‘জান দেব তবু সীমান্তের ভূমি ছাড়ব না’


জান দেব তবু সীমান্তের ৫০ একর ভূমির একটি কণাও ছাড়ব না- এমনই প্রতিজ্ঞায় বুক বেঁধেছেন তামাবিল ও পাদুয়া সীমান্তের এলাকাবাসী। এ ব্যাপারে জনসচেতনতা বাড়াতে সিলেটের সীমান্তবর্তী ৫ উপজেলায় জনসভার প্রস্তুতি নিচ্ছে আমরা জৈন্তাবাসীনামের একটি সংগঠন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে এ তথ্য জানিয়েছেন সংগঠনটির পৃষ্ঠপোষক সিলেট-৪ আসনের সাবেক এমপি দিলদার হোসেন সেলিম। তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার থেকেই সংগঠনের উদ্যোগে গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জে পৃথক ৫টি জনসভা আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকার ভূমি রক্ষা এবং জনগণের আতঙ্ক দূর করতে এসব জনসভার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। আমাদের রাজনৈতিক কোনো উদ্দেশ্য নেই। আমাদের ভূখ- রক্ষার স্বার্থেই আমরা এ ধরনের উদ্যোগ নিয়েছি। এদিকে গতকাল মঙ্গলবার তামাবিল জিরো পয়েন্ট ও পাদুয়া সীমান্ত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি সীমান্ত এলাকার দেশপ্রেমিক লোকজন বিক্ষোভে ফেটে পড়ছেন। মানবপ্রাচীর গড়ে তারা নিজ ভূমি রক্ষা করবেন বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন। বিজিবি ও প্রশাসনকে আড়াল করে উচ্চ পর্যায়ের জরিপ টিম ভারতকে বাংলাদেশের ভূখ- তুলে দিতে এই জরিপ কাজ করছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডিসেম্বর থেকে সীমান্তে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য সীমান্ত পিলার পরিদর্শন, অপদখলীয় ভূমি চিহ্নিতকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে ভারত-বাংলাদেশ জয়েন্ট বাউন্ডারি ওয়ার্কিং গ্রুপ’-এর যৌথ জরিপ কাজ শুরু হয়। বিএসএফ ও ভারতীয় নাগরিকরা বিভিন্ন সময়ে নানা অজুহাতে জরিপ কাজে বাধা দেয়। গত ৬ মাস ধরে একাধিক বৈঠকের পরও জরিপ কাজ করতে দেয়নি বিএসএফ ও ভারতীয় নাগরিকরা। গত ২ ও ৩ জুন ভারতীয় হাই কমিশনার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব পর্যায়ে ঢাকা-দিল্লি ও ডাউকী এবং নলজুরী ডাক বাংলোয় একাধিক বৈঠকের পর পুনরায় জরিপ কাজ শুরু হয়।

কুলুমছড়া এলাকার আব্দুল আজিজ, মফু মিয়া, পাদুয়া সীমান্ত গ্রামের সোবহান মিয়া, মোকলেছ আলীসহ শতাধিক গ্রামবাসী জানান, ব্রিটিশ আমল থেকে তারা এই এলাকায় বাস করে আসছেন। ফসল ফলানো এবং কৃষিকাজ তাদের জীবিকা নির্বাহের প্রধান উৎস। কিন্তু গত দুবছর ধরে ভারতীয় বিএসএফের বাধার কারণে তারা কৃষিকাজ করতে পারছেন না।

তারা আরও জানান, ১৯৫২ ও ২০০২ সালে সীমান্তের জরিপ কাজ হয়। সীমান্তের এই ভূমি এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তি ও সরকারের নামে রেকর্ডভূক্ত হয়। এলাকাবাসীরা বলেন, ভারতীয় নাগরিক ও বিএসএফ বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় মসজিদ, মাদ্রাসা, কবরস্থান, কৃষি ও ফসলী জমির ফসল জবর দখল করে নিয়ে যায়। এমনকি যালিম বিএসএফ সহায়তায় ভারতীয় খাসিয়ারা আমাদের গরু, মহিষ ও ছাগল ধরে নিয়ে যায়। তারা বলেন, ভারতের এই আগ্রাসী তৎপরতা আমরা জীবন দিয়ে হলেও প্রতিরোধ করব।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশের জরিপ টিমের প্রধান দবির উদ্দিন বলেন, সীমান্ত এলাকায় মানুষের প্রতিরোধের মুখে জরিপ কাজ ব্যাহত হয়েছে। উচ্চ পর্যায়ে আলোচনার পর এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম চৌধুরী বলেন, সীমান্তের অপদখলীয় জমি নিয়ে র্দীঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি অনুযায়ী সীমানা নির্ধারণ করলে সীমান্ত সমস্যার সমাধান হবে।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

৩ Comments

Leave a Reply

[fbls]
  1. খবরের সোর্স দিলে ভালো হয়। :clover:

    1. @মুস্তাফিজ, সোর্স দেখুন দৈনিক আল ইহসান

  2. ভাই এরকম দেশপ্রেমিক পোষ্টগুলাই দরকার। আমরা এতদিন ‘দিল’ দিছি ভারতরে তাই এখন জমি দেয়াও শুরু করছি। আফসুস আমগো সরকারের লাগি