সবুজ বাংলা ব্লগ

সবুজ বাংলা ব্লগ

আন্তর্জাতিক

আযাব গযব।

মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার মকবুল মুনাজাত শরীফ উনার বেমেছাল রূহানীয়ত সমৃদ্ধ রোব মুবারক উনার ফলেই খোদায়ী গযবে পর্যুদস্ত বিশ্বের সকল কাফির-মুশরিকের দেশ।
***************************************************************************
ভারত-চীন-আর্জেন্টিনায় বন্যা, যুক্তরাষ্ট্র-পেরুতে ঘূর্ণিঝড়,
জার্মানি-রোমানিয়া-পোল্যান্ডে তাপদাহ (৮)
প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কবলে পড়ে মহাদুর্ভোগের মধ্যে বসবাস করছে বিশ্বের কাফির রাষ্ট্রগুলোর জনগণ। ঝড়, ভারি বর্ষণের পর সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে এশিয়ার কয়েকটি দেশ। এছাড়াও খরা ও দাবদাহের কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ইউরোপের জনজীবন।
পোল্যান্ড: সম্প্রতি পোল্যান্ডে সপ্তাহে গড় তাপমাত্রা ছিল ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ তাপমাত্রা বেড়ে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া অফিস। এ পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ’ বলে উল্লেখ করেছে পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী উওয়া কোপাজ। (সূত্র: ইন্টারনেট)
 
ইতালির ভূমিকম্প কবলিত শহরগুলো যেন মৃতপ্রায়।
***********************************************
 
ইতালির পার্বত্যঞ্চল আর্মাত্রিসার রাস্তায় গ্রীষ্মের সোনালি সূর্য আলো ছড়াচ্ছে। কিন্তু ছুটির দিনেও ইতালিয়ান নাগরিকদের হাঁটতে দেখা যায়নি রাস্তায়। ওই শহরের জনপ্রিয় খাদ্য পাস্তার লোভে জিভে পানি আসে নি কারো। কারণ আর্মাত্রিসা এখন পরিণত হয়েছে সমাধির শহরে। এর পরিবর্তে ওই শহরে বিচলিত, বিভ্রান্ত এবং আলুথালু অবস্থায় হাঁটঁতে দেখা গিয়েছে নাগরিকদের। এই ভয়াবহ ভূমিকম্পে ২৮১ টি লাশ গুনতে হয়েছে ইতালিকে। এক মূহুর্ত আগের সুন্দর শহরটি বুধবার ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্পে পরিণত হয় কফিনের শহরে। এরমধ্যে বেশিরভাগ ক্ষতির পরিমাণই অগণিত। স্বেচ্ছাসেবক আর্তুরু ফিলিপি বলেছে, ‘ইতালির এই শহরটি এখন জাদুঘর। সারা বিশ্বের মানুষ দেখছে কিভাবে ভূমিকম্পে পুরো শহরটি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।’ স্থানীয় স্কুলে কর্মরত ডি টোমাসে (৫৮) অশ্রুসিক্ত নয়নে বলেছে, ‘ভবিষ্যত ধ্বংস হয়ে গিয়েছে, এটি শেষ, এর আর কোন অস্তিত্ব নেই। আমার ছেলের এখানে দুইটি ব্যবসা ছিল, কিছুই নেই। আমরা এখন কি করব? কিছুই জানি না। ভূমিকম্পের দিন নির্মাতা রবার্তো প্যাকানজো একটি বিশাল শব্দ শুনে ঘুম থেকে উঠে পড়ে। মুহুর্তের মাঝে তার বাড়ি পরিণত হয় একটি প্যানকেকে। সে বলে, ‘সবকিছু কাঁপতে থাকে। আমি আমার স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে মনে করেছি এটি আমাদের শেষ আলিঙ্গন।’ তাদের ধ্বংসাবশেষের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়। কিন্তু এইভাবে জীবিত থাকা কখনোই সৌভাগ্য হতে পারে না। সারা শহর পরিণত হয়েছে ধ্বংসের রাজ্যে। চারদিকে কান্না, আহাজারি, চিৎকার। চলছে খননকার্য। ধ্বংসাবশেষের ভেতর থেকে সাহায্যের জন্য বের হয়ে আসে ক্ষীণ অথচ বুক ফাটানো আর্তচিৎকার। একটি সংকীর্ণ রাস্তা ব্যস্ত জরুরি সেবার কাজে। অধিকাংশ রাস্তা, ব্রিজ ল-ভ- হয়ে যাওয়ায় ভেঙে পড়েছে পরিবহন ব্যবস্থা। আর্মাত্রিসার চার্চের পাদ্রী যেন ছদ্মবেশ ধরে বসে আছে। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ৬ হাজার ৬০০ জনই কর্মজীবি। কিন্তু পরিস্থিতি তাদের প্রতিকূলে। কর্মস্থলে ব্যস্ত সময় কাটানোর পরিবর্তে তারা ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে অপেক্ষা করছেন ক্রমশ শেষ হওয়ার। কারণ বেঁচে থাকলেও তাদের বেঁচে থাকার আশাটুকু শেষ হয়ে গিয়েছে। জীবিত উদ্ধার হয়ে অনেকেই দেখেছেন তাদের প্রিয় বাসস্থানের ধ্বংসাবশেষ। তারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্না করছে। অনেকে প্রিয়জনদের জীবিত দেখে কিছুক্ষণের জন্য হলেও স্বস্তি¡র নিঃশ্বাস ফেলেছে। এদের মধ্যে অনেকে নিরাপত্তার জন্য পাশ্ববর্তী শহর রোমে তাদের বন্ধ্ওু পরিবারের কাছে গিয়েছে। আনা মারিয়া (৫২) বলেছে, ‘এই শহরের সবগুলো ভবন অনেক পুরোনো এবং নদী থেকে উত্তেলনকৃত পাথর থেকে নির্মিত। বাড়িঘরের অবস্থা ভাল নয়। এগুলো নির্মাণের সময় গ্রহণ করা হয়নি প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধকারী ব্যবস্থা। এটি সকলের জন্যই দুঃখের। কয়েদিন আগে এই শহরে সবকিছু ছিল। কিন্তু সব মৃত। বন্ধু, আত্মীয়স্বজন কেউ নেই। নেই বসবাসের উপযুক্ত স্থান।
 
ভারতে দুই দফা ভূমিকম্প
************************
ভারতের উত্তরাঞ্চলের হিমাচল প্রদেশ রাজ্যে শনিবার দুই দফা ভূমিকম্প হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক উর্ধ্বতন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা জানায়, পার্বত্য এ রাজ্যে ২০ মিনিটের ব্যবধানে দুটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। তবে কোন প্রাণহানি বা ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ভারতের জাতীয় ভূ-কম্পন কেন্দ্র জানায়, প্রথম ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল ৪ দশমিক ৬ এবং দ্বিতীয়টির তীব্রতা ছিল ৪ দশমিক ৩।
স্থানীয় সময় সকাল ৬ টা ৪০ মিনিট থেকে ৭ টা ০৫ মিনিটের মধ্যে দুটি ভূ-কম্পন অনুভূত হয় এবং ভূমিকেম্পর উৎপত্তিস্থল ছিল কুল্লু শহর।
ভারতের উত্তরাঞ্চলের হিমাচল প্রদেশ, উত্তরখন্ড, নয়াদিল্লী ও এর আশপাশের এলাকা ভূমিকম্পপ্রবণ।
 
এক প্রান্তিকেই ৫২ বিলিয়ন ডলার হারিয়েছে জাপানের পেনশন ফান্ড।
**************************************************************
তিন মাসে ৫ হাজার ২০০ কোটি ডলার হারিয়েছে জাপানের পেনশন ফান্ড। দেশের ভেতরে-বাইরে শেয়ারবাজারের ওঠানামা ও ইয়েনের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিশ্বের বৃহত্তম পেনশন ফান্ডকে এ ক্ষতির শিকার হতে হয়েছে। খবর ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। জুনে শেষ হওয়া প্রান্তিকে জাপানের পেনশন বিনিয়োগ তহবিলের (গভর্নমেন্ট পেনশন ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড জিপিআইএফ) সম্পদ মূল্য ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে তহবিলটির আকার ৫ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ইয়েন (৫ হাজার ২০০ কোটি ডলার) কমে ১২৯ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ইয়েন (১ লাখ ২৭ হাজার কোটি ডলার) হয়েছে। ২০১৪ সালে জিপিআইএফ বিনিয়োগ কৌশলে পরিবর্তন আনে। তহবিলের কর্মকর্তারা তখন শেয়ারে বিনিয়োগ বাড়িয়ে বন্ড বাজার থেকে কিছুটা সরে আসার সিদ্ধান্ত নেয়। বিনিয়োগ কৌশলে পরিবর্তনের সুবাদে পরবর্তী ছয় প্রান্তিকে জিপিআইএফের সম্পদ মূল্য ৪ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন (৪ হাজার ২০০ কোটি ডলার) বৃদ্ধি পায়। কিন্তু চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারবাজারে ওঠানামা ও ইয়েনের মূল্য বৃদ্ধির কারণে সম্পদ মূল্যে পতন ঘটায় পূর্ববর্তী ছয়টি প্রান্তিকে জিপিআইএফের বিনিয়োগে অর্জিত মুনাফা হারিয়ে গেছে। মার্চে জাপানের অর্থবছর শেষ হয়েছে। বিগত অর্থবছরে জিপিআইএফ ৫ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ইয়েন (৫ হাজার ৩০০ কোটি ডলার) লোকসান গুনেছে। বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পর জিপিআইএফের সবচেয়ে খারাপ সময় গেছে বিগত অর্থবছরে। প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর প্রথমদিকে জাপানের ইকুইটি বাজার চাঙ্গা ছিল। একই সময় ইয়েনের বাজারদরও ছিল নমনীয়। এতে জিপিআইএফ তখন ভালো মুনাফা করতে সক্ষম হয়। কিন্তু বিগত অর্থবছরে স্থানীয় শেয়ারবাজারে পতন এবং ইয়েনের চাঙ্গাভাবের কারণে দেশের বাইরে জিপিআইএফের সম্পদের মূল্য হ্রাস পায়। সম্পদ মূল্য হ্রাস পেলেও বিশ্লেষকরা এখনই জিপিআইএফের বিনিয়োগ কৌশলে কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন বোধ করছে না। সুমিতোমো মিতসুই ট্রাস্ট ব্যাংকের স্ট্র্যাটেজিস্ট আয়াকো সেরা বলেছে, জিপিআইএফের বিনিয়োগ যেহেতু বাজারের গতিবিধির সঙ্গে বাঁধা, তাই সম্পদ মূল্যে এমন ওঠানামা হতেই পারে। বিষয়টিকে স্বল্পমেয়াদি দৃষ্টিতে দেখার কোনো অর্থ নেই। আয়াকো সেরা যোগ করে, ‘জিপিআইএফের আকার এত বড় যে বাজারের সামান্য ওঠানামাতেও তহবিলটির লোকসান অনেক বড় দেখায়। বস্তুত এসব লাভ-লোকসান বাজারের চলিষ্ণুতার প্রতিফলন মাত্র।’ এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে জাপানের টোপিক্স সূচক ৭ দশমিক ৫ শতাংশ পতন দেখেছে। এ সময় জিপিআইএফের মালিকানাধীন জাপানি শেয়ারের দাম ৭ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। স্থানীয় ইকুইটিতে জিপিআইএফের বিনিয়োগের ৮০ শতাংশের বেশি হলো প্যাসিভ বিনিয়োগ। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে দেশের বাইরে জিপিআইএফের মালিকানাধীন স্টকের দরপতন হয়েছে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। গত বছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে জিপিআইএফ বিভিন্ন দেশের সার্বভৌম বন্ডে ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ইয়েন (১ হাজার ১৫০ কোটি ডলার) বিনিয়োগ করেছে। এতে বিদেশী বন্ডে জিপিআইএফের মোট বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ৫৯ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ইয়েন (৫৮ হাজার কোটি ডলার)। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে জিপিআইএফের মালিকানাধীন বিদেশী বন্ডের ৮ শতাংশ দরপতন হয়েছে। একই সময় ডলারের বিপরীতে ইয়েনের দর ৯ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। জিপিআইএফের মালিকানাধীন সম্পদের মধ্যে কেবল জাপানের স্থানীয় বন্ডের দাম বেড়েছে। কিন্তু তহবিলটি এর সুফল সেভাবে পায়নি। ব্যাংক অব জাপানের তথ্যের বরাতে ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে জিপিআইএফের মালিকানাধীন ৭০৪ বিলিয়ন ইয়েনের জাপানি বন্ড বিক্রি করা হয়। জাপানি তহবিলটির হাতে এখন স্থানীয় বন্ডের পরিমাণ মোট ৫১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ইয়েন। ২০০৪ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের পর স্থানীয় বন্ডে জিপিআইএফের বিনিয়োগ কখনো এত কম ছিল না।
 

0 টি মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।

মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।