সবুজ বাংলা ব্লগ

সবুজ বাংলা ব্লগ

বিভাগবিহীন

কেন এমন ?

কেন আমার জীবনের এত খারাপ? আমি সত্যিই আমার জীবনকে ঘৃণা করি ।. আমার যেমন একটি খারাপ জীবন প্রাপ্য না! অন্যদের যেমন ভালো জীবন আছে. তারা, সমৃদ্ধ, এবং জনপ্রিয়. আমি সম্পূর্ণভাবে আলাদা ।. আমি এ সব সুন্দর নই । কেন আমি  একটি খারাপ জীবনের সঙ্গে আটকে আছি ?????????

2 টি মন্তব্য

  • সূফী-দরবেশ

    হতাশ হবেন না ভাই। মহান আল্লাহ পাক সব সময় আমাদের সাথে আছেন
  • বক্তা

    قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَ‌فُوا عَلَىٰ أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِن رَّ‌حْمَةِ اللَّـهِ ۚ إِنَّ اللَّـهَ يَغْفِرُ‌ الذُّنُوبَ جَمِيعًا ۚ إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ‌ الرَّ‌حِيمُ ﴿٥٣﴾
    অর্থ : “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনি বলুন, হে আমার বান্দাগণ যারা নিজেদের উপর যুলুম করেছ তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত মুবারক থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত গুনাহখাতা ক্ষমা করেন। তিনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (পবিত্র সূরা যুমার শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৩)
    পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
    عن حضرت بـهذ بن حكيم عن ابيه عن جده رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من استقبل العلماء فقد استقبلنى ومن زار العلماء فقد زارنى ومن جالس العماء فقد جالسنى ومن جالسنى فكانـما جالس ربى وفى رواية اخرى من زار عالـما فكانـما زارنى ومن زارنى فكانـما زار الله ومن زار الله فقد غفر له.
    অর্থ : হযরত বাহয ইবনে হাকীম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পিতা থেকে, তিনি উনার পিতামহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণনা করেন, মহান আল্লাহ পাক উনার প্রিয়তম রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি উলামায়ে হক্কানী-রব্বানী রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদেরকে অভ্যর্থনা বা সম্মান করলো সে মূলত আমাকেই অভ্যর্থনা বা সম্মান করলো এবং যে উনাদের যিয়ারত লাভ (সাক্ষাৎ) করলো প্রকৃতপক্ষে সে আমারই যিয়ারত লাভ করলো এবং যে উনাদের সাথে বসলো প্রকৃতপক্ষে সে আমার সাথে বসলো আর যে আমার সাথে বসলো সে মূলত মহান আল্লাহ পাক উনার সাথেই বসলো। অপর রেওয়ায়েতে বর্ণিত রয়েছে, যে ব্যক্তি কোনো হক্কানী-রব্বানী আলিম, মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী উনার যিয়ারত করলো, সে প্রকৃতপক্ষে মহান আল্লাহ পাক উনার প্রিয়তম রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যিয়ারত করলো। আর যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার প্রিয়তম রসূল, নূরে মুজাসসা, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যিয়ারত করলো সে প্রকৃতপক্ষে মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে যিয়ারত করলো। আর যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার যিয়ারত করলো মহান আল্লাহ পাক তিনি তাঁকে ক্ষমা করে দিবেন।” সুবহানাল্লাহ! (কানযুল উম্মাল শরীফ)
    উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যায় একাধিক ঘটনা বর্ণিত রয়েছে যে, মহান আল্লাহ পাক উনার খালিছ ওলী চীশতিয়া খান্দানের বিশিষ্ট বুযুর্গ হযরত বাবা ফরীদুদ্দীন মাসউদ গঞ্জে শকর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন, আল্লাহওয়ালা উনাদের ছোহবতের কতটুকু ফায়দা রয়েছে। তিনি বলেন, হাজ্জাজ বিন ইউসুফ যে ব্যক্তি কাট্টা যালিম ছিল। সে তার যামানার ইমাম, মুজতাহিদ, আউলিয়ায়ে কিরাম উনাদের অনেকের উপর যুলুম করেছে। যেটা বলার অপেক্ষা রাখেনা। সকলে মনে মনে ধারণা করেছিলেন যে, হাজ্জাজ বিন ইউসুফ ইন্তিকাল করলে সরাসরি জাহান্নামের অতল গহ্বরে তলিয়ে যাবে।
    হযরত বাবা ফরীদুদ্দীন মাসউদ গঞ্জে শকর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন, হাজ্জাজ বিন ইউসুফ যখন ইন্তিকাল করলো তার কিছুদিন পর একজন বুযুর্গ ব্যক্তি তাকে স্বপ্নে দেখলেন। দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, “হে হাজ্জাজ! তোমাকে দেখে মনে হচ্ছে তুমি খুব সুখ-শান্তিতে রয়েছ? এর পিছনে কি কারণ? তুমি যে যুলুম করেছ, অন্যায় অত্যাচার করেছ, আমরা তো মনে করেছিলাম তুমি জাহান্নামে যাবে, কিন্তু এখন দেখতে পাচ্ছি জান্নাতের সুখের মধ্যে তুমি বিচরণ করছো। এর পিছনে কি কারণ রয়েছে?”
