হারাম ছবি তুলে ও বেপর্দার কারণে নিষেধ না করা হলেও করোনা ও ছোঁয়াচের অজুহাতে পবিত্র হজ্জ ঠিকই বন্ধ করা হয়েছে! এখন উলামায়ে সূ’দের ফতওয়া কোথায়?


যদি বলা হয় হজ্জ করা হারাম; তাহলে কি মানবেন? কখনোই মানবেন না। আর যদি বলা হয় ছবি তোলা, ভিডিও করা হারাম, বেপর্দা হওয়া হারাম তাহলে মানতে চান না কেন?
পবিত্র হজ্ব সমগ্র মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, সংহতি ও সাম্যের প্রতীক। পবিত্র দ্বীন ইসলামের অন্যতম ভিত্তি। তবে পবিত্র হজ্ব করতে হলে কোন অপবিত্র কাজ করা যাবে না তথা কোন হারাম ও নাজায়িয কাজ করা যাবে না। হারাম ও নাজায়িজ কাজ করার সম্ভবনা থাকলে হজ্জ আর ফরয থাকে না।
কিন্তু এই পবিত্র হজ্ব করার ক্ষেত্রে মানুষ কিন্তু ঠিকই হারাম কাজ করছে তথা ছবি তুলছে, ভিডিও করছে, বেপর্দা হচ্ছে ইত্যাদি। যার ফলে হজ্জের শর্ত ভঙ্গ হচ্ছে, আর হজ্জ ফরয থাকছে না। আর হজ্জ করলেও হজ্জে মাবরুর হচ্ছে না। কিন্তু এসবের তোয়াক্কা না করে এবং উলামায়ে ছূদের বিভ্রান্তমূলক মিথ্যা ফতওয়ার কারণে সাধারণ মানুষ ঠিকই হজ্জ করছে। একটি ফরয আদায় করতে গিয়ে হাজারো-কোটি কবীরা গোনাহ করছে।
কখনো উলামায়ে সূ’গং কিন্তু এসব বন্ধ করতে বলেনি। কিংবা এসব হারাম কাজ করে হজ্জ হবে না মর্মে কোন ফতওয়া দেয়নি। বরং উল্টা এসব হারাম কাজ করে হজ্জ করতে উৎসাহ দিয়েছে। নাউযুবিল্লাহ!
কিন্তু বর্তমানে যে করোনা ও ছোঁয়াচের অজুহাতে হজ্জ ঠিকই বন্ধ করা হয়েছে সে দিকে কিন্তু উলামায়ে ছূদের কোন ভ্রুক্ষেপ নাই। কোন ফতওয়া নেই। এখন তারা বোবা শয়তান সেজে বসে আসে। এখন কেন হজ্জের ব্যাপারে উৎসাহ দিচ্ছে না? কোন ফতওয়া দিচ্ছে না? অথচ হজ্জে বাধা দেয়া কঠিন কবীরা গোনাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اِنَّ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا وَ یَصُدُّوۡنَ عَنۡ سَبِیۡلِ اللّٰهِ وَ الۡمَسۡجِدِ الۡحَرَامِ الَّذِیۡ جَعَلۡنٰهُ لِلنَّاسِ سَوَآءَۨ الۡعَاکِفُ فِیۡهِ وَ الۡبَادِ ؕ وَ مَنۡ یُّرِدۡ فِیۡهِ بِاِلۡحَادٍۭ بِظُلۡمٍ نُّذِقۡهُ مِنۡ عَذَابٍ اَلِیۡمٍ
অর্থ: নিশ্চয়ই যারা কুফরী করে এবং মহান আল্লাহ পাক উনার পথ থেকে ফিরে রাখে ও পবিত্র মসজিদে হারামে যেতে বাধা দেয় (তথা পবিত্র হজ্জ করতে বাধা দেয়), যাকে আমি স্থানীয় ও বহিরাগত সকলের জন্য সমান করেছি। আর যে ব্যক্তি সীমালঙ্ঘন করে সেখানে পাপকাজ করতে চায়, তাকে আমি যন্ত্রণাদায়ক আযাব আস্বাদন করাব। (পবিত্র সূরা হজ্জ শরীফ; পবিত্র আয়াত শরীফ ২৫)
উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ থেকে একথা স্পষ্ট যে, পবিত্র হজ্জ করতে যারা বাধা দেয় তারা মূলত কাফির। এমনকি যারা প্রতিবাদ করে না তারা উলামায়ে সূ’ ও মুনাফিক হিসেবে পরিগণিত। যাদের জন্য রয়েছে কঠিনতর শাস্তি। নাউযুবিল্লাহ!
মূলত ছবি-সিসি ক্যামেরা-ভিডিও-টিভি ও বেপর্দার কারণে পবিত্র হজ্জ বন্ধে নিষেধাজ্ঞা ও ফতওয়া না দিলেও গতবছর ও এবছরও কিন্তু করোনা ও ছোঁয়াচের কারণে ঠিকই হজ্জ বন্ধ করে দিয়েছে। নাউযুবিল্লাহ!
তবুও বিশ্বের মুসলমানরা বেখবর! অজ্ঞ মানুষদের জন্য আপসোস!!!
তবে হ্যাঁ! যদি সত্যিই ফরজ ইবাদত হজ্জের জন্য কারো মায়া বা দরদ থাকে, তবে সেটা রাজারবাগ দরবার শরীফ উনারই আছে। কারণ হজ্জ বন্ধ করার একমাত্র প্রতিবাদ উনারাই জানিয়েছেন। সৌদি এ্যাম্বাসিতে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
এতদিন “ছবি তুলে, বেপর্দা হয়ে পবিত্র হজ্জ করা যাবে না” এই ফতওয়া শুনে যারা চিৎকার করে উঠতো, বলতো- “হজ্জের মত একটা গুরুত্বপূর্ণ ফরজ না করলে কিভাবে হবে? ছবি তুলতে লাগলে তুলবো।”
কিন্তু আজকে যখন করোনা ও ঁেছায়াচের অজুহাতে সৌদি শাসক গোষ্ঠী হজ্জ বন্ধ করে দিয়েছে, তখন সেই গোষ্ঠিটাই এখন বোবা। উল্টা সেই বোবা শয়তানের গোষ্ঠিই এখন ইতিহাসের দোহাই দিয়ে মনগড়া ফতোয়া দিচ্ছে যে, ইতিপূর্বেও নাকি বহুবার হজ্জ বন্ধ করা হয়েছিলো।
তারা (তারিখুল ইসলাম, আয যাহাবি, ২৩/৩৭৪); (ইবনে কাছীর, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ১১/১৪৫); (ইবনু জাওযি, আল মুনতাজাম, ৯/১৬৬) ইত্যাদি উল্লেখিত কিতাবের বরাত দিয়ে বলতে চাচ্ছে অতীতেও বহুবার হজ্জ বন্ধ করা হয়েছিল।
কিন্তু উল্লেখিত কিতাব আমরা অধ্যয়ন করে দেখেছি যে, সব কারণগুলোই মূলত জালিম শাসক, অনৈতিক, অনাচার ও ব্যক্তিগত ক্ষমতালোভের কারণে ও রাজনৈতিক পদ হাছিল ও শাসকদের স্বার্থের জন্য আবার কোন এক রোগকে মহামারি নাম দিয়ে তারা পবিত্র হজ্জ বন্ধ করেছিলো। যেমনটা এ বছরও করোনা-গযবকে মহামারী নাম দিয়ে হজ্জ বন্ধ করার ষড়যন্ত্র করেছিলো কিন্তু কিছু লোক ঠিকই হজ্জ করেছে। নাউযূবিল্লাহ!
এসব তো কোন শরঈ দলীল নয়। এসবের দোহাই দিয়ে কোন ফতওয়া দেয়া যাবে না। পবিত্র হজ্জ বন্ধ করা যাবে না। কেননা পবিত্র কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা শরীফ ও ক্বিয়াস শরীফ অনুসারে হজ্ব বন্ধ করার কোন যুক্তি ও দলীল নেই। বরং হজ্ব বন্ধ করলে কঠিন শাস্তির কথাই বর্ণিত রয়েছে। নাউযূবিল্লাহ!
মূলত তাদের কাছে এখন পবিত্র হজ্জের থেকে করোনার ভয় বেশি। জালিম শাসকদের ভয় বেশী।
আজকে যখন সৌদি সরকার হজ্জ বন্ধ করে দিয়েছে, তখন সকলের মুখে কুলুপ এঁটে রেখেছে, আসলে এদের হজ্জের জন্য প্রকৃত মুহব্বত ছিলো না, পুরোটাই ছিলো টাকা ইনকামের ধান্ধা নয়ত ঘুরতে যাওয়ার মুহব্বত। যদি সত্যিই ফরজ ইবাদত হজ্জের জন্য কারো মায়া বা দরদ থাকত তবে তারা কখনোই করোনার অজুহাতে হজ্জ বন্ধ করার ফতওয়া দিতো না।
আফসোস! এসব উলামায়ে সূ’ ও তাদের অনুসারীদের জন্য।
তবে মুসলিম ও মুমিনদের উচিত! এদের থেকে সকলেই সাবধান থাকা এবং হারাম ও বেপর্দা থেকে হিফাজত থেকে পবিত্র হজ্জ আদায়ের কোশেশ করা। এবং পবিত্র হজ্জে বাঁধাদিলে-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা। এসবই ঈমানী দায়িত্ব।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]