গনতন্ত্র ৫

গনতান্ত্রীক শাসনের মূল যে উপাদানগুলো পাওয়া যায় তার মধ্যে একটি হল সংখ্যাগরিষ্ঠতা ।
এই সংখ্যাগরিষ্ঠতার মোটামুটি একটা ধারনা হল অধিকাংশের শাসন ।
তাই আমরা দেখি আজ এই সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে ক্রিমিয়ায় ইইউ ও ইউএসএ এর পতন, রাশিয়ার উত্থান ।
ভুল পয়েন্টে চাল দিয়েছিল রাশিয়া বিরোধীরা আর সেটা লুফে নিল রাশিয়া । আমি অবশ্য রাশিয়া বিরোধীদের পদক্ষেপকে ভুল বলা আর আংশিক সত্য কে লুকিয়ে রাখারই নামান্তর বলে মনে করছি ।
একটু পিছনে যাই, আফগানদের উপর আধিপত্যকারি রাশিয়ার পতন হয় ইউএসএ এর ঔরশজাত সন্তান আল কায়দা অর্থাত তালেবানীদের হাতে পরে নিজ সন্তান কে উতখাত করে আজ গনতন্ত্রী এক অথর্ব সরকারের পোষ্যপিতা ঐ সম্রাজ্যবাদী ইউএসএ ।
আজ কি ক্রিমিয়ায় রাশিয়ার পতনে আমেরিকা পূনরায় চালবে আফগান থিউরিকে ।
একটু পরিষ্কার করে বললে এটাই স্পষ্ট যে এই গনতান্ত্রী সংখাগরিষ্ঠতা হল রাশিয়ার সমরাস্ত্রের বিপরীতে আমেরিকানদের একটি অপ্রতিরোধ্য অস্ত্র, একটু দেরী হলেও যার প্রয়োগ রাশিয়া করেছে ক্রিমিয়ায় তবে এখানেই কি শেষ, না ।
এখন এই গনতন্ত্র ও এর সংখ্যাগরিষ্ঠতার সঠিক স্বরুপ বিশ্ববাসীর কাছে স্পষ্ট নয় কি ?
ক্রিমিয়া ইইউ এ থাক বা রাশিয়ায় থাক তাতে সমস্য কোথায় ?এটাই একমাত্র পয়েন্ট যার সহজ সমাধান ক্রিমিয়ার মুসলমান । আমেরিকা রাশিয়ার নতুন চালে ক্রিমিয়ার মুসলমানদের জন্য কৃষ্ণ সাগরের শীতল বায়ু কি হয়ে উঠবে বারুদের ঝাঝাঁলো গন্ধময়। না হলেই ভাল, তবে এমুহূর্তে আমেরিকারো কোন যুদ্ধে জড়ানোর মত শক্তি নেই ।
তবে সমস্যা কোথায় ? সমস্যা মূলত দীন ইসলাম উনাকে নিয়ে । মুসলমানদের মূর্খতা ,অতি আবেগ ,অপাত্রে বিনয় ও নম্রতা ,খোদায়ী মদদ বিহীন অতি জজবা আর ওলামায়ে ছুদের বিভ্রান্ত ও বিকারগ্রস্থতা যার ফলে মুসলমানরা কাফিরদের মিষ্টি কথায় তার শঠতা কে বেমালুম ভুলে যায় ।যার খেসারত দিচ্ছে ফিলিস্তানের মুসলমানরা । গরীব ইহুদীদের প্রতি এত দরদ উছলে পরেছিল ঐ সময়ে যে ফিলিস্তানের ভূখন্ডে ছড়িয়ে পরে মানুষ খেকো বাঘ ।
আফগানীরা এখন ক্রিকেট ফুটবলে বেমালুম ভুলে গেছে তাদের তাহযীব তামুদ্দুন ।গাজাবাসী পালন করছে ভ্যলেনটাইন ডে ।
মূলত, আজকে সংখ্যগরিষ্ঠতার কারেন্ট জালে আটকা মুসলিম উম্মাহ ।ব্যপারটা বর্ননা সাপেক্ষঃ গনতন্ত্র যখন কোন ভূখন্ডে ঢুকে পরে তখন সেখানকার মানুষদের চরম ভাবে ব্রেইন ওয়াশ চলে ,চলে সংস্ক্রিতিক আগ্রাসন ও সার্থবাদীদের শিক্ষানীতি, এবং অর্থনৈতিক জিম্মিতা যারফলে জনগনের চিন্তাধার মোড় নেয় ঐ দিকেই আজ যা চলছে আফগানিস্থান, বাংলাদেশ সহ আরও অনেক মুসলিম রাষ্ট্রে । এটির যখন চুড়ান্ত পর্যায় আসবে তখন সৃষ্টি হবে ইউক্রেন পরিস্তিতি । এ পয়েন্টে থাকবে অভিনব কিছু চমক । যেমনঃ ৭১ নিয়ে কাফের রাষ্ট্র ভারতের প্রতি অতি প্রীতি, তখন সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশী যদি বলে এদেশ ভারতের অঙ্গরাজ্য তবে তাই , থার্ড স্টেপে ক্রিমিয়া। অস্বাভাবীক কিছু বললামনাতো ।আজ তাই দেখছি ৭১ এ ইহুদি জেনারেল জেকব এর প্রসঙ্গটেনে অবৈধ ইসরাঈলের স্বিকৃতির পক্ষে কথা উঠছে ।হিন্দু কালচার কে বাঙ্গালী কালচার বলে চলিয়ে দিয়ে এক সময় হয়ত মিয়ানমারের আরাকানি মুসলমানদের মত এ দেশের মুসলমানদের এ ভূখন্ড ছাড়ার জন্য জোড় দাবি উঠবে । আর এ সব অনায়েসে হয়ে যাবে ঐ গনতান্ত্রীক সংখ্যাগরিষ্টতা দিয়ে ।
গনতন্ত্রে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্টতা থাকলে অসুবিধা কোথায় ।মূলত তা একটি বিলুপ্ত কথা যার উজ্জল প্রমান মিশর ।ইসলামি গনতন্ত্রীদের চরম পতন অবশ্য পতন নয় ধবংশ । আজ যদি সংখ্যগরিষ্ঠতা দিয়ে ইসলাম কায়েম হত তবে কথাই ছিল অন্য ,উল্টো যার কাছে একটি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমতারি কোনই মূল্য নেই ।এ স্বাধীনার মাসে আর একবার স্মরন করিয়ে দেই এদের ঘূমন্ত মুসলমানদের যাদের অস্তিত্ব আজ হুমকিতে । আজ তাদের বুঝতে হবে "অল্প সংখ্যক অধিসংখ্যকের উপর বিজয়ী হয়" এ আয়াত শরীফ উনাকে । জেনারেল জেকব দের অবদানের ধুয়া তুলে মুসলমানরা কি ভুলে যাবে আল্লাহ পাক ও উনার হাবিব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম , সাহাবায়ে কেরাম রাযিয়াল্লাহু আনহুম ও ওলী আউলিয়া রহমাতুল্লাহি উনাদের বিদ্বেষী ইহুদিদেরকে । "আশিদ্দা আলাল কুফফার, রুহহামায়ু বাইনাহুম " আয়াত শরীফ উনার অর্থ কবে বঝবে মুসলমানরা । তারা কবে হবে কথা ,কাজ ,অচড়নে ,বিনয়ে ,নম্রতায় ,দৃঢ়তায় ,প্রতিবাদে ,প্রতিঘাতে নববী রঙে আর সম্মান ঐতিহ্যের শিখরে অপূর্নতার উর্ধেব। আফগান , ইরাক , ফিলিস্তিন , ক্রিমিয়া , উইঘুর , আরাকান ,বাংলা ও পাক-ভারতের মুসলমানরা কবে চিনবে ঘাপটি মেরে থাকা ছদ্মবেশি মুনাফিকদের আর যাদের সাথে চলবেনা কোন আপোশ । আর তারা কবে বের হবে এই গনতন্ত্র নামক ব্যার্থ তন্ত্রের নাগপাশ থেকে ।
তবে তাদের অবশ্যই আসতে হবে যামানার মূল , যামানার মুজাদ্দিদ উনার নিকট ,উনার তাজদিদের প্রচারে "সুন্দর কথা দ্বাড়া হেকমতের সহিত"। দিক্ষীত হতে হবে ওহী দ্বাড়া মনোনিত খিলাফতে আলা মিনহাযিন নবুয়াহ উনার পরম নিয়ামতে যেখানে বাতিলের প্রতি নয় কোন নম্রতা যদিও প্রতেকের নিকটবর্তী হয় কোন কারবালা কোন ইযিদ বাহীনি। আর তখনি প্রপ্তির ও ইসলাহির চুরান্ত শিখরে তথা কথা কাজ আচড়নে এ আয়য়াত শরীফ উনার হুবহু মিসদাক " উনারা অর্থাত সাহাবায়েকেরাম রাযিয়াল্লাহু আনহুমগন কাফিরদের প্রতি কঠোর ও পরস্পরের প্রতি সহানুভুতিশীল "। আমীন।
3 টি মন্তব্য
মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।
>>রাতের চন্দ্র<<
মুহম্মদ ওবায়দুল হক
শিব্বির আহমদ