১৯: মহান আল্লাহ পাক উনার একত্ব প্রকাশের এক বিষ্ময়কর প্রতীক


মহান আল্লাহ পাক কালামুল্লাহ শরীফ-এ ইরশাদ করেন-

عَلَيْهَا تِسْعَةَ عَشَرَ

অর্থ: এর উপর (আছে) ঊনিশ। (সূরা মুদ্দাসসির, আয়াত শরীফ: ৩০)

সূরা মুদ্দাসসিরের পরের আয়াত শরীফ-এ মহান আল্লাহ পাক ঊনিশের কারণ ব্যাখ্যা করছেন এভাবে-

وَمَا جَعَلْنَا أَصْحَابَ النَّارِ إِلا مَلائِكَةً وَمَا جَعَلْنَا عِدَّتَهُمْ إِلا فِتْنَةً لِلَّذِينَ كَفَرُوا لِيَسْتَيْقِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ وَيَزْدَادَ الَّذِينَ آمَنُوا إِيمَانًا وَلا يَرْتَابَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ وَالْمُؤْمِنُونَ وَلِيَقُولَ الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ وَالْكَافِرُونَ مَاذَا أَرَادَ اللَّهُ بِهَذَا مَثَلا كَذَلِكَ يُضِلُّ اللَّهُ مَنْ يَشَاءُ وَيَهْدِي مَنْ يَشَاءُ وَمَا يَعْلَمُ جُنُودَ رَبِّكَ إِلا هُوَ وَمَا هِيَ إِلا ذِكْرَى لِلْبَشَرِ

অর্থ: আমি ফেরেশতাদের ছাড়া জাহান্নামীদের প্রহরী হিসেবে অন্য কাউকে নিযুক্ত করিনি এবং তাদের সংখ্যাকে কাফিরদের জন্য একটি পরীক্ষার মাধ্যম বানিয়ে দিয়েছি। এর মাধ্যমে আহলে কিতাবরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস স্থাপন করতে পারবে এবং ঈমানদারদের ঈমান বৃদ্ধি পাবে। সর্বপোরি এর ফলে আহলে কিতাব ও মুমিনরা কোনরূপ সন্দেহে নিপতিত হবে না। আর যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে এবং যারা কাফির তারা বলে যে, আল্লাহ পাক তিনি এই উক্তি দ্বারা কি বুঝাতে চান? এভাবেই যারা গোমরাহীর মধ্যে দৃঢ় থাকে তাদেরকে মহান আল্লাহ পাক তিনি গোমরাহীর দিকে ধাবিত করেন এবং হক্ব তালাশীদের হক্ব পথ প্রদর্শন করেন। আর মহান আল্লাহ পাক উনার সৈন্য সংখ্যা সম্পর্কে তিনি ছাড়া কেউই অবগত নন। আর এটা শুধু যারা উপদেশ গ্রহণ করে তাদের জন্য। (সূরা মুদ্দাসসির, আয়াত শরীফ: ৩১)

সুতরাং, ঊনিশের কারণ হচ্ছে-

১) কাফিরদের জন্য একটি পরীক্ষার মাধ্যম,

২) এর মাধ্যমে আহলে কিতাব ও ঈমানদারদের ঈমান দৃঢ় হয়,

৩) আহলে কিতাব ও মুমিনদের সন্দেহ দূরীভূত হয় এবং

৪) যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে এবং যারা কাফির তাদের অন্তরের ব্যাধিকে প্রলম্বিত করে।

ঊনিশের কারণ সুস্পষ্ট হওয়ার পরও যারা গোমরাহীর মধ্যে দৃঢ়, যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে এবং যারা কাফির তারা বলে থাকে যে, কেন ঊনিশ? সতের বা একুশ নয় কেন?  মূলত: মহান আল্লাহ পাক উনার একত্ব প্রকাশের এক বিষ্ময়কর প্রতীক হচ্ছে ঊনিশ।

মহান আল্লাহ পাক উনার একটি নাম মুবারক হচ্ছে “ওয়াহিদ”। “ওয়াহিদ” শব্দে মোট চারটি অক্ষর ওয়াও (و), আলিফ (ا), হা (ح) ও দাল (د)। আবজাদ অনুযায়ী এই অক্ষর চারটির মান দাঁড়ায় যথাক্রমে ৬, ১, ৮ ও ৪; এদের যোগফল অর্থাৎ ৬ + ১ + ৮ + ৪ = ১৯। অর্থাৎ ১৯ দ্বারা মহান আল্লাহ পাক উনার একত্বকে সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করে।

মহান আল্লাহ পাক কালামুল্লাহ শরীফ-এর অন্যত্র ইরশাদ করেন,

هُوَ الأوَّلُ وَالآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ

অর্থ: মহান আল্লাহ পাক তিনিই প্রথম ও তিনিই শেষ, তিনিই প্রকাশ্য ও তিনিই গোপন; তিনি সবকিছু সম্পর্কেই সম্যক অবগত। (সূরা হাদীদ, আয়াত শরীফ: ৩)

তাহলে দেখা যাচ্ছে, ঊনিশ দ্বারা মহান আল্লাহ পাক উনার একত্বের বিষয়টিকে যেমন উপস্থাপন করছে তেমনি মহান আল্লাহ পাক উনি যে অনাদি ও অনন্ত সে বিষয়টিও উপস্থাপিত হচ্ছে।

অতএব, ঊনিশ হচ্ছে অনাদী-অনন্ত সত্ত্বা মহান আল্লাহ পাক উনার একত্ব প্রকাশের এক বিষ্ময়কর প্রতীক যা গোমরাহ ও কাফিরদের  অন্তরের গোমরাহীকে প্রলম্বিত করে আর মুমিনদের সন্দেহ দূরীভূত করে ঈমান সূদৃঢ় করে।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

৬ Comments

Leave a Reply

[fbls]
  1. আলহামদুলিল্লাহ ,খুব সুন্দর পোষ্ট। :star:

  2. আরো বিস্তারিত আছেকি? তবে খুবই সুন্দর পোষ্ট!! শুকরিয়া!!!

    1. @বাংলা ব্লগ, আপনাকে ধন্যবাদ। বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করার জন্য চেষ্টা করবো।

  3. লজিক২০১০ says:

    :rose: :rose: :rose: ধন্যবাদ

  4. :rose: :rose: নিয়ামতে অপরিসীম :rose: :rose:
    :rose: :rose: করেন খোদা বর্ষীন :rose: :rose:
    :rose: :rose: সন্তুষ্টি হয় হাছিল :rose: :rose:
    :rose: :rose: পবিত্র ১৯ শরীফ। :rose: :rose:

    শুকরিয়া :pizza: