গনতন্ত্র ৪

নেই কোন বিধ্বংশী স্কাড ক্ষেপনাস্ত্র, এটিজিম, উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন সয়ংক্রিয় অস্ত্র, অত্যাধুনিক ফাইটার বা ফ্রিগেট। হাতে নগন্য কিছু চাইনিজ ও রাশিয়ান অস্ত্র। যখন সামান্য মাত্র বেতার স্টেশনই ছিল যোগাযোগ রক্ষার সম্বল তারও অাগে রুশ মার্কীনরা পারি জমিয়ে ছিল মহাকাশে। এক বর্গফুটের নগন্য বুকের ছাতিতে ছিল বাংলাদেশ সমান দেশপ্রেম আর সাহস। সমগ্র বিশ্বের রক্তচক্ষুকে পাশ কাটিয়ে সাত কোটি বাংলার মুসলমান ঐক্য বদ্ধ হয়েছিল এক বিরল কন্ঠস্বরের অাহ্বানে "দেশকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশ্ল্লাহ"। মুক্ত হল এ বাংলার আকাশ বাতাশ। কত সুমিষ্ট, সুস্বাদু এ দেশের ফল- ফসল ; সার-সেচে নয়, এ বাংলার মাটি উর্বর হয়েছে বাঙ্গালির বুকের তাজা রক্তে।
অতঃপর একটি অপপ্রচার দ্বাড়া বিভ্রান্তির চরমসীমায় আমরা।
এইতো,- "গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্যই কি মুক্তিযুদ্ধ করেছি"।
বাস্তবতার আলোকে নিছক একটি অভিমতঃ
ভারত -পাকিস্তান বিভক্তির পর থেকে বাংলাদেশে শুরু হয় পাকিস্তানী শাষন। সেই ৪৭ থেকে ৭১ -হাটি হাটি পা পা করে এগুতে থাকে একটি জাতি। কম হোচট খেতে হয়নি তাদের। লাহোরে বন্যা হলে ত্রান যেত ঢাকা থেকে, অত:পর উপহার স্বরুপ লাহোরের বন্যার পানি নালা দিয়ে চলে আসত ঢাকা।কম তো কিছু না, অন্তত নদী গুলোর নব্যতা রক্ষায় পশ্চিমাদের ব্যাপক অবদান অনস্বীকার্য নয়কি!!
অর্থনীতি, কৃষি, সমাজনীতি, রাজনীতি, সমরিকক্ষেত্র, সংস্কৃতি সর্ব দিক থেকে বাংলাদেশের মানুষদের উপর জুলুম নির্যাতন আর এতকিছুর পরেও চলে শুধু মাএ ধর্মের দোহাই দিয়ে ধোঁকাবাজী, যদিও এ ধর্মব্যবসার নোংরা মানসিকতা বুঝতে পেরেছিল বাংলার মানুষ ।
প্রথম আঘাত ১৯৫২ তে । শহীদ হয়েছিল বাঙ্গালীরা কিন্তু আঘাত লেগেছিল পাকিদের অস্তিত্বে ।
নানা ঘাত প্রতিঘাতের নাতিদীর্ঘ পথপরিক্রমায় এই বাঙ্গালী জাতির স্বাধীনতার চেতনা শোষনের চিরমুক্তির কন্ঠস্বর রূপনেয় ৬৯ এর গনঅভুত্থানে ।
পাকি শাষক গোষ্ঠী তখন কৌশলে এগোয় ভ্রান্তিময়, ধোঁকাপূর্ন, শোষনের নবতর সংস্করন সেই গনতন্ত্র নামক গনধোঁকার পথে ।৭০ এর নির্বাচন ।
নিরঙ্কুশ সংখ্যগরিষ্ঠতা পায় আওয়ামিলীগ । যেটা পাকিরা কখনই মেনে নিতে পারেনি । তারা এদেশিয় কিছু কুলাঙ্গার এর সহায়তায় ক্ষমতার মসনদকে অকড়ে ধরে চালায় নজির বিহিন হিংস্রতা ।৭১ ।
২৫ মার্চ এর অপারেশ পাকি, প্রশ্নবিদ্ধ হয় মানবিকতা মুষ্যত্বের অস্তিত্বের। একটি যুদ্ধ । একটি চেতনা । একটি স্বাধীনতার স্ফুরন । একটি ডিষেম্বর । একটি ১৬ ।অবশেষে একটি স্বাধীন বাংলাদেশ ।
তাহলে আমরা কিকরে বলতে পারি যেই গনতন্ত্র আমাদের শোষন নিপিড়ন থেকে মুক্তি দিতে পারে নি তাই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রেরনা । যে তার সংখ্যগরিষ্ঠতা দিয়ে পারেনি ঠেকাতে ২৫শে মার্চ কে ,যে তার মানবতার বুলিদিয়ে পারেনি বাঙ্গালী জাতিকে মুক্তি দিতে ,যে তার অস্তিত্ব কে লুটিয়ে দিয়ে ছিল পাকিদের বুটের তলায় , যে কাল হয়ে দাড়িয়েছিল এ জাতির বেঁচে থাকার অধিকারে সেই ব্যর্থ গনতন্ত্র আজ হয়ে গেল স্বাধীনতার কারন ।
আজ আমরা কি দেখছি সেই গনতন্ত্র এদেশে একটি যুদ্ধাবস্থা তৈরী করেছে । আমারি আর এক বাঙ্গালী ভাইকে অগুনে জালিয়ে দিচ্ছে , দেশবিরোধীদের পূনর্বাসিত করে গাড়িতে পতাকা তুলে দিয়েছে ।
আমি ৭১ দেখিনি । তবে কি আমি এই বাস্তবতা আর বিবেকবোধ দিয়ে এ সিধান্ত নিতে পারি -
এই গনতন্ত্র আমাকে পুনরায় পরাধীন করেছে । এটি স্বাধীনতার ধারকদের পরাধীন শক্তির সাথে রাজনীতির সুযোগ তৈরী করেছে । এটি দেশবিরোধীদের রক্ষার জন্য স্বাধীনতার বাহকদের বিপরীতে একটি মুখশপরা বিরধীদল তৈরী করেছে । এটি কি আজ টিকফার পক্ষে সহায়ক হয়েছে । এটিই কি বর্ডারে বাংলাদেশীদের লাশ ঝুলাচ্ছে ,পিলখানায় মহড়া চালিয়েছে ।সুন্দরবন ধবংশে সহযোগিতা করছে ।
স্বাধীনতা একটি চেতনার নাম , একটি মুক্তির নাম , একটি অধিকারের নাম ।এটি মাথা নোয়াতে বাধা দেয় ।এটি দেশপ্রেমের মহা সত্যতাকে ধারন করে ।
আর যা চরম সত্য তা হল এটি গনতন্ত্রের ধোঁকাবাজীকে প্রশয় দেয় না । আর ধোঁকাবাজরাই মুক্তিযুদ্ধকে গনতন্ত্রের চেতনা বলে বলে বেহুঁশ হয় ।
আজ বিজয় দিবস তার স্বার্থকতা মুক্ত ভ্রান্তির অতলতলে ।
আর কবে এ দেশের মানুষ বুঝবে । আর কবে সমবেত হবে সত্যিকার ইসলামের শান্তির ছায়া তলে ।
0 টি মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।