সবুজ বাংলা ব্লগ

সবুজ বাংলা ব্লগ

কম্পিউটার টিপস

ঘরে বসে ‍আয়

যারা আউটসোর্সিংয়ের সাথে জড়িত তারা নিশ্চয়ই সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা SEO শব্দটার সাথে পরিচিত। বিভিন্ন আউটসোর্সিং মার্কেটপ্লেসে প্রতিদিনই এধরনের কাজ পাওয়া যায়। বাংলাদেশী অনেক ফ্রিল্যান্সার রয়েছেন যারা অত্যন্ত সফলতার সাথে এ কাজগুলো করছেন। তবে অনেকের কাছে বিষয়টি মাঝেমধ্যে বোধগম্য হয় না, ফলে আগ্রহ থাকার পরও কিভাবে শুরু করতে হবে তা বুঝে উঠতে পারেন না। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন একটি বিশাল ক্ষেত্র। এর সাথে অনেক ধরনের বিষয় জড়িত। এস.ই.ও কাজের খুঁটিনাটি নিয়ে আমাদের ধারাবাহিক লেখার আজকে রয়েছে বিষয়টির ওপর একটি সামগ্রিক পর্যালোচনা এবং এ ধরনের কাজের সাথে জড়িত একজন সফল ফ্রিল্যান্সারের সাক্ষাৎকার। সার্চ ইঞ্জিন : প্রথমেই দেখা যাক, সার্চ ইঞ্জিন বলতে কি বুঝায়। সার্চ ইঞ্জিন হচ্ছে এক ধরনের কমপিউটার প্রোগ্রাম যা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন তথ্যকে তার নিজের ডাটাবেজে সংরক্ষণ করে রাখে এবং পরে ব্যবহারকারীর চাহিদা অনুসারে ওয়েবসাইটে প্রদর্শন করে। সার্চ ইঞ্জিনগুলো এক ধরনের রোবট প্রোগ্রামের সাহায্যে নিরলসভাবে বিভিন্ন ওয়েবসাইটের তথ্য সংরক্ষণ করতে থাকে যা ইনডেক্সিং (Indexing) নামে পরিচিত। উইকিপিডিয়া থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় গুগল (৯১%), তার পরবর্তী অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে ইয়াহু (৪%) এবং মাইক্রোসফটের বিং (৩%)। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন : সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO) হচ্ছে এমন এক ধরনের পদ্ধতি যার মাধ্যমে একটি ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলা, যাতে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের সার্চ রেজাল্টে ওয়েবসাইটি অন্য সাইটকে পেছনে ফেলে সবার আগে প্রদর্শিত হতে পারে। এই ধরনের সার্চ রেজাল্টকে Organic বা Natural সার্চ রেজাল্ট বলা হয়। সার্চ রেজাল্টের প্রথম পৃষ্ঠায় দশটি ওয়েবসাইটের মধ্যে নিজের ওয়েবসাইটকে নিয়ে আসাই সবার লক্ষ্য থাকে। এর কারণ হিসেবে দেখা যায় ব্যবহারকারীরা সাধারণত শীর্ষ দশের মধ্যে তার কাঙ্ক্ষিত ওয়েবসাইটকে না পেলে দ্বিতীয় পাতায় না গিয়ে অন্য কোনো শব্দ ব্যবহার করে আগের সার্চ করেন। শীর্ষ দশে থাকার মানে হচ্ছে ওয়েবসাইটে বেশি সংখ্যক ভিজিটর পাওয়া আর বেশি সংখ্যক ভিজিটর মানে হচ্ছে বেশি আয় করা। এজন্য সবাই মরিয়া হয়ে নিজের ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনের জন্য উপযুক্ত করে তুলেন। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের সাথে অনেক বিষয় জড়িত। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। এক্ষেত্রে প্রথমেই সাইটের জন্য এক বা একাধিক নির্দিষ্ট কিওয়ার্ড (Keyword) বা শব্দগুচ্ছ বাছাই করতে হয়। কিওয়ার্ড বাছাই করার আগে সময় নিয়ে গবেষণা করা প্রয়োজন। এমন একটি কিওয়ার্ড বাছাই করতে হয় যাতে এর প্রতিদ্বন্দ্বী কম থাকে। ধরা যাক, অনলাইনে গেম খেলার একটি সাইটের জন্য যদি ‘Play Online Game’ কিওয়ার্ড বাছাই করা হয়, তাহলে এই শব্দ দিয়ে গুগলে সার্চ করলে ১.৬ কোটি সাইটের ফলাফল হাজির হবে। তাদের মধ্যে হাজারো জনপ্রিয় সাইট পাওয়া যাবে যেগুলোকে অতিক্রম করে প্রথম পাতায় আসাটা প্রায় অসম্ভব হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে কিওয়ার্ডের সাথে আরো কয়েকটি শব্দ যদি যোগ করা যায়, তাহলে দেখা যাবে প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়েবসাইটের সংখ্যা কমে আসবে। কিওয়ার্ড নিয়ে গবেষণার জন্য সবচেয়ে ভালো হচ্ছে গুগল অ্যাডওয়ার্ডের কিওয়ার্ড টুলটি- https://adwords.google.co.uk/select/KeywordToolExternal । অন পেজ অপটিমাইজেশন : সাইটের জন্য সঠিক কিওয়ার্ড বাছাইয়ের পর এর বিভিন্ন অংশে এই কিওয়ার্ডটির প্রতিফলন থাকতে হয়। প্রথমত, ওয়েবসাইটের ডোমেইন নামে যদি বাছাই করা কিওয়ার্ডটি থাকে, তাহলে সবচেয়ে ভালো। দ্বিতীয়ত, HTML-এর title ট্যাগে কিওয়ার্ড থাকা উচিত। সাইটের title ট্যাগটি ঠিকভাবে সাজানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই অংশটি একজন ব্যবহারকারী এবং সার্চ ইঞ্জিনকে সেই পৃষ্ঠায় কি তথ্য রয়েছে তা নির্দেশ করে। তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ওয়েবসাইটের description meta ট্যাগ। এর মাধ্যমে ওই পৃষ্ঠার সারমর্ম লেখা হয়, যা সার্চ ইঞ্জিনকে সঠিকভাবে সেই পৃষ্ঠা ইনডেক্সিংয়ে সহায়তা করে। এ ধরনের পদ্ধতিকে On Page Optimization বলা হয়, যা নিয়ে ভবিষ্যতে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। পেজর্যা ঙ্ক : PageRank বা সংক্ষেপে PR হচ্ছে গুগলে ব্যবহার হওয়া এক ধরনের লিঙ্ক অ্যানালাইসিস অ্যালগরিদম, যা দিয়ে একটি ওয়েবসাইট কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা নির্ধারণ করা হয় এবং সার্চের ফলাফলে এটিকে প্রাধান্য দেয়া হয়। গুগলের কাছে যে ওয়েবসাইট যতটা গুরুত্বপূর্ণ তার পেজর্যাএঙ্ক তত বেশি হয়ে থাকে এবং সার্চের ফলাফলে সেটি তত সামনের দিকে থাকার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। সর্বোচ্চ পেজর্যােঙ্ক হচ্ছে ১০ এবং সর্বনিম্ন পেজর্যাসঙ্ক হচ্ছে ০। গুগল টুলবারের সাহায্যে একটি সাইটের পেজর্যা ঙ্ক জানা যায়। টুলবারটি এই সাইট থেকে ডাউনলোড করা যাবে- http://toolbar.google.com। ব্যাকলিঙ্ক : ব্যাকলিঙ্ক (BackLink) লিঙ্ক হচ্ছে একটি সাইটের পেজর্যা ঙ্ক বাড়ানোর মূল হাতিয়ার। একটি ওয়েবসাইটের কোনো পৃষ্ঠায় যদি অন্য একটি সাইটের লিঙ্ক থাকে, তাহলে দ্বিতীয় সাইটের জন্য এই লিঙ্ককে বলা হয় ব্যাকলিঙ্ক বা ইনকামিং লিঙ্ক। আর প্রথম সাইটের জন্য এই লিঙ্কটি হচ্ছে আউটগোয়িং লিঙ্ক, অর্থাৎ এই লিংকে ক্লিক করে ব্যবহারকারী দ্বিতীয় সাইটে চলে যাবে। এভাবে একটি ওয়েবসাইটের যত বেশি ব্যাকলিঙ্ক থাকবে সেই ওয়েবসাইটে ব্যবহারকারী আসার প্রবণতা বেড়ে যাবে। পাশাপাশি সার্চ ইঞ্জিনের রোবট প্রোগ্রাম সেই সাইটকে খুব সহজেই খুজে পাবে। ব্যাকলিঙ্ক বাড়ানোর অনেক পদ্ধতি রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি পদ্ধতি হচ্ছে- * লিঙ্ক বিনিময় : এটি হচ্ছে ভালো পেজর্যানঙ্কের বিভিন্ন ওয়েবসাইটের সাথে নিজের ওয়েবসইটের লিঙ্ক বিনিময়, অর্থাৎ অন্য ওয়েবসাইটের লিঙ্ক নিজের সাইটে যোগ করা এবং সেই সাইটে নিজের ওয়েবসাইটের লিঙ্ক যোগ করানো। এজন্য সাধারণত বিভিন্ন ওয়েবসাইটের অ্যাডমিনিস্ট্রেটরের সাথে যোগাযোগ করে তাদেরকে লিঙ্ক বিনিময়ের প্রস্তাব জানানো হয়। আবার লিঙ্ক দেয়া-নেয়ার জন্য বিভিন্ন ওয়েবসাইট রয়েছে যেখানে লিঙ্ক বিনিময়ে আগ্রহী ওয়েবসাইটের ঠিকানা পাওয়া যায়। * ফোরামে পোস্ট করা : এই পদ্ধতিতে প্রথমে একটি ভালো পেজর্যামঙ্কের ফোরামের Signature এ নিজের ওয়েবসাইটের লিঙ্ক যোগ করতে হয়। তারপর সেই ফোরামে নতুন কোন পোস্ট করলে বা অন্যের পোস্টে মন্তব্য দিলে লিঙ্কটি সেই পৃষ্ঠায় প্রদর্শিত হয়। * আর্টিকেল জমা দেয়া: ইন্টারনেটে বিভিন্ন ওয়েবসাইট রয়েছে যেখানে নিজের সাইটের কোন লেখা সেই সাইটগুলোতে জমা দেয়া যায় এবং সেই লেখার মধ্যে প্রয়োজন অনুসারে নিজের সাইটের লিঙ্ক দিয়ে ব্যাকলিঙ্ক বাড়ানো যায়। * ডাইরেক্টরিতে জমা দেয়া: বিভিন্ন ওয়েব ডাইরেক্টরি রয়েছে যেখানে বিনামূল্যে নিজের সাইটের তথ্য এবং লিঙ্ক জমা দেয়া যায়। * অন্যের ব্লগে মন্তব্য দেয়া: অন্যের ব্লগে মন্তব্য দিয়ে এবং সাথে নিজের সাইটের লিঙ্ক যুক্ত করেও ব্যাকলিঙ্ক বাড়ানো যায়। আয়ের উপায় : SEO-এর মাধ্যমে আয়ের বিভিন্ন উপায় রয়েছে। আপনি যদি নিজের সাইটের জন্য SEO করে থাকেন এবং এর মাধ্যমে সাইটে অধিক সংখ্যক ভিজিটর নিয়ে আসতে পারেন, তাহলে নিঃসন্দেহে সাইটটি থেকে যেকোনো ধরনের সার্ভিস বা পণ্য বিক্রি করতে পারবেন। অনেকে আবার বিজ্ঞাপন থেকে আয় করেন। ইন্টারনেটে বিজ্ঞাপন থেকে আয়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি হচ্ছে Google Adsense। সাইটের মধ্যে গুগল অ্যাডসেন্সের কোড যোগ করলে এটি ওয়েবসাইটের তথ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিজ্ঞাপন দেখায়। সেই বিজ্ঞাপনে কোনো ভিজিটর ক্লিক করলে সাইটির মালিক একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ আয় করেন। পরে চেকের মাধ্যমে সেই অর্থ তার কাছে পাঠানো হয়। বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি আউটসোর্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতেও SEOভিত্তিক নানা কাজ পাওয়া যায়। কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে কিওয়ার্ড রিসার্চ, ব্যাকলিঙ্ক জোগাড় করা, অন পেজ অপটিমাইজেশন, কনটেন্ট লেখা, এসইও কনসালট্যান্ট ইত্যাদি। SEO শেখার ওয়েবসাইট : SEO শেখার জন্য ইন্টারনেটে ইংরেজিতে অসংখ্য ওয়েবসাইট রয়েছে। বাংলায়ও অনেকে বিভিন্ন ব্লগ এবং ফোরামে SEO নিয়ে লিখে থাকেন। এর মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি সাইট হচ্ছে জিন্নাত উল হাসান নামে একজন সফল ওয়েবমাস্টারের ব্লগ। সাইটের ঠিকানা হচ্ছে http://bn.jinnatulhasan.com

5 টি মন্তব্য

  • জামান

    খুব ভাল হএছে।
  • মাশফি

    ধন্যবাদ আপনাকে
  • উদীয়মান সূর্য

    :sun: মাশফি ভাই কামাইলেন কত???
    আমারে কিন্তু :coffee: খাওয়াইতে হইবো
  • Shafiq-Rajshahi

    internet a earn koresen erokom sotti keu thakle please nam & mobile no. dan. Ami interested.
  • Cyber war

    ধারনা দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ...

মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।