সবুজ বাংলা ব্লগ

সবুজ বাংলা ব্লগ

বিভাগবিহীন

আভিজাত্য

  মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ট জীব। এ উপাধি প্রাপ্ত হয়েছে তার মেধা , মনন , বিবেক , বুদ্ধি , জ্ঞান , প্রজ্ঞা , বিচার এ সমস্ত গুণাবলীর অধিকারী হিসাবে। আবার এ গুলো অর্জন করতে হলে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিক্ষা-নিরীক্ষায় উত্তীর্ণতার মাধ্যমে প্রকৃত পরিচয় দিতে হয়। এ গুণাবলী অর্জিত হলে মনুষত্ব ও মানবতা সম্পন্ন পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্তা গ্রহণ করে সমাজ , সামাজিকতায় স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের দাবীদার রুপে প্রতিষ্টা পেতে হয়। পশুকে পশুত্ব অর্জন করতে হয় না। সে পশু হয়ে এবং পশুত্ব নিয়েই জন্ম লাভ করে। বানরকে যেমন প্রচেষ্টার মাধ্যমে কিছু অক্ষর বা আচরণ শিখানো যায়। তাই বলে সে শিক্ষিত হতে পারে না। শিক্ষা লাভ সম্ভব নয় , হতে পারে না। তা হতে পারে অনুকরণীয়। কিন্তু মানুষ , মানবতা ও মনুষত্ববোধে সচেতন হতে হলে চাই শিক্ষা এবং শিক্ষা লাভের সঙ্গে জীবনের যথার্থ ক্ষেত্রে প্রায়োগিক সম্পন্নতা একান্ত জরুরী। তখনই সফল ও সার্থক জীবন বোধ বলে বিবেচিত হয়। হোক সে কর্ম , আচার-আচরণ ইত্যাদিতে। প্রকৃত ও বাস্তবতার নিরিখে পরিণত হয় মহৎ ও মহান ব্যক্তিত্বে। এক শ্রেণীর মানুষ অহংবোধ হৃদয়ে লালন করে স্বযত্নে নিজের আভিজাত্য প্রকাশের মাধ্যমে। হোক তা আচার-আচরনে , পোষাক-পরিচছদে , কথা-বার্তায় , চাল-চলনে। কিন্তু নৈতিক চরিত্রের পুরোপুরি অধিকারী একজন মানুষ তা বর্জিত হতে হবে। তার চলনে-বলনে একটা সত্য ও শ্বাশত সুন্দর জীবন ব্যবস্তা পরিস্ফুট হয়ে উঠে মার্জিত শালীনতা , ভদ্রোচিত অমায়িকতায়। সে ক্ষেত্রে থাকবে না আমিত্বের আহাজারী বা আর্তি। আভিজাত্যের অন্ধকার অমানিশায় ডুবন্ত হয় গলাবাজ , চাপাবাজ বা পেশীবাজ। ওরা সকলের উর্ধ্বে জ্ঞানী , গুণী , মহৎ ও মহান , ধনী বড় ইত্যাদি ভাবে নিজকে। অনুপ্রাণিত হয়ে জীবনে সর্বক্ষেত্রে প্রতিষ্টার নিমিত্তে জীপন পণ বাজী রাখে। প্রকৃত মানুষ কি পারে এ সমস্তকে আঁকড়ে ধরতে ? না তা হয় না , হতে পারে না ? আর জোর করে কিছু আদায় করা যেমন যায় না , তেমনি অর্জিত হয় না সুস্ত , সুন্দর জীবন যাত্রায় শালীনতা। এক্ষেত্রে ইচছাই হল মানুষের বড় প্রয়োজনীয়। সুপথে চলার তাগিদ অন্তরে লালন করে বা ধারণ করে সম্ভব অনায়াসে সৎ ও সততার মাধ্যমে জীবন নির্বাহ। প্রয়োজনের অতিরিক্ত খরচ বা ব্যয় করাকে অপচয় বা অপব্যয় বলা হয়ে থাকে। অনেক মানুষকে দেখা যায় কোন কোন সময় তার টাকার প্রাচুর্য্যতা আছে বুঝাতে সকল সময় প্রয়োজনের অধিক ব্যয় করতে। যেমন সাইফুল সর্বদা গোপনে স্টার সিগারেট পানে অভ্যস্ত। কিন্তু লোক সম্মুখে লীফ বা তার উর্ধ্বে ক্রয় করছে। কখন ও তার