স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দেয়ার প্রথা মুসলমানদের নয়


‘স্মৃতিস্তম্ভ’ ইংরেজিতে বলা হয়- `Monument’. World book -এ লেখা হয়েছে- monument is a structure usually a building or statue built in memory of a person or an event. অর্থাৎ স্মৃতিস্তম্ভ হচ্ছে- একটি অবকাঠামো, যা সাধারণত দালান জাতীয় অথবা মূর্তি, যেটা কোন ঘটনা বা ব্যক্তিকে স্মরণ রাখার জন্য বানানো হয়। এ ধরনের স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দেবার প্রথা চালু হয়, আমেরিকায় ১৮৬৬ সালে। এ প্রসঙ্গে Encyclopedia america লিখা হয়েছে, The custom of placing flower on the graves of the war dead began on may 1866 in watertoo, Nwe York. অর্থাৎ আমেরিকার গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পূর্বেই এ প্রথা সেখানে শুরু হয়। তবে এর আগেই আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চলে কিছু মেয়েরা স্মৃতি দিবস পালন ও ফুল দেবার সংস্কার চালু করেছিল বটে। এবং ১৯৭১ সালের পূর্বে ৩০শে মে তারিখে এই স্মরণীয় দিন পালন করা হতো। কিন্তু তারপরে তা মে মাসের শেষ বুধবারকে ধার্য করা হয় এবং আগে কেবল গৃহযুদ্ধে নিহত সৈন্যদের স্মরণে এই দিন পালন করা হলেও পরবর্তীতে স্প্যানিশ আমেরিকা যুদ্ধে, প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং কোরিয়া ও ভিয়েতনামের যুদ্ধে নিহতদের স্মরণও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। প্রথমদিকে গ্রান্ড আর্মির কমান্ডার জেনারেল ঔড়যহ ধ ষড়মধহ নির্দেশনায় সামরিক সদস্যদের দ্বারা এই সংস্কার চালু হলেও পরবর্তীতে কেবল সৈন্যদলই নয়, স্কাউট, বিভিন্ন সংগঠন এবং সাধারণ জনতাও সমাধিস্থলে পতাকা ও ফুল স্থাপন করাসহ বিশেষ কর্মসূচি পালন করে। World book -এ লিখা হয়েছে- On memorial day people place flowers and flags on the graves of military personnel, mane organi“ation, including boy scouts, girl scouts and fraternal groups much in military parades and take part in special programs.
উল্লেখ্য খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী আমেরিকানদের মাঝে স্মৃতিস্তম্ভে ফুল স্থাপনসহ অন্যান্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানাদি পালনের এই রেওয়াজ অন্যান্য দেশে ও অন্যান্য অমুসলিম বিধর্মীদের সংস্কৃতি বা মূল্যবোধেও পর্যায়ক্রমে অন্তর্ভুক্তি লাভ করে। বলাবাহুল্য, এসব কিছুর সাথে মিল রেখেই বর্তমানে আমাদের দেশে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় দিবসে ফুল স্থাপনসহ বিবিধ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। নাউযুবিল্লাহ!
এখন যেটা বলার বিষয়, সেটা হলো- পবিত্র দ্বীন ইসলাম কোনভাবেই বিধর্মীদের এসব রীতি-নীতিকে সমর্থন করে না। আর এই এই ফুল দেয়ার প্রথা মূলত শরীয়তের পরিভাষায় শিরকের অর্ন্তভুক্ত। তাই মুসলমান-ঈমানদার হলে অবশ্যই অবশ্যই এসব কু-প্রথা, শিরকী কাজ থেকে নিজেকে ও পরিবারের সকলকে রক্ষা করতে হবে এবং বন্ধ করার ব্যবস্থা নিতে হবে।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে