হাদীয়ে যামান, ছহিবাতু ইলমে গইব, সাইয়্যিদাতুন নিসা, মুতহ্হারাহ্, মুতহ্হিরাহ্, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মহামূল্যবান নছীহত মুবারক


হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের অনুসরণে মু’মিনদের জীবন গড়ে তোলা দায়িত্ব-কর্তব্য

মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার সূরা তওবা শরীফ উনার ১২০নং আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,
مَاكَانَ لِاَهْلِ الْمَدِيْنَةِ وَمَنْ حَوْلَهُمْ مِنَ الْاَعْرَابِ اَنْ يَتَخَلَّفُوْا عَنْ رَسُوْلِ اللهِ وَلَايَرْغَبُوْا بِاَنْفُسِهِمْ عَنْ نَفْسِه.
অর্থ মুবারক: “আরব, আযম কারো জন্য জায়েয হবে না শাহিদুন নবী, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে পিছিয়ে থাকা এবং উনার থেকে নিজেদেরকে বেশি প্রাধান্য দেয়া।”
সুতরাং, সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রাধান্য দিতে হবে। যেমন মুহাব্বত করার ক্ষেত্রে সমস্ত কিছু থেকে উনাকে এবং উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে বেশী মুহাব্বত করতে হবে, তেমন তর্জ-ত্বরীকা মানার ক্ষেত্রেও সমস্ত তাগুতের অনুসরণ থেকে বিরত থেকে একমাত্র উনার তর্জ-ত্বরীকা মুবারক গ্রহণ করতে হবে।
আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কায়েম-মাক্বাম হিসাবে পরবর্তীতে যারা আসবেন; বান্দা-বান্দী, জ্বীন-ইনসান সকলের জন্য উনারা হবেন অনুসরণীয়। এ প্রসঙ্গে মহাসম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حضرت اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ اَلشَّيْخُ فِيْ اَهْلِه كَالنَّبِيِّ فِيْ اُمَّتِه وَ فِيْ رِوَايَةٍ اَلشَّيْخُ لِقَوْمِه كَالنَّبِيِّ فِيْ اُمَّتِه
অর্র্থ: “হযরত নবী আলাইহিস সালাম তিনি উম্মতের নিকট যেরূপ সম্মানিত ও অনুসরণীয়, হযরত শায়েখ বা মুর্শিদ আলাইহিস সালাম তিনিও উনার অধীনস্ত তথা মুরিদের নিকট তদ্রুপ সম্মানিত ও অনুসরণীয়।” (মাকতুবাত শরীফ, দাইলামী শরীফ)
সুতরাং বিষয়টি স্পষ্ট যে, যিনি নায়িবে নবী বা মুর্শিদ হবেন তিনি মুরিদের নিকট কেমন অনুসরণীয় এবং সম্মানিত হবেন। অর্থাৎ সম্মানিত শায়েখ উনাকে সর্বক্ষেত্রে, সর্বাবস্থায় প্রাধান্য দিতে হবে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, মহাসম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
اِنَّ اللهَ جَعَلَ الْحَقَّ عَلى لِسَانِ حَضَرَتْ عُمَر ابْنِ خَطَّابٍ عَلَيْهِ السَّلَامِ وَقَلْبِه وَهُوَ الْفَارُقُ فَرَّقَ اللهُ بِه بَيْنَ الْحَقِّ وَالْبَاطِلِ.
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক হযরত ফারুক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার যবান ও ক্বলব মুবারকে সত্য রেখেছেন। তিনি হচ্ছেন হযরত ফারুক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম। মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে হক্ব ও নাহক্বের পার্থক্য করেছেন।” (সুবহানা উম্মিল উমাম আলাইহাস সালাম)। (সুনানে আবূ দাউদ শরীফ)
বলা আবশ্যক, গোটা মহিলা জাতির মুরশিদা, সাইয়্যিদাতুন নিসা, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ী আহলিল জান্নাহ, রসূলী মহাধন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি উপরোক্ত মহাসম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার পরিপূর্ণ মিছদাক্ব। মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র যবান ও অন্তর মুবারকে চরম সত্য রেখেছেন, সে বিষয়টিই আমরা দেখতে পাই উনার প্রতিটি কর্ম, চিন্তা-চেতনা মুবারকে। উনার জবান ও অন্তর মুবারকের সেই সত্য বিষয়গুলি নি¤েœ তুলে ধরব। (ইনশাআল্লাহ)
সাইয়্যিদাতুন নিসা, সাইয়্যিদাতু নিসায়ী আহলিল জান্নাহ, রসূলী মহাধন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার বেমেছাল রুহানী কুওয়াত সম্পন্ন চিন্তা-চেতনা, কর্ম মুবারক উনার দ্বারা আমাদেরকে মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টির পথে পরিচালিত করে যাচ্ছেন।
সাইয়্যিদাতুন নিসা, মুত্বহ্হারাহ, মুত্বহহিরাহ, রসূলী মহাধন হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মহামূল্যবান নছীহত মুবারক থেকে আমরা যা বুঝতে পেরেছি তা তুলে ধরার কোশেশ করেছিÑ
লক্ষণীয় বিষয় হল, সমস্ত কাফেররা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার শত্রু। সেই প্রেক্ষিতে মুসলমানগণ উনাদেরও শত্রু। এই নিকৃষ্ট কাফেররা সবসময় একজোট এবং তাদের কার্যাবলিও থাকে এক। তারা যদি নিজেরা একটা কাফের সমাজ তৈরী করতে পারে, দুনিয়ার পুজারী- গাইরুল্লাহ তালাশী তারা যদি ঘর-সংসার ত্যাগ করে সারাদিন দুনিয়ার পিছনে ছুটতে পারে, তাহলে আমরা যারা ঈমানদার দাবী করি আমরা কেন শরীয়তের মধ্যে পর্দায় থেকে ঈমানদার সমাজ তৈরী করতে পারিনা? ঈমান-আমল, পরকাল এবং মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য কেন আমরা পরস্পর পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের অনুসরণে জীবন-যাপন করতে পারি না?
মূলত: আমরা মহাসম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনাকে মুফতে লাভ করেছি, এজন্য মহাসম্মানিত দ্বীন-ইসলাম উনার ক্বদর আজ আমাদের মাঝে নেই। নাঊযুবিল্লাহ! যদি ক্বদর থাকত তাহলে আমলের মাধ্যমেই বিষয়টির বহিঃপ্রকাশ ঘটতো।
মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম ও হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের জীবনী মুবারকে আমরা দেখতে পাই, উনারা নুরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত মুবারক হিসেবে পেয়ে উনার পরিপূর্ণ অনুসরণ করার মাধ্যমে সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মতের পরিচয় দিয়েছেন। উনারা খাওয়া-পরা, সংসার, কাপড়-চোপড়, বিলাসিতা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন না, বরং প্রতিটি মুহূর্তে সম্মানিত দ্বীন-ইসলাম উনার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। উনাদের জান-মাল, আল-আওলাদ সমস্ত কিছু মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় বিলীন করে দিয়ে আমাদের জন্য সম্মানিত দ্বীন ইসলাম প্রতিষ্ঠিত করে গিয়েছেন। যা উনাদের আমলের মাধ্যমেই ফুঁটে উঠতো।(সুবহানা উম্মিল উমাম আলাইহাস সালাম)
