সবুজ বাংলা ব্লগ

সবুজ বাংলা ব্লগ

আন্তর্জাতিক

গনতন্ত্র ৮

কখনও কখনও কারো মুখে বা লেখায় একটি কথা উল্লেখ করতে দেখেছি তা হল, "সাবেক সফল এমপি বা মন্ত্রী " - কথাটা যখনি মনে হয় তখনি আমার একটু হলেও হাসি পায়। কারন সফলরা কেন সাবেক হন। আর বর্তমানে কেন তাদের সফলতার কদর নাই। এক্ষেত্রে দুটি কারন থাকতে পারে : ১) তাকে কষ্টকরে যারা সফলতার তুলার গদিতে বসিয়ে ছিল তারা বিগরে গেছে, নতুবা কেন এ সফল ব্যাক্তিকে গদি থেকে টেনে নামাবে। ২) অথবা তার সফলতার আকার এত বেশি ছিল যে যার জোয়ারে নিজের কাঁচা বাড়ি পাকা বা ব্যাংকরে অ্যাকাউন্টে অতিরিক্ত কিছু মানহীন শূন্য যোগ হয়েছে, ব্যাস। দ্বিতীয় কারনটি তো অহরহ তবে প্রথম কারনটি ব্যাখ্যা সাপেক্ষ। ♦গনতন্ত্রে পাবলিক সাপোর্ট নিয়ে কোন যোগ্যতা ছাড়াই যেকোন পদে আরহন করা একটি সিদ্ধান্তের ব্যাপার মাত্র। কিন্তু ভাবা হয়না তার যোগ্যতা কতটুকু। যদি পাইলটকে ট্রাক চালাতে দেওয়া হয় তবেতো সে নগর, বন্দর, নদী, সমুদ্র বনাঞ্চল এক করে দিবে, আর ট্রাক চালকে প্লেন চালাতে দিলে সে আকাশেও ট্রাফিক জ্যামের সিগন্যাল খুজবে। ব্যাপরটা উদাহরন স্বরূপ ঠিক এরুপ, যদি বিশটা বলদ মিলে, তাদের রাখাল কে হবে তা ঠিক করে তবে ভেবে দেখুন বলদ গুলোর পরিনতির দিকে। কি কপাল এদের, এসব ব্যার্থরাই ঘুরে ফিরে বারবার দেশের শাষক রুপে আবির্ভূত হয়। ইবলিশতো লক্ষ্য বছর ইবাদত করে ছিল, ফেরেশতা আলাইহিমুস সাল্লাম উনাদের মুয়াল্লিম হয়েছিল কিন্তু তাইবলে এখন যদি কেউ, "সাবেক আবেদ,মুয়াল্লিম, খোদার বান্দা ইবলিস", ইত্যাদি ইত্যাদি বিশেষণে ইবলিসের পক্ষে সাফাই গায় তবে সে কে এটা বুঝতে নিশ্চয় আমাদের বাকি থাকেনা। গনতন্ত্র ও গনতন্ত্রীরা আর বেশিদিন এদেশের মানুষকে বোকা বানিয়ে রাখতে পরবেনা, ইনশ্আল্লাহ্।। এখন শুধু জনগনের আকল -সময্ জাগ্রত হলেই হয়। আপনি আমেরিকার দিকে তাকান, গনতন্ত্র ফেরী করে বেড়ানো চরম জালিম অত্যাচারী এ দেশটির আইন ও বিচার যেন "লক হিড" এর কারখানায় তৈরী এক একটি তাজা বুলেট। তবুও ওদের কন্ঠে উচ্চরিত হয় গনতন্ত্রিক মানবাধির আর সাম্যের বস্তা পঁচা উদার নীতির স্লোগান। আমিতো দেখি পুলিশস্টেশন থেকে আদালতের দুরত্ব যতটুকু গনতন্ত্রে ন্যায়বিচার ও আইনের মধ্যে ঠিক ততটুকুই দূরত্ব, মাঝ পথেই সবকিছুর দফারফা সাড়া। আপনি কে? আপনি ন্যায়বিচার পেলে কি ;আর না পেলেইবা কি ;আপনিতো জনগন, সস্তা ট্রেনের যাত্রি, আইন নামক এসি বাসের টিকিটতো শুধু শাষকদের অধিকার, যে আধিকার ছেড়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি আরব বসন্তের ললিপপ বিক্রেতা ওবামা প্রসাশনেররও।আইনের প্রয়োগ হয় উপকারর্থে, আপপ্রয়োগ হয় স্বার্থে, আর তার নিষ্ক্রিয়তাও কোন না কোন শর্তে। ঐ সম্রাজ্যবাদিরা জনগনের চোখে গনতান্ত্রিক সাম্য আর মানবাধিকারের রঙ্গিন ছিটা এমন ভাবে মারে যে তারা বেমালুম স্বপ্নে বুদ হয়ে যায়। তা কেমন? এইতো হোসনি মোবারকের পতনের সময় যেই জনগন ছিল সম্রাজ্যবাদিদের কাছে হিরো,আজ সেই মুবারককেই সমস্ত অপরাধ থেকে: অব্যহতি দেওয়া হয় সম্রাজ্যবাদিদের বর্তমান দালাল সিসি প্রশাষনের আইনের আদালতে মাঝখানে মুরসিপন্থি বলদ গুলো সাফ। বাশার এবং নুরি আল মালিকির প্রসাশনেরর উচ্ছেদ করার জন্য যেই আই.এস এর জন্ম দিয়েছিল আমেরিকা, ইরাকে সফল হলেও সিরিয়ায় তা এখনো ব্যার্থ।কেন ইরাকে তো গনতন্ত্রি ছিল,তবে কেন আই.এস! কারন শুধু গনতন্ত্র কেন ওদের স্বার্থ যতক্ষন পুরা হবেনা ততক্ষন একটার পর একটা তৈরী করতে থাকবে।কি বলেন, এটা কি করে সম্ভব। কেন? হুজুগে মাতা জনগন আছে না! ভাবতে অবাক লাগে ইরাকে সম্রজ্যবাদিদের বর্তমান দালাল সরকারও আই.এস নির্মূলে নাকি মাথা ব্যাথার ট্যাবলেট গিলছে। কতবড় উপহাস আর এ উপসাসই টপাটপ গিলছে এই অঞ্চলের জনগন,লাইন কয়েক উপরে আমি এদেরকেই বলদ বলে আখ্যায়িত করেছি। এরা দেখচে না সবার পেছে তো ঐ এক আমেরিকাই ; নাকি! এখন আনেকেই বলবে এতে সম্রাজ্যবাদিদের লাভ কি? ঢের লাভ আছে। সমস্ত দুনিয়ার মুসলমানদের কোটঠাসা করে তাদের উপর কর্তৃত্ব করার জন্য উম্মার কেন্দ্র জাজিরাতুল আরব এ তাদের তাবেদার, চিরায়ত দুধেল গাই সৌদি ওহাবী বাদশার গদিকে নিরাপদ ও ইজরাইলের স্বার্থে জিইয়ে রাখা। আর এ পথেই বাধা হল এ অঞ্চলের মুসলিম সরকার গুলো। বাশার সরকারের পিছনে হয়ত ইরান ও লেবাননের হাসান নাসরুল্লাহর স্ব-প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লার শক্তিশালী সাপোর্ট থাকায় তাকে কাবু করতে হিমশিম খাচ্ছে। কিন্তু সমস্যা হল এদের আন্দোলনের স্থায়িত্ব নিয়ে। এরা সামনে তো কাফেরদের শত্রুভাবে কিন্তু আড়ালে ঠিকই তাদের সাথে বন্ধুত্ব করে আর এজায়গায় ধোঁকা খায় জনগন। ঠিকি দেখা যাবে কাফেরদের কোন নতুন পাতানো ফাঁদে পরে এরা হাঁসফাঁস করছে। যা আমরা বুঝেও বুঝিনা। মানুষ দেখে শিখে, আর আমরা। হয়তো ঐ অঞ্চলের মত পরিস্থিতি এখনও আসেনি। কিন্তু কতক্ষন, আমাদেরও হয়ত আটকা পড়তে হতে পরে নতুন কোন পাঁতানো ফাঁদে, হয়তোবা তার ইন্তেজাম সম্পূর্ণ। কেন নয়? আমরাতো সাবেক সফলদের ব্যার্থতা দেখিনা ? আমেরিকা যখন আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রের নবনির্বাচিত উগ্রবাদি প্রধানমন্ত্রীকে মুসলিম নিধনের ট্রেইনিং দেয়, হাতে ধরিয়ে দেয় এদেশের উপর চাপ প্রয়োগের অত্যাধুনিক কুটনৈতিক ডেস্ট্রয়ার তখন বোধ্যা মহলের আর বুঝার কোন আবকাশ থাকেকি, কি হতে যাচ্ছে। আমেরিকাতো এমনি সৎচরিত্রের ল্যম্পপোষ্ট যা এদেশের সন্ত্রসিদের দিক্ষ্যা দেয় মুশরিকদের আঘাত কর, আর মুশরিকদের কুমন্ত্রনা দেয় সাড়াশি আক্রমন কর। স্বাধীনতা হল এ জাতির এক অনন্য সম্মান, মর্যদার মূর্ত নিশান, আধিকারের বজ্রকন্ঠ , সফলতার সোপান যা আমাদের মুড়িয়ে দিয়েছে সার্বভৌমত্বের নিছিদ্র চাদরে। যেই সার্বভৌমত্ব এক আনন্য রোব আকারে এ বিশ্বের কোণে কোণে এমন ভাবে ছড়িয়ে পরেছে যার সামনে মাথা ঝুকিয়ে দিয়েছে বিশ্ববাসি। কিন্তু আজ আমরা কোথায়? পদে পদে লাঞ্চিত, আধিকার হারা, বঞ্চিত- তবেকি আমাদের স্বাধীনতা হুমকির মুখে, আমাদের সার্বভৌমত্বের তেজ কি নিভু নিভু, এজন্যই হয়তবা এদেশের সিংহভাগ ভুখন্ডের দাবি তোলে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের তথাকথিত অর্বাচীনরা। আর আমরা এমন বন্ধু পেয়ে হতবাক। চিন্তার কি আছে? সাবেক সফল দেশনেতারা আছেনা। তো দেখুন, সবকিছুই কি হচ্চেনা এ গনতন্ত্র রুপি শাসন ব্যাবস্থার মোড়কে। তবে কেন এখনও সচেতন হচ্ছিনা আমরা। নববী নূরের সেই সীমাহিন খোদয়ী নিয়ামত ছেড়ে কেন ডুবে আছি এই বস্তাপঁচা গনতন্ত্রেরর অলীক মোহে। মুসলিম উম্মাহ এখনও কেন এক হচ্ছি না। আর কবে উড়বে মাশরেক থেকে মাগরীবে ইসলামের বিজয়, বিরত্ব, শান্তি আর মহানুভবতার দিপ্ত নিশান। নিস্তব্ধ হয়ে যাবার পর!! ৭) http://shobujbanglablog.net/69134.html ৬) http://shobujbanglablog.net/65639.html ৫) http://shobujbanglablog.net/63936.html ৪) http://shobujbanglablog.net/60340.html ৩) http://shobujbanglablog.net/59713.html ২) http://shobujbanglablog.net/58359.html

0 টি মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।

মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।