৭শ’ বছর আগের মসজিদে আজান-নামাজ শুরু


জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার পাঠানপাড়ায় কয়েক শতাব্দি ধরে পরিত্যক্ত থাকা মসজিদে পুনরায় আজান ও নামাজ শুরু হয়েছে। শতাধিক বছর পর হলেও আপন পরিচয়ে ফিরেছে মসজিদটি। গত মঙ্গলবার জোহরের নামাজ আদায়ের মাধ্যমে পুনরায় পরিত্যক্ত এ মসজিদে আজান ও নামাজ চালু হয়।

কয়েকশ বছর আগে থেকে মসজিদের আশপাশে হিন্দুদের বসতি গড়ে উঠে। মসজিদটিও হিন্দুদের মালিকানায় চলে যায়। ১৯৭২ সালে স্থানীয় ২ জন মুসলমান হিন্দু মালিকদের কাছ থেকে পাঁচ একরের মতো ভূমি কেনেন। তারপর থেকে এ মসজিদটিও মুসলিমদের মালিকানায় চলে আসে। কিন্তু গত প্রায় ৫০ বছর ধরেও মসজিদটিতে নামাজের উদ্যোগ নেয়নি কেউ।

তবে ব্রিটিশ আমল থেকে ভূমির কিছু অংশ মসজিদ হিসেবে চিহ্নিত ছিল বলে জানা যায়। তখন ভূমি অফিসের দায়িত্বশীলরা তাদেরকে মসজিদের তত্ত্বাবধায়ক এবং অবশিষ্ট ভূমির মালিকানা প্রদান করে দলিল করে দেন।

হাজার বছরের পুরনো মসজিদটির অবকাঠামো প্রায় ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ ৭শ’ বছর পরিত্যক্ত থাকায় এটির ইটের গাথুনি খুলে খুলে পড়ছে। ধ্বংসপ্রায় মসজিদটির আঙ্গিনায় সামিয়ানা টানিয়ে গত মঙ্গলবার স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় মুসল্লিরা নামাজ পড়েছেন।

উপজেলার পাঠানপাড়ায় অবস্থিত মসজিদটি শত শত বছর ধরে পরিত্যক্ত ছিল। স্থানীয়দের ধারণা, প্রায় হাজার বছর আগে সুলতানি আমলে নির্মিত এ মসজিদ। মসজিদটির সামনে রয়েছে সান বাধানো পাকা ঘাট এবং প্রাচীন পুকুর। যা দেখে সহজেই অনুমান করা যায় যে, এখানে হয়তো কোনো নগরের অস্থিত্ব ছিল।

পরিত্যক্ত থাকা ঐতিহাসিক এ মসজিদে আজান ও নামাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে খুশির আমেজ তৈরি হয়েছে। অনেককেই আনন্দ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে আনন্দে বলতে থাকেন, দীর্ঘ দিন পর হলেও আপন পরিচয়ে ফিরেছে পাঠানপাড়ার এ মসজিদ।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]