ব্যতিক্রম থাকতে পারে। চলা , সময় ও পরিবেশ অনেক সময় বাধ্য করে অত্যধিক ব্যয়ে। কিন্তু আমার কথা এ ক্ষেত্র ব্যতীত আভিজাত্যের প্রকাশ ঘটাতে যা , সে ক্ষেত্রের সম্পর্কে। জৌলুস , আভিজাত্য অহংকারেরই একটা অংশ। অহংকারের অন্ধত্বে বিশ্বাসী মানুষ কাজ করতে অনেক সময় লজ্জাবোধ করে। ( সব নয়) পিতা , ভাই প্রবাসী বলে ছেলে বা ভাই হয়ে উঠে কর্ম বিমুখ। গ্রামে প্রবাদসম বা লোক মুখে প্রচলিত আছে , ” পিতা বা ভাই বিদেশ। সুতরাং ছেলে বা ভাই কাজ করলে ইজ্জতের হানি হবে ”। এ মন মানসিকতা ধারণ করে অপচয় , অপব্যয়ে আপাদ মস্তক হয় নিমজ্জিত। কিন্তু এ ছেলে বা ভাই প্রবাসে গিয়ে যে অমানসিক , অমানবিক পরিশ্রমে লিপ্ত হয়ে অনাগত দিনের সঞ্চয়ে আগ্রহী হয়ে উঠে তা কল্পনাতীত। এ মন মানসিকতার পরিবর্তন অত্যন্ত জরুরী। পরিবর্তিত হলে দেশ ও জাতীর উন্নয়ন অবশ্যম্ভাবী। কাজে অনীহা বা অনভ্যস্ততা হেতু প্রবাস প্রবণতা ও কারিগরী বিদ্যা লাভে বিমুখতা কষ্টের কারন হয়ে দাড়ায়। অনেকে ( সব নয় )আবার প্রবাসী নাম ধারণ করে ও কর্মের প্রতি অনিহায় ভবিষ্যত উজ্জলের পরিবর্তে নিম্ন গামীতায় ভোগেন। অপচয় বা অপব্যয়ের ধারাবাহিকতায় অত্যন্ত কষ্ট সাধ্য জীবন যাপন করেন। অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সদস্য হয়ে প্রবাসে যা রুজি করেন অপরিকল্পিত ভাবে তাৎক্ষণিক জৌলুসে ব্যয় করে জনক জননীর প্রতি করেন অবিচার। ( সব নয়)। মানসিক যন্ত্রণায় হন কাতর। আমি কাউকে হেয় বা কটাক্ষ করার মন মানসিকতায় কলম ধরি নাই। আমি বলছি সমাজ সামাজিকতায় , জীবন যাত্রায় যাতে প্রত্যেকটি সদস্য প্রচছন্ন সুন্দরতায় এগিয়ে যাবার মাধ্যমে সুখি , সমৃদ্ধি ও সফলতর জীবন ব্যবস্তায় এগিয়ে আসেন বা যাপন করেন একটি সুস্ত্য , সুন্দর আঙ্গিনায় বিচরণের মাধ্যমে। এ প্রত্যাশা সবার কাছে , প্রত্যেকের তরে। অপরের নিন্দা বা অপবাদ বলে বেড়ানো এক শ্রেণীর মানুষের বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে। এছাড়া কোথা ও তার বসে আলাপ করার নেই। প্রসঙ্গ যাই হোক ঘুরে ফিরে নিন্দনীয় এবং অপবাদ অন্যের তুলে ধরা তার মজ্জাগত অভ্যাস। উল্টো দিকে ঘুরালে দেখবেন আপনি উচচ পদস্ত যার নামই বলুন ও তারই পরিচিত বা আত্বীয় ইত্যাদি। এ শ্রেণীকে আপনি কথা প্রসঙ্গে বা সমাজে বাস্তবতায় যতই লজ্জা দেন না কেন , এতে কিছুই যায় আসে না । অমুক মন্ত্রী আমার এই , তমুক অফিসার আমার বন্ধু ইত্যাদি। যাকে বলা যায় গলাবাজ। কিন্তু মানুষ সবই বুঝে এখন সচেতনতার সহিত বিবেক বিবেচনায়। ওদের লজ্জা ও নেই। আবার এ আচরণ পরিত্যাগ করতে পারে না , বিবেক জাগ্রত হয় না। লজ্জা ইমানের অংশ। ওদের বেলা হয়েছে গ্রামে প্রচলিত একটি প্রবাদের মত। প্রবাদ হচেছ ” আগল বেঠির লাজ নেই , দেখল বেঠির লাজ” তুল্য। শেষ পর্যন্ত পরাজয় হয়। কিন্তু মধ্য খানে মানুষ ও সমাজকে করে তুলে বিষাক্ত , দুর্বিসহ। তবে তা সাময়িক। সাময়িক হলে ও মানুষ কষ্ট পায়। এক শ্রেণীর মহিলা আছেন পিতৃ গৃহে কাজ বাদী তুল্য করেই এসেছেন। কিন্তু স্বামী গৃহে এসে অহংকারে মাটিতে পা ফেলতে নারাজ আধুনিকতার ছোঁয়াছে। স্বামী যদি পক্ষাবলম্বন করে তবে সোনায় সোহাগা। নতুবা পরিবারে কাল বৈশাখির ঝড়ে লন্ড ভন্ড হতে কতক্ষণ। বেশি সময় নয়। এক পলকে জ্বলে পুড়ে ছারখার। বিস্তারিত

1 টি মন্তব্য

  • নিভৃত পথচারী

    পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
    عن حضرت عامر رضى الله تعالى عنه قال سـمعت النعمان بن بشير رضى الله تعالى عنه يقول سـمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول ان فى الـجسد مضغة اذا صلحت صلح الـجسد كله واذا فسدت فسد الـجسد كله الا وهى القلب
    অর্থ : হযরত আমির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমি হযরত নু’মান বিন বশীর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে বলতে শুনেছি। তিনি বলেন, আমি শুনেছি যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “মানব শরীরে এক টুকরা গোশত রয়েছে, তা পরিশুদ্ধ হলে গোটা শরীর পরিশুদ্ধ হবে এবং তা বিনষ্ট বা ধ্বংস হলে গোটা শরীর ধ্বংস হবে। সাবধান! উক্ত গোশতের টুকরাটি হলো ক্বলব বা অন্তর।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, দারিমী শরীফ, মুসনাদে আহমদ শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ, মিশকাত শরীফ, মাছাবীহুস সুন্নাহ শরীফ)
    সাধারণত মুহলিকাতের (বদ খাছলত) কারণে ক্বলব বিনষ্ট হয়। আর মুনজিয়াতের (নেক খাছলত) কারণে ক্বলব পরিশুদ্ধ হয়। অতএব, মুহলিকাত ও মুনজিয়াত সম্পর্কিত ফরয পরিমাণ পবিত্র ইলম অর্জন করাও প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য ফরয। তাই এখানে মুহলিকাত ও মুনজিয়াত সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো।

    মুহলিকাত-এর বিবরণ
    মুহলিকাত مهلكات ওই সমস্ত বদ খাছলত বা কুস্বভাবকে বলে, যে সমস্ত বদ খাছলত মানুষকে বা মানুষের অন্তরকে ধ্বংস বা হালাক করে দেয়।
    এ প্রসঙ্গে জনৈক বুযুর্গ কবি বলেন- “তুমি যদি চাও, তোমার অন্তর আয়নার মতো পরিষ্কার হোক, তবে তুমি তোমার অন্তর থেকে বদ স্বভাবসমূহ বের করে দাও।”
    এ সমস্ত বদ খাছলত হচ্ছে- ১। কিবর (অহঙ্কার), ২। হাসাদ (হিংসা), ৩। বোগয (শত্রুতা), ৪। গদ্বব (রাগ), ৫। গীবত (পরনিন্দা), ৬। হিরছ (লোভ),৭। কিযব (মিথ্যা), ৮। বোখল (কৃপণতা), ৯। রিয়া (লোক দেখানো),
