৪ (চার)-এর মাহাত্ম্য


মহান আল্লাহ পাক এই নশ্বর পৃথিবীতে অসংখ্য নিয়ামতরাজি জ্বিন-ইনসানের জন্য প্রেরণ করেছেন। আর মহান আল্লাহ পাক প্রদত্ত এই অসংখ্য নিয়ামতরাজির মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত হচ্ছেন রহমতুল্লিল আলামীন, রউফুর রহীম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি। উনার জন্যই সৃষ্টি হয়েছে কুল-কায়িনাত এবং উনিই হচ্ছেন ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক। আর ইসলামের অনেকগুলো বিষয় রয়েছে; যা ৪ সংখ্যাটির সাথে সম্পৃক্ত। আমরা ৪ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে যৎকিঞ্চিত আলোকপাতের চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।

(১) হাদীছ শরীফ থেকে আমরা জানতে পারি যে, মহান আল্লাহ পাক সর্বপ্রথম সৃষ্টি করেন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূর মুবারক। অতঃপর মহান আল্লাহ পাক যখন কুল-কায়িনাত সৃষ্টির ইচ্ছা করলেন তখন তিনি নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূর মুবারককে ৪ অংশ মুবারক-এ বিভক্ত করলেন। আর ৪ সংখ্যাটির মাহাত্ম্যের সূচনা এখান থেকেই।

(২) মহান আল্লাহ পাক উনার লফজ আল্লাহ এই শব্দ মুবারক লিখতেও ৪টি হুরুফ মুবারক (অক্ষর মুবারক) যথা- ‘আলিফ’, ‘লাম’, ‘লাম’ এবং ‘হা’ এর প্রয়োজন হয়। ঠিক একইভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার যিনি হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক লিখতেও সমান সংখ্যক অর্থাৎ ৪টি হুরুফ মুবারক-এর প্রয়োজন হয়, যথা- ‘মীম’, ‘হা’, ‘মীম’ এবং ‘দাল’ ‘আলিফ’, ‘হা’, ‘মীম’ এবং ‘দাল’।

(৩) মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে দিবস মুবারক-এ যমীনে তাশরীফ আনেন অর্থাৎ ১২ই শরীফ, উক্ত দিবস মুবারকও ৪ সংখ্যাটি দ্বারা বিভাজ্য। যেমন- ১২=৪ঢ৩। এখানে আরেকটি বিষয় উল্লেখ্য যে, ৪ সংখ্যাটির সাথে যে ৩ সংখ্যাটি রয়েছে তা দ্বারা আবার চন্দ্র বছরের ৩ মাস রবীউল আউয়াল শরীফকে নির্দেশ করে।

(৪) মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ৪ জন আবনাউহু (মুবারক ছেলে সন্তান ) ও ৪ জন বানাতুহু (মুবারক মেয়ে সন্তান) ছিলেন।

(৫) সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নতী টুপি মুবারকে ৪টি টুকরা মুবারক ছিল।

(৬) সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খুলাফায়ে রশিদীন ছিলেন মোট ৪ জন।

(৭) মহান আল্লাহ পাক তিনি অসংখ্য অগণিত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, তবে উনাদের মধ্যে প্রধান হচ্ছেন ৪ জন।

(৮) মহান আল্লাহ পাক তিনি যুগে যুগে অনেক নবী-রসূল আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনাদেরকে জ্বিন ও ইনসানের হিদায়েতের জন্য পাঠিয়েছেন। আবার উনাদের কারো কারো উপর তিনি নাযিল করেছেন আসমানী কিতাব। আর এই আসমানী কিতাবের মোট সংখ্যা হচ্ছে ১০৪ খানা, তবে প্রধান হচ্ছে ৪ খানা। এখানে আরো একটি ব্যাপার উল্লেখ্য যে, এই ১০৪ সংখ্যাটিও ৪ দ্বারা বিভাজ্য, যেমন ১০৪=৪x২৬।

(৯) মহান আল্লাহ পাক উনার প্রধান দিক সৃষ্টি করেছেন ৪টি যথা- পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর এবং দক্ষিণ।

(১০) ইসলাম ধর্মে মাযহাবের ইমাম ৪ জন। আবার তরীক্বার ইমামও ৪ জন অর্থাৎ মাযহাবের সংখ্যা ৪টি (হানাফী, মালিকী, শাফিয়ী এবং হাম্বলী)। আবার তরীক্বার সংখ্যাও ৪টি (ক্বদরীয়া, চিশতিয়া, নকশবন্দীয়া এবং মুজাদ্দীদিয়া)।

(১১) সর্বোপরি ইসলামের দলীলও ৪টি। যথা- ক্বুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা এবং ক্বিয়াস। আবার আরবীতে দলীল লিখতে প্রয়োজন পড়ে ‘দাল’-এর।

বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, বর্তমান যামানার যিনি মুজাদ্দিদ ও ইমাম, খলীফাতুল্লাহ খলীফাতু রসূলিল্লাহ, মুজাদ্দিদে আ’যম, হাবীবে আ’যম ঢাকা রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র নাম মুবারক-এর প্রথম অক্ষরও হলো ‘দাল’। আর আবযাদ অনুযায়ী ‘দাল’-এর মান হচ্ছে ৪।

সুতরাং দলীল মানেই ৪ অর্থাৎ ক্বুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা এবং ক্বিয়াস। তাহলে যেই বা যারা এই ৪ দলীল মানবে না বা এর বাইরে কথা বলবে তাদের কোন কথাই গ্রহণযোগ্য নয়, বরং তারা গোমরাহ, বাতিল ও কাফিরের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং গাউছুল আ’যম, হাবীবে আ’যম, মুজাদ্দিদে আ’যম ঢাকা রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাকে অনুসরণ অনুকরণ করার অর্থই হলো উপরোক্ত ৪টি দলীল তথা ক্বুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা এবং ক্বিয়াস-এর অনুসরণ অনুকরণ করা। মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের সকলকে সে তাওফীক্ব দান করুন। আমীন

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

৭ Comments

Leave a Reply

[fbls]
  1. :rose: এই ৪ এর মাঝে কি রাজ লুকানো???? :rose:
    অসংখ্য ধন্যবাদ চমৎকার পোষ্টটির জন্য
    [img]http://www.sabujbanglablog.net/wp-content/uploads/2011/09/four roses.jpg[/img]

  2. raseldk says:

    খুব ভাল তাহাকিক। ভালো লাগলো। :rose:

  3. হাদীছ শরীফ এ ইরশাদ হয়েছে- “ফিকরুছ্ছাতিন খইরুম্মিন ইবাদি ছিত্তিনা ছানা”। কিছুক্ষণ সময় চিন্তা-ফিকির করা ষাট বছর ইবাদতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। সুবহানাল্লাহ!
    পোস্টটি এই হাদীছ শরীফ এর আমলেরই রুপ।