সবুজ বাংলা ব্লগ

সবুজ বাংলা ব্লগ

ইসলাম ও জীবন

আভিজাত্য

আভিজাত্য
মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ট জীব। এ উপাধি প্রাপ্ত হয়েছে তার মেধা , মনন , বিবেক , বুদ্ধি , জ্ঞান , প্রজ্ঞা , বিচার এ সমস্ত গুণাবলীর অধিকারী হিসাবে। আবার এ গুলো অর্জন করতে হলে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিক্ষা-নিরীক্ষায় উত্তীর্ণতার মাধ্যমে প্রকৃত পরিচয় দিতে হয়। এ গুণাবলী অর্জিত হলে মনুষত্ব ও মানবতা সম্পন্ন পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্তা গ্রহণ করে সমাজ , সামাজিকতায় স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের দাবীদার রুপে প্রতিষ্টা পেতে হয়। পশুকে পশুত্ব অর্জন করতে হয় না। সে পশু হয়ে এবং পশুত্ব নিয়েই জন্ম লাভ করে। বানরকে যেমন প্রচেষ্টার মাধ্যমে কিছু অক্ষর বা আচরণ শিখানো যায়। তাই বলে সে শিক্ষিত হতে পারে না। শিক্ষা লাভ সম্ভব নয় , হতে পারে না। তা হতে পারে অনুকরণীয়। কিন্তু মানুষ , মানবতা ও মনুষত্ববোধে সচেতন হতে হলে চাই শিক্ষা এবং শিক্ষা লাভের সঙ্গে জীবনের যথার্থ ক্ষেত্রে প্রায়োগিক সম্পন্নতা একান্ত জরুরী। তখনই সফল ও সার্থক জীবন বোধ বলে বিবেচিত হয়। হোক সে কর্ম , আচার-আচরণ ইত্যাদিতে। প্রকৃত ও বাস্তবতার নিরিখে পরিণত হয় মহৎ ও মহান ব্যক্তিত্বে। এক শ্রেণীর মানুষ অহংবোধ হৃদয়ে লালন করে স্বযত্নে নিজের আভিজাত্য প্রকাশের মাধ্যমে। হোক তা আচার-আচরনে , পোষাক-পরিচছদে , কথা-বার্তায় , চাল-চলনে। কিন্তু নৈতিক চরিত্রের পুরোপুরি অধিকারী একজন মানুষ তা বর্জিত হতে হবে। তার চলনে-বলনে একটা সত্য ও শ্বাশত সুন্দর জীবন ব্যবস্তা পরিস্ফুট হয়ে উঠে মার্জিত শালীনতা , ভদ্রোচিত অমায়িকতায়। সে ক্ষেত্রে থাকবে না আমিত্বের আহাজারী বা আর্তি। আভিজাত্যের অন্ধকার অমানিশায় ডুবন্ত হয় গলাবাজ , চাপাবাজ বা পেশীবাজ। ওরা সকলের উর্ধ্বে জ্ঞানী , গুণী , মহৎ ও মহান , ধনী বড় ইত্যাদি ভাবে নিজকে। অনুপ্রাণিত হয়ে জীবনে সর্বক্ষেত্রে প্রতিষ্টার নিমিত্তে জীপন পণ বাজী রাখে। প্রকৃত মানুষ কি পারে এ সমস্তকে আঁকড়ে ধরতে ? না তা হয় না , হতে পারে না ? আর জোর করে কিছু আদায় করা যেমন যায় না , তেমনি অর্জিত হয় না সুস্ত , সুন্দর জীবন যাত্রায় শালীনতা। এক্ষেত্রে ইচছাই হল মানুষের বড় প্রয়োজনীয়। সুপথে চলার তাগিদ অন্তরে লালন করে বা ধারণ করে সম্ভব অনায়াসে সৎ ও সততার মাধ্যমে জীবন নির্বাহ। প্রয়োজনের অতিরিক্ত খরচ বা ব্যয় করাকে অপচয় বা অপব্যয় বলা হয়ে থাকে। অনেক মানুষকে দেখা যায় কোন কোন সময় তার টাকার প্রাচুর্য্যতা আছে বুঝাতে সকল সময় প্রয়োজনের অধিক ব্যয় করতে। যেমন সাইফুল সর্বদা গোপনে স্টার সিগারেট পানে অভ্যস্ত। কিন্তু লোক সম্মুখে লীফ বা তার উর্ধ্বে ক্রয় করছে। কখন ও তার ব্যতিক্রম থাকতে পারে। চলা , সময় ও পরিবেশ অনেক সময় বাধ্য করে অত্যধিক ব্যয়ে। কিন্তু আমার কথা এ ক্ষেত্র ব্যতীত আভিজাত্যের প্রকাশ ঘটাতে যা , সে ক্ষেত্রের সম্পর্কে। জৌলুস , আভিজাত্য অহংকারেরই একটা অংশ। অহংকারের অন্ধত্বে বিশ্বাসী মানুষ কাজ করতে অনেক সময় লজ্জাবোধ করে। ( সব নয়) পিতা , ভাই প্রবাসী বলে ছেলে বা ভাই হয়ে উঠে কর্ম বিমুখ। গ্রামে প্রবাদসম বা লোক মুখে প্রচলিত আছে , ” পিতা বা ভাই বিদেশ। সুতরাং ছেলে বা ভাই কাজ করলে ইজ্জতের হানি হবে ”। এ মন মানসিকতা ধারণ করে অপচয় , অপব্যয়ে আপাদ মস্তক হয় নিমজ্জিত। কিন্তু এ ছেলে বা ভাই প্রবাসে গিয়ে যে অমানসিক , অমানবিক পরিশ্রমে লিপ্ত হয়ে অনাগত দিনের সঞ্চয়ে আগ্রহী হয়ে উঠে তা কল্পনাতীত। এ মন মানসিকতার পরিবর্তন অত্যন্ত জরুরী। পরিবর্তিত হলে দেশ ও জাতীর উন্নয়ন অবশ্যম্ভাবী। কাজে অনীহা বা অনভ্যস্ততা হেতু প্রবাস প্রবণতা ও কারিগরী বিদ্যা লাভে বিমুখতা কষ্টের কারন হয়ে দাড়ায়। অনেকে ( সব নয় )আবার প্রবাসী নাম ধারণ করে ও কর্মের প্রতি অনিহায় ভবিষ্যত উজ্জলের পরিবর্তে নিম্ন গামীতায় ভোগেন। অপচয় বা অপব্যয়ের ধারাবাহিকতায় অত্যন্ত কষ্ট সাধ্য জীবন যাপন করেন। অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সদস্য হয়ে প্রবাসে যা রুজি করেন অপরিকল্পিত ভাবে তাৎক্ষণিক জৌলুসে ব্যয় করে জনক জননীর প্রতি করেন অবিচার। ( সব নয়)। মানসিক যন্ত্রণায় হন কাতর। আমি কাউকে হেয় বা কটাক্ষ করার মন মানসিকতায় কলম ধরি নাই। আমি বলছি সমাজ সামাজিকতায় , জীবন যাত্রায় যাতে প্রত্যেকটি সদস্য প্রচছন্ন সুন্দরতায় এগিয়ে যাবার মাধ্যমে সুখি , সমৃদ্ধি ও সফলতর জীবন ব্যবস্তায় এগিয়ে আসেন বা যাপন করেন একটি সুস্ত্য , সুন্দর আঙ্গিনায় বিচরণের মাধ্যমে। এ প্রত্যাশা সবার কাছে , প্রত্যেকের তরে। অপরের নিন্দা বা অপবাদ বলে বেড়ানো এক শ্রেণীর মানুষের বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে। এছাড়া কোথা ও তার বসে আলাপ করার নেই। প্রসঙ্গ যাই হোক ঘুরে ফিরে নিন্দনীয় এবং অপবাদ অন্যের তুলে ধরা তার মজ্জাগত অভ্যাস। উল্টো দিকে ঘুরালে দেখবেন আপনি উচচ পদস্ত যার নামই বলুন ও তারই পরিচিত বা আত্বীয় ইত্যাদি। এ শ্রেণীকে আপনি কথা প্রসঙ্গে বা সমাজে বাস্তবতায় যতই লজ্জা দেন না কেন , এতে কিছুই যায় আসে না । অমুক মন্ত্রী আমার এই , তমুক অফিসার আমার বন্ধু ইত্যাদি। যাকে বলা যায় গলাবাজ। কিন্তু মানুষ সবই বুঝে এখন সচেতনতার সহিত বিবেক বিবেচনায়। ওদের লজ্জা ও নেই। আবার এ আচরণ পরিত্যাগ করতে পারে না , বিবেক জাগ্রত হয় না। লজ্জা ইমানের অংশ। ওদের বেলা হয়েছে গ্রামে প্রচলিত একটি প্রবাদের মত। প্রবাদ হচেছ ” আগল বেঠির লাজ নেই , দেখল বেঠির লাজ” তুল্য। শেষ পর্যন্ত পরাজয় হয়। কিন্তু মধ্য খানে মানুষ ও সমাজকে করে তুলে বিষাক্ত , দুর্বিসহ। তবে তা সাময়িক। সাময়িক হলে ও মানুষ কষ্ট পায়। এক শ্রেণীর মহিলা আছেন পিতৃ গৃহে কাজ বাদী তুল্য করেই এসেছেন। কিন্তু স্বামী গৃহে এসে অহংকারে মাটিতে পা ফেলতে নারাজ আধুনিকতার ছোঁয়াছে। স্বামী যদি পক্ষাবলম্বন করে তবে সোনায় সোহাগা। নতুবা পরিবারে কাল বৈশাখির ঝড়ে লন্ড ভন্ড হতে কতক্ষণ। বেশি সময় নয়। এক পলকে জ্বলে পুড়ে ছারখার। বিস্তারিত

0 টি মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।

মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।