সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামূল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক শানে পরিভাষা মুবারক ও নামকরণের কারণ


খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত ত্বরীক্বত, ইমামুল আইম্মাহ, মুহ্ইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বওইয়্যুল আউওয়াল, আখাছছুল খাছ আহলে বাইত শরীফ, ইমামুল উমাম, আস সাফফাহ সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির মূল। উনাকে সৃষ্টি না করলে মহান আল্লাহ পাক তিনি কোনো কিছুই সৃষ্টি করতেন না। তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার রুবুবিয়ত বা পরিচিতি প্রকাশের মূল। তিনি সৃষ্টির মধ্যে একক। সৃষ্টির মধ্যে উনার কোনো মিছাল নেই। সৃষ্টির কারো সাথে উনার তুলনা করা যাবে না। সুবহানাল্লাহ! এমনকি কোনো নবী- রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারাও উনার মত নন। কেননা উনার উপর ঈমান এনে, উনার খিদমত মুবারকে আঞ্জাম দেয়ার শর্তে উনাদেরকে সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক ও সম্মানিত রিসালত মুবারক হাদিয়া মুবারক করা হয়েছে।
মহান আল্লাহ পাক তিনি এ প্রসঙ্গে ইরশাদ মুবারক করেন-
وَإِذْ أَخَذَ اللهُ مِيثَاقَ النَّبِيِّيْنَ لَمَا اٰتَيْتُكُم مِّن كِتَابٍ وَحِكْمَةٍ ثُمَّ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مُّصَدِّقٌ لِّمَا مَعَكُمْ لَتُؤْمِنُنَّ بِه وَلَتَنْصُرُنَّهُ ۚ قَالَ اَاَقْرَرْتُمْ وَأَخَذْتُمْ عَلٰى ذٰلِكُمْ إِصْرِى ۖ قَالُوْا أَقْرَرْنَا
অর্থ: (হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি সেই কথা স্মরণ করিয়ে দিন) যখন মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নিলেন যে, আমি আপনাদেরকে কিতাব মুবারক দেয়া হবে, হিকমত মুবারক দেয়া হবে এ শর্তে যে, একজন সম্মানিত রসূল আসবেন, যিনি আপনাদের (সম্মানিত নুবুওওয়াত ও রিসালত মুবারকের) সত্যায়ন করবেন। আপনারা উনার প্রতি ঈমান আনবেন। উনার খিদমত মুবারকের আঞ্জাম দিবেন। আপনারা কি স্বীকৃতি দিলেন, আর এই শর্ত মেনে নিলেন? উনারা বললেন, হ্যাঁ মহান আল্লাহ পাক! আমরা স্বীকৃতি দিলাম। (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৮১)
আর স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اِنِّـىْ لَسْتُ كَاَحَدِكُمْ
অর্থ: নিশ্চয়ই আমি আপনাদের কারো মত নই। (ফতহুল বারী ২/৩৪২)
মুজাদ্দিদে আ’যম গাউছুল আ’যম, হাবীবে আ’যম, সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন, “যিনি সৃষ্টির মধ্যে অনন্য। যাঁর প্রতিটি বিষয়ই অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। উনার জিসিম মুবারকের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ মুবারকসমূহ উনার প্রতিটি বিষয়েই সুনির্দিষ্ট বা স্বতন্ত্র পরিভাষা ব্যবহার করা উচিত।”
কেননা মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
لَّا تَجْعَلُوا دُعَاءَ الرَّسُولِ بَيْنَكُمْ كَدُعَاءِ بَعْضِكُمْ بَعْضًا
অর্থ: তোমরা পরস্পর পরস্পরকে যেভাবে সম্বোধন করে থাকো, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সেভাবে সম্বোধন করো না। (পবিত্র সূরা নূর শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৬৩)
কাজেই, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধনের ক্ষেত্রে যেমন স্বতন্ত্র পরিভাষা থাকা উচিত, তেমনি উনার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিটি বিষয়ে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য থাকা আবশ্যক। খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহ্ইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মুবারক শানে স্বতন্ত্র পরিভাষা মুবারক প্রণয়ন করেছেন যা ব্যাপকভাবে প্রচার প্রসার করা, সমাজের সর্বত্র জারী করা কর্তব্য। তাহলে মুসলিম উম্মাহ মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চরম-পরম সন্তুষ্টি রেযামন্দি, তায়াল্লুক-নিসবত লাভ করতে পারবে।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]