হযরত আবুল বাশার আলাইহিস সালাম এবং উনার সম্মানিতা আহলিয়া হযরত উম্মুল বাশার আলাইহাস সালাম উনারা মাসুম বা বেগুনাহ


হযরত আদম আলাইহিস সালাম এবং হযরত হাওওয়া আলাইহাস সালাম উনারা হচ্ছেন মানবজাতির আদি পিতা ও মাতা আলাইহিমাস সালাম। শুধু তাই নয়; উনারা উভয়ে হচ্ছেন কুল মাখলূক্বাতের নবী ও রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আদি পিতা ও আদি মাতা আলাইহিমাস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত। কাজেই, উনাদের সম্পর্কে কোনো কিছু বলতে হলে বা লিখতে হলে উনাদের শান মুবারক ঠিক রেখে বলতে হবে বা লিখতে হবে। অন্যথায় ইবলীসের ন্যায় অভিশপ্ত ও চিরজাহান্নামী হতে হবে। মূলত, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের মর্যাদা বা শান মুবারক বিরোধী কথাবার্তা যারা বলে থাকে বা লিখে থাকে তারা পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র সুন্নাহ শরীফ এবং পবিত্র আক্বাইদ শরীফ সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণেই বলে থাকে ও লিখে থাকে। যেমন কেউ বলে থাকে যে, হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি গন্ধম খেয়ে ভুল করেছিলেন। নাউযুবিল্লাহ! আবার কেউ বলে থাকে, তিনি গন্ধম খেয়ে একটা গুনাহ করেছিলেন। নাউযুবিল্লাহ! আবার কেউ বলে থাকে, তিনি গন্ধম খেয়ে খতা করেছেন, লগজেশ করেছেন অথবা মহান আল্লাহ পাক উনার আদেশ অমান্য করেছেন। নাউযুবিল্লাহ! প্রকৃতপক্ষে উল্লেখিত বক্তব্যসমূহের একটিও সঠিক নয়, বরং প্রত্যেকটি বক্তব্যই কাট্টা কুফরী। কারণ হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা ওহী মুবারক ব্যতীত কোনো কাজ করেন না কোনো কথাও বলেন না। যার পরিপ্রেক্ষিতে আক্বাইদ শাস্ত্রের সমস্ত কিতাবে উল্লেখ রয়েছে- হযরত হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রত্যেকেই মা’ছূম বা নিষ্পাপ। আরো উল্লেখ রয়েছে- হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রত্যেকেই ছগীরা (ছোট) কবীরা (বড়) কুফর-শিরক এবং অপছন্দনীয় কাজ থেকেও পবিত্র। (আক্বাইদে নাসাফী, আক্বাইয়ে হাক্কাহ, ফিক্বহুল আকবর ইত্যাদি) কাজেই, পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে পবিত্র আক্বাইদ শাস্ত্র অনুযায়ী হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি আক্বীদা পোষণ করতে হবে। অন্যথায় কারো পক্ষে মু’মিন-মুসলমান থাকা সম্ভব হবে না। অতএব, হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার জান্নাত থেকে যমীনে আগমনের সঠিক যে ঘটনা, তাহলো- মহান আল্লাহ পাক তিনি যখন হযরত আদম আলাইহিস সালাম ও হযরত হাওওয়া আলাইহাস সালাম উনাদেরকে আদেশ মুবারক করেছিলেন যে- لاتقربا هذه الشجرة. অর্থ: “আপনারা এই (গন্ধমের) গাছের নিকটবর্তী হবেন না।” (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৫) তখন উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার এ আদেশ মুবারক অনুযায়ী সে গাছের নিকটবর্তী হননি। বরং উক্ত গাছের অনুরূপ বিপরীত দিকের অন্য একটি গাছ দেখিয়ে ইবলীস শয়তান এসে হযরত হাওওয়া আলাইহাস সালাম উনাকে মিথ্যা কছম খেয়ে বলেছিল যে, যদি আপনারা এ গাছের ফল খান, তবে আপনারা ফেরেশ্তা হয়ে যাবেন অথবা স্থায়ীভাবে বেহেশ্তে বসবাস করতে পারবেন। কোনো কোনো বর্ণনা মুতাবিক তখন হযরত হাওওয়া আলাইহাস সালাম তিনি সে গাছ হতে ফল এনে শরবত বানিয়ে হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে খাইয়েছিলেন। অপর বর্ণনায়, ফল কেটে খাইয়েছিলেন। এ ঘটনা হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার অজান্তেই সংঘটিত হয়েছিল। সুতরাং যা অজান্তে সংঘটিত হয়, তা কি করে ভুল বা অপরাধ হতে পারে? বাস্তবিক তা কখনোই ভুল হতে পারে না। (সমূহ তাফসীরের কিতাব)

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]