হিমাগার তৈরির ব্যাপারে কোনো গুরুত্বই দিচ্ছে না সরকার;


মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘নিশ্চয়ই অপচয়কারী শয়তানের ভাই।’
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘প্রত্যেকেই রক্ষক সে তার রক্ষিত বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।’ ‘দৈনিক আল ইহসান শরীফ’ উনার মাধ্যমে বারবার নছীহত করার পরও হিমাগার তৈরির ব্যাপারে কোনো গুরুত্বই দিচ্ছে না সরকার; যা সত্যিই দুঃখজনক। পর্যাপ্ত হিমাগার না থাকায় প্রতি মৌসুমেই শাক-সবজি, তরি-তরকারি, ফল-ফলাদি ইত্যাদির বাম্পার ফলন হওয়া সত্ত্বেও সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং যায়।
প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের বাজেটের টাকার চাইতেও অনেক বেশি টাকা শাক-সবজি, তরি-তরকারি, ফল-ফলাদি ইত্যাদি রফতানি করেই সংগ্রহ করা সম্ভব হবে ইনশাআল্লাহ। অতএব, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রায় সবগুলো থানাতেই কমপক্ষে দুই লাখ টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন কমপক্ষে ৫০০ হিমাগার তৈরি করা সরকারের জন্য একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য।
– ক্বওল শরীফ: সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম
ছাহিবু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ছাহিবে নেয়ামত, আল ওয়াসীলাতু ইলাল্লাহ, আল ওয়াসীলাতু ইলা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, সুলত্বানুন নাছীর, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, সংরক্ষণের অভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে শাক-সবজি, তরি-তরকারি, ফল-ফলাদি ইত্যাদি পচে নষ্ট হয় এমনকি গোখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয় বলে প্রতিহ মৌসুমেই খবর পাওয়া যায়। এর বিপরীতে পূর্ববর্তী বছর রাশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে আলু রফতানি করা হয়েছে প্রায় ৫০ টাকা কেজি করে। ১২ লাখ টন আলু রফতানি করা হয়েছিলো, আরো করা সম্ভব। উল্লেখ্য, ২ কোটি টন আলু রফতানি করতে পারলে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা আয় করা সম্ভব। যা বাংলাদেশের বর্তমান বাজেটের প্রায় অর্ধেকের বেশি। এছাড়া অন্যান্য তরি-তরকারি, শাক-সবজি রফতানি করতে পারলে দেখা যাবে শুধুমাত্র তরি-তরকারি ও শাক-সবজি রফতানির মাধ্যমেই বাংলাদেশের বাজেটের টাকা সংগ্রহ করার পরও টাকা উদ্বৃত্ত থাকবে ইনশাআল্লাহ! বিশেষ করে ‘দৈনিক আল ইহসান’সহ অন্যান্য পত্র-পত্রিকায়ও এ সংক্রান্ত খবর প্রচুর এসেছে ও আসছে।

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, আমাদের দেশে শাক-সবজি, তরি-তরকারি, ফল-ফলাদি ইত্যাদি উদ্বৃত্ত হয় যেমন, তেমনি ঘাটতিও আছে। মৌসুমে শাক-সবজি তরি-তরকারি, ফল-ফলাদি ইত্যাদি যে পরিমাণ উৎপন্ন হয় তা দেশের চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত থাকে বিপুল পরিমাণ। যা সাধারণভাবে চিন্তা করা অত্যন্ত কঠিন। তরি-তরকারি শাক-সবজির ৮০ ভাগই উৎপাদিত হয় শীত মৌসুমে। শীতকালের অল্প সময়ের মধ্যে বিভিন্ন সবজি এতো অধিক উৎপন্ন হয় যে, শেষ পর্যন্ত সেগুলো কেনার লোক থাকে না। বিপুল উদ্বৃত্ত এবং ক্রেতার অভাবে তখন সেগুলো বিক্রি হয় পানির দরে। অনেক ক্ষেত্রে কৃষকের পরিবহন খরচও উঠে আসে না। উৎপাদন বেশি হলে শাক-সবজি পচে নষ্ট হয়। এর কারণ আমাদের দেশে শাক-সবজি সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা নেই। হিমাগারের ভয়াবহ সঙ্কট। অথচ ফলমুল, শাক-সবজি, তরি-তরকারি সংরক্ষণের যথাযথ উদ্যোগ নেয়া হলে একদিকে যেমন চাষী লাভবান হবে, তেমনি সাধারণ নাগরিকও অনেক কম দামে সবকিছু খেতে পারবে। গত শীত মৌসুমে শুধু আলুই উৎপাদন হয়েছে প্রায় তিন কোটি টন। অথচ আমাদের দেশে আলুর চাহিদা মাত্র প্রায় ৪০ লাখ থেকে ৫০ লাখ টন।

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, দেশের প্রায় প্রতিটি থানায় যদি হিমাগার তৈরি করে তরি-তরকারি, ফল-ফলাদি, শাক-সবজি ইত্যাদি সংরক্ষণ করা যায়, তবে এ সংরক্ষণের দ্বারা একদিকে যেমন দেশের চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে; আর পাশাপাশি তা বিদেশে রফতানি করে লাখ লাখ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, সকল কৃষকই বলছেন তারা আলু ও তরি-তরকারি, শাক-সবজি সংরক্ষণের জন্য হিমাগার পাচ্ছেন না। এর ফলে তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। একই অবস্থা টমেটো, বাঁধাকপি, ফুলকপি, বেগুন, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচসহ অন্যান্য সবজির বেলায়ও। কৃষকের ফসল ঘরে তোলার সময় এই অবস্থা প্রায় প্রতি বছরই দেখা যায়। পিক পিরিয়ডে পণ্য সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয় আর অফ সিজনে বাজারে অগ্নিমূল্য থাকে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের কোনো পথ কেউই দেখাননি। অনুরূপ ফল-ফলাদি যেমন তরমুজ, বাঙি, খিরাই, পেয়ারা, বরই ইত্যাদি সংরক্ষণের অভাবে ও নষ্ট হয়ে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আবার অফ সিজনে অগ্নিমূল্য হচ্ছে। ফলে মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত শ্রেণীর লোকজন ইত্যাদি ফল-ফলাদি থেকে মাহরূম হচ্ছে।

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, দুই লাখ টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন হিমাগার তৈরি করতে সর্বোচ্চ ৩৫০ কোটি টাকা লাগবে। সে হিসেবে কমপক্ষে ৫০০টি হিমাগার তৈরি করতে সর্বোচ্চ মাত্র ১ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। ৫০০টি হিমাগারে ১০ কোটি টন খাদ্য সংরক্ষণ সম্ভব। যার ফলে কোনো প্রকার খাদ্যদ্রব্য নষ্ট হবে না। তা ধান, চাল, গম, ভুট্টা, তরি-তরকারি, শাক-সবজি, ফল-ফলাদি ইত্যাদি যাই হোক না কেন। অতএব, সরকারের উচিত- জনগণ ও দেশের স্বার্থে অতিসত্বর উল্লেখকৃত সংখ্যক হিমাগার তৈরি করা।

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “প্রত্যেকেই রক্ষক; তাকে তার রক্ষিত বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।” আর খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, “ফোরাতের তীরে একটা কুকুরও যদি না খেয়ে থাকে, তবে আমাকে (আমি হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালামকে) তার জন্য জবাবদিহি করতে হবে।”

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, বাংলাদেশে আপাতত খাদ্যের চাহিদা মাত্র প্রায় ৮ কোটি টন। ১০ কোটি টন খাদ্যসামগ্রী যদি সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়; তাহলে আশা করা যায় দেশে আর কোনো খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হবে না। আর ১ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা একটা দেশের জন্য খুব বেশি নয়। এ টাকাটা ১ বৎসরেই প্রয়োজন হবে, তা নয়। কারণ এতোগুলি হিমাগার তৈরি করতে কয়েক বৎসর প্রয়োজন। এতদ্বপ্রেক্ষিতে সরকারের উচিত, অবিলম্বে প্রায় প্রত্যেক থানায় কমপক্ষে একটি করে সর্বমোট ৫০০টি সরকারি হিমাগার বানিয়ে কৃষকের স্বার্থ সংরক্ষণ করা এবং না-খাওয়া মানুষ তথা সাধারণ মানুষের জন্য কম মূল্যে খাদ্য কেনার ব্যবস্থা করা; যা ইহকাল ও পরকালে কামিয়াবীর উসীলা হবে।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]