বিশেষভাবে উল্লেখ্য, মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম ও হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার মুবারক সন্তুষ্টির লক্ষ্যে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার জন্য জিহাদ করাকে সমস্ত কিছুর ঊর্ধ্বে প্রাধান্য দিতেন। নিজেদের ব্যক্তিগত চাহিদা বা দুনিয়াবী বিলাসিতাকে উনারা কখনই প্রাধান্য দিতেন না। যার কারণে দেখা যায়, সবকিছু উনাদের অনুকুলে থাকা সত্ত্বেও উনারা অনেক সময় না খেয়েও জিহাদ করেছেন। উনারা কখনো হালাল কামাইয়ের অযুহাত দিয়ে কাফের-মুশরিক, ফাসেক-ফুজ্জারদের গোলামীর মাধ্যমে উপার্জন করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হাদিয়া দেননি বা নেক কাজে শরীক থাকেননি।
এমনকি উনারা পরস্পর পরস্পরের প্রতি ছিলেন সহানুভূতিশীল। উনাদের মাঝে কেউ যদি কারো গোলাম থাকতেন তাহলে অপরজন উনাকে কিনে আযাদ করে দিতেন, যেন তিনি মহাসম্মানিত দ্বীন-ইসলাম সঠিকভাবে পালন করতে পারেন। (সুবহানা উম্মিল উমাম আলাইহাস সালাম)
শুধু তাই নয়, উনারা নিজের থেকে অন্যকে অধিক প্রাধ্যন্য দিতেন। যেমন ইয়ারমুকের জিহাদ চলাকালীন এক সময়ে, হযরত ইকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু তিনি সৈন্য উনাদেরকে একথা বললেন, “আপনাদের মধ্যে কে আছেন যে, সম্মানিত শাহাদাত মুবারক উনার উপর বাইয়াত গ্রহণ করবেন?” উনার সম্মানিত আহবান মুবারকে সাড়া দিলেন উনার চাচা হারিস ইবনে হিশাম রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু, হযরত দিরার ইবনে আযওয়ার রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু এবং আরো চারশত মুসলিম সৈনিক। উনারা তুমুলভাবে জিহাদ করে খ্রিস্টান দেরকে কচুকাটা করে দিলেন। এই ইয়ারমুকের ময়দানেই আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেল হযরত হারিস ইবনে হিশাম রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু, হযরত আইয়্যাশ ইবনে আবী রবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু এবং হযরত ইকরামা ইবনে আবূ জাহেল রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু উনাদেরকে। হযরত হারিস ইবনে হিশাম রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু তিনি পানি চাইলেন। যখন উনাকে পানি দেওয়া হলো, হযরত ইকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু তিনি তখন উনার দিকে তাকালেন। হযরত ইকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু উনার চাহনী দেখে হযরত হারিস ইবনে হিশাম রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু তিনি পানি পান না করে বললেন, “হযরত ইকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু উনাকে পানি দিন।” পানির পাত্রটি যখন হযরত ইকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু উনার নিকট নিয়ে যাওয়া হলো তখন হযরত আইয়্যাশ ইবনে আবী রবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু তিনি উনার দিকে তাকালেন। তা দেখে হযরত ইকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু তিনি বললেন, “হযরত আইয়্যাশ ইবনে আবী রবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু উনাকে পানি দিন।” হযরত আইয়্যাশ ইবনে আবী রবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু উনার কাছে যখন পানির পাত্রটি নিয়ে যাওয়া হলো, দেখা গেল, তিনি শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন। অতঃপর পানির পাত্রটি হযরত ইকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নিকট নিয়ে যাওয়া হলে দেখা গেলো হযরত ইকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনিও পবিত্র শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন। অতঃপর হযরত হারিস ইবনে হিশাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নিকট পানির পাত্র নিয়ে গিয়ে দেখা গেলো তিনিও পবিত্র শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন। সুবহানা উম্মিল উমাম আলাইহাস সালাম!
কত সুমহান ছিল উনাদের কাজ মুবারক! আর এ সমস্ত মহান কাজের মাধ্যমেই উনারা শান্তি পেতেন। আর এর বিপরীত বিষয়গুলো ছিল উনাদের নিকট ঘৃন্য, অপছন্দনীয়।
কিভাবে কামাই রোজগার করতে হবে, সংসার চলবে এ সমস্ত চিন্তা-ভাবনা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে কখনোই স্পর্শ করত না। উনারা দায়িমীভাবে পবিত্র কুরআন শরীফ-পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের উপর উনার আমল করতেন এবং সেই আমলের উপরই ইস্তেকামত থাকতেন। যার ফলে উনারা সবসময় গায়েবী মদদ লাভ করতেন।
বলার অপেক্ষা রাখে না, উনারাই আমাদের মহান আদর্শ মুবারক।
আখিরী যামানার উম্মত, আমরা যেন উনাদের অনুসরণে নিজেদের জীবন শরীয়ত মোতাবেক গড়ে তোলার মাধ্যমে উনাদের ন্যায় নিয়ামত মুবারক লাভ করতে পারি সেজন্য মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা অত্যন্ত ইহসান মুবারক করে আমাদেরকে সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত মুবারক হিসেবে দিয়েছেন যামানার মুজাদ্দিদ, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনাকে এবং উনারই যাওজাতুম মুতহ্হারাহ সাইয়্যিদাতুন নিসা, সাইয়্যিদাতু নিসায়ী আহলিল জান্নাহ, রসূলী মহাধন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাদেরকে। উনারা নুরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরই হাক্বীক্বী কায়িম-মাক্বাম এবং আমাদের মহাসম্মানিত প্রাণপ্রিয় শায়েখ আলাইহিমুস সালাম।
কিন্তু আমরা উনাদেরকে সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত মুবারক হিসেবে লাভ করার পরও কেন কামাই-রোজগারের জন্য কাফের-মুশরিকদের দিকে, দুনিয়ার দিকে; সার্টিফিকেটের জন্য, ক্যারিয়ার গঠনের জন্য কলেজ-ভার্সিটির দিকে রুজু? অথচ মহাসম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حضرت اَنَسِ ابْنِ مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالى عَنْهُ قَالَ قَالَ النَّبِىُّ ﷺ اِذَا مُدِحَ الْفَاسِقُ غَضِبَ الرَّبُّ اِهْتَزَّ الْعَرْشُ وَ
অর্থ মুবারক: “হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যখন ফাসেকের প্রশংসা করা হয় তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি এত অসন্তুষ্ট হন যে মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত আরশ মুবারক ও পবিত্র রোব মুবারক উনার কারণে কাঁপতে থাকে।” (মিশকাত শরীফ)
মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মর্মে যদি একজন ফাসেকের প্রশংসা করলে মহান আল্লাহ পাক তিনি এত অসন্তুষ্ট হন তবে একজন ফাসেকের গোলামী করলে মহান আল্লাহ পাক তিনি কত অসন্তুষ্ট হন?
আমাদের এইসব আমলের মাধ্যমে কি প্রমাণিত হয় আমরা মুসলমান, আমরা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের অনুসারী, আমাদের মহাসম্মানিত শায়খে আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে আমরা সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত মুবারক এবং পরিপূর্ণ মনে করি?
যদি পরিপূর্ণই মনে করি, তাহলে তো কামাই-রোজগারের জন্য কাফের-মুশরিকদের দিকে, দুনিয়ার দিকে; সার্টিফিকেটের জন্য, ক্যারিয়ার গঠনের জন্য কলেজ-ভার্সিটির দিকে রুজু থাকার কথা নয়।
আমাদের অন্তরে এক রকম আর মুখে আরেক রকম। এটা হচ্ছে মুনাফিকী স্বভাব।
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا
অর্থ মুবারক: হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচ এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও। (সূরা তাহরীম-৬)
একথা না বললেই নয়, মহান আল্লাহ পাক উনার এই নির্দেশ মুবারক আমাদের কতটুকু পালন করা হচ্ছে। যদি পালন করা হত তাহলে তো সম্মানিত শরীয়ত উনার বাইরে চলার কথা ছিলো না। আমার আমলে কী প্রকাশ পায়; আমি কি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার তর্জ-ত্বরীকা পছন্দ করি নাকি কাফের-মুশরিকদের তর্জ-ত্বরীকা পছন্দ করি? যদি আমি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার তর্জ-ত্বরীকাই পছন্দ করি তাহলে তো আমার সন্তানের ক্যারিয়ার গঠনের জন্য কলেজ, ভার্সিটিতে বেপর্দা অবস্থায় কুফরী সিলেবাসের পড়াশুনা করার কথা নয়। সেই সাথে আহলিয়া, মেয়েকে তা’লীম-তালক্বীন নেয়ার জন্য সাইয়্যিদাতুন নিসা, সাইয়্যিদাতু নিসায়ী আহলিল জান্নাহ, রসূলী মহাধন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার ছোহবত মুবারকে ১মাসে/২মাসে ১বার কি ২বার পাঠানোর কথা নয় বরং আরও বেশী পাঠানোর কথা। এমনকি ছেলেকে বিয়ে করানোর ক্ষেত্রেও দুনিয়াবী পড়াশুনা করা বেপর্দা মেয়ে বিবাহ করানোর কথা নয়।
পরিশেষে মহাসম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত একটি ঘটনা উল্লেখ করতে হয়, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রধান্য না দিয়ে মুনাফিক ছালাবা দুনিয়ার দিকে আসক্ত হওয়ার কারণে উনার পবিত্র ছোহবত মুবারক থেকে সে আস্তে আস্তে দূরে সরে পড়ে। প্রথমদিকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পিছনে সে পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করতো, অতঃপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের মধ্যে দুই ওয়াক্ত নামায পড়তে আসতো। এরপর আরো কমিয়ে সপ্তাহে একবার আসতো। পরবর্তীতে দুনিয়াবী কাজে এমন ব্যস্ত হয়ে পড়লো যে তাও সম্ভব হলো না। এভাবেই সে রহমত মুবারক থেকে আস্তে আস্তে দূরে সরে যেতে যেতে একসময় মহান আল্লাহ পাক উনার বিধানকে অস্বীকার করে বসলো। (নাউযুবিল্লাহ) যার ফলশ্রুতিতে তাকে এই দুনিয়া থেকে ঈমানহারা হয়ে বিদায় নিতে হলো। (নাউযুবিল্লাহ)
মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট সাইয়্যিদাতুন নিসা, মুত্বহ্হারাহ, মুত্বহহিরাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়ী আহলিল জান্নাহ, রসূলী মহাধন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম এবং যামানার মুজাদ্দিদ, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনাদের উছিলায় আমরা মুরীদ দাবীদার পুরুষ-মহিলা সকলে ছালাবার এরূপ মুনাফিকী কাজ এবং কঠিন পরিণতি থেকে পানাহ চাই।
মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদাতুন নিসা, মুত্বহ্হারাহ, মুত্বহহিরাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়ী আহলিল জান্নাহ, রসূলী মহাধন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র জবান ও অন্তর মুবারকে যে সত্য রেখেছেন আমরা সকলে যেন এ মহান সত্যকে গ্রহণ করে নিজেদের ভুলগুলো সংশোধন করে যামানার মুজাদ্দিদ, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদাতুন নিসা, মুত্বহ্হারাহ, মুত্বহহিরাহ হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাদের পবিত্রতম ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করত: রহমত মুবারক হাছিল করে উনাদের পবিত্র নুরুদ দারাজাত মুবারকে সন্তুষ্টিচিত্তে ইস্তেকামত থেকে ঈমানের সাথে ইন্তেকাল করতে পারি।
মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদাতুন নিসা, মুত্বহ্হারাহ, মুত্বহহিরাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়ী আহলিল জান্নাহ, রসূলী মহাধন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার সম্মানার্থে আমাদেরকে সেই তৌফিক দান করেন। আমীন! আমীন! আমীন!

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে