স্বয়ং যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত যিকির মুবারক, সম্মানিত আলোচনা মুবারক, সম্মানিত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক বুলন্দ থেকে বুলন্দতর করেছেন


মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَرَفَعْنَا لَكَ ذِكْرَكَ.
অর্থ: “আর (হে আমার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আমি আপনার সম্মানিত যিকির মুবারক, সম্মানিত আলোচনা মুবারক, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক বুলন্দ থেকে বুলন্দতর করেছি।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আলাম নাশ্রহ্ শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ: ৪)
মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত যিকির মুবারক, সম্মানিত আলোচনা মুবারক, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক কতটুকু বুলন্দ করেছেন, এটা তিনিই সবচেয়ে ভালো জানেন। সুবহানাল্লাহ! নিম্নে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বুলন্দী শান মুবারক সম্পর্কে যৎসামান্য আলোচনা করা হলো-

স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই উনার সম্মানিত যিকির মুবারক, সম্মানিত আলোচনা মুবারক উনার সাথে উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত যিকির মুবারক, সম্মানিত আলোচনা মুবারক করা সমস্ত সৃষ্টি জগতের উপর ফরয করে দিয়েছেন:
‘সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আলাম নাশ্রহ্ শরীফ উনার ৪নং সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ’ উনার ব্যাখ্যায় বিভিন্ন সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার কিতাব মুবারক, সম্মানিত তাফসীরগ্রন্থ, সম্মানিত সীরাতগ্রন্থ ও অন্যান্য কিতাবে ছহীহ সনদে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ سَعِيْدِ ۣ الْـخُدْرِىِّ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اَتَانِـىْ حَضْرَتْ جِبْرِيْلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَقَالَ اِنَّ رَبِّـىْ وَرَبَّكَ يَقُوْلُ لَكَ كَيْفَ رَفَعْتُ ذِكْرَكَ قَالَ اللهُ اَعْلَمُ قَالَ اِذَا ذُكِرْتُ ذُكِرْتَ مَعِىْ.
অর্থ: “হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন। নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি আমার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ এসে বলেন, নিশ্চয়ই আমার রব তায়ালা এবং আপনার রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ মুবারক করেছেন যে, আমি কিভাবে আপনার সম্মানিত যিকির মুবারক, সম্মানিত আলোচনা মুবারক, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক বুলন্দ থেকে বুলন্দতর করেছি? তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি অধিক ভালো জানেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اِذَا ذُكِرْتُ ذُكِرْتَ مَعِىْ
যখন আমার সম্মানিত যিকির মুবারক, সম্মানিত আলোচনা মুবারক, করা হয়, তখন আমার সাথে আপনারও সম্মানিত যিকির মুবারক, সম্মানিত আলোচনা মুবারক, করা হয়।” সুবহানাল্লাহ! (ছহীহ ইবনে হিব্বান, মুসনাদে আবী ইয়া’লা, ত্ববারনী, ইবনে আবী হাতিম, ত্ববারী, ইবনে মারদাওয়াইহ, আবূ না‘ঈম, আব্দুর রাজ্জাক্ব, সাঈদ ইবনে মানছূর, খছায়িছুল কুবরা, দুররে মানছূর, শিফা’ শরীফ, মাওয়াহিবুল লাদুননিয়্যাহ, ইবনে কাছীর, বাগবী, ফাতহুল কা¡দীর, তাফসীরে মাওয়ারদী, তাফসীরে মাযহারী,লাওয়ামি‘উল আনওয়ার, রূহুল মা‘য়ানীসহ আরো বহু কিতাব। সুবহানাল্লাহ!)
এই সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফখানা বিভিন্ন কিতাবে বিভিন্ন সনদে বর্ণিত রয়েছে।‘ছহীহ ইবনে হিব্বান শরীফ’-এ যেই সনদে বর্ণিত রয়েছে সেই সনদের সমস্ত রাবীগণ ছিক্বাহ। যদিও একজন রাবী হযরত র্দারাজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ব্যাপারে কাট্টা ওহাবী গোমরাহ গ-মূর্খ আলবানী ও তার অনুসারীরা যঈফ বলেছে। তবে সর্বজনমান্য ও নির্ভরযোগ্য হযরত ইমাম মুজতাহিদ রহমাতুল্লাহি আলাইহিম উনারা উনাকে ছিক্বাহ বলেছেন। এ সম্পর্কে হযরত ইমাম ইবনে মুলক্বিন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-
وَثَّقَهٗ يَحْيـَى بْنُ مُعِيْنُ وَابْنُ حِبَّانُ وَحَسَّنَ لَهُ التِّرْمِذِىُّ وَصَحَّحَ اَيْضًا وَّادَّعَى الْـحَاكِمُ فِـىْ مُسْتَدْرَكِهِ الْاِتِّفَاقُ عَلـٰى صِدْقِهٖ.
অর্থ: “হযরত র্দারাজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে হাকিমে হাদীছ হযরত ইয়াহইয়া ইবনে মু‘ঈন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এবং হযরত ইমাম ইবনে হিব্বান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি অর্থাৎ উনারা ‘ছিক্বাহ’ বলেছেন। হযরত ইমাম তিরমিযী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বর্ণিত সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদেরকে ‘হাসান’ বলেছেন, আবার ছহীহও বলেছেন। হযরত ইমাম আবূ আব্দুল্লাহ হাকিম নীশাপূরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ‘মুস্তাদরকে হাকিম শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ করেছেন যে, হযরত র্দারাজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ছিদক্ব তথা বিশ্বস্ততার ব্যাপারে ইজমা’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।” সুবহানাল্লাহ! (তুহ্ফাতুল মুহ্তাজ ইলা আদিল্লাতিল মিনহাজ ১/৩০৬-৩০৭)
হযরত ইবনে হাজার আসক্বালানী শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-
وَهٰذَا اَخْرَجَهُ الشَّافِعِـىُّ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ
অর্থ: “এই সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফখানা হযরত ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিও বর্ণনা করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (ফাতহুল বারী ৮/৭১২)
আল্লামা কুস্ত্বলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-
وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ.
অর্থ: “হযরত ইমাম ইবনে হিব্বান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এই সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফখানা উনাকে ছহীহ বলেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (মাওয়াহিবুল লাদুননিয়্যাহ শরীফ)
‘লাওয়ামি‘উল আনওয়ার শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে-
اَخْرَجَ الطَّبَرَانِـىُّ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ وَصَحَّحَهٗ
অর্থ: “ইমাম ত্ববারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এই সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফখানা বর্ণনা করেছেন এবং ছহীহ বলেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (লাওয়ামি‘উল আনওয়ার ২/২৯৬)
মূল কথা হলো, এ সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফখানা ছহীহ হওয়ার ব্যাপারে উম্মতের ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!
হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বলেন-
لَا يُذْكَرُ اللهُ اِلَّا ذُكِرَ مَعَهٗ.
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত যিকির (আলোচনা) মুবারক করা হয় না, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত যিকির (আলোচনা) মুবারক করা ব্যতীত।” সুবহানাল্লাহ! (ফাতহুল ক্বাদীর ৫/৫৬৫)
সে জন্যই সম্মানিত ও পবিত্র কালিমা শরীফসহ আযান-ইক্বামাত, নামায, মুনাজাত, খুতবা, রোযা, হজ্জ, যাকাত এক কথায় সমস্ত ইবাদত-বন্দিগীতে আবশ্যিকভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত যিকির মুবারক উনার সাথে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত যিকির মুবারক করতে হয়। সুবহানাল্লাহ! উনার যিকির মুবারক ব্যাতীত কোন ইবাদত-বন্দেগীই মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত দরবার শরীফ-এ ক্ববূল হয় না। সুবহানাল্লাহ! এটা স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসীর উপর ফরয করে দিয়েছেন। যা সম্মানিত ও পবিত্র ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাদের দ্বারাই প্রমাণিত। সুবহানাল্লাহ!

স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই আশিক হয়ে উনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক উনার সাথে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক সংযুক্ত করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!:
এ সম্পর্কে হযরত হাস্সান বিন ছাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বলেন-
وَضَمَّ الْاِلٰهُ اسْمَ النَّبِـىِّ صلى الله عليه وسلم مَعَ اسْمِهٖ
اِذَا قَالَ فِـى الْـخَمْسِ الْمُؤَذِّنُ اَشْهَدُ
وَشَقَّ لَهٗ مِنَ اسْـمِهٖ لِيُجِلَّهٗ …
فَذُو الْعَرْشِ مَـحْمُوْدٌ وَّهٰذَا مُـحَمَّدُ صلى الله عليه وسلم
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই উনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বানাম মুবারক উনার সাথে উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক সংযুক্ত করে দিয়েছেন, যখন মুয়াযযিন পাঁচ ওয়াক্ত নামায উনার আযানে ‘আশহাদু’ বলে। সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত মর্যাদা মুবারক উনার বহিঃপ্রকাশ মুবারক ঘটানোর জন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই উনার নিজের সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক থেকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক বের করে এনেছেন। তাই সম্মানিত আরশ মুবারক উনার মালিক হলেন ‘মাহ্মূদ’ আর তিনি হলেন ‘মুহম্মদ’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।” সুবহানাল্লাহ! (দীওয়ানু হাসসান রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু ৪৭ পৃ., তাফসীরে বাগভী শরীফ ৮/৪৬৩, লাওয়ামি‘উল আনওয়ার ২/২৯৬)
‘শিফা’ শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে-
اِذَا ذُكِرْتُ ذُكِرْتَ مَعِـىْ فِـىْ قَوْلِ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
অর্থ: “যখন আমার সম্মানিত যিকির মুবারক, সম্মানিত আলোচনা মুবারক, করা হয়, তখন আমার সাথে আপনারও সম্মানিত যিকির মুবারক, সম্মানিত আলোচনা মুবারক, করা হয়। এই সম্মানিত বাক্য মুবারক দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছেন ‘সম্মানিত ও পবিত্র কালিমা শরীফ-
لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।” সুবহানাল্লাহ! (শিফা শরীফ ১/৬২)
হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত সম্মানিত ও পবিত্র বিশুদ্ধ হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَمِنَ الثَّالِثِ نُوْرَ اُنْسِهِمْ وَهُوَ التَّوْحِيْدُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
অর্থ: “সম্মানিত ৩য় অংশ নূর মুবারক থেকে মু’মিন উনাদের উন্ছের নূর মুবারক সৃষ্টি মুবারক করেন। আর তা হচ্ছেন সম্মানিত তাওহীদ মুবারক-
لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
(এই সম্মানিত ও পবিত্র কালিমা শরীফ) উনার সম্মানিত নূর মুবারক।” সুবহানাল্লাহ! (মাওয়াহিবুল লাদুননিয়্যাহ, আল বারাহীনুল ক্বিত্বইয়্যাহ, মাদারিজুন নুবুওওয়াত, ফতওয়ায়ে হাদীছিয়্যাহ)
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত উনার সমস্ত ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা এই সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফখানা উনাকে ছহীহ বলেছেন। সুবহানাল্লাহ!

একমাত্র যিনি খ¦ালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারাসহ তামাম কায়িনাতবাসীর কালিমা শরীফ :
عَنْ حَضْرَتْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ نَقْشُ خَاتَـمِ سُلَيْمَانَ بْنِ دَاوٗدَ عَلَيْهِمَا السَّلَامُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
অর্থ: “হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হযরত সুলাইমান ইবনে দাঊদ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত আংটি মুবারক-এ নকশা করে লিখা ছিলেন-
لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।” সুবহানাল্লাহ! (ফাওয়াইদ, আস সীরাতুল হালাবিয়্যাহ শরীফ ১/৩২০, তাফসীরে কুরতুবী শরীফ ১৫/২০০, খছায়িছুল কুবরা ১/১২, ‘উয়ূনুল আছার ১/৯৫)
হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মতে এই সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফখানা ছহীহ। কেননা তিনি এই সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা দলীল পেশ করেছেন। তিনি বলেন-
قُلْتُ وَيَدُلُّ لِكَوْنِهٖ مُرْسَلًا اِلَـى الْاَنْۢبِيَاءِ مَا وَرَدَ مِنْ حَدِيْثِ حَضْرَتْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ وَحَضْرَتْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ مَرْفُوْعًا كَانَ نَقْشُ خَاتَـمِ حَضْرَتْ سُلَيْمَانَ بْنِ دَاوٗدَ عَلَيْهِمَا السَّلَامُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
অর্থ: “আমি বলি, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিইয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম তিনি সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরও নবী ও রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন, এর দলীল হচ্ছেন হযরত ‘উবাদাহ ইবনে ছামিত রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার এবং হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার অর্থাৎ উনাদের উভয়ের থেকে বর্ণিত সম্মানিত ও পবিত্র মারফূ’ হাদীছ শরীফ- ‘হযরত সুলাইমান ইবনে দাঊদ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত আংটি মুবারক-এ নকশা করে লিখা ছিলেন-
لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’।” সুবহানাল্লাহ! (হাওই শরীফ ২/১৩৮, ফতওয়ায়ে রমলী ৬/১৪৬)
আর উছূল হচ্ছে মুজতাহিদ যদি কোন হাদীছ শরীফ দ্বারা দলীল পেশ করেন, তখন তা উনার নিকট ছহীহ হাদীছ শরীফ হিসেবে গণ্য। যেমন, এ সম্পর্কে আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ আমীমুল ইহ্সান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-
فَاِذَا اسْتَدَلَّ الْـمُجْتَهِدُ بِـحَدِيْثٍ كَانَ تَصْحِيْحًا لَّهٗ وَكَذَا الْـحَدِيْثُ الْـمُتَلَقّٰى بِالْـقَبُوْلِ مَحْكُوْمٌ بِالصِّحَّةِ وَاِنْ لَّـمْ يَكُنْ لَّهٗ اِسْنَادٌ صَحِيْحٌ
অর্থ: “যখন কোন মুজতাহিদ কোন হাদীছ শরীফ দ্বারা দলীল পেশ করেন, তখন তা উনার নিকট ছহীহ হাদীছ শরীফ হিসেবে গণ্য। অনুরূপভাবে মুজতাহিদগণ উনাদের বিশেষভাবে গৃহিত হাদীছ শরীফও ছহীহ হাদীছ শরীফ হিসেবে ধর্তব্য হবে, যদিও উক্ত হাদীছ শরীফ উনার ছহীহ সনদ পাওয়া না যায়।” (মীযানুল আখবার)
হাকিমুল হাদীছ, ইমামুল মুহাদ্দিছীন মিনাল আউওয়ালীন ইলাল আখিরীন, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আইম্মায়ে ত্বরীক্বত এবং অনুসরণীয় ইমাম, মুজতাহিদ ও আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের গৃহিত সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফসমূহ ছহীহ হিসেবে গণ্য, যদিও উক্ত সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের সনদ পাওয়া না যায়।” সুবহানাল্লাহ!
বিভিন্ন কিতাবে বর্ণিত রয়েছে-
وَوُجِدَ عَلـٰى حَجَرٍ بِالْـخَطِّ الْعِبْرَانِـىِّ بِاسْـمِكَ اللّٰهُمَّ جَاءَ الْـحَقُّ مِنْ رَّبِّكَ بِلِسَانٍ عَرَبِـىٍّ مُّبِيْنٍ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَتَبَهٗ حَضْرَتْ مُوْسَى بْنُ عِمْرَانَ عَلَيْهِ السَّلَامُ.
অর্থ: “একটি পাথরের উপর ইবরানী ভাষায় হস্তাক্ষরে এরূপ লেখা পাওয়া গেছে- আয় মহান আল্লাহ পাক! আপনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক-এ শুরু করছি। সত্য এসেছেন আপনার রব মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট আরবী ভাষাসহ
لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।’ সুবহানাল্লাহ! (তারপর হস্তাক্ষরে আরো লিখা রয়েছে,) এটা লিখেছেন হযরত মূসা ইবনে ইমরান আলাইহিস সালাম তিনি।” সুবহানাল্লাহ! (শরহুল বুখারী শরীফ ২/১১৮, আত তারীখুল কাবীর লিলবুখারী ১/৪৪৫, দালাইলুন নুবুওওয়াহ ২/৬২, খছায়িছুল কুবরা ১/৬২-৬৩, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১/১০৩, ফাইদুল ক্বদীর শরহুল জামিয়িছ ছগীর ১/২৩১, আস সীরাতুল হালাবিয়্যাহ শরীফ ১/৩২০, আল মাওয়াহিবুল লাদুননিয়্যাহ ১/৪৫৩ ইত্যাদী )
কাজেই একমাত্র মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারাসহ সমস্ত কায়িনাতবাসীর কালিমা শরীফ হচ্ছেন
لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
এ বিষয়ে সমস্ত উম্মতের ইজমা’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, ক্বিয়ামত পর্যন্ত কেউ কস্মিনকালেও শুধু
لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ
বললে ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত
مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ না বলবে। সুবহানাল্লাহ! যেমন, কিতাবে বর্ণিত রয়েছে-
كَلِمَةُ الْاِيْـمَانِ وَهِـىَ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِلْاِجْمَاعِ عَلـٰى اَنَّهٗ لَا يَعْتَدُّ فِـى الْاِسْلَامِ بِتِلْكَ وَحْدِهَا
অর্থ: “কালিমাতুল ঈমান বা সম্মানিত ঈমান মুবারক উনার কালিমা হচ্ছেন
لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
(লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। এই বিষয়ে সমস্ত উম্মতের ইজমা’ হয়েছে যে, কেউ যদি শুধু
لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ
বলে, তাহলে সে কস্মিনকালেও ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত
مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ না বলবে।”
সুবহানাল্লাহ! (মির‘আতুল মাফাতীহ ৬/৫৮)
হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বলেন,
وَلَوْ اَنَّ عَبْدًا عَبَدَ اللهَ وَصَدَّقَهٗ فِـىْ كُلِّ شَىْءٍ وَّلَـمْ يَشْهَدْ اَنَّ مُـحَمَّدًا رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَـمْ يَنْتَفِعْ بِشَىْءٍ وَّكَانَ كَافِرًا.
অর্থ: “যদি কোনো ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত-বন্দেগী করে এবং উনার যাবতীয় বিষয় বিশ্বাস করে, তারপরেও সে এক যাররা পরিমাণ ফায়দা লাভ করতে পারবে না এবং নিঃসন্দেহে সে কাফির; যদি সে সাক্ষ্য না দেয়,
اَنَّ مُحَمَّدًا رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে বাগভী শরীফ ৮/৪৬৩)
কাজেই, স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই মুহব্বত করে উনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক উনার সাথে উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার সব জায়গায়, সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক-এ, সাত আসমানের সব জায়গায় লিপিবদ্ধ করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! তাহলে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বুলন্দি শান মুবারক কতো বেমেছাল, তা এখান থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ!
উল্লেখ্য যে, এ বিষয়ে আরো অসংখ্য-অগণিত দলীল-আদিল্লাহ মওজূদ রয়েছে। এখানে কিছু সংখ্যক বর্ণনা মুবারক উল্লেখ করা হলো মাত্র। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার সম্মানার্থে আমাদের সবাইকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বুলন্দী শান মুবারক উপলব্ধি করে হাক্বীক্বী তা‘য়াল্লুক্ব-নিসবত, রেযামন্দি-সন্তুষ্টি, মুহব্বত-মা’রিফত, কুরবত মুবারক হাছিল করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]