সবুজ বাংলা ব্লগ

সবুজ বাংলা ব্লগ

ইসলাম ও জীবন

উশর কি???

  যাকাত সম্পর্কে কম বেশি জানা থাকলেও উশর সম্পর্কে অনেকেরই ধারণাই নেই। অনেকেই জানেই না উশর কি? তবে যাকাতের মত উশর আদায় করাও ফরয। জমি থেকে যে সমস্ত ফল-ফলাদি, ফসল ইত্যাদি উৎপন্ন হয় সে সমস্ত ফল ও ফসলের ১০ ভাগের ১ ভাগ যাকাত হিসেবে আদায় করাকে উশর বলে। অর্থাৎ যে সমস্ত ফল ও ফসল বিনা পরিশ্রমে আপসে আপ উৎপন্ন হয় সে সমস্ত ফল ও ফসলের ১০ ভাগের ১ ভাগ যাকাত হিসেবে দিতে হবে আর যে সমস্ত ফল ও ফসল কষ্ট করে ফলানো হয় সে সমস্ত ফল ও ফসলের ২০ ভাগের ১ ভাগ যাকাত হিসেবে দিতে হবে। যেমন, কারো যদি আম, জাম, কাঁঠাল ইত্যাদি গাছ থাকে এসব গাছে ফল হলে ১০ ভাগের এক ভাগ যাকাত হিসেবে দিতে হবে। কারণ, এসব ফল বিনা পরিশ্রমই হয়। আর ধান, গম, আলু, মরিচ ইত্যাদি ফসলের ২০ ভাগের ১ ভাগ যাকাত হিসেবে দিতে হবে। কারণ, এসব ফল হওয়ার পিছনে পরিশ্রম করতে হয় এবং টাকা-পয়সাও খরচ করতে হয়। উশর সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা তোমাদের উপার্জিত হালাল সম্পদ হতে এবং যা আমি তোমাদের জন্য যমীন হতে উৎপন্ন করেছি তা হতে দান করো। (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফঃ ২৬৭) আরো ইরশাদ মুবারক করেন, “ফসল কাটার সময় তার হক (পবিত্র উশর)আদায় করো। (পবিত্র সূরা আন’আম শরীফঃ ১৪১) পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে পবিত্র উশর সম্পর্কে বর্ণিত রয়েছে- অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যাতে অর্থাৎ যে যমীনকে আসমান অথবা প্রবাহমান কূপ পানি দান করে অথবা যা নালা দ্বারা সিক্ত হয়, তাতে পবিত্র উশর অর্থাৎ দশ ভাগের এক ভাগ আর যা সেচ দ্বারা সিক্ত হয়, তাতে অর্ধ উশর অর্থাৎ বিশ ভাগের এক ভাগ। (বুখারী শরীফ) . পবিত্র উশর আদায়ের নির্দিষ্ট কোন সময় নেই। যতবারই ফসল উৎপন্ন হবে ততবারই ফসলের যাকাত তথা উশর দিতে হবে। যারা ফসলের মালিক হবে তারাই উশর প্রদান করবে। . যে সব খাতে বা স্থানে যাকাত ব্যয় করতে হয়, সে সব খাত বা স্থানেই উশর ব্যয় করতে হবে। . ফসলের যাকাত হচ্ছে উশর, যে উশর আদায় করলো সে তার ফসলের যাকাত আদায় করলো। যে উশর আদায় করলো না, সে তার ফসলের যাকাত আদায় করলো না। কাজেই, টাকা-পয়সা, স্বর্ণ-চান্দির যাকাত আদায় করা যেরূপ ফরয জমির উৎপাদিত ফসল ও ফল-ফলাদির যাকাত (উশর) আদায় করাও তদ্রপ ফরয। অতএব, কেউ যদি ফসলের যাকাত (উশর) আদায় না করে তাহলে সে ফরয অনাদায়ের গুনাহে গুনাহগার হবে। . কারো যমীনে পরিশ্রমের মাধ্যমে ৫০ মণ ধান উৎপন্ন হলো সে নিছফু উশর অর্থাৎ বিশ ভাগের ১ ভাগ উশর প্রদান করবে, অর্থাৎ আড়াই মণ ধান প্রদান করবে। আর যদি বিনা পরিশ্রমে উৎপন্ন হয় তাহলে উশর তথা দশভাগের একভাগ ধান প্রদান করবে, অর্থাৎ ৫ মণ ধান পবিত্র যাকাত বা উশর হিসেবে আদায় করবে। . যাকাত দিলে যেমন সম্পদ বৃদ্ধি পায় এবং পবিত্র হয়, তদ্রুপ পবিত্র উশর আদায় করলেও ফসল, ফল-ফলাদি বৃদ্ধি পায় ও পবিত্র হয়। সাথে সাথে বিভিন্ন প্রকার দুর্যোগ যেমন- ঝড়-তুফান, বন্যা-খরা, পোকা-মাকড়ের আক্রমণ, নষ্ট হওয়া ইত্যাদি থেকেও ফসল ও ফল-ফলাদি হিফাযত হয়। সুবহানাল্লাহ! . পবিত্র হাদীছে কুদসী শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, " হে আদম সন্তান! তুমি দান করো; আমি তোমাকে দান করবো। (বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ) . নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্পদ বা ফসল দান করেছেন আর সে তার পবিত্র যাকাত বা উশর আদায় করেনি, কিয়ামতের দিন তার সম্পদকে টেকো মাথা সাপ স্বরূপ বানানো হবে, যার চক্ষুর উপর কিসমিসের দানার মতো দুটি কালো বিন্দু থাকবে। কিয়ামতের দিন সাপটাকে তার গলায় বেড়ি স্বরূপ পড়ানো হবে। অতঃপর উক্ত সাপ তার মুখের দু’দিকে কামড় দিতে থাকবে আর বলবে, আমি তোমার সঞ্চিত সম্পদ, আমি তোমার মাল। (বুখারী শরীফ)

0 টি মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।

মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।