গনতন্ত্র ৯

গনতন্ত্রীরা বলে, " গনতন্ত্র আর দীন ইসলাম এক সাথে থাকতে পারে না "।
কেউ হয়তবা বলবে এটা সমষ্টিগত অর্থে নয় বরং কিছু গনতন্ত্রীর কথা। কিন্তু কথাটাযে বাস্তবিক অর্থে পুরোটা সত্যি তার যথেষ্ট শক্তিশালী ভিত্তি আছে।
"গনতন্ত্র" ও "ইসলাম" শব্দ দুটির সাপেক্ষ উক্তিটির ব্যাখ্যা নিম্নে তুলে ধরা হলঃ
♦একটি ভূখন্ডে গনতন্ত্রেরর সার্বিক প্রকাশ কেমন হবে তা নির্ভর করে ঐ ভূখন্ডের অধিকাংশ জনগোষ্ঠী অমুসলিম না মুসলিম তার উপর।
অমুসলিম ভূখন্ডে গনতন্ত্র একটি বাহ্যিক কৌসল হিসাবে ব্যবহৃত হয়, যার কার্যকারী প্রয়োগ ঘটে নিম্নরূপ চারধাপে চক্রাকারে :-
১) গনতন্ত্র একটি এজেন্ডা গত কৌসল যার বাহ্যিক খোলস সে একটি শাষন ব্যাবস্থা।
২) গনতন্ত্র নির্দিষ্ট কোন গোষ্ঠির স্বার্থাভিমুখি বলয়।
৩) গনতান্ত্র তার বলেয়ের মধ্যে অবস্থিত সকল বিপরীতমূখী বিষয়কে সরিয়ে দিয়ে নিজেই প্রতিস্থাপনিত হয়ে যায়।
৪) বলয়ের পুরোটা একমুখি হলে এটি স্বার্থসংরক্ষনকারীর দিকে পূণঃপ্রত্যাবর্তন করে।
একটি অমুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ভূখন্ডে উপরের চারটি বিষয় চক্র আকারে কাজকরে। যেমন:
এজেন্ডা > সংখ্যাগরিষ্ঠ গোষ্ঠী>বিপরীতমুখি বিষয় আপসারন করে নিজে প্রতিস্থাপন>একমুখি করনের পর পুনরায় নতুন এজেন্ডায় প্রত্যাবর্তন।
এ পুরোচক্রটি একটি জটিল সমীকরনের মধ্যদিয়ে বাস্তবায়ন করা হয়।
এজেন্ডা থাকে তিন ধরনের:
(।)স্থানীয়
(।।)আঞ্চলিক
(।।।)আন্তর্জাতিক
স্থানীয় এজেন্ডা আঞ্চলিক এজেন্ডার ও আঞ্চলিক এজেন্ডা আন্তর্জাতিক এজেন্ডার অভিমূখে সকল কর্মপদ্ধতিকে সূচারূপ ভাবে পরিচালনা করে। এজেন্ডার ধরন নির্ভর করে সংখ্যাগরিষ্ঠদের ভিত্তিতে। ঐ এজেন্ডা সংখ্যাগরিষ্ঠের অভিরুচির দ্বাড়া একটি বলয় গঠন করে বিপরীতমুখি বিষয়গুলোর বিরুদ্ধে তীব্র চাপ সৃষ্টি করে।
এখন পর্যন্ত চলমান বিশ্বে এরকম চাপ সৃষ্টিকরী যে উপাদান গুলো পাওয়া যায় তাহলঃ
-মানবাধিকার
-উদারনীতি
-সাম্য
-সমঅধিকার
-অসাম্প্রদায়িকতা
-ধর্মনিরপেক্ষতা
-বিশ্বায়ন
-অস্থিতিশীলতা
-জাতীয়তাবাদ
এরকম আরও অনেক শব্দ যা গনতন্ত্রের মোড়কে বা তার অর্থ হিসাবে উপস্থাপিত হয়। বিশ্বে আন্তর্জাতিক এজেন্ডা এখন পর্যন্ত একটিই পাওয়া যার তা হল "ইসলামকে নিশ্চিহ্ন করা "। আর আঞ্চলিক ও স্থানীয় এজেন্ডা গুলো সাময়িক ও আন্তর্জাতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে ছোট ছোট বা মাঝারী কিছু ধাপ মাত্র।
যেমন: অমুসলিম রাষ্ট্রে পর্দার বিরুদ্ধে আইন করা হয় উদারনীতি, অসাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মনিরপেক্ষতারর নাম দিয়ে। এভাবে একের পর এক চলতেই থাকে। একসময় গনতান্ত্রিক সাইনবোর্ডে সব নিঃশেষ হয়ে ইসলম শুধু একটি খোলস হিসাবে রূপ ধারন করে।
মুসলিম রাষ্ট্র হয়েও তুরষ্কেতো একবারেই সফলকরা হয়েছে আন্তর্জাতিক এজেন্ডা। চমতকার! তুর্কিরা মুসলমান বটে।
তবে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রে মুসলমানিত্ব প্রদানকারী দীন ইসলাম উনার সাথে গনতন্ত্র সহবস্থানে থাকার মত যোগ্যতা রাখেনা তার বৈষম্য মুলক নীতির কারনে। তা কোথায়?
ব্যাখ্যা: একটি গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ধর্মীয়স্বাধীনতা একটি সমন্বয়হীন বিষয় মাত্র ও ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্ম গুলো যার অপপ্রয়োগ করে।
যেমন বলা হয় - আইন, জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতা-সাপেক্ষে,
ধর্ম অবলম্বন, পালন বা প্রচার বৈধতা সিদ্ধ।
তো দেখুন, ধর্ম অবলম্বন, পালন বা প্রচার শর্তযুক্ত। বাস্তবেই দেখা যায়, প্রথম শর্ত আইন দ্বাড়া শুধুমাত্র বিদ্বেষ বশত ইসলাম ধর্মের উপর হস্তক্ষেপ করা হয়, কিন্তু জনস্বার্থ ও নৈতিকতা বিরোধী হলেও অন্য ধর্মের কোন কিছুতে বিধিনিষেধ বা আইন প্রয়োগের সুযোগ থাকলেও তা করা হয় না যদিও শুধুমাত্র ইসলামই জনস্বার্থ ও নৈতিকতার পূর্ন সংরক্ষক। আবার আইনের প্রকাশ, প্রয়োগ, সীমা, ব্যাপকতা, বিস্তৃতি কোনকিছুই গনতন্ত্রে স্পষ্ট নয়। তো সে আইন ইসলামের বিপক্ষে গেলেও তাতে কারো কিছু করার নাই, যতক্ষন গনতন্ত্র থাকবে।
তাহলে দেখাযায় একদিকে পূর্ন সুযোগের উদারতা দেখিয়ে আপর দিকে নিষেধাজ্ঞা আরপেরও বন্দোবস্ত পাকা করা হয়েছে। এভাবে কেন আমাদের ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে। তাহলে এ গনতন্ত্রে পরস্পর বিরোধীত এ নীতি গুলো কি আন্তর্জাতিতক এজেন্ডা সফলের আঞ্চলিক বা স্থানীয় কিছু এজেন্ডা মাত্র।
তাহলে আমার ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ বিষয়ে যখন স্বাধীনতা খর্বিত হয় তখন প্রশ্ন জাগে আমি কি স্বাধীন? অথবা এ গনতন্ত্র আমার মত কোটি মুসলমানের প্রেরনায় কত কি যে করে থাকে।
এখনতো ভেবে পাইনা গনতন্ত্রকে আমার থেকে বের করে দিব নাকি আমি গনতন্ত্র হতে বের হব।
আমার সত্তায় আমি কতটুকু স্বাধীন, বা এ জাতি স্বাধীনতার প্রকাশ আত্মতৃপ্তির নাকি আর্তনাদের।
অবশ্যই, তবে হ্যাঁ আজ থেকে ১৪ শত বছর পূর্বে আমি প্রকৃতই স্বাধীন ছিলাম আর এ ধারনায় আঘাত পেয়েছি একি ভাবে পাকিস্তানি শাষক ও আমার স্বজাতির শাষকদের থেকে, তবে তা সামান্য পরিবর্তিত রূপে ভিন্ন আঙ্গিকে প্রতিনিয়ত, অনবরত, অভিরত -আহত, দগ্ধ আমার আমি।
আমরা সবাই কি নই !
৮) http://shobujbanglablog.net/69446.html
2 টি মন্তব্য
মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।
দূর্গম গিরি
প্রশ্ন ১: মুসলমানদের সাথে খ্রিষ্টানদের নাম আসল কেন?
প্রশ্ন ২: বৌদ্ধ ও ইহুদিদের নাম আসল না কেন?
প্রশ্ন ৩: এ উদ্দোগের পেছনে কে?
প্রশ্ন ৪: তাদের পেছনে কে?
উত্তর ৪: সবার পেছনে আছে ইহুদিরা। কারন এ বিশ্বের একমাত্র অঘোষিত আন্তর্জাতিক এজেন্ডা হল " জায়ানিজম "।
উত্তর ৩: এ উদ্দোগের পেছনে আছে খ্রিষ্টানরা। মুসলিম উতখাত শেষ হলে খ্রিষ্টান উতখাতের বাহানায় আন্তর্জাতিত খ্রিষ্টীয় শক্তি আমেরিকা বা অষ্ট্রেলিয়ার মত ভরতের মুশরিক পেগানদের শেষ করবে। যেহেতু ইহুদিরা খ্রিষ্টানদের মাধ্যমে সবকিছুই করে সুতরাং ইহুদি কার্যক্রম শেষে।
উত্তর ২: এখানে আঞ্চলিক এজেন্ডা হল ইসলামকে নিশ্চিহ করে পেগানদের উত্থান ঘটানো। এরপর আন্তর্জাতিক অঘোষিত এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য এদের বন্ধু বেশে আগমনের রাম্তা পাকা করা।
উত্তর ১: গরু জাবাই নিষেধ, আজান নিষেধ, মসজিদ নিশ্চিহ্ন,জোরকরে ধর্মান্তর ইত্যাদি স্থানীয় এজেন্ডা সফল করে আঞ্চলিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা। খ্রিষ্টানদের নাম সংযুক্ত করে অন্য মুসলিম রাষ্ট্রকে বুঝানো যে তারা শুধুই মুসলিম বিদ্বেষী নয়।কারণ হালকা কিছু পদক্ষেপ ছড়া খ্রিষ্টানরা তেমন কোন উদ্বোগ নেয়নি ও সন্দেহজনক ভাবে নিরব।
দূর্গম গিরি