সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার কারণে মৃত্যুদন্ড থেকে পরিত্রাণ লাভ


সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার কারণে মৃত্যুদন্ড থেকে পরিত্রাণ লাভ

সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার ইতিহাসে এমন কিছু ওয়াকিয়াহ মুবারক রয়েছে যেগুলো যুগ যুগ ধরে মুসলিম উম্মাহ শ্রবণ এবং অনুধাবনের মাধ্যমে নিজ ঈমানী শক্তিকে মজবুতকরণ এবং মহান আল্লাহ পাক এবং উনার উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম উনাদের প্রতি নিগুঢ় মুহব্বত মুবারক পোষণ করতে পারবে এবং আক্বীদা বিশুদ্ধ করতে পারবে। সুবহানাল্লাহ!
♦এমনই একটি ওয়াকিয়াহ বর্ণনা করা হলো।বর্ণিত রয়েছে, উমাইয়া শাসক আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের শাসনামলে শামদেশের এক সুদর্শন যুবক সে ঘোড়ায় চড়ে বিভিন্ন কসরত প্রদর্শন করছিলো। একদিন হঠাৎ সে তার ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে যায়। অতঃপর ঘোড়ার পিঠে উঠলে ঘোড়াটি তাকে নিয়ে শাম দেশের পথে চলতে শুরু করে। ঘোড়াটিকে সে থামাতে সক্ষম হচ্ছিল না। অতঃপর ঘোড়াটি উমাইয়া শাসকের দরজায় গিয়ে উপনীত হলো। তখন শাসকের ছেলেটি ঘোড়ার সামনে চলে আসলো এবং অশ্বারোহী ছেলেটিও ঘোড়াটিকে ফিরিয়ে রাখতে সক্ষম হলো না বরং সে ঘোড়ার দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত হয় এবং নিহত হয়। এই সংবাদ শাসকের নিকট পৌঁছলে সে উক্ত যুবককে তার দরবারে উপস্থিত হওয়ার জন্য আদেশ করলো। আদেশ যখন তার প্রতি ঘোষণা করা হলো, সেটা কঠিন বিপদ মনে করে সেই যুবক বললো যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি যদি আমাকে এই কঠিন বিপদ থেকে উদ্ধার করেন তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান বিলাদত শরীফ অর্থাৎ মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উপলক্ষে আমি বড় করে ওলীমা বা খাবারের মজলিসের ব্যবস্থা করবো এবং তা (প্রতিবছর) জারী রাখবো। ♥অতঃপর সেই যুবক শাসকের সমীপে উপস্থিত হলো এবং তার দিকে দৃষ্টি দিল। তখন হত্যা করার গোস্বা সত্ত্বেও উমাইয়া শাসক মারওয়ান হেসে দিল। অতঃপর বললো, হে ব্যক্তি! তুমি কি জাদু করো? সে বললো, হে আমীরুল মু’মিনীন! মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! আমি জাদু করি না। অতঃপর শাসক বললো, আমি তোমার অপরাধ ক্ষমা করে দিলাম। অতএব, তুমি যা বলার তা আমাকে বলতে পারো। তখন সেই যুবক বললো, আমি নিয়ত করেছিলাম, মহান আল্লাহ পাক তিনি যদি আমাকে এই কঠিন বিপদ থেকে উদ্ধার করেন তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান বিলাদত শরীফ অর্থাৎ পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উপলক্ষে ওলীমা মাহফিলের ব্যবস্থা গ্রহন করবো এবং প্রতিবছর তা জারী রাখবো। অতঃপর সেই শাসক পূনরায় বললো, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম এবং তোমাকে সুমহান পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপলক্ষে এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা হাদিয়া করলাম এবং আমার ছেলের হত্যার অপরাধ থেকেও মুক্তি দিলাম। যুবক দরবার থেকে মৃত্যুদন্ডের শাস্তি থেকে ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়ে বের হলো এবং সুমহান পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বরকত মুবারকে এক হাজার স্বর্ণ মুদ্রা গ্রহণ করলো। এ বিষয়টি যখন প্রকাশিত হলো, তখন যুবকের সমস্ত ভাই মনযোগী ও আগ্রহী হলো পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনের ব্যাপারে। কেননা উনার কারণেই সমস্ত রূহ ও দেহ সৃষ্টি হয়েছে এবং উনার সম্মানার্থে তারা লাভ করেছে জীবন, সম্পদ ও খাদ্য। (ইয়ানাতুত ত্বালিবীন)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দায়িমীভাবে পালন করার তাওফীক দান করুন এবং এ উদ্দেশ্যে সমস্ত দিনব্যাপী ও সময়ব্যাপী মাল সম্পদ খরচ করারও তাওফীক দান করুন। আমীন।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]