সবুজ বাংলা ব্লগ

সবুজ বাংলা ব্লগ

আন্তর্জাতিক

গনতন্ত্র ৭

" গনতন্ত্র কি গনমানুষের ": স্বাধীনতার স্বরুপ কি? অধিকার,মানবতা,শান্তি। আর তার পরিব্যাপ্তি? ব্যাক্তি, গোষ্ঠি বা জাতিসত্তাযুক্ত । মূলত স্বাধীনতার ধারনাটা ব্যক্তি কেন্দ্রিক। যখন ব্যাক্তি সত্তা থেকে গোষ্ঠিতে, এরপর সার্বভৌম আকাের নির্দিষ্ট আঞ্চলে পরিব্যাপ্ত হয় তখন তা স্বাধীনতায় প্রতিয়মান হয়। আজ যা স্বাধীন কাল তা পরাধীন, এজায়গায় স্বাধীন তো অন্য জায়গায় পরাধীন। স্থান, কাল নয় ব্যাক্তিই স্বাধীনতার নিয়ামক। এটি করুনা নয় তাই কেউ কাউকে স্বাধীনতা দিতে পারে না এটা অর্জন করে নিতে হয়। আমার স্বাধীনতাকে কেউ স্বীকার করে নিল বা স্বীকৃতি দিল এটাও সম্মান জনক নয় কারন কাল যদি অস্বীকার করে অস্বীকৃতি জানায়। স্বাধীনেরর অর্থ এটাও নয় যে দূর্বলের প্রতি আগ্রাসী মনোভাব, কারন ওতে পরাধীনতা ওঁত পেতে থাকে। সহযোগিতা পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতাও স্বাধীনতার কার্যকারী রুপ। "স্বাধীন দেশের নাগরিক " কথাটার গ্রহনযোগ্যতা কতটুকু। এন্টার্কটিকা স্বাধীন তাতে আমার কি আসে যায়। এই স্থান কি মানবসত্তার সাথে বিরূপ আচড়ন করে না! আমি, আমরা -আমাদের মনুষত্ব, আদর্শ ও বিবেকবোধেরর কাঠামোর মধ্যে অধিকার আর কর্ত্যবের আবর্তে একটি শৃঙ্খলার দ্বাড়া নিবর্তিত ঐক্যের যে সীমাহীন একটি শক্তি কোন স্থানের যতটুকুকে আবদ্ধ করে ঐ স্থানের ততটুকু স্বাধীন। অর্থাৎ আমাদের স্বাধীনতাই এ ভূখন্ডের অনন্যাতা, সীমাহীন ঐক্যের অসীম রুপ। যে জায়গা আমার, আমি স্বাধীন হলে তাও স্বাধীন তা আমি যেকোন উপায়ে হতে পারি। "ব্যার্থ রাষ্ট্রের" ধারনাটাও একটি অপ্ত বাক্য। কোন দেশ থেকে যখন বসবাসকারীদের নির্মূল করে অন্য কেউ আসে তখন নতুনদের জন্য সেটি স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিনত হয়। যেমনঃ আমেরিকা। যুদ্ধ ছাড়াও ভ্রাতিত্বের ঐক্য ও ধর্মিয় ঐক্যেরদ্বড়া রাষ্ট্রেরর আকার বর্ধিত হয়। এজন্য প্রকৃত স্বাধীনতার ধারনায় রাষ্ট্র ও তার সীমানা গৌণ বিষয়। স্বাধীনতার উদ্দেশ্য কি? ১) মনুষত্ব ও আদর্শ বিস্তার করা। ২) বিবেকবোধের বিকাশ ঘটানো। ৩) ঐক্য ও শান্তি স্থাপনে সকল স্থানের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। ৪) ধারকগনের সকল চাহিদা পূরনের শক্তি অর্জন ও নিরাপত্তা প্রদানের ক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ । এখানে আলোচ্য বিষয় চার নং উদ্দেশ্য। চারনং উদ্দেশ্য দু'ভাগে বিভক্ত: প্রথমত, সকল চাহিদা বা জরুরত পূরনের শক্তি অর্জন যা অধিকার রুপে প্রতিফলিত হয়। দ্বিতীয়ত, নিরাপত্তা প্রদানের ক্ষমতাবৃদ্ধি করন অর্থাৎ "প্রত্যেকেই অপরের নিরাপত্তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল" যা দায়িত্ব অর্থে প্রতিয়মান হয়।নিরাপত্তার বিষয়টি সমস্ত বিষয়ের সাথে জড়িত। এটি কখন ব্যাক্তি, কখনও গোষ্ঠীগত বা সর্বজনিন রুপ ধারন করে। মানুষের অধিকার গুলোর মৌলিক রুপ ছয়টি। ১) বস্ত্র ২) খাদ্য ৩) চিকিৎসা ৪)বাসস্থান ৫)শিক্ষা ৬)বিবাহ এটা চিরন্তন সত্য যে এ ছয়টির একটিয় যদি প্রতিবন্ধকতার স্বীকার হয় তখন স্বাধীনতার সত্তার রূপটি এমন ভাবে বিকৃত হয় যে সেটি যখন তখন বিলিনের মুখে পরাটা খুবি সহজ হয়ে যায়। আমার পরিপূর্ন স্বাধীনতা চাই যা আমাকে সমস্ত পূর্নতার শিখরে পৌছাবে। আমি কি স্বাধীন? কেউ হয়তো বলবে হ্যাঁ। তাহলে পৃথিবীতে স্বাধীন দেশের সংখ্যা কত? আনেকে বলবে শত শত। আমি বলব দশ বিশটা বা তার কম। কিছু মুষ্ঠিমেয় দেশ বা জাতির কাছে জিম্মি এ বিশ্ব। তারাই নিয়ন্ত্রন করে বিশ্বের অপরাপর দেশ জাতি গুলোর স্বাধীনতাকে যেটা পরাধীনতার উল্টা পিট। তারা যেভাবে আমাদের কাছে স্বাধীনতা তুলে ধরে আমরা সেভাবেই বুঝি। এরাই হল সম্রাজ্যবাদি। এই সম্রাজ্যবাদিরা কোথাও স্বাধীনতাকে তুলে ধরে রাজতন্ত্ররুপে, কোথাও সামরিকতন্ত্ররুপে, কোথাও সমাজতন্ত্র, কোথাও আল-কয়দা, কোথাও আই. এস রুপে, তবে তাদের এ রূপক গুলোর সবচেয়ে সহজতম ভয়াবহ ও আগ্রসী রুপ হল "গনতন্ত্র"। আপনি মিশরে দেখেন, গনতন্ত্রে মনেহয় সুবিধাকরতে পারেনি সম্রাজ্যবাদিরা তাই ওখানে স্বাধীনতা রুপ নিল গন-সামরিকতন্ত্রে যা গনতন্ত্রের নবতর রুপ।তাই আপনি খেয়ে থাকেন আর নাখেয়ে, গায়ে কাপড় থাক বা নথাক তাতে করও যায় আসে না তবে আপনি ভোটদিতে না গেলেই ৭০ ডলার জরিমানা। অধিকার বলে কথা। ময়ানমারের হয়ত সামরিকতন্ত্রেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য পাচ্ছে সম্রজ্যবাদিরা ; হবেনা। মুসলমানদের বাস্তুচুত করার জন্য এরচেয়ে কার্যকর আর কিছু অাছেকি? আফ্রিকার জনগন সম্রাজ্যবাদিদের কাছে গিনিপিগের চেয়ে বেশি কিছু না তাই মানবতা রক্ষায় জীবাণু অস্ত্র প্রয়োগ করা হয় গনতন্ত্রের আড়ালে। ঞ্জান -বিঞ্জানের শিকর থেকে শিখরে যখন মুসলমানদের অবাধ বিচরন তখন পাকিস্থানের প্রথমিকের গন্ডি পার করা কোন বচ্চা শিশুকেই দেওয়া হয় সর্বোচ্চ পুরুষ্কার ও সম্মান, হয়তো ওটাই ছিল সেখানে তাদের সম্রাজ্যবাদনীতির মোক্ষম অস্ত্র। আপনার জন্মের পরথেকে সমস্তকিছুই যেন গনতন্ত্রের শত্রু, শুধু মৃত্যুটাই চরম প্রাপ্তি। আপনার বিবাহ নামক জীবনের গুরুত্বপূর্ন মোড়টিও আবদ্ধ গনতন্ত্রের সবচেয়ে কার্যকর চালিকাশক্তি আইন নামক বন্দুকের টিগারে। বয়সের ধুয়াতুলে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা। অবস্থাদৃষ্টে এমন মনে হয় সহস্রবছরের মানব সভ্যতার ইতিহাসে এরা আকাশ থেকে পড়া বা মাটিভেদকরে উঠা কোন অবাঞ্চিত সত্তা। স্বাধীনতার উত্তর সময়ে যেগুলো ভাবাটাও ছিল অন্যায় আজ কালের বিবর্তনে তা আইন। হবেইনাবা কেন স্বাধীনতার সূর্য যে আজ আছরের ওয়াক্ত পার করেছে এইতো মাগরীব ওয়াক্ত চলে এল বুঝি। গনতন্ত্রে আইন কোনটা আমার বুঝে আসেনা। যেমন ধরুন, একটা মেয়ে ব্যাবিচারের স্বীকার হওয়ার সময় ঐ জুলুমকারীকে হত্যা করল। এক্ষেত্রে অপরাধ কোনটা, ধর্ষিত না হওয়াটা নাকি হত্যা করাটা। এমনি তন্ত্রের আইন যা একি সাথে ধর্ষক, ধর্ষিতা বা বিচারক রুপে সমঅধিকারেরর মহা মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠায় নিবেদিত। আপনি হয়তবা সমাজের অর্ধেক হিসাবে নারীর ক্ষমতায়নের কথা বলবেন। ঠিক আছে,তো আপনার অর্ধাঙ্গিনীরর সাথে যে অতিরিক্ত "দীর্ঘ ঈ" কারটা যোগ হল তাকে কি বলবেন। নিশ্চই গহনা পরা বা সন্তান ধারন আপনার কাজ না। তো এখন নিজেকে নিশ্চই অনুদার বা গোড়া মনে হচ্ছে। জনাব বলুনতো যে সমাজে অগনিত যুবক বা পুরুষ বেকার সেখানে নারীর ক্ষমতায়ন কি? অবশ্য একদিক দিয়ে ভালই হয়েছে আপনি বসে বসে খাচ্ছেন আর আপনার মিসেস আয় উপার্যন করছে। নারী পুরুষদের বিবেচনায় পুরুষদের জন্য সমাজে অনেককিছু অতি সহজ। তাই বেকার পুরুষদের থেকে সমাজের শান্তি শৃঙ্খলা বিঘ্নত হবার সম্ভবনাও বেশি। যে সন্তান অসহায় শিশু বয়সে মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত আপনার আসহায় বৃদ্ধ বয়সে সে আপনার কতটুকু উপকারে আসবে। আমি নারীদের কটাক্ষ করছিনা। দেখুন দেশের শাষন ব্যাবস্থা, আইন আর অসামঞ্জস্যতার কাছে কতটা জিম্মি এ সমাজ ব্যাবস্থা। এ সম্রাজ্যবাদিদের বিশ্বে উত্তর কোরিয়া এক বিস্ময়। তাদের স্বাধীনতার প্রকাশটাই ব্যাতিক্রম অবশ্য তাতেও কিছু ছলনা বা অপূর্নতা আছে। ইজরাইল নামক রাষ্ট্রকে স্বাধীন বলার কোন সুযোগ নাই কারন আপনি সৌদি বাদশাকে আজ ক্ষমতাচূত্য করেন কাল ইজরাইলের অস্তিত্ব হবে শুধুই ইতিহাস। গনতন্ত্রে সরকার ক্ষমতায় এসেই চিন্তা করে পাঁচ বছর পরে আবার আসা যায় কি করে। আর বিরোধী দল চিন্তা করে পারলে আজই সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতায় বসা যায়। গনতন্ত্র এমন একটি ঢেঁকি যা ভোট আর নির্বাচন নিয়েই সাড়া সময় ব্যাস্ত জনগন শুধু এতটকু আশায় বুক বাধেঁ যে ধান ভানা হচ্ছে চউল হলেই পাক উঠবে। এদিকে সে আশাতেই তার জীবন কেটে যায় অসীম কালান্তরে। আর শেষ হয়ে ওঠেনা জীবনের মৌলিক চাহিদার পূরনের হাহাকার থেকে। গনতন্ত্র বলে কথা, কার উপর চেয়ে থাকবে, এ তন্ত্রে সবকিছুরর মালিক তো জনগন তাই কেউ খেটে খুটে কিছু যোগায় আর সরকারী পেশায় থাকলে তো কথায় নাই বৈধ অবৈধ সবকিছুর টিকেট তো আছেই। অথচ সমস্ত সীমাবদ্ধতা, অন্যায়, জুলুমের পাশ কেটে আজ থেকে ১৪ শত বছর আগে ইসলাম দিয়েছিল মানবতা মনুষত্ব আর ইনসাফের মহনতম আদর্শ। খিলাফতের অমিয় যুগে সমগ্র বিশ্বে মুসলমানরাই ছিল সমস্ত পূর্ণতা আর প্রাপ্তির চরম শিখরে। তবে আজ কেন নয়! তা পূনঃরায় তাদের ভাবা উচিত যদি তারা স্বাধীনতার প্রকৃত সুধা পান করতে চায় ।

2 টি মন্তব্য

  • দূর্গম গিরি

    উপরোক্ত স্বাধীনতার অর্থ, সংগা, উদ্দেশ্য মতে এখন থেকে পার্বত্যচট্টগ্রাম স্বাধীন। পার্বত্যচট্টগ্রাম এর ব্যাপারে যে ভূমি আইন সংসদে পাশ হয়েছে তাতে অদূর ভবিষ্যতে
    ,
    ,
    "গনপ্রজাতন্ত্রী পার্বত্যচট্টগ্রাম "
    ,
    ,
    নামে নতুন দেশের আত্মপ্রকাশ অস্বাবাভিক কিছুই নয়।
  • দূর্গম গিরি

    আজকের বাংলাদেশ।

    এই আমার দেশ, আমার স্বাধিনতা, আমার পদদলিত অধিকার।

    সরকার আর বিরোধীরা আমাকে এভাবেই রেখেছে।

    আমি গর্ব করে বলতে পারি আমি স্বাধিন দেশের নাগরিক।

    ধিক নিজেকে। ধিক এ বিবেককে।

মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।