالُ اَحْسَنُ زَوْجٍ رَاٰهُ اِنْسَانٌ حَضْرَتْ رُقَيَّةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ وَزَوْجَهَا حَضْرَتْ عُثْمَانَ عَلَيْهِ السَّلَامُ.
অর্থ: “তারপর অনতিবিলম্বে সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার সাথে আমার সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ সুসম্পন্ন হয়। সুবহানাল্লাহ! এরপর মানুষ বলাবলি করতো, সর্বোত্তম দম্পতি মুবারক যা মানুষ দেখতে পেয়েছে, সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা।” সুবহনাল্লাহ!
এ প্রসঙ্গে উনার খালা হযরত সু’দা বিনতে কুরাইয রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা তিনি বলেন,
هَدَى اللهُ عُثْمَانًا ۢبِقَوْلِـىْ اِلَى الْـهُدٰى … وَاَرْشَدَهٗ وَاللهُ يَهْدِىْ اِلَـى الْـحَقِّ
فَتَابَعَ بِالرَّأْىِ السَّدِيْدِ مُـحَمَّدًا صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ… وَّكَانَ بِرَأْىٍ لَّا يَصُدُّ عَنِ الصِّدْقِ
وَاَنْكَحَهُ الْمَبْعُوْثُ بِالْـحَقِّ بِنْتَهٗ … فَكَانَا كَبَدْرٍ مَّازَجَ الشَّمْسَ فِـى الْاُفْقِ
فِدَاؤُكَ يَا ابْنَ الْـهَاشِـمِيِّيْنَ مُهْجَتِـىْ … وَاَنْتَ اَمِيْنُ اللهِ اُرْسِلْتَ لِلْخَلْقِ
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনাকে হিদায়াত মুবারক দিয়েছেন, আমার কথা মতে এবং মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে পথ দেখিয়েছেন। আর মহান আল্লাহ পাক তিনি তো পথ দেখান সত্যের দিকে। তাই তিনি অনুসরণ করেছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঠিক মত-পথ মুবারক। আর উনার মত-পথ কখনোই সত্য হতে বিচ্যুত নয়। সত্যসহ প্রেরিত (নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি) নিসবতে আযীম শরীফ দিয়েছেন উনার নিকট নিজ মহাসম্মানিতা মেয়ে আলাইহাস সালাম উনাকে। ফলে উনারা উভয়ে হয়েছেন জ্যোৎসনার চাঁদের মতো, যা মিলিত হয়েছে আকাশ প্রান্তে সূর্যের সঙ্গে। হে হাশিমী আওলাদ, আপনার জন্য উৎসর্গ আমার প্রাণ। আর আপনিতো মহান আল্লাহ পাক উনার ‘আমীন’, প্রেরিত হয়েছেন আপনি সৃষ্টিকুলের জন্য।” সুবহানাল্লাহ! (আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ, খছাইছুল কুবরা, ইছাবা, জামিউল আহাদীছ, কানযুল উম্মাল, কাওছারুল মা‘আনী, আর রিয়াদুন নাদ্বরাহ, তারীখে দিমাশক্ব ইত্যাদি)

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে