সুন্নতী পোশাক পরিধান করার ফযীলত ও গুরুত্ব


📣পোষাক যখন পরিধান করবেনই, তাহলে সুন্নতী পোষাকই পরিধান করুন

💢 পূরুষদের জন্য আসন্ন ঈদ উপলক্ষে মিশরীয় সুতি কাপড়ের কোর্তা সহ অন্যান্য সুন্নতী পোশক।

✅সুন্নতী টুপি,
✅সুন্নতী পাগড়ী,
✅সুন্নতী রুমাল,
✅সুন্নতী ইযার বা লুঙ্গী,
✅সুন্নতী কোর্তা ।
✅সুন্নতী কেনায়া।

💢আসুন জেনে নিই- ইসলামী বা সুন্নতী পোশাক কি ?

✅মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম ,হাবীবুল্লাহ , হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে পোশাক মুবারক পড়েছেন সেটাই ইসলামী পোশাক বা সুন্নতি পোশাক বা মুসলমানদের পোশাক।

✅কুরআন শরীফে তাক্বওয়ার লিবাস বা পোষাককে উত্তম পোষাক বলা হয়েছে ।
আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেছেন :- وَ لِبَاسُ التَّقْوَى ذَالِكَ خَيْرٌ (অর্থ : এবং তাক্বওয়ার পোষাক, উহাই উত্তম ) (পবিত্র সুরা আ‘রাফ শরীফ/২৬) ।

✅আর সে তাক্বওয়ার লিবাসই হচ্ছে সুন্নতী পোষাক, যা নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বয়ং নিজে পরিধান করেছেন । সুবহানাল্লাহ।

✅যারা দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করবে অর্থাৎ যারা মুসলমান হবে, পুরুষ কিংবা মহিলা, তারা কি ধরণের পোষাক পরিধান করবে সে বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দেয়া হয়েছে । অর্থাৎ একজন মুসলমান তার মাথার তালু থেকে পায়ের তলা, হায়াত থেকে মওত, এমনকি হায়াতের পূর্ব থেকে মওতের পর পর্যন্ত, সে কি খাবে, কি পরবে, কিভাবে চলবে, এক কথায় তার যাবতীয় করণীয় কর্তব্য সম্পর্কে বলে দেয়া হয়েছে । সুতরাং মনগড়া ভাবে কোন কিছু করার তার সুযোগ নেই

✅যে পোষাক বিধর্মী-বিজাতীয়দের সাদৃশ হয় তা পরিহার করা অপরিহার্য। হাদীছ শরীফে ইরশাদ করা হয়েছে :
مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ –
(অর্থ : যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সাথে মিল
রাখে, সে তাদেরই অন্তর্ভূক্ত) ( পবিত্র আবু দাউদ শরীফ) ।

✅পোষাক হচ্ছে ধর্মের শেয়ার বা প্রতীক । পোষাক পরিধান করার মাধ্যমে দৃশ্যত: একজন লোককে সে কোন ধর্মের অনুসারী চেনা যায় । যদি তাই হয় তাহলে মুসলমান ইসলামী বা সুন্নতী পোষাক বাদ দিয়ে অন্য কোন পোষাক পরতে পারে না । ইসলাম এসেছে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার থেকে । উনি যে পোষাক পরেছেন তা-ই তো ইসলাম ধর্মের তথা মু‘মিন মুসলমানদের পোষাক । উনি কি কখনও শার্ট প্যান্ট বা অন্যান্য পোষাক যা সাধারণ লোক পরে থাকে, এসব পরেছেন ? কখনও না । উনি পরিধান করেছেন নিছফে ছাক্ব, কোনা-বন্দ, কাপড়ের গুটলিযুক্ত, সুন্নতী কোর্তা, সেলাই বিহীন লুঙ্গী ।

✅আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেন :-
وَ مَا أتَاكُمُ الرَّسُوْلُ فَخُذُوْهُ وَ مَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوْا – (অর্থ : (আমার) রসুল (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তোমাদের জন্য যা এনেছেন, তা আঁকড়ে
ধর, আর যা থেকে নিষেধ করেছেন, তা থেকে বিরত থাক) (সুরা হাশর) ।

✅সুতরাং একজন মুসলমানকে (সে পুরুষ হোক বা মহিলা হোক) অবশ্যই সুন্নতী পোষাক পরতে হবে, যা নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পরেছেন এবং উনার নির্দেশ ও অনুসরণে উম্মুহাতুল মু‘মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম ও ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ পড়েছেন ।সুবহানাল্লাহ ।

✅মহান আল্লাহ্ পাক তাঁর কালাম পাকে ইরশাদ করেন,
قُلْ إِنْ كُنتُمْ تُحِبُّوْنَ اللهَ فَاتَّبِعُوْنِىْ يُحْبِبْكُمُ اللهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللهُ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ
অর্থঃ- “হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলুন যদি তোমরা আল্লাহ্ পাক-এর মুহব্বত (সন্তুষ্টি) পেতে চাও তাহলে আমার অনুসরণ করো। তাহলেই আল্লাহ্ পাক তোমাদেরকে মুহব্বত করবেন, তোমাদের গুণাহ্খাতা মাফ করবেন ও তোমাদের প্রতি দয়ালু হবেন।” (সূরা আলে ইমরান/৩১)
وَأَطِيْعُوْا اللهَ وَرَسُوْلَهٗٓ إِنْ كُنْتُمْ مُّؤْمِنِيْنَ
অর্থঃ- “যদি তোমরা ঈমানদার দাবী করে থাক তবে আল্লাহ্ পাক ও তাঁর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ইতায়াত করো।” (সূরা আনফাল/১)
وَأَطِيْعُوْا الرَّسُوْلَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُوْنَ
অর্থঃ- “তোমরা রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ইতায়াত করো তবে অবশ্যই তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হবে।” (সূরা নূর/৫৬)
وَأَطِيْعُواْ اللهَ وَالرَّسُوْلَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُوْنَ
অর্থঃ- “তোমরা আল্লাহ্ পাক ও তাঁর হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ইতায়াত করো, অবশ্যই তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হবে।” (সূরা আলে ইমরান/১৩২)

✅নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন :-
من احب سنتى فقد احبنى و من احبنى كان معى فى الجنة –
(যে ব্যক্তি আমার সুন্নতকে মহব্বত করলো, সে মূলত: আমাকেই মহব্বত করলো। আর যে আমাকে মহব্বত করবে, সে আমার সাথে জান্নাতে থাকবে।) (তিরমিযী শরীফ)

তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন :-
من تمسك بسنتى عند فساد امتى فله اجر مآة شهيد –
(যে ব্যক্তি আমার উ¤মতের ফিৎনার সময় আমার একটি সুন্নতকে পালন করবে, তাকে এক শত শহীদের (সম পরিমাণ) ছওয়াব দান করা হবে ।) (মিশকাত শরীফ)

✅অতএব,সুন্নত মুবারক আমল অবশ্যই ফরয আমলের পরিপূরক এবং ফরযকে সুশোভিত ও সৌন্দর্যমন্ডিত ও পরিপূর্ণতা দান করে থাকে । নামায , রোজা, হজ্ব, যাকাত প্রতিটি ফরয আমলের সাথে সাথে যেমন সুন্নত আমল করতে হয় ঠিক তেমনি অন্যান্য আমলের ক্ষেত্রে সুন্নত আমলের গুরুত্ব দিতে হয় । তদ্রূপ পোষাক পরিধানের ক্ষেত্রেও সুন্নত আমলের অধিক গুরত্ব দিতে হয় | অর্থাৎ অবশ্যই মুসলমানদের জন্য ইসলামী পোশাক বা সুন্নতি পোশাক পড়া অধিক ফজিলত পূর্ণ । আর তাই আমাদের (পুরুষ ও মহিলা , ছোট – বড়) সবার ইসলামী পোশাক বা সুন্নতি পোশাক পড়া উচিত।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]