সুমহান মহাপবিত্র ২রা মুহররমুল হারাম শরীফ। সুবহানাল্লাহ! মালিকুল জান্নাহ, সাইয়্যিদুনা হযরত যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মহাপবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার মহাসম্মানিত দিবস। সুবহানাল্লাহ!


নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আমি দুইজন যবেহ আলাইহিমাস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত আওলাদ।” সুবহানাল্লাহ!
আজ সুমহান মহাপবিত্র ২রা মুহররমুল হারাম শরীফ। সুবহানাল্লাহ! মালিকুল জান্নাহ, সাইয়্যিদুনা হযরত যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মহাপবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার মহাসম্মানিত দিবস। সুবহানাল্লাহ! তাই প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলা সকলের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে, মহাসম্মানিত এ মুবারক দিবস উপলক্ষে পবিত্র মীলাদ শরীফ, পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ অর্থাৎ পবিত্র ঈছালে ছওয়াব মাহফিল করে উনার পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক ব্যাপকভাবে আলোচনা করত উনার মুবারক শানে সর্বোচ্চ হুসনে যন পোষণ করা।
আর সরকারের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- উনার পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক ব্যাপক আলোচনার জন্য স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান, একাডেমী, গবেষণাগার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা। অবিলম্বে প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সিলেবাসে উনার পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক অন্তর্ভুক্ত করা এবং মহাসম্মানিত এ মুবারক দিবস উদযাপনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
– ক্বওল শরীফ: সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম

যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইউস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যূল আউওয়াল, সুলত্বানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদে রসূল, মাওলানা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম অর্থাৎ আবূ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, খইরুল বাশার, সাইয়্যিদুল আরব, আবুল বাশার, ছাহিবুল জান্নাহ, ছাহিবু নূরে মুজাসসাম সাইয়্যিদুনা হযরত যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র মুহররমুল হারাম শরীফ মাস উনার ২ তারিখ মহাপবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। আর আজই হচ্ছেন সেই বেমেছাল সুমহান মহাপবিত্র ২রা মুহররমুল হারাম শরীফ। সুবহানাল্লাহ!

মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আমি দুইজন হযরত যবেহ আলাইহিমাস সালাম উনাদের মহাসম্মনিত আওলাদ।” এখানে একজন হচ্ছেন মহাসম্মানিত নবী ও রসূল হযরত ইসমাইল যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি আর অপরজন হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ওয়ালিদ, খইরুল বাশার, সাইয়্যিদুল আরব ওয়াল আ’যম, আবুল বাশার, ছাহিবুল জান্নাহ, মালিকুল জান্নাহ সাইয়্যিদুনা হযরত যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! বিভিন্ন সম্মানিত হাদীছ শরীফ থেকে একটি বিষয় অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত আওলাদ বলে সম্বোধন করলে, তিনি অত্যন্ত সন্তুষ্ট হন এবং খুশি মুবারক প্রকাশ করেন। অর্থাৎ উনার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম উনাকে যাবীহুল্লাহ বললে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সন্তুষ্ট হন এবং খুশি মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!

মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সম্মানিত হিজরত মুবারক উনার ৭৮ বছর ৮ মাস ১০ দিন পূর্বে ২রা রজবুল হারাম শরীফ লাইলাতুস সাব্ত শরীফ সম্মানিত মক্কা শরীফে তিনি সম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন মানুষের মাঝে সর্বাধিক সৌন্দর্য মুবারক উনার অধিকারী। কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে, “সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত কপাল মুবারক উনার মাঝখানে নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দেখা যেতো।” সুবহানাল্লাহ! শাম দেশের পাদ্রীরা সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার ব্যাপারে জানতো। কেননা তাদের আসমানী কিতাবসমূহে লিখা ছিলো যে, যখন হযরত ইয়াহইয়া আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত জুব্বা মুবারক থেকে ফোঁটা ফোঁটা করে রক্ত মুবারক ঝরতে থাকবে, তখন বুঝতে হবে যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আব্বাজান সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের ফতওয়া হলো, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম ও সম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনারা উভয়েই জান্নাতী তো অবশ্যই। শুধু জান্নাতীই নন, বরং জান্নাত উদগ্রীব হয়ে আছেন কখন উনারা জান্নাতে প্রবেশ করবেন। কারণ উনারা জান্নাতে প্রবেশ করলেই জান্নাতের একদিক থেকে কামিয়াবী হাছিল হবে। অপরদিক থেকে ‘জান্নাত’ উনার ‘জান্নাত’ নামের স্বার্থকতা হাছিল হবে। এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ প্রকাশ করাও কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। কারণ উনারা হচ্ছেন প্রকৃতপক্ষে জান্নাত উনার মালিক। সুবহানাল্লাহ!

মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার মুবারক খিদমতে তাশরীফ মুবারক আনার কয়েক মাস পরেই সাইয়্যিদুনা হযরত যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি ব্যবসা উপলক্ষে সিরিয়া হতে ফেরার পথে মারীদ্বী শান মুবারক প্রকাশ করার কারণে পবিত্র মদীনা শরীফে উনার নানীর বাড়িতে মুবারক অবস্থান গ্রহণ করেন এবং সেখানেই সম্মানিত হিজরত মুবারক উনার ৫৩ বছর ২ মাস পূর্বে অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার ২ মাস ১০ দিন পূর্বে ২রা মুহররমুল হারাম শরীফ ইয়াওমুল জুমুয়াহ পবিত্র বিছালী শান মুবারক গ্রহণ করেন। সাইয়্যিদুনা হযরত যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র রওযা শরীফ সম্মানিত “আবওয়া” নামক স্থানে অবস্থিত। তিনি দুনিয়ার যমীনে ২৫ বছর ৬ মাস অবস্থান মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ!

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]