    হাজ্জাজ বিন ইউসুফ জাওয়াব দিল, হে মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী! আপনি সত্যই বলেছেন। যমীনে আমি বুঝতে পারিনি, অনেক যুলুম-অত্যাচার করেছিলাম। যার বদলা জাহান্নাম ব্যতীত কিছুই ছিলনা। কিন্তু তারপরেও আমার একটা আমল মহান আল্লাহ পাক তিনি পছন্দ করেছেন। যার বিনিময়ে মহান আল্লাহ পাক তিনি আমার জীবনের সমস্ত গুনাহখতা মাফ করে জাহান্নাম না দিয়ে জান্নাত নছীব করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
    জিজ্ঞাসা করা হলো, তোমার কোন্ আমল মহান আল্লাহ পাক তিনি কবুল করেছেন? হাজ্জাজ বিন ইউসুফ বললো, আমি একবার রাস্তা দিয়ে কোথাও যাচ্ছিলাম কিছু সৈন্য-সামন্ত নিয়ে। যেহেতু রাজকীয় ক্ষমতা ছিল, গর্বে গর্বিত হয়ে শান-শওকত প্রকাশ করে আমি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম। যাওয়ার সময় দেখতে পেলাম এক স্থানে কিছু লোক জমা হয়েছে। মনে হচ্ছে সেখানে ওয়াজ-নছীহত হচ্ছে, আমি লোকদের জিজ্ঞাসা করলাম, এখানে কি হচ্ছে? লোকজন বললো, এখানে মহান আল্লাহ পাক উনার বিশিষ্ট ওলী, বিশিষ্ট তাবিয়ী, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত হযরত ইমাম হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি নছীহত করছেন। হাজ্জাজ বিন ইউসুফ বললো, তখন আমার মনে একটা চিন্তা হলো, উনি মহান আল্লাহ পাক উনার খালিছ ওলী কি না- সেটা পরীক্ষা করতে হবে। যেহেতু হাজ্জাজ বিন ইউসুফের সাথে অনেক সৈন্য-সামন্ত ছিল, লোকজন ছিল, সে খুব গর্বে গর্বিত ছিল, সে উদ্ধতভাবে ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত হযরত ইমাম হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সেই দরবারে প্রবেশ করলো।
    হাজ্জাজ বিন ইউসুফ বললো, আমি যখন প্রবেশ করলাম আমি দেখতে পেলাম, মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত হযরত ইমাম হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার চেহারা মুবারক-এর উপর কোনোই ছাপ পড়লো না। আমার শান-শওকত, রাজকীয় ক্ষমতা, আমার গর্ব, উদ্ধত অবস্থা, এটা উনাকে কোনো μিয়া করলো না। আমি বুঝতে পারলাম, নিশ্চয়ই উনি মহান আল্লাহ পাক উনার খালিছ ওলী হবেন। আমি আদবের সাথে বসলাম। কিছু নছীহত শুনলাম। শোনার পর মনে মনে ফিকির করলাম, নিশ্চয়ই উনি মহান আল্লাহ পাক উনার খালিছ ওলী। সেই খেয়ালে মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বতে, সন্তুষ্টি হাছিলের লক্ষ্যে, মহান আল্লাহ পাক উনার খালিছ ওলী ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত হযরত ইমাম হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার হাত মুবারক-এ চুম্বন করলাম।
    সেই চুম্বনের উসীলায় মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে মৃত্যুর পর ডেকে বললেন, হে হাজ্জাজ বিন ইউসুফ! তুমি যে যুলুম করেছ, অন্যায়-অত্যাচার করেছ, এর বদলা জাহান্নামে যাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু আমার বিশিষ্ট ওলী, আমার মাহবুব, যিনি উনার যামানায় ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত ছিলেন, হযরত ইমাম হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে তুমি সম্মান করে, তা’যীম-তাকরীম করে, আমার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে উনার হাত মুবারক-এ চুম্বন করেছিলে সেই কারণে আমি তোমার গুনাহখতা মাফ করে জাহান্নামের পরিবর্তে জান্নাত দিয়ে দিলাম। সুবহানাল্লাহ!
    শায়খুল ইসলাম, ইমামুল আইম্মাহ হযরত বাবা ফরীদুদ্দীন মাসউদ গঞ্জে শকর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, হাজ্জাজ বিন ইউসুফ কাট্টা যালিম ছিল। এত যুলুম, অন্যায়-অত্যাচার করার পরেও একজন খালিছ ওলীর সাথে মুহব্বত, ছোহবত ইখতিয়ার, হস্ত মুবারক চুম্বন করার কারণে মহান আল্লাহ পাক তিনি যদি তাকে ক্ষমা করে দেন, তাহলে যারা অন্যান্য লোক রয়েছে তারা যদি সত্যিই আল্লাহওয়ালা উনাদের ছোহবত ইখতিয়ার করে, মুহব্বত করে, অবশ্যই মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদেরকেও ক্ষমা করে দিবেন। সুবহানাল্লাহ!
    মহান আল্লাহ পাক তিনি আল্লাহওয়ালা উনাদের ছোহবত বিষয়ে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
    يايها الذين امنوا اتقوا الله وكونوا مع الدادقين.
    অর্থ : “হে ঈমানদারগণ! আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো এবং ছাদিক্বীন বা সত্যবাদীগণ উনাদের সঙ্গী হয়ে যাও।” (পবিত্র সূরা তওবা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১১৯)
    আল্লাহ পাক তিনি নির্দেশ করেছেন যে, তোমরা ছাদিক্বীন বা আল্লাহওয়ালাগণ উনাদের ছোহবত ইখতিয়ার করো। আর মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশ মুবারক পালন করা হচ্ছে বান্দার জন্য ফরয-ওয়াজিবের অন্তর্ভুক্ত। আর এ ছোহবত ইখতিয়ার করার কারণে মহান আল্লাহ পাক তিনি যে বান্দাকে ক্ষমা করে দেন তা হাদীছ শরীফ উনার মধ্যেই বর্ণিত রয়েছে।

মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।