    ১০। গুরুর (ধোঁকাবাজী), ১১। কিনা (দুশমনী), ১২। ত্বমা (হালাল-হারাম না দেখে ভবিষ্যতে পাওয়ার আশা করা), ১৩। কাছীরুল কালাম (অতিরিক্ত কথা বলা), ১৪। শরফ (সম্মান কামনা করা), ১৫। হুব্বেজাহ (প্রভুত্ব প্রিয়তা), ১৬। হুব্বুদ দুনিয়া (দুনিয়ার মুহব্বত), ১৭। খোদপছন্দী (আত্মগৌরব), ১৮। কুওওয়াতে শাহওয়াত (কামশক্তি), ১৯। খতা (ভুল, মোহ বা ভ্রম), ২০। হুব্বুল মাল (মালের মুহব্বত), ২১। নিফাক্ব (কপটতা), ২২। গাফলত (অলসতা), ২৩। শাবয়ান (অধিক আহার করা), ২৪। খছম (ঝগড়া), ২৫। নাম্মাম (চোগলখোরী), ২৬। ফুহুশ (অশ্লীলতা), ২৭। মুনাজিরা (তর্ক), ২৮। বদ দোয়া (অভিশাপ), ২৯। তোহমত (অপবাদ), ৩০। মকর (ধোঁকাবাজী), ৩১। শেকায়েত (খারাপ বলা, দোষ বর্ণনা করা), ৩২। বদ গুমান (কুধারণা), ৩৩। আফাতুল লিসান (জবানের খারাবী), ৩৪। জুব্ন্ (ভীরুতা), ৩৫। আযল (তাড়াহুড়া করা), ৩৬। কুফর (অস্বীকার করা), ৩৭। আমাল (অবৈধ আকাক্সক্ষা), ৩৮। জিহালত (অজ্ঞতা) ইত্যাদি।
    উদাহরণস্বরূপ “রিয়া” নামক বদ খাছলতের কথা বলা যেতে পারে। রিয়াকারী ব্যক্তির কোনো ইবাদত-বন্দিগী মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে কবুলযোগ্য নয়।
    এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
    عن حضرت ابى هريرة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ان اول الناس يقضى عليه يوم القيامة رجل استشهد فاتى به فعرف نعمته فعرفها فقال فما عملت فيها قال قاتلت فيك حتى استشهدت قال كذلك ولكنك قاتلت لان يقال جرى فقد قيل ثـم امر به فسحب على وجهه حتى القى فى النار ورجل تعلم العلم وعلمه وقرا القران فاتى به فعرفه نعمه فعرفها قال فما عملت فيها قال تعلمت العلم وعلمته وقرات فيك القران قال كذبت ولكنك تعلمت العلم ليقال انك عالـم وقرات القران ليقال هو قارى فقد قيل ثـم امر به فسحب على وجهه حتى القى فى النار ورجل وسع الله عليه واعطاه من اصناف الـمال كله فاتى به فعرف نعمه فعرفها قال فما عملت فيها قال ما تركت من سبيل تـحب ان ينفق فيها الا انفقت فيها لك قال كذبت ولكنك فعلت ليقال هو جواد فقد قيل ثـم امر به فسحب على وجهه ثـم القى فى النار.
    অর্থ: “ক্বিয়ামতের দিন তিনজন লোককে প্রথমে বিচারের জন্য আনা হবে। প্রথম যে ব্যক্তিকে আনা হবে, সে হলো একজন শহীদ। তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, ‘হে ব্যক্তি! তোমাকে আমি এত শক্তি-সামর্থ্য দিলাম, তা দিয়ে তুমি কি করেছ?’ সে বলবে, ‘আয় মহান আল্লাহ পাক! আমি জিহাদ করতে করতে আপনার জন্য শহীদ হয়েছি।’ মহান আল্লাহ পাক তিনি বলবেন, ‘মিথ্যা কথা! তুমি আমার জন্য জিহাদ করনি, মানুষ তোমাকে বড় পালোয়ান বা শক্তিশালী বলবে, সেজন্য তুমি জিহাদ করেছ, যুদ্ধ করেছ। আর মানুষ তোমাকে শহীদ বলেছে (তোমার বদলা তুমি পেয়েছ)।’
    তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে বলবেন, ‘হে ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম আপনারা! এ লোকটাকে চুলে ধরে জাহান্নামে নিক্ষেপ করুন।’ তাই করা হবে। নাঊযুবিল্লাহ!
    দ্বিতীয় আরেকজন লোককে আনা হবে, যাকে পবিত্র ইলম দান করা হয়েছে। সে পবিত্র কুরআন শরীফ ছহীহ-শুদ্ধভাবে পড়তে শিখেছে এবং তা অন্যকে শিক্ষা দিয়েছে। মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে বলবেন, ‘হে আলিম ছাহেব, ক্বারী ছাহেব! তোমাকে এত পবিত্র ইলম দেয়া হয়েছিল, শুদ্ধ করে পবিত্র কুরআন শরীফ পাঠ করতে শিক্ষা দেয়া হয়েছিল, তুমি কি করলে?’ সে ব্যক্তি বলবে, ‘আয় মহান আল্লাহ পাক! আমি আপনার জন্য পবিত্র ইলম শিক্ষা করেছি এবং তা অন্যকে শিক্ষা দিয়েছি, আর আপনার জন্যই আমি পবিত্র কুরআন শরীফ শুদ্ধ করে পাঠ করেছি।’ মহান আল্লাহ পাক তিনি বলবেন, ‘মিথ্যা কথা! বরং মানুষ তোমাকে বড় আলিম, বড় ক্বারী ছাহেব বলবে, সে জন্যেই তুমি পবিত্র ইলম অর্জন করেছ, পবিত্র কুরআন শরীফ শুদ্ধ করে পড়া শিখেছ। কাজেই মানুষ তোমাকে বড় আলিম, বড় ক্বারী ছাহেব বলেছে (তোমার বদলা তুমি পেয়েছ)।’
    তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে বলবেন, ‘হে হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম! আপনারা এ লোকটাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করুন।’ তখন তার চুলে ধরে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। নাঊযুবিল্লাহ!
    এরপর তৃতীয় আরেক জনকে আনা হবে, যাকে অনেক সম্পদ দান করা হয়েছে। তাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি বলবেন, ‘হে ব্যক্তি! তোমাকে আমি দুনিয়াতে অনেক সম্পদের মালিক করেছিলাম, তার বিনিময়ে তুমি কি আমল করেছ?’ সে ব্যক্তি বলবে, ‘আয় আল্লাহ পাক! আমি আপনার পছন্দনীয় এমন কোনো পথ নেই, যে পথে দান-খয়রাত করিনি।’ অর্থাৎ আপনি যতগুলো রাস্তা পছন্দ করতেন- মসজিদ, মাদরাসা, লঙ্গরখানা, ইয়াতীমখানা, গরিব-মিসকীন, রাস্তা-ঘাট, পুল, পানির ব্যবস্থা ইত্যাদি সমস্ত ক্ষেত্রেই আমি কম-বেশি দান করেছি। কোনো প্রার্থীকে আমি খালি হাতে ফিরিয়ে দেইনি। সবাইকে কম-বেশি দান করেছি, একমাত্র আপনার সন্তুষ্টির জন্য। মহান আল্লাহ পাক তিনি বলবেন, ‘মিথ্যা কথা! তুমি এজন্য দান করেছ যে, লোকে তোমাকে দানশীল বলবে। আর তোমাকে তা বলা হয়েছে।’
    মহান আল্লাহ পাক তিনি তখন বলবেন, ‘হে হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম আপনারা! এ দানশীল ব্যক্তিকেও জাহান্নামে নিক্ষেপ করুন।’ তখন ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা তাকেও চুলে ধরে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।” নাঊযুবিল্লাহ! (মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ, মাছাবীহুস সুন্নাহ শরীফ, শরহে নববী শরীফ, মিরকাত শরীফ)
    অনুরূপ বাকী সকল বদ খাছলতই খুবই নিন্দনীয় এবং তার পরিণতিও ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক।
    উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, উল্লিখিত মুহলিকাত বা বদ খাছলতসমূহ যার মধ্যে বিদ্যমান থাকবে, তার পক্ষে “ইবাদতে যাহিরা” অর্থাৎ নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত ইত্যাদি আমল দ্বারা মহান আল্লাহ পাক উনার হাক্বীক্বী রেযামন্দী কস্মিনকালেও অর্জন করা সম্ভব নয়। কারণ উল্লিখিত বদ খাছলতসমূহ বান্দার ইবাদতসমূহকে হালাক বা ধ্বংস করে দেয়।

    মুনজিয়াত-এর বিবরণ
    মুনজিয়াত منجيات হলো ওই সমস্ত নেক খাছলত বা সৎ স্বভাব, যে সমস্ত নেক খাছলত বা সৎ স্বভাব নাজাত বা মুক্তি দেয়। অর্থাৎ “তায়াল্লুক মায়াল্লাহ” বা আল্লাহ পাক উনার সাথে সম্পর্ক সৃষ্টি করে দেয়।
    জনৈক বুযুর্গ কবি বলেন- “যদি তুমি মহান আল্লাহ পাক উনার নৈকট্য লাভ করতে চাও, তবে তোমার নফ্স্ বা অন্তরকে নেক খাছলতসমূহ দ্বারা তা’লীম দাও।”
    আর ওই সমস্ত নেক খাছলত হচ্ছে-
    ১। তওবা (গুনাহ থেকে প্রত্যাবর্তন), ২। ছবর (ধৈর্য), ৩। শোকর (কৃতজ্ঞতা), ৪। তাওয়াক্কুল (ভরসা), ৫। ইখলাছ (একনিষ্ঠতা), ৬। খওফ (ভয়), ৭। রিদ্বা (সন্তুষ্টি), ৮। মুহব্বত (ভালোবাসা), ৯। মুরাক্বাবা (চিন্তাভাবনা) ১০। মুহাসাবা (আমলের হিসাব), ১১। ইনাবত (রুজু হওয়া), ১২। যুহদ (বিরাগী হওয়া), ১৩। অরা’ (পরহেযগারী), ১৪। ক্বনায়াত (অল্পে তুষ্ট), ১৫। তাসলীম (আত্মসমর্পণ করা), ১৬। তাফাক্কুর (সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা করা), ১৭। শওক্ব (আগ্রহ), ১৮। তাওহীদ (একত্ববাদ), ১৯। নিয়ত (সঙ্কল্প), ২০। ছিদক্ব (সত্যবাদিতা), ২১। ফক্বর (স্বেচ্ছায় দারিদ্র্যতা গ্রহণ করা), ২২। যিকরুল মউত (মৃত্যুর স্মরণ), ২৩। আহওয়ালে আখিরাত (পরকালের অবস্থা), ২৪। সাখাওয়াত (দানশীলতা), ২৫। তাওয়াদ্বু’ (বিনয় বা নম্রতা), ২৬। রিযা (আশা), ২৭। মুজাহাদা (চেষ্টা বা কোশেশ) ২৮। মুশাহাদা (দেখা), ২৯। ইলম (জ্ঞান), ৩০। ইস্তিক্বামাত (দৃঢ়তা), ৩১। হায়া (লজ্জা), ৩২। ক্বিল্লাতুত ত্বয়াম (কম খাওয়া), ৩৩। আদব (শিষ্টাচার), ৩৪। ইছার (অপরের লাভকে প্রাধান্য দেয়া). ৩৫। হুররিয়াত (স্বাধীনতা), ৩৬। হুযূরী ক্বল্ব্ (সর্বদা আন্তরে যিকির জারি থাকা বা আল্লাহ পাক উনাকে সবসময় হাযির নাযির জানা), ৩৭। খিদমাতুল ফুক্বারা (ওলীআল্লাহগণ উনাদের খিদমত), ৩৮। উজলত (নির্জনতা) ৩৯। তাফবীজ (ভার অর্পণ বা দায়িত্ব দেয়া), ৪০। ইহসান (পরোপকার), ৪১। শুজায়াত (বাহাদুরী), ৪২। আহদ (ওয়াদা), ৪৩। ক্বিল্লাতুল কালাম (কম কথা বলা), ৪৪। ক্বিল্লাতুল মানাম (কম ঘুমানো), ৪৫। ক্বিল্লাতুল ইখলাত মায়াল আনাম (মানুষের সাথে কম মেলামেশা করা) ইত্যাদি।

    ক্বলবী যিকির ব্যতীত অন্তর পরিশুদ্ধ করা অর্থাৎ এ সমস্ত মুহলিকাত বর্জন ও মুনজিয়াত অর্জনসহ হুযূরী হাছিল করা সম্পূর্ণই অসম্ভব। মূলত অন্তর পরিশুদ্ধ করা ও হুযূরী ক্বলব হাছিল করার একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে “ক্বলবী যিকির”। অর্থাৎ তাছাউফ তথা মুহলিকাত ও মুনজিয়াত সম্পর্কিত ইলম অর্জন করার সাথে সাথে ক্বলবী যিকির করতে হবে, তবেই অন্তর পরিশুদ্ধ হবে ও হুযূরী ক্বলব অর্জিত হবে এবং নামাযসহ সকল ইবাদত-বন্দিগী শুদ্ধভাবে বা ইখলাছের সাথে আদায় করা সম্ভব হবে। যার কারণে ক্বলবী যিকির করা ফরয।
    এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার পবিত্র কালাম পাক উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
    الا بذكر الله تطمئن القلوب
    অর্থ : “সাবধান! মহান আল্লাহ পাক উনার যিকিরের দ্বারাই ক্বলব (অন্তর) ইতমিনান বা পরিশুদ্ধ হয়। অর্থাৎ হুযূরী বা খুশু-খুযূ হাছিল হয়।” (পবিত্র সূরা রা’দ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ২৮)
    এ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
    عن عبد الله بن عمر رضى الله تعالى عنه عن النبى صلى الله عليه وسلم انه كان يقول لكل شىء صقالة وصقالة القلوب ذكر الله
    অর্থ : হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “প্রত্যেক জিনিস পরিষ্কার করার উপকরণ রয়েছে, আর ক্বল্ব্ বা অন্তর পরিষ্কার (পরিশুদ্ধ) করার উপকরণ (মাধ্যম) হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির (ক্বলবী যিকির)।” (বায়হাক্বী শরীফ, মিশকাত শরীফ, মাছাবীহুস সুন্নাহ শরীফ, মিরকাত শরীফ)
    অর্থাৎ ক্বলবী যিকিরের দ্বারা ক্বলব পরিষ্কার হয়ে ইখলাছ তথা খুশু-খুযূ বা হুযূরী হাছিল হয়।
    উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা বুঝা গেলো যে, অন্তর পরিশুদ্ধ অর্থাৎ ইখলাছ তথা হুযূরী বা খুশু-খুযূ হাছিল করার একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে যিকির অর্থাৎ “ক্বলবী যিকির।”
    আর এই ক্বলবী যিকির নিজে নিজে করলেই অন্তর পরিশুদ্ধ হবে না, বরং ক্বলবী যিকিরের নিয়ম-কানুন বাতলে দেয়ার জন্যে একজন কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত হতে হবে।
    আর শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা সম্পর্কে হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
    عن حضرت ابن عباس رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم الشيخ فى اهله كالنبى فى امته وفى رواية الشيخ لقومه كالنبى فى امته
    অর্থ : “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা উম্মতের নিকট যেরূপ সম্মানিত ও অনুসরণীয় শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা তিনি উনার অধীনস্থদের নিকট তদ্রƒƒপ সম্মানিত ও অনুসরণীয়।” (দায়লামী শরীফ, মকতুবাত শরীফ, জামিউল জাওয়ামি’, আল মাক্বাছিদুল হাসানাহ, তানযীহুশ শরীয়াহ, আল মীযান, আল জামিউছ ছগীর, আদ দুরারুল মুনতাশিরাহ ইত্যাদি)
    অর্থাৎ নবী-রসূল আলাইহিস সালাম উনার দ্বারা যেরূপ উম্মতের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ সর্বক্ষেত্রে ইছলাহ লাভ হয়, সেরূপ শায়েখ বা পীর ছাহেব উনার দ্বারাও মুরীদের বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ সর্বক্ষেত্রে ইছলাহ লাভ হয়। সুবহানাল্লাহ!
    অতএব, নবী-রসূল আলাইহিস সালাম উনার উম্মত না হয়ে যেরূপ হিদায়েত লাভ করা যায়না, তদ্রƒপ কামিল মুর্শিদ বা পীর ছাহেব উনার নিকট বাইয়াত না হয়েও ইছলাহ বা পরিশুদ্ধতা লাভ করা যায়না। বরং শয়তানী প্রবঞ্চনায় পড়ে গোমরাহীতে নিপতিত হওয়াই স্বাভাবিক।
    তাই পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
    من يهد الله فهو المهتد ومن يضلل فلن تجد له وليا مرشدا
    অর্থ : “মহান আল্লাহ পাক তিনি যাঁকে হিদায়েত দান করেন, সে-ই হিদায়েত পায়। আর যে ব্যক্তি গোমরাহীর মধ্যে দৃঢ় থাকে, তার জন্য কোনো ওলীয়ে মুর্শিদ (কামিল পীর) পাবেন না।” (পবিত্র সূরা কাহফ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৭)
    অর্থাৎ যারা কামিল মুর্শিদ উনার নিকট বাইয়াত হয়না, তারা পথভ্রষ্ট। কারণ তখন তাদের পথ প্রদর্শক হয় শয়তান।